সাহিত্য

চল্লিশ পরিবার ছয় প্রতিবেশী

বাবুল আহমদ প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০২-২০২০ ইং ০০:১৯:১৩ | সংবাদটি ৬৬ বার পঠিত



হাটতে হাটতে তোমাদের পাড়ায় চলে এলাম,
দাড়িয়া পাড়ায়। নাকি তোমাদের মহল্লাটি কাজি ইলিয়াসে!
তোমাদের মহল্লায় চল্লিশটি পরিবার; ছয়টি প্রতিবেশী,
ওরা এসেছে একাত্তরে- তোমাদের উনিশ বছর পরে।
ওরা মানে ডা: শামসুদ্দিন, ডা: লালা, ড্রাইভার এবং সহকর্মি তিনজন।

রোজ ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করে হাটতে হাটতে
এখানটায় চলে আসি; মানে তোমাদের উঠানে।
বড় ভালো লাগে, শান্তি পাই। উঠানের নরম সবুজ ঘাসে
কৃষ্ণচুড়ার পাপড়ি ঝরে পড়লে মনে হয় যেন বাংলাদেশের পতাকা।
তারপর যখন পুরবীর সোনালি আলো মিনারের চুড়ায় ঝলমল করে ওঠে
তখন একরাশ হাসির ঝিলিক ছড়িয়ে পড়ে চৌহাট্টায়।

মনে আছে সেই অনেক বছর আগে যখন কিশোর ছিল বয়স-
যখন দুরন্ত ইচ্ছায় যা কিছু করতে পারতাম, তখন একুশে ফেব্রুয়ারিতে
যুগমায়াদের বাগান থেকে গাদাফুল চুরি করে ডালি সাজাতাম,
কাক-ভোরে খালি পায়ে পাড়ার নবীন প্রবীণ মিলে শোকগাথা গেয়ে
পৌছে যেতাম তোমাদের আঙ্গিনায়। তোমরা তখন সদ্য ঘুম জাগা
আড়মোড়া ভেঙ্গে পিটপিট করে তাকিয়ে থাকতে আর মিটমিট করে হাসতে।

এখন দোকানে ফুল বিক্রি হয়, টাকা দিলেই ডালি সাজিয়ে দেয়।
যে যার ইচ্ছে মত, নিজেদের মতো করে প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে,
পেশীতে জোর থাকলে তোমাদের বারান্দা পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব।
আমার মতো বুড়োরা ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ভাসা ভাসা চোখে, দীর্ঘশ্বাসে
ফটোবাজী দেখে আর ঝাপসা চোখে ফিরে যায়।

তোমরা নিরাশ হয়ো না!
তোমাদের জন্য একদল তরুণ তৈরী হচ্ছে বিবেকের কারখানায়।
ওরা আবার ফিরিয়ে আনবে প্রভাতফেরী, আবার গাইবে দরদী কণ্ঠে
আলতাফ মাহমুদের মতো-“আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কী ভুলিতে পারি”।

 

 

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT