সম্পাদকীয়

তদ্বিরমুক্ত পরিবেশ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০২-২০২০ ইং ০৪:১৯:০৯ | সংবাদটি ১০৯ বার পঠিত


মানুষদের তদ্বিরমুক্ত পরিষেবা দিতে চায় দুর্নীতি দমন কমিশন। কমিশন চেয়ারম্যান সম্প্রতি রাজধানীতে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় একথা বলেন। তিনি বলেন, রেফারেন্স থাকলে প্রিফারেন্স পাওয়া যায় এই সংস্কৃতির অবসানের জন্যই কমিশন পল্লী অঞ্চলে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫টি দুর্নীতি বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ যাতে তদ্বিরমুক্তভাবে তাদের সরকারী পরিষেবা পেতে পারে সে বিষয়েই কাজ করছে কমিশন। তিনি বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনী প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কমিশন চেয়ারম্যান আরও বলেন দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ, সরকারী পরিষেবা প্রদানে বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তৃণমূল পর্যায়ে সরকারী কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত কল্পে গণশুনানীসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
সরকারী অফিস-আদালতে তদ্বিরমুক্ত পরিষেবা প্রদানের বিষয়টি রীতিমতো একটা ‘চ্যালেঞ্জের’ বিষয়। অর্থাৎ সরকারী অফিসগুলোতে তদ্বির ছাড়া সেবা পাওয়া অনেকটাই দুঃসাধ্য। হয় প্রভাবশালী কারও রেফারেন্স, আত্মীয়তার সূত্র কিংবা ঘুষের বিনিময়ে সেবা গ্রহণ করতে হয় সাধারণ মানুষকে। অনেক সময় রেফারেন্স থাকা সত্ত্বেও ঘুষ দিতে হয় কাজ আদায়ের জন্য। আবার রেফারেন্স-ঘুষ দু’টি থাকা সত্ত্বেও কাক্সিক্ষত সেবা না পাওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। এ কথা আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই যে, আমাদের দেশের সরকারী অফিস-আদালতে ঘুষের লেনদেন একটা স্বাভাবিক ঘটনায় রূপ নিয়েছে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিম্নস্তরের পিয়ন-দারোয়ান পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়। দুর্নীতিবাজ চাকরিজীবীরা নিরীহ সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে অবাধে ঘুষ নিচ্ছে। ঘুষ ছাড়া অনেক সময়ই ফাইল নড়ে না। ঘুষ দিতে হয় টেবিলে-টেবিলে, জনে-জনে। অনেক দুর্নীতিবাজ কর্মচারী রয়েছে যাদের সামনে বসে ঘুষের প্রস্তাব দিয়েই কথা বলতে হয়। প্রতিদিন সরকারী দপ্তরগুলোতে হাজার কোটি টাকা ঘুষের লেন-দেন হয়।
ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে গঠন করা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এই সংক্রান্ত নানা ধরণের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা ঘুষ-দুর্নীতি। বরং দিন দিন এর ধরণ ও মাত্রা বেড়ে চলেছে। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে সরকার বছর কয়েক আগে চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা শতভাগ বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু এতে হিতে বিপরীত হয়েছে। এখন বেতন-ভাতার সঙ্গে সঙ্গে ঘুষের মাত্রাও দ্বিগুণ করে ফেলেছে ঘুষখোরেরা। শুধু রেফারেন্স থাকলেই কিংবা ঘুষ প্রদান করলেই ‘প্রিফারেন্স’ পাওয়া যাবে, এই ঘৃণিত কালচার ধ্বংস হোক, ঘুষখোর দুর্নীতিবাজদের খপ্পর থেকে সরকার ও সাধারণ মানুষকে মুক্ত করা হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT