উপ সম্পাদকীয়

ফেইসবুক আসক্তি

মোহাম্মদ ছয়েফ উদ্দিন প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০২-২০২০ ইং ০৪:১৭:৫৬ | সংবাদটি ১৪৩ বার পঠিত

আমি গ্রামের ছেলে। জন্ম গ্রামে। গ্রামে বড় হয়েছি। শৈশব কেটেছে গ্রামেই। বর্তমান কর্মস্থল শহরে। তাই দীর্ঘদিন থেকে শহরে বসবাস করছি। তবে গ্রামের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। প্রায়ই গ্রামে যাই। ঈদের ছুটি হলে তো কথাই নেই। ছুটে যাই গ্রামে। আত্মীয়-স্বজনের সাথে ঈদের ছুটি ভাগাভাগি করে ঈদ উদযাপন করি। ঈদের দিন মধ্যাহ্নভোজ সেরে বের হই বেড়াতে। বন্ধুদের নিয়ে গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে চলি। আড্ডা মারি। অবশ্য এখন আর মেঠো পথ নেই। রাস্তাগুলো পাকা করা হয়েছে। গ্রামে উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। তাই আগে যেখানে ছিল খেয়া তরণি সেখানে আজ পাকা সেতু। আগে যেখানে ছিল মেঠো পথ সেখানে আজ পিচ ঢালা রাস্তা। এ প্রসঙ্গে আর এগুচ্ছিনা। মূল প্রসঙ্গে যাই ফিরে।
বিগত এক ঈদুল ফেতরের ছুটিতে সপরিবারে গ্রামের বাড়ি যাই। রেওয়াজ অনুযায়ী বিকেলে বন্ধুদের সাথে গাঁয়ে হেঁটে বেড়াতে বের হই। আমরা তিন বন্ধু গ্রামের পিচ ঢালা রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলছি। পরস্পর গল্প করছি। রাস্তার বাম পাশ দিয়ে হাঁটছি। মাঝে মাঝে সিএনজি অটোরিক্সা কিংবা অন্যান্য যান বাহন চলছে। পথিকেরা আপন মনে চলছেন। অনেকের সাথে সালাম আদাব কিংবা কুশল বিনিময় করছি। সম্মুখে গ্রাম্য ক্ষুদে বাজার। গোটাকয়েক দোকান, দোকান পেরিয়ে রাস্তাটি ক্রমশ: উঁচু হয়ে কুশিয়ারা নদীর উপর দিয়ে একটি নাতিদীর্ঘ পাকা সেতুর উপর দিয়ে দূর দূরান্তে চলে গেছে। রাস্তা ও সেতুর সংযোগস্থল পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার রাস্তার উভয় পার্শ্বে পাকা খুঁটি নির্মাণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর খুঁটিগুলো নির্মিত। একাধিক বর্ণে রঙিত বিধায় খুঁটিগুলো দৃষ্টিনন্দন। খুঁটিগুলোর গা ঘেঁছে রাস্তার পাদদেশ গড়িয়ে কিছু দূর পর্যন্ত ঘন সবুজ ঘাস। বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ সূর্যালোকের জন্য মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তরু ছায়ার নিচে বসে ছেলেরা গল্প গুজব করে। আমরা তিন বন্ধু পড়ন্ত বিকেলে হেঁটে হেঁটে ঐ স্থানে পৌঁছি। রাস্তার ডান পার্শ্বে ঘন সবুজ ঢালু স্থানে ৭/৮ জনের এক ঝাক তরুণ চোখে পড়ে। ওরা ঐ এলাকারই সন্তান। প্রত্যেকের হাতে মোবাইল ফোন। কেউ দাঁড়িয়ে আবার কেউ বসে রয়েছে। সবাই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। দৃষ্টি Smart Phone এর স্ক্রীনে। কেউ কেউ Head Phone দ্বারা মোবাইলটি ব্যবহার করছে। আমরা ওদের প্রায় নিকটে পৌঁছি। হাঁটা বন্ধ করে দাঁড়াই, আমরা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারিনি। তাই সালাম, আদাব কিংবা কুশল বিনিময় করার সুযোগ পাইনি। ওরা আমাদেরকে সালাম করবে দূরের কথা আমাদের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার সময় নেই ওদের। এমনকি তাদের পরস্পরের মধ্যে কথা বলার অবকাশ নেই। তাদের সময় নেই। Face book কিংবা Internet-এ ওদের মন বিচরণ করছে। On line জগতে ওরা হাবুডুবু খাচ্ছে। মোবাইল ফোনে এরা এতো আসক্ত যে ওদের বয়োজ্যেষ্ঠ্যদর সালাম কিংবা কুশল বিনিময় করতে ভুলে গেছে। বলা হয় Face book সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। পরিতাপের বিষয়, ওরা যে সমাজে বাস করছে সে সমাজের খবর তারা রাখছেনা। যে সমাজের আলো বাতাস নিয়ে ওরা বড় হচ্ছে সে সমাজ দূরে রেখে কোন সমাজের যোগাযোগ রাখছে।
Like পাওয়ার জন্য অনেকেই Face book এ ফটো Upload করেন কিংবা Status লিখেন। দু’শ, তিন’শ খরশব আসে। দেখে আহ্লাদে আটখানা, Like দাতা বন্ধুটি Like গ্রহিতার পাশ দিয়ে চলে যায়। একে অন্যকে চিনেইনা। এ ধরনের Like কী গুরুত্ব বহন করে? এদের বেশিরভাগ Fake, বৃথা, ঘোড়ার ডিম। অনেকেই Like পাওয়ার জন্য কিংবা অহেতুক কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা, মিনিটের পর মিনিট Face book এ সময় ব্যয় করছেন। টেরই পান না। সময় অতি মূল্যবান। এর সদ্ব্যবহার করা অবশ্য কর্তব্য। মানুষের জীবন কয়েকটি সেকেন্ড, মিনিট আর ঘন্টার সমাহার। সময় একবার চলে গেলে পুনরায় ফিরে আসেনা। সদ্য ভূমিষ্ট শিশু ৬ মাস বয়স পর্যন্ত দৈনিক ১৫/১৬ ঘন্টা ঘুমায়। গড় পড়তা হিসাব কষলে দেখা যায়, আমাদের জীবনের এক তৃতীয়াংশ সময় কাটে ঘুমের মধ্যে। ঘুমাতে হবেই। সাবান দ্বারা কাপড়ের ময়লা দূর করা যায়। ঘুমের দ্বারা মানুষের দৈনন্দিন ক্লান্তি, Stretch, দুশ্চিন্তা দূর করা হয়। তাই ঘুম জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। বাকি দু’তৃতীয়াংশ সময় আমাদেরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। অযথা মহামূল্যবান সময় নষ্ট করলে জীবনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা যায় না। পরকালে যৌবনকালের সময়টুকু কী কাজে ব্যয় করা হয়েছে, প্রশ্ন করা হবে। তাই Face book কিংবা Internet ব্যবহারে সতর্ক হওয়া জরুরি। বিষয়টির প্রতি আসক্ত না হই। Face book ব্যবহার করবেন না, এটা আমরা বলিনা। Face book বিজ্ঞানের আশির্বাদ। প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান করতে বাধা নেই। মাত্রাতিরিক্ত কিংবা অযথা Face book বা, Internet এ বিচরণ করলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়। মহামূল্যবান সময় নষ্ট হয়। চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়। রাতে ঘুমাবার পূর্বে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনের স্ক্রীনে দৃষ্টি দিলে নিদ্রায় ব্যাঘাত ঘটে। অপর্যাপ্ত নিদ্রা জটিল ও কঠিন রোগের কারণ। সুতরাং fb ও Internet এ অযথা সময় ব্যয় না করা সময়ের দাবি।
লেখক : কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ক্যাস্পিয়ান সাগরের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব
  • নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন
  • বেকারত্ব ও যুবসমাজ
  • আমার হাতেই আমার সুরক্ষা
  • কুড়িগ্রামের সুলতানা সরেবোর
  • স্মার্টফোনের আনস্মার্ট ব্যবহার
  • কোয়ারেন্টাইন না বলে ঘরবন্দি, একঘরে, ছোঁয়াচে বলুন
  • বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের বন্ধু
  • করোনা ভাইরাস ও করুণ পরিস্থিতি
  • পানির অপচয় রোধ করতেই হবে
  • বিশ্বনবী (সা) এর মিরাজ
  • বিদ্যুৎসাশ্রয় এবং আমাদের করণীয়
  • বেঁচে থাকি প্রাণশক্তির জোরে
  • রক্ত দিন জীবন বাঁচান
  • নদীকে না দেখলে নদীও আমাদের দেখবে না
  • করোনা ভাইরাসে থমকে গেল পৃথিবী
  • করোনা ভাইরাসে আমাদের করণীয়
  • বঙ্গবন্ধুর মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন
  • বঙ্গবন্ধু ও আমাদের শিশুরা
  • করোনা ভাইরাস ও দেশের অর্থনীতি
  • Developed by: Sparkle IT