সম্পাদকীয়

কমছে দারিদ্র্য বাড়ছে আয় বৈষম্য

প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০২-২০২০ ইং ০০:০৭:০১ | সংবাদটি ১৭০ বার পঠিত
Image

‘আয় বৈষম্যের দেশ’-এ পরিণত হয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমলেও আয়-বৈষম্য বাড়ছে বিপদজনকভাবে। অর্থনীতিবিদদের মতে দেশের গরীব মানুষের আয়ের প্রবৃদ্ধি জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশী। আবার বৈষম্যও বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত সমতার সমৃদ্ধির সূত্র অনুযায়ী গত আড়াই দশকে বিশ্বের ৪৯টি দেশের গরীব ৪০ শতাংশ মানুষের আয় বেড়ে যাওয়ায় সমতাভিত্তিক সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। এই তালিকায় আছে বাংলাদেশও। অপরদিকে বৈশ্বিক সমতার হিসেবে বাংলাদেশের বৈষম্য বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ মতে, দেশের সবচেয়ে গরীব ২০ লাখ পরিবারের গড় আয় ৮৯ হাজার টাকা। এই ধনী পরিবারগুলো সবচেয়ে গরীব পরিবারগুলোর চেয়ে একশ’ ১৯ গুণ বেশী আয় করে।
সুখবর এটাই যে, দেশে দারিদ্র্য কমছে। কমছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা। অপরদিকে ধনী-সম্পদশালীদের সংখ্যাও বাড়ছে। আর উদ্বেগজনক খবর হচ্ছে, ধনীদের সম্পদের পরিমাণ যেমন বাড়ছে গরীবদের আয়ও তেমনি কমছে। সরকারের সময়োপযোগী নীতিমালার কারণে দারিদ্র্যসীমার নিচে জনসংখ্যা ২০০৫ সালের ৪০ শতাংশ থেকে ২০১৯ সালে ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে দেশে ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে সাড়ে তিন কোটি রয়েছে দারিদ্র্যসীমার নিচে। অতীতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি যেখানে ছিলো ছয় দশমিক আট শতাংশ, তা বর্তমানে আট দশমিক ১৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা ও ভুটানের যে মাথাপিছু আয় ছিলো, তা বিবেচনায় এনে ভবিষ্যতের জন্য যে মাথাপিছু আয় প্রত্যাশা করা যেতো, বাস্তবে এর চেয়ে বেশী হয়েছে। কারণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের কাঠামো পুনর্বিন্যাস হয়েছে, বেড়েছে বেসরকারী খাতের বিনিয়োগ। এতে প্রবৃদ্ধিও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে আয়-বৈষম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে মূল্যস্ফীতি। বর্তমানে দেশে মূল্য স্ফীতির হার ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ। যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।
আসল কথা হলো আয়-বৈষম্য দূর না হলে সমাজের একটা উল্লেখযোগ্য শ্রেণীর মানুষ জীবন ধারণের অপরিহার্য্য সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত হবে। তারা মানসম্মত শিক্ষা পাবেনা; স্বাস্থ্যসেবা সহ জীবনমান উন্নত করার সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকবে। দেশের মানুষের যতো আয়, তার ৩৮ শতাংশই হলো সবচেয়ে ধনী দশ শতাংশ মানুষের। আর সবচেয়ে গরীব দশ শতাংশের হাতে আয় মাত্র এক শতাংশ। ‘সম্পদের সুষম বন্টন’ বলে একটা কথা প্রচলিত রয়েছে অর্থনীতিতে। সমাজের অতি দরিদ্র প্রায় দুই কোটি মানুষের আয় নিম্নমুখী থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে উর্ধ্বমুখী করতে না পারলে আয় বৈষম্য বাড়তেই থাকবে এবং পক্ষান্তরে সম্পদের ‘অসম বন্টনই’ নিশ্চিত হবে।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT