সাহিত্য

রফিক আজাদের কবিতা

ফারুক মাহমুদ প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০২-২০২০ ইং ০০:৩৮:০১ | সংবাদটি ১২৪ বার পঠিত

অতিক্রমের ইচ্ছা সৃজনশীল মানুষকে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করে থাকে। সৃষ্টিশীলতার তৃষ্ণা তাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্ত অবলম্বন। এখনো হয়, তারা বারবার নিজেদের অতিক্রম করে যায়। ষাটের বিশিষ্ট কবি রফিক আজাদের মধ্যে অতিক্রমের ইচ্ছা যে প্রবল ছিল তা প্রমাণিত হয়েছে জীবন উপলব্ধিতে বারবার বাঁক বদলের মধ্য দিয়ে। ‘চুনিয়া’ পাহাড় পাদদেশের ছোট্ট একটি গ্রাম। এই চুনিয়া তার মনোজগতে একটি বড়সড় পরিবর্তনের সূচনা করেছিল। একবার তিনি সদলবলে ওই গ্রামে গিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে রফিক আজাদ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘১৯৭৫ সালের আগে যাওয়া হয়নি চুনিয়া গ্রামে। পরিবারসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হলেন, সেই সময় আমাদের মন খুব বিষণ্ন। এক পূর্ণিমায় প্রথম যাওয়া হয় চুনিয়াতে, আমি, শামসুজ্জামান খান, রাহাত খান, রশীদ হায়দার, রইসউদ্দিন ভূঁইয়া। সেই সময় আমাদের একটা দল ছিল। নানা উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় হুটহাট করে চলে যেতাম আমরা। তেমনিভাবে চুনিয়া যাওয়া, সেই যাত্রায় গারোদের আতিথেয়তা ও আন্তরিকতায় আমরা মুগ্ধ হয়েছিলাম। চুনিয়ার প্রাকৃতিক লীলাভূমি আবেশিত ছিল। ফিরে এসেই লিখলাম ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’। এই গারোদের সঙ্গে আমার পরবাস জীবন যে অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে জড়িয়ে যাবে, আমিও যে তাদের একজন হয়ে উঠব, জীবন উপলব্ধিতে বাঁকবদল ঘটবে এটা সেদিন ভাবিনি। ১৯৯৭ সালে পরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে বিরিশিরি যাওয়ার পর কেবলই মনে হতো, আমি ফিরে এসেছি আমার শিকড়ের কাছে, পূর্বপ্রজন্মের ঠিকানায়।’ চুনিয়া গ্রামটি তাকে এতটাই আচ্ছন্ন করেছিল, একটি কবিতা লিখেই তিনি ক্ষান্ত হননি, একটি কবিতাগ্রন্থের নামই রাখলেন উল্লিখিত কবিতার নামে। চুনিয়া হয়ে উঠল তার ‘ইউটোপিয়া’। চুনিয়ার বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘স্পর্শকাতরতাময় এই নাম/উচ্চারণমাত্র যেন ভেঙে যাবে,/অন্তর্হিত হবে তার প্রকৃত মহিমা, চুনিয়া একটি গ্রাম, ছোট কিন্তু ভেতরে-ভেতরে/ খুব শক্তিশালী / মারণাস্ত্র সভ্যতার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। চুনিয়া তো ভালোবাসে শান্ত স্নিগ্ধ পূর্ণিমার চাঁদ,/চুনিয়া প্রকৃত বৌদ্ধ-স্বভাবের নিরিবিলি সবুজ প্রকৃতি; /চুনিয়া যোজনব্যাপী মনোরম আদিবাসী ভূমি।’
চুনিয়া, একটি সাধারণ গ্রামের মধ্যে রফিক আজাদ কী খুঁজে পেলেন? তিনি দেখেছেন, চুনিয়া এখন একটি গ্রাম যে কখনো হিংসা দেখেনি গুলির শব্দে সে আঁতকে ওঠে। চুনিয়া গ্রামের প্রকৃতিও অতিশয় সংবেদনশীল। বন্যপশুর হিংগ্রতা দেখে গাছের সবুজ পাতারাও এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়। চুনিয়া জানে না সিংহাসন নিয়ে কী খেলা হয়। চুনিয়া কিছু জিনিসের বিরুদ্ধপক্ষ। মানুষ যে মরণাস্ত্রের মজুদ গড়ে তুলছে, চুনিয়া চায় এর সব মৃত্যুমুখে পতিত হোক, চুনিয়া মনে করে মানুষের হাতে যে রক্তদাগ লেগে আছে, তা ধুয়ে নেওয়ার জন্য পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগ যে জল, তা যথেষ্ট। পৃথিবীর যত যুদ্ধক্ষেত্র আছে সেগুলোয় সুগন্ধি ফুলের আবাদ হোক। চুনিয়ার পক্ষপাতিত্ব আছে নারীর প্রতি শিশুর শান্তির প্রতি, ভালোবাসার প্রতি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চুনিয়ার আশাবাদিতা। এত রক্তপাত, চারদিকে এত শঠতা, মানুষের বিবেকহীনতা দেখার পরও চুনিয়া আশা ছাড়েনি। ‘চুনিয়া বিশ্বাস করে;/শেষাবধি মানুষেরা হিংসা-দ্বেষ ভুলে/পরস্পর সৎপ্রতিবেশী হবে।
রফিক আজাদ নিজের মনোজগৎ যেভাবে তৈরি করেছেন, মিলে যায় চুনিয়ার সঙ্গে। সামাজিক অসঙ্গতি, মানুষের শঠতা, দীনতা, সামান্য বিষয়-ভাবনার কাছে নত হয়ে নির্লজ্জ আপসকামিতা তাকে ক্ষুব্ধ করে। মানুষের এতসব ভ্রান্তি দেখে তিনি অনেক ঋজু, রূঢ় উচ্চারণ করেছেন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তিনি আশাবাদিতার অবন্ধুর পথেই হাঁটতে চেয়েছেন। চুনিয়ার চোখেই তিনি গুঁজে দিয়েছেন নিজের স্বপ্নসবিতাকে। চুনিয়া যেমন নৈরাশ্যবাদিতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার জয়ধ্বনি করেছে, রফিক আজাদ বারবার হোঁচট খাওয়ার পরও উঠে দাঁড়িয়েছেন, বলতে চেয়েছেন, মানুষের সুন্দরতার কথা। চুনিয়া তার মানস গঠনের একটি পণকে বিশ্বস্ততায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে; তা পরবর্তীকে যে ধারায় সংবেদন প্রবাহিত হয়েছে।
নেহাত জীবিকার প্রয়োজনে রফিক আজাদ নেত্রকোনার ‘বিরিশিরি উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি’র প্রধান হিসেবে যোগদান করেছিলেন। প্রথম দিকে তিনি এই চাকরিকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করতে পারেননি। স্কুল-কলেজ জীবনে এবং স্বাধীনতার পর কিছুদিন টাঙ্গাইলের এসএস কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। এরপর থেকে ঢাকাতেই থেকেছেন। বিরিশিরিতে প্রথমদিকে তার মনে হচ্ছিল, প্রিয়জন, প্রিয় মানুষদের ছেড়ে দূরে যাওয়া মানে হয়তো শিকড় উপড়ে যাওয়ার কষ্ট, কিন্তু একটা সময় এসে তিনি উপলব্ধি করলেন, গারো, হাজং, ডালু, হদি, মানাই, মান্দাই, রাজবংশী প্রভৃতি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্বজনের একজন হিসেবে। বিরিশিরি চাকরিতে বেশ কিছুদিন কাটানোর পর তার মধ্যে বদলে যাওয়া এক নতুন উপলব্ধির জন্ম হলো। পূর্ববর্তী চিন্তায় এক শনাক্তযোগ্য পরিবর্তন। রফিক আজাদ বলেছেন, ‘এখন, এই মুহূর্তে, একবছর চার মাস পর, আমি এদের একজন। এখন আমার কোনো খেদ নেই। আমার পূর্বপুরুষের রক্ত সম্পর্কিত গারো নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে বাস করছি আমি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক পরিবেশে।... এই মুহূর্তে আমি আমার এই অবস্থানকে নির্বাসন বলি না, এই আমার ঘরে ফেরা একান্ত আপন শেকড়ে ফেরা মনে করি।’
বিরিশিরিতে রফিক আজাদ পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থান করেছেন। এই সময়-পরিধি তার মনোজগতে এনে দিয়েছে একটি পরিবর্তিত উপলব্ধি। লাভের মধ্যে লাভ হয়েছে, তার কাব্য-পরিবেশে ছোঁয়া লেগেছে সেই পরিবর্তন ধারার। কবিকে তো আর পাশ-পরিবেশ, বাস্তবতা এবং বাস্তবতার আনুষঙ্গিক বিষয়াদি থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মানুষের সংস্কৃতি, তাদের আচার-আচরণ এমনকি তাদের চেহারার সঙ্গে নিজের একটা সাযুজ্য তিনি চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। রফিক আজাদ পূর্বপুরুষের রক্ত-সম্পর্কিত গারো নৃ-গোষ্ঠীর সঙ্গে নিজের একটা যোগসূত্র অনুভব করতে পারলেন। বিরিশিরি পর্বে, তাদের মধ্যে বসবাস করতে গিয়ে তাদের নৃতাত্ত্বিক পরিচয়, ধর্ম, ঐতিহ্য রফিক আজাদকে অনুভবের সংহতি এনে দিল। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সঙ্গে অনুভবের নৈকট্য রফিক আজাদের কবিমানসে সূচনা করল একটি বিশালতার।
গারো আদিবাসীদের পূর্বপুরুষ ছিলেন নৃমণ্ডশিকারি। সাংমা ও মারাকদের দেবতা ততোরারাবুগা। সিনকিয়াং থেকে দীর্ঘ বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে তারা অবশেষে পৌঁছাল গারো পাহাড়ে। এখানেই স্থিত হলো। তার চুল শজারুর শরীরের কাঁটার মতো খাড়া, নাক ট্যাপ্টা, পাথরের কাঠিন্য ধরে রাখা মর্মভেদী আধফোটা চোখ, শরীরে টগবগে মাঙ্গলীয় রক্ত। তাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে চেহারার আকৃতি ও গাত্রবর্ণের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পেলেন। রফিক আজাদের নাক ছিল ঈষত্ চেপ্টা, শরীরের রঙে মাঙ্গলীয় আভা, চোখ আধফোটা, দৈহিক আকৃতির হুবহু মিল দেখে রফিক আজাদ একধরনের শ্লাঘা অনুভব করতেন। তিনি ভাবতেন সময়ের গ্রোতের অনিবার্যতায়ই তিনি আপন-শিকড়ের কাছে ফিরে এনেছেন। এখানে তার কিছু কাজ রয়েছে। দায়িত্ব রয়েছে পূর্ব পুরুষের ঋণ শোধের। রফিক আজাদ একসময় নিজেকে ‘রফিক মারাক’ পরিচয় দিতে একধরনের আনন্দ বোধ করতেন।
প্রিয় শহর, প্রিয় পরিজন থেকে দূরে থেকে বিরিশিরির চাকরির প্রথম দিকে, রফিক আজাদ ব্যথিত হতেন। চিত্ত চাঞ্চল্যের কথা তার কবিতায় এসেছে এটাই নিয়ম, জানি:/ মেনে নিতে কষ্ট হয়/মধ্যরাতে নিরাত্মীয়, স্বজনহীন/একাকী রুগ্ণ কবি/ প্রিয়তমা স্ত্রী নেই, সন্তানেরা/ঘুমিয়ে নেই যে ঐ পাশের কামরায়; / একাকী, নিঃসঙ্গ ন্যুব্জ, ব্যর্থ / বিষণ্ন প্রবীণ কবি / দুশ্চিন্তায় ঘুমায় একাকী।’ কবিতাটার থেকে অবশ্য বলেছেন, এমন পরিবেশ যে পুরোটাই নিজের মনের বিপক্ষে, আনন্দ যে নেই তা নয়। বলছেন সময়ে সুবাতাস বয়ে তিনি এসে আলিঙ্গনে আবদ্ধ করেন। এই ‘তিনি’ হচ্ছে ‘আনন্দিত মুহূর্ত।’ রফিক আজাদ বলছেন, ‘সুসময়ে সুবাতাস বয়ে তিনি / এসে আলিঙ্গনে আবদ্ধ করেন/ আমি হতবিহ্বল / মিশে যাই সুবিশাল বক্ষে তাঁর / ভালো লাগে ক্ষুদ্রও এই নির্বাসিতেরই’ এরপরই ঘটে অনুভূতির আরো বিস্তৃতি। রফিক আজাদ বলেন ‘যক্ষ নই সামান্য কৃষকপুত্র জন্মসূত্রে এই/ গারো সম্প্রদায়ভুক্ত / ফিরে তো এসেছি আমি আমার শিকড়ে। সেই মোর একমাত্র লাভ।
উপলব্ধির অতিক্রমের মধ্য দিয়ে রফিক আজাদ তার কবিতাকে একটা রূপ-মাধুরী দিতে সম্মত হয়েছিলেন। তার কাব্যভাষার একটি বৈশিষ্ট্য দাঁড়িয়েছিল। মনস্ক পাঠক কবির নামটি না জেনেও কবিতা পাঠে ঠিক বুঝতে পারতেন এটি রফিক আজাদের কবিতা। বিরিশিরি পর্বের কবিতাগুলো পূর্বের সেই চিহ্নিতকরণযোগ্য কবিতা থেকে আলাদা। লক্ষ করলেই দেখা যাবে, উপলব্ধি করা যাবে এই পর্বের কবিতাগুলো ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এ যেন পূর্বনির্ধারিতই ছিল, রফিক আজাদ একদিন চলে আসবেন সোমেশ্বরী নদীর তীরে। লিখবেন নিজের কাব্যভাষার সমান্তরাল আর এক ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কবিতা। এ পর্বের কবিতাগুলোর মধ্যে পূর্বের অভিজ্ঞতা, উপলব্ধির সম্প্রসারণ যেমন ঘটেছে, যুক্ত হয়েছে নতুন উপলব্ধির বহুমুখীনতা এবং স্বাতন্ত্র্যের ভিন্ন আস্বাদন। বিরিশিরিতে যখন নৈসঙ্গভরা জীবন যাপন করছিলেন, কবিমানসে তৈরি হয়েছিল অধ্যাত্ম চেতনার এক নতুন অভিজ্ঞান। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল মৃত্যুচিন্তার গভীরতর উপলব্ধি। পূর্বে রচিত কবিতার অভিযান, ক্ষোভ-দুঃখ এবং ব্যক্তিগত বেদনারও যেন ঘটেছে রূপান্তর। সেই মরমী অনুভবগুলো বিরিশিরি পর্বে এসে আরো সংহত, শিল্প সম্প্রসারণের পথে হেঁটে ছড়িয়েছে সমুজ্জ্বল এক দ্যুতি। এ যেন নান্দনিকতার পরিস্ফুটন। যেন এলেন সোমেশ্বরী তীরে, এর জবাব দিয়েছেন কবি নিজেই তার ‘সন্ন্যাসী, অন্তরে-বাহিরে’ কবিতায়। রফিক আজাদ লিখেছেন ‘নিয়তি এনেছে টেনে এই কানে,/সোমেশ্বরী তীরে, শুষ্ক বালিয়াড়ি আর কাশবন/ছাড়া কিছু নেই; সীমান্তের ওইপারে/সাজানো মেঘের সারি নয়, স্তরে-স্তরে/গারো পাহাড়ের শ্রেণি, এই শুষ্ক বিস্তীর্ণ প্রান্তর/আমার গোঁফের মতোÍ বিরিশিরি নামটি সুন্দর, /না দেখা না জানা এতটুকু নামের শব্দের যোগে/এসে তো পড়েছি এই খানে হয়তো বা/তাতারারাবুগা ইচ্ছে করেছিল, তাই/পূর্ব পুরুষের ঋণ শোধ ছিল কপালে আমার।’ গারোদের আ’ছিক দেবতা শ্রেষ্ঠ তাতারারাবুগার ইচ্ছের কথা আবারও বলেছেন কবিতার শেষ বাক্যেÍ‘তাতারারাবুগা ইচ্ছে করেছিল তাই তো এসেছি।’ এ রকম একাধিক কবিতায় তিনি বলেছেন বিরিশিরিতে আসা তার নিয়তি ছিল। এই আসাটা তার কাছে একসময় মূল্যবান হয়ে উঠেছে। কৃতজ্ঞতা প্রকাশকালে লিখেছেন, ‘কৃতজ্ঞ যে আমি ঐ নিয়তির কাছে,/নিয়তি যে বলি/আছিক দেবতা শ্রেষ্ঠ তাতারারাবুগা/আমার নিয়তি; দেব, কৃতজ্ঞতা জানাই তোমাকে;’ কবিতার শেষাংশে আরো দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, ‘... তাতারারাবুগা ইচ্ছে করেছিল, তাই/রফিক মারাক পূর্বপুরুষের দেশে এসে গেছে ফিরে’।
বিরিশিরিতে রফিক আজাদ পৌঁছে গেছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মানুষের কাছে, তার পা ছুঁয়েছে মাটির আদর। রফিক আজাদ চলনে-বলনে পোশাকে, মেজাজে আধুনিক হলেও, তার মানস গঠনে রয়েছে দেশের মাটির উর্বর আলেখ্য। নাগরিক চেতনার ভেতরে থেকেও তিনি লালন করেছেন অতৃপ্ত কৃষকের আকুতি, তাদের মর্মবেদনার অন্তরঙ্গ এবং বহিরাঙ্গের বিস্তৃতি। আগেও বলেছেন, বিরিশিরি পূর্বের কবিতায় তিনি একাত্ম হয়েছেন মাটি ও মানুষের সঙ্গে। একাধিক কবিতায় তিনি নির্দ্বিধায় নিজের সম্পর্কে বলেছেন, ‘নিতান্তই কৃষক সন্তান, ইত্যাদি শব্দ অভিধা। নীরবে সোমেশ্বরী তীরে নীরবে ঝরে যাওয়ার আকুতিও ব্যক্ত করেছে। বিরিশিরিতে এসে বদলে যাওয়া রফিক আজাদের কাব্য প্রকাশ সম্পর্কে তার কবিবন্ধু ফারুক আলমগীর লিখেছেন ‘বিরিশিরির জীবনে রফিক আজাদ এক নতুন আলোকময়তার সন্ধান পেয়েছিলেন। আদি নৃ-গোষ্ঠীর সঙ্গে একাত্ম রফিক আজাদের উত্তরণ ঘটেছিল অন্য এক জগতে, যেখানে সোমেশ্বরী কলকল শব্দে প্রসারিত দিগন্তের সবুজ সৌম্য গিরিশ্রেণিতে সন্ধান পেয়েছিলেন আমাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য পুরনো জীবনধারা তথা ম্যাজিক রিয়েলিজমের এক মনোহর রাজ্য।
গারো পাহাড়ের পাদদেশে চুনিয়া গ্রাম, বিরিশিরি, পাশে রফিক আজাদের জন্মগ্রাম গুণী। এই তিনটি স্থানের সংযুক্ত অনুপ্রেরণায় গড়ে উঠেছে রফিক আজাদের কবিমানসের একটি বিস্তীর্ণ এলাকা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT