উপ সম্পাদকীয়

উৎপাদনের সঙ্গে দরকার সম্পদের যথাযথ ব্যবহার

ড. এ কে আবদুল মোমেন প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০২-২০২০ ইং ০০:১২:৩৫ | সংবাদটি ১২০ বার পঠিত

দিন যত যাচ্ছে পৃথিবীর সীমিত সম্পদের ওপর জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে ক্রমেই। ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৯ দশমিক ৬ বিলিয়নে গিয়ে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিপুল জনসংখ্যার চাহিদা অনুসারে বর্তমান জীবনযাত্রার মান ধরে রাখতে গেলে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য প্রয়োজন, তাতে পৃথিবীর মতো আরও অন্তত তিনটি গ্রহ দরকার। এহেন পরিস্থিতিতেও, অদক্ষ উৎপাদন পদ্ধতি ও পরিবহন অব্যবস্থাপনার কারণে বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত মোট খাদ্যদ্রব্যের এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে যায়; যার পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন টন এবং টাকার অঙ্কে তা প্রায় এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। বস্তুগত এই সংকট মোকাবিলায় মানুষের বর্তমান ভোগের ধরন এবং দ্রব্য ও সেবার উৎপাদন ব্যবস্থা জরুরি ভিত্তিতে পরিবর্তন করা প্রয়োজন। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-১২-এর উদ্দেশ্য হলো স্বল্প সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং বেশি উৎপাদন। এর মধ্য দিয়ে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে; ক্ষয়ক্ষতি এবং দূষণরোধ করে অর্থনৈতিক কার্যক্রম থেকে সর্বোচ্চ কল্যাণ অর্জন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা সম্ভব। এ কারণেই বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে গৃহীত হয়েছে এসডিজি-১২। বৈশ্বিক উন্নয়নের অংশীজন হিসেবে বাংলাদেশও এটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবায়নের জন্য কাজে নেমেছে।
এসডিজি-১২ সবদিক থেকে প্রাকৃতিক সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা, পরিবেশসহনীয় বর্জ্য ও রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা, টেকসই বাণিজ্য, টেকসই সংগ্রহ পদ্ধতি, নীতিনির্ধারক কর্তৃক অদক্ষ জীবাশ্ম-জ্বালানিতে ভর্তুকির পরিমাণ যুক্তিসংগতকরণ, পরিবেশ সচেতন জীবনযাত্রা, নতুন প্রযুক্তির উন্নয়ন ও গবেষণা, বিজ্ঞানী ও অন্যান্য গোষ্ঠী কর্তৃক উৎপাদন ও ভোগ পদ্ধতিতে দক্ষতা আনয়নের ওপর গুরুত্ব প্রদান করে। এর মূল লক্ষ্য হলো টেকসই উৎপাদন ও ভোগের নিশ্চয়তা প্রদান, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও অন্যান্য অপচয় কমানো এবং নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য টেকসই উৎপাদন এবং ভোগ নিশ্চিতকরণের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ওপরও এসডিজি গুরুত্বারোপ করে। টেকসই উন্নয়ন ও এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে, টেকসই পর্যটনের ওপর গুরুত্ব দেয়; যার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় দ্রব্য ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। এর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য, ভোক্তা, নীতিনির্ধারক, গবেষক, বিজ্ঞানী, খুচরা বিক্রেতা, মিডিয়া ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি বৈশ্বিক অংশীদারত্বের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
১৯৯২ সালে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনের পর থেকেই টেকসই উৎপাদন ও পরিমিত ভোগ বৈশ্বিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ১৯৯৪ সালের অসলো সিম্পোজিয়ামেও এটাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে। ২০১২ সালে জাতিসংঘ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা (রিও+২০) টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে টেকসই উৎপাদন প্রক্রিয়া ও ভোগের ওপর ১০ বছরমেয়াদি কর্মকাঠামো গ্রহণ করে (১০-ওয়াইএফপি)। এটি একটি বৈশ্বিক কর্মকাঠামো, যার মাধ্যমে দেশসমূহ এসসিপির দিকে স্থানান্তরিত হবে এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-১২ অর্জনে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এখনো এসসিপির ওপর ১০ বছরমেয়াদি কর্মকাঠামো প্রস্তুত করতে সক্ষম হয়নি, যদিও সরকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ত্বরান্বিত করতে সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, প্রাকৃতিক, অবকাঠামোগত এবং মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক মূলধন তৈরির চ্যালেঞ্জ বিষয়ে সচেতন রয়েছে। সম্পদের উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, অপচয় হ্রাস, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তোলা, বিষাক্ত বর্জ্যরে নিরাপদ বন্দোবস্ত এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর হুমকি মোকাবিলায়ও সচেতনতা বাড়ছে এ দেশে।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তারের সঙ্গে এনার্জি শক্তির ভোগ বৃদ্ধির বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। দক্ষ উৎপাদনের জন্য এনার্জি শক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি এবং একই পরিমাণ এনার্জি ব্যবহার করে অধিক পরিমাণ উৎপাদনে সক্ষম এমন অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে এনার্জির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে কম এনার্জি ব্যবহারকারী তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত এবং পাওয়ার ডিভিশনের দক্ষতার কারণে এনার্জি দক্ষতা বেড়েছে। দক্ষ এনার্জি ভোগ ও উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে সরকার ‘এনার্জি দক্ষতা ও সংরক্ষণ নীতি-২০১৩’ এবং ‘এনার্জি দক্ষতা ও সংরক্ষণ মহাপরিকল্পনা-২০১৫” গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন গোষ্ঠী বিশেষ করে আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও সেবা, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন খাতের ওপর এই নীতি প্রযোজ্য হবে। এনার্জির দক্ষ ব্যবহার ও অপচয় নিরোধমূলক গণসচেতনতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্যহানি ও খাদ্য অপচয় এখন অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। কারণ এসব দেশে এখনো লাখ লাখ মানুষ অভুক্ত থাকে। খাদ্য অপচয় হলো, মানুষের ভোগ উপযোগী সেই পরিমাণ খাবার, যা খুচরা বিক্রেতা ও ভোক্তার বিভিন্ন আচরণের কারণে নষ্ট হয়ে যায় এবং আর ভক্ষণযোগ্য থাকে না। খাদ্য অপচয় নানা কারণে হতে পারে। তার মধ্যে চাষাবাদকালীন সমস্যা, দুর্বল সংরক্ষণ, অদক্ষ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহন, অবকাঠামোগত এবং বাজার বা মূল্য ব্যবস্থাপনা অন্যতম। জলবায়ুর বিভিন্ন অবস্থান যেমন বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টিসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ উৎপাদনকালীন ফসলের বিরাট ক্ষতি করে। ২০১৬ সালে চাষাবাদ-পরবর্তী বিভিন্ন প্রাদুর্ভাবে মোট উৎপাদনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একদিকে মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগছে, অন্যদিকে হচ্ছে অপচয়। খাদ্য সংকট দূর করার জন্য এ কারণেই অপচয় রোধ করা জরুরি। একইভাবে জরুরি পরিবেশগত বিপর্যয় ও হুমকি মোকাবিলার জন্য দক্ষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এখনো সুসংগঠিত নয়। এখানে বর্তমানে তিন ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি রয়েছে যথা আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি, সামাজিক উদ্যোগ এবং অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতি। আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হলো পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনের। এটি একটি প্রচলিত সাধারণ পদ্ধতি যেখানে বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন এবং নিষ্পত্তি বা খালাস করার দায়িত্ব পালন করে স্থানীয় প্রশাসন। এ ব্যবস্থায় বর্জ্য পুনঃব্যবহারযোগ্য করার কোনো পদ্ধতি নেই। দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো সামাজিক উদ্যোগ। এখানে বিভিন্ন এনজিও এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহ ও নিষ্কাশন করে থাকে। তৃতীয় ও সর্বশেষ পদ্ধতিটি হলো অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে বর্জ্য সংগ্রহ এবং যথার্থ ভাগাড়ে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবসায় জড়িত বিপুল অনানুষ্ঠানিক শ্রমশক্তি মূল দায়িত্ব পালন করে। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট বর্জ্যরে সামান্য কিছু অংশ কম্পোস্ট তৈরি করে পুনঃব্যবহারযোগ্য করা হয়। এর বিস্তৃতি বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে সরকার। ওয়েস্ট কনসার্ন পিপিপি মডেল ব্যবহার করে ঢাকায় একটি বড় পরিসরের কম্পোস্ট প্ল্যান্ট পরিচালনা করছে। এই প্রজেক্টের আওতায়, ওয়েস্ট কনসার্ন দিনে প্রায় ৭০০ টন জৈব বর্জ্য সংগ্রহ করতে পারবে। প্রাথমিকভাবে দিনে ১০০ টন বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে এটি যাত্রা শুরু করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সরকার জীবনচক্রসহ সব ধরনের বর্জ্য ও রাসায়নিকের পরিবেশগতভাবে দক্ষ ব্যবস্থাপনা অর্জন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কাঠামোতে সম্মতি প্রদান এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর এর বিরূপ প্রভাব সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসার লক্ষ্যে বায়ু, পানি ও উন্মুক্ত ভূমিতে বর্জ্য নিঃসরণ উল্লেখযোগহারে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
টেকসই উৎপাদনের ধরন ও ভোগ নিশ্চিতকরণে সরকারের পদক্ষেপ সমূহ বিগত দুই দশক ধরে বাংলাদেশ লাখ লাখ মানুষের দারিদ্র্যবিমোচন ও প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশের পথ তৈরি করেছে। পরিবেশগত নানারকম ঝুঁকি এই উন্নয়নের পথে একটি বড় হুমকি। এ হুমকি মোকাবিলায় সচেতন রয়েছে সরকার। পরিবেশ দূষণ ও এর সব ঝুঁকি মোকাবিলা করেই টেকসই উৎপাদন, ভোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০১৩ সালের জাতীয় টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার (এনএসডিএস) মধ্যে এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তার মধ্য থেকে কিছু পরিকল্পনা নিম্নরূপ
টেকসই কৃষি উৎপাদন : সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষিজমির অন্যান্য ব্যবহার রোধ, ভারসাম্যপূর্ণ সার ব্যবহার, জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং দক্ষভাবে পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন করার মাধ্যমে টেকসই কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করা হবে। মৎস্য সংরক্ষণ, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ এবং মৎস্য চাষ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে মুক্ত জলাশয়ের টেকসই মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিত করা হবে। চিংড়ি উৎপাদনের জন্য নির্দিষ্ট উৎপাদন এলাকা চিহ্নিতকরণ, চিংড়ি চাষের জন্য বনভূমি দখল না করা এবং রাসায়নিকমুক্ত (অর্গানিক) চিংড়ি চাষ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে টেকসই চিংড়ি উৎপাদন নিশ্চিত করা হবে।
টেকসই পণ্য উৎপাদন : পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি এবং যত্রতত্র অব্যবহৃত-ক্ষতিকর দ্রব্যাদি ফেলে না রাখার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার মাধ্যমে টেকসই পণ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা হবে। দক্ষ শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজ শিল্প, দূষণরোধে পর্যাপ্ত সহায়তা, বৃষ্টি পানি ধরে রেখে উৎপাদন কাজে ব্যবহার উপযোগী শিল্পভবন নির্মাণে সচেতনতা তৈরি করা হবে।
টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি : মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধানের সঙ্গে সঙ্গে কয়লাভিত্তিক ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং তা ব্যবহারে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্ধিত বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ওপর জোর দেওয়া হবে।
পানি ও বায়ুর গুণগত মান বৃদ্ধি : ভূ-গর্ভস্থ পানি ও বৃষ্টির পানি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পানির গুণগত মান রক্ষার্থে শিল্পদূষণ কমানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন করা হবে। ক্ষতিকর কার্বন নিঃসরণ রোধ করতে পুরনো মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল বাতিল, উন্নত গণপরিবহন চালু এবং খানাকেন্দ্রিক রান্নাবান্না ও ইটভাটার চুল্লিগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জ্বালানির ব্যবস্থা করা হবে এবং নির্মাণকাজের সময় ধুলাবালি ও ময়লা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে।
বর্জ্য নিঃসরণ ও ব্যবস্থাপনা : বর্জ্য নিঃসরণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের ৩-আর (রিডিউস রিসাইকেল অ্যান্ড রিইউজ) নীতির আওতায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কঠিন ও পচনশীল বর্জ্য উৎপাদন কমানো এবং ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সামাজিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে।
পরিমিত ভোগ : চাহিদা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হবে। যেমন দোকান খোলা রাখার সময় কমানো, সব অফিসে এসির তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখা, শপিংমল, বাসাবাড়ি এবং অন্যান্য স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাড়তি আলোকসজ্জা হ্রাস, কম আলো দেয় এমন ত্রুটিপূর্ণ বাতি, ত্রুটিপূর্ণ রেফ্রিজারেটর, এসি, পাম্প, মোটর এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক সামগ্রীর পরিবর্তে দক্ষ পণ্য ব্যবহার করতে হবে। রাস্তাঘাটে সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতির পরিবর্তে কম বিদ্যুৎভোগী (এলইডি) বাতি এবং সৌরবিদ্যুৎ চালিত বাতির ব্যবহার বৃদ্ধি, ভর্তুকি ও বাজেটবহির্ভূত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানো এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সামাজিক লক্ষ্যসমূহ অর্জনে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির দাম সমন্বয় করতে হবে। এসব উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই উৎপাদন ও পরিমিত ভোগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে টেকসই উন্নয়নের পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
লেখক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ক্যাস্পিয়ান সাগরের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব
  • নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন
  • বেকারত্ব ও যুবসমাজ
  • আমার হাতেই আমার সুরক্ষা
  • কুড়িগ্রামের সুলতানা সরেবোর
  • স্মার্টফোনের আনস্মার্ট ব্যবহার
  • কোয়ারেন্টাইন না বলে ঘরবন্দি, একঘরে, ছোঁয়াচে বলুন
  • বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের বন্ধু
  • করোনা ভাইরাস ও করুণ পরিস্থিতি
  • পানির অপচয় রোধ করতেই হবে
  • বিশ্বনবী (সা) এর মিরাজ
  • বিদ্যুৎসাশ্রয় এবং আমাদের করণীয়
  • বেঁচে থাকি প্রাণশক্তির জোরে
  • রক্ত দিন জীবন বাঁচান
  • নদীকে না দেখলে নদীও আমাদের দেখবে না
  • করোনা ভাইরাসে থমকে গেল পৃথিবী
  • করোনা ভাইরাসে আমাদের করণীয়
  • বঙ্গবন্ধুর মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন
  • বঙ্গবন্ধু ও আমাদের শিশুরা
  • করোনা ভাইরাস ও দেশের অর্থনীতি
  • Developed by: Sparkle IT