হাদিসে আছে শিক্ষা লাভ প্রত্যেক নরনারীর ওপর ফরজ। আর শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান লাভ করা। আমাদের নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) জ্ঞানের মূল্য সম্পর্কে প্রচার করেছিলেন জ্ঞান অন্বেষণ করো, কেন না যে আল্লাহর পথে জ্ঞান অন্বেষণ করে সে ধর্মের কাজ করে; যে জ্ঞানের কথা বলে সে আল্লাহর প্রশংসা করে; যে জ্ঞান অন্বেষণ করে সে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে; যে জ্ঞান দান করে সে দান-খয়রাত করে; আর যে যথোপযুক্ত পাত্রে জ্ঞান দান করে সে আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসা প্রকাশ করে (আল হাদিস) জ্ঞান এমন বস্তু যা জ্ঞানীকে নিষিদ্ধ ও নিষিদ্ধ নয় এমন বস্তুর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে সমর্থ করে। ইহা স্বর্গের পথ উদ্ভাসিত করে, জ্ঞান নিসঙ্গ অবস্থায় আমাদের বন্ধু, নির্জনে আমাদের সমাজ, পরিত্যক্ত অবস্থায় আমাদের সাথী। ইহা আমাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করে; বিপদে আমাদের মধ্যে সাহস সঞ্চার করে; বন্ধুমহলে এ আমাদের অলঙ্কার এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে আমাদের বর্ম।

'/> SylheterDak.com.bd
মহিলা সমাজ

গণশিক্ষা প্রসারে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তব্য

রওশন আরা বেগম প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০২-২০২০ ইং ০৪:০৯:৫১ | সংবাদটি ১৪১ বার পঠিত

শিক্ষা মানুষের সুপ্ত গুণাবলী ও শক্তি সম্ভাবনার বিকাশ ঘটায়, তাদের ব্যক্তি জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও সাফল্য বয়ে আনে এবং পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করে। কবি মিল্টন বলেছেন, ‘Education is the harmonious development of body, mind and soul.’
গণ শব্দটির অর্থ জনসাধারণ’ অথবা সর্বসাধারণ। সেদিক থেকে গণশিক্ষার শাব্দিক অর্থ হলো সর্বসাধারণের জন্য শিক্ষা। উন্নত ও উন্নয়নশীল সব দেশেই এ জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত আছে। ইংল্যান্ডে এ শিক্ষাকে বলা হয় Further Education; ফ্রান্সে Popular Education এবং যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ায় Adult Education এবং এটাকে ইংরেজিতে Mass Education বলা হয়।
নামের দিক থেকে বেশ মিল থাকলেও শিক্ষার পাঠ্যক্রম ও কর্মসূচি কিন্তু সকল দেশে এক রকম নয়। উন্নত দেশসমূহে গণশিক্ষা বলতে বুঝায় বাধ্যতামূলক শিক্ষার পরবর্তী এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার আওতা বহির্ভূত যাবতীয় তাত্বিক, ব্যবহারিক ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা যা নাগরিক ও কর্মজীবীরা তাদের আগ্রহ অবসর ও প্রয়োজনানুসারে গ্রহণ করতে পারে। উদ্দেশ্য শিক্ষিতকে আরো শিক্ষিত করা, পেশাদক্ষতা ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিত ভিন্নতর। এখানে গণশিক্ষা বলতে বোঝায় নিরক্ষর বয়স্কদের জন্য সাক্ষরতা শিক্ষাসহ সবরকম মৌলিক শিক্ষা, যার মাধ্যমে তাদের কর্মদক্ষতা ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। ইদানিং অবশ্য গণশিক্ষার আওতায় অপ্রাপ্ত বয়স্কদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। উন্নত দেশগুলোতে তাদের জনসংখ্যার ৯০% থেকে ৯৫% লোক শিক্ষিত। সে সব দেশের তুলনায় আমাদের দেশের শিক্ষার হার অনেক কম। তবে শিক্ষার হার বাড়ানোর লক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন সমন্নিত উপ-আনুষ্ঠানিক বিস্তার কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে এবং দেশের বিদ্যমান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ মসজিদ, মন্দির, গির্জা, মাদ্রাসা ও মক্তবকে কেন্দ্র করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয় উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এগিয়ে এসেছে।
শিক্ষার বিস্তারে ও প্রসারে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তব্য যে রয়েছে তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। ইতিহাসের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে কয়েক হাজার বছর পূর্ব থেকে মসজিদ, টোল, গুরুগৃহের মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তার কার্যক্রম প্রচলিত ছিলো। মন্দির মসজিদ শুধুমাত্র প্রথাসিদ্ধ প্রার্থনার জায়গা নয়। যে কোনো ভাল কাজের আলোচনা পর্যালোচনা পরিকল্পনা গ্রহণের উত্তম স্থান। দেশে প্রায় তিন লক্ষ মসজিদ এবং কয়েক হাজার মন্দির, গির্জা রয়েছে। এ দেশের এমন কোনো প্রত্যন্ত এলাকা কিংবা গ্রাম নেই যেখানে একটি মসজিদ বা মন্দির নেই। এসব মসজিদ মন্দিরকে প্রার্থনা ও জাতীয় উন্নয়নের যুগপৎ কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে পর্যায়ক্রমে সক্রিয় করে তোলার লক্ষে ইমাম সাহেবদের পুরোহিত ও পাদ্রিদেরকে যুগোপযোগী বিষয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও কর্মনিষ্ঠ করার পদক্ষেপ নিয়েছে ইফার ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়।
রসুল (সঃ) এর কাছে প্রথম যে বাণী আল্লাহপাকের কাছ থেকে এসেছিল তা ছিল ইকরা’ অর্থাৎ ‘পড়’। অথচ সবচেয়ে দুঃখের বিষয় এদেশে জনসংখ্যার অধিকাংশই অশিক্ষিত। কোরানে শিক্ষার তাগিদ যত গুরুত্বের সাথে দেয়া হয়েছে সেই হারেই পৃথিবীতে মুসলমানেরা তত অশিক্ষিত।
এদেশের আনুষ্ঠানিক শিক্ষায়তনগুলোর মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষার্থীকে শিক্ষাদান সম্ভব নয়। তাই সরকারি নীতিমালার আলোকে মসজিদ মন্দির, গির্জাভিত্তিক উপ-আনুষ্ঠানিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম ইফার' মাধ্যমে বাস্তবায়িত করার প্রকল্প চালু করা হয়েছে। গণশিক্ষা প্রসারে মসজিদের ইমাম সাহেবদের মন্দিরের পুরোহিত ও গির্জার পাদ্রিদের সামান্য সম্মানীর বিনিময়ে এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তাতে সেই স্বর্ণযুগের গৌরব ও মহিমার কথা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। উক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে একদিন উপাসনালয়গুলো জাতীয় উন্নয়নের স্রোতধারায় হয়ে উঠবে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। যার মাধ্যমে সমস্ত জাতি হয়ে উঠবে শিক্ষিত, বাড়বে আমাদের শিক্ষার হার।
হাদিসে আছে শিক্ষা লাভ প্রত্যেক নরনারীর ওপর ফরজ। আর শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান লাভ করা। আমাদের নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) জ্ঞানের মূল্য সম্পর্কে প্রচার করেছিলেন জ্ঞান অন্বেষণ করো, কেন না যে আল্লাহর পথে জ্ঞান অন্বেষণ করে সে ধর্মের কাজ করে; যে জ্ঞানের কথা বলে সে আল্লাহর প্রশংসা করে; যে জ্ঞান অন্বেষণ করে সে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে; যে জ্ঞান দান করে সে দান-খয়রাত করে; আর যে যথোপযুক্ত পাত্রে জ্ঞান দান করে সে আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসা প্রকাশ করে (আল হাদিস) জ্ঞান এমন বস্তু যা জ্ঞানীকে নিষিদ্ধ ও নিষিদ্ধ নয় এমন বস্তুর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে সমর্থ করে। ইহা স্বর্গের পথ উদ্ভাসিত করে, জ্ঞান নিসঙ্গ অবস্থায় আমাদের বন্ধু, নির্জনে আমাদের সমাজ, পরিত্যক্ত অবস্থায় আমাদের সাথী। ইহা আমাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করে; বিপদে আমাদের মধ্যে সাহস সঞ্চার করে; বন্ধুমহলে এ আমাদের অলঙ্কার এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে আমাদের বর্ম।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT