সম্পাদকীয় ধংস এমন প্রতিটি লোকের জন্য, যে ধিক্কার দেয় ও নিন্দা করে বেড়ায়। -আল হাদিস।

অনাবাদি জমি চাষাবাদ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০২-২০২০ ইং ২৩:৫৪:২৩ | সংবাদটি ৮৯ বার পঠিত

সিলেট অঞ্চলে এক লাখ ৩৬ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে অনাবাদি। এই জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসলে কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা হবে। সম্প্রতি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালায় বক্তাগণ একথা বলেন। তারা বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে কৃষির ভূমিকা অপরিসীম। তারা আরও বলেন, কৃষিকে ভিত্তি করেই শিল্পবিপ্লব সংঘটিত হবে। নানা ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেও কৃষক ও কৃষিবিদেরা কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বাস্তবতার নিরিখে এই বক্তব্য মেনে না নেয়ার কোন কারণ নেই। কৃষি এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। তবে এটাও ঠিক যে, বিপুল পরিমাণ পতিত জমি রয়েছে দেশে; যা চাষের আওতায় নিয়ে আসলে খাদ্য উৎপাদনে বিরাট ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আমাদের কৃষিজমি কমছে প্রতিদিন। তারপরেও কৃষি গবেষক ও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে সার্বিকভাবে কৃষি উৎপাদন বাড়ছে। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দেশে উৎপাদিত হতো বছরে দেড় কোটি মেট্রিকটন খাদ্য শস্য। বর্তমানে তা বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ। অথচ এই সময়ের মধ্যে দেশে কৃষি জমির পরিমাণ কমেছে অর্ধেকের বেশি। এই পরিস্থিতি মোটেই সুখকর নয়। জমির ফসল উৎপাদন ক্ষমতা যতোই বাড়তে থাকুক, এভাবে জমির পরিমাণ কমতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে খাদ্যের ঘাটতি অবধারিত। তাই এখনই কৃষিজমি সংকোচন বন্ধ করতে হবে এবং নতুন জমি কৃষির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এই প্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা পতিত জমি আবাদ করার উদ্যোগ নেয়া জরুরী। এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, সরকারী পতিত জমির একটা বৃহৎ অংশই প্রভাবশালী চক্র বেদখল করে বসে আছে। এই জমি উদ্ধার করতে হবে। ইতোপূর্বে দেশের ৫৭ হাজার হেক্টর পতিত জমি সেচের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রকল্পের আওতায় সিলেটের তিনটি জেলাও রয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি আরও পতিত জমি যাতে চাষের আওতায় আসে, সেদিকে নজর দেয়া জরুরী।
[দেশের খাদ্য উৎপাদনকে টেকসই পর্যায়ে নিয়ে আসতে একটি সময়োপযোগী নীতিমালা প্রথমত জরুরী। যাতে থাকবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা পূরণের একটা স্থায়ী দিক নির্দেশনা। একটি জাতীয় কৃষি নীতির খসড়া ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। নিরাপদ ও কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, লাভজনক, উৎপাদনশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষে তৈরি হয় এটি।] এই নীতিমালা বাস্তবায়নের পাশাপাশি কৃষি জমি সুরক্ষায় রাসায়নিক সার কীটনাশক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে জমির উর্বরতা রক্ষা করা এবং পতিত জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT