উপ সম্পাদকীয়

সিলেটে হিজড়া ও বেদে গোষ্ঠীর উৎপাত

নওরোজ জাহান মারুফ প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০২-২০২০ ইং ০০:৫১:২১ | সংবাদটি ১২১ বার পঠিত

আধ্যাত্মিক ও পর্যটন নগরী সিলেটে গত কয়েক বৎসর থেকে হিজড়াদের উৎপাতে জনজীবন অতিষ্ঠ। ইদানিং এদের সাথে যোগ হয়েছে বেদে সম্প্রদায়ের কতিপয় উশৃঙ্খল কিছু লোক। এদের অত্যাচার সইতে হচ্ছে সিলেটের মানুষদের। স্কুলগামী শিশু,কিশোর, কিশোরী, নারী-পুরুষ কেউ বাদ যায় না তাদের হামলা থেেেক। প্রতিদিন দল বেঁধে রাস্তা ঘাটে এরা সাধারণ মানুষদের উত্যক্ত করে এবং চাঁদা দাবি করে! তারা অশালীন অঙ্গ ভঙ্গি করে। এতে লোকজন বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। টাকা-পয়সা বা চাঁদা না দিলে তারা জিম্মি করে ফেলে মানুষদের। অনেক সময় তারা কয়েক জন মিলে ঘিরে রাখে। গাড়ীর সামনে দাড়িয়ে থাকে এবং ক্রমাগত অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে লোকজনকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়। তারা অশালীন ও খারাপ আচরণের সহিত টাকা হাতিয়ে নিতে চায়। এতে মানুষ ভয় এবং লজ্জাজনক অবস্থার শিকার হন যা অত্যান্ত ভীতিকর। গাড়ীতে থাকা পরিবার পরিজনদের সামনে তারা এমন আচরণ করে এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে যাতে আপনি ভয় পেয়ে টাকাকড়ি সব দিয়ে দিতে পারেন। এদের দাবি অনুযায়ী টাকা-পয়সা না দিলে সবার সামনে নগ্ন হয়ে যাবার ভয় দেখায়! এতে লজ্জা-শরমে মানুষ কোন মতে পালায় টাকাকড়ি দিয়ে। হিজড়াদের সাথে অতি সম্প্রতি যোগ হয়েছে বেদে মেয়েরা। টাকা লোটার ধান্ধায় তারা রাস্তা ঘাট ছাড়াও দোকান গুলিতে গিয়ে চড়াও হয়।
প্রতিদিন কোন না কোন এলাকায় গিয়ে তারা নিরীহ মানুষদের আক্রমন করে বসে। স্কুলগামী ছাত্রীরা তাদের প্রধান টার্গেট। নানা ভয় ভীতি দেখিয়ে অর্থ দাবী করা তাদের আসল কাজ। অর্থ না দিলে শুরু হয় তাদের অপকর্ম। এটা একদিনের ঘটনা নয়। সিলেট শহরে প্রায়ই নিরীহ জনগণ তাদের এমন অপকর্ম প্রত্যক্ষ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রায় বছর খানেক হয়ে গেছে সিলেটের নানান জায়গায় তাদের মিশন চলছে দাপটের সাথে। এদের অপকর্ম রুখবার কেউ কি নেই সিলেটে? আইন শৃংখলা বাহিনীর লোকজন কোথায় থাকেন? এতদিন থেকে এদের অসৎ এবং অশোভনীয় চলাফেরা, চাঁদা দাবী করা কেন আইনের সদস্যদের চোখে পড়ে না? এটা ভাববার বিষয়!
স্কুল কলেজ ছাড়াও শহরের কোন না কোন মার্কেটের সামনে সাধারণ ক্রেতা ও জনগণকে তারা নাজেহাল করে। বিশেষ করে সিলেটে প্রবাসীদের হয়রানী ও চাঁদা দাবি করে সবচেয়ে বেশী। সিলেটে আগত প্রবাসী বা বিদেশী লোকও তাদের হুমকি ধামকিতে চরম আতংকে থাকেন। তারা শুধু বিকৃত অঙ্গ ভঙ্গী-ই নয়, চাঁদা না দিলে স-শরীরে চড়াও হয় নিরীহ মানুষের উপর। বিদেশী অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়াতে সিলেটে তাদের তৎপরতা মারাত্মক। ফলে সিলেটের মানুষ চরম বে-কায়দায় পড়েন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
চৌহাট্টা মহিলা কলেজের সামনে ছাত্রীরাই তাদের প্রধান টার্গেটের শিকার হন। বেদেদের সাজঁগোজ ও বিকৃত অঙ্গঁ ভঙ্গির কারণে কলেজের ছাত্রীরা লজ্জায় লাল হয়ে যায়। এই দূর্বৃত্তদের টাকা না দিলে রেহাই মিলে না এবং তারা ছাত্রীদের গায়ে হাত দেয় এবং ব্যাগ ছিনিয়ে নিতে উদ্যত হয়। প্রশাসনের নাকের ডগায় এইসব কু-কর্ম হয় দেখে সাধারণ নাগরিক অবাক।
চৌহাট্টার মেইন রোডে ফটো স্টুডিও ব্যাবসায়ী শাহজাহান জানান, হিজড়া ও বেদেদের দৌরাত্ন্যে তাদের ব্যাবসা বাণিজ্যের মন্দাভাব যাচ্ছে। চৌহাট্টা ব্যবসার ভাল স্থান ও ভাল জায়গা হওয়াতে ফটো স্টুডিওর পাশাপাশি সেখানে ফটোস্ট্যাট, খাতা ,বই, পেন্সিল সব একসাথে (পয়েন্ট) থাকায় কলেজ ছাত্রীরা সেখানে যায়। কিন্তু হিজড়া ও বেদের কারনে এখন ছাত্রীরা ওখানে যেতে চায় না বিধায় ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এদের কারণে বহুদিন ধরে ব্যাবসার মন্দাভাব যাচ্ছে।
আম্বরখানা এলাকার লেপ-তোষক ব্যাবসায়ী আব্দুল জাহের বলেন; “ভাই একটা কিছু করেন, আমরা ব্যাবসা বাণিজ্য করতে পারছি না এদের জ¦ালায়! প্রতিদিন বিকৃত মনোভাব সম্পন্ন হিজড়া ও বেদেরা অশালীন পোষাক পরে বে-পরোয়া ভাব নিয়ে আমাদের নিকট চাদা দাবী করে। বড় অংকের চাঁদা না দিলে তারা সহজেই যায় না বরং অশ্লীল ভাষায় কথা বলে এবং এক পর্যায়ে গায়ের কাপড় খুলে ফেলতে চায়! তিনি বলেন ভাই, প্লিজ! প্লিজ!! একটা কিছু করুন, নইলে ব্যাবসা-বানিজ্য করা যাবে না। ওলী আউলিয়ার দেশ সিলেটে এরকম অপকর্ম যদি প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষ রুখতে না পারেন তা হলে আইনশৃংখলার কি হবে তা সহজেই অনুমেয়।
সাংবাদিক মুহিত চৌধুরী জানালেন, গত কোন এক রবিবার পরিবার বর্গ ও প্রবাসী ভাইয়ের পরিবার পরিজন নিয়ে পর্যটন স্পট জাফলংয়ে বেড়াতে গেলে সেখানে চরম বিপাকে পড়েন হিজড়াদের কারণে। জাফলংয়ে দেশ- বিদেশের শত শত মানুষদের নাজেহাল করেছে হিজড়া গোষ্ঠি। খোদ জাফলংয়ে যদি এমন চিত্র হয় তাহলে অন্য পর্যটন স্পটগুলির অবস্থা না জানি আরো কত ভয়াবহ হবে! এ সব দূস্কৃৃতকারীদের উপযুক্ত শাস্তি না দিলে পরিস্থিতি সামনে আরো খারাপের দিকেই যাবে।
শুনা গেছে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সরকার টুরিষ্ট পুলিশ গঠন করলেও সেই রবিবারে এর কোন অস্তিত্ব-ই নাকি জাফলংয়ে দেখা যায় নি। দুটি কুড়ি একটি পাতার দেশ সিলেট। এখানে শুয়ে আছেন ওলিকুল শিরোমনি হযরত শাহ জালাল (রঃ) এবং তার সঙ্গী-সাথী ৩৬০ আউলিয়া । ৩৬০ আউলিয়ার স¦নামধন্য আধ্যাত্মিক ও পর্যটন নগরীতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা আসেন। এমন যদি হয় পবিত্র ভূমি সিলেটের অবস্থা তাহলে কেউ কি কোন দিন ফিরে আসবে সিলেট ভূমিতে? মান-সম্মানের ভয় সব মানুষের আছে। টাকা পয়সার সাথে মান-ইজ্জত খোয়াতে চাইবে কি ভ্রমনপিপাসু পর্যটকেরা?
হযরত শাহজালাল (রঃ) দরগাহে গেলে ফকিরদের কারণে বিদেশী অতিথিরা উদ্ভট পরিস্থিতিতে পড়েন! পুরুষ-মহিলা ফকিরেরা পর্যটকদের পিছে পিছে ঘুরতে থাকে এবং কিছু না দেওয়া পর্যন্ত তারা রেহাই দেয় না পর্যটকদের। হিজড়াদের দৌরাত্ম্য অনেক আগ থেকে সিলেটে চলছে এখন নতুন যোগ হওয়া “বেদের মেয়ে জোৎস্নারা” যদি মানুষের ইজ্জতের উপর উঠে যায় তাহলে সামনের দিনগুলিতে কত যে আতংকের মধ্যে থাকতে হবে তা বুঝতে আর কতদিন লাগবে সিলেটের আইনশৃংখলা বাহিনীর কর্তা ব্যাক্তিদের? যত অপকর্ম ঘটে গেছে সেগুলি বাদ দিন এবং আর যেন কেউ নতুন করে এদের দৌরাত্ম্যের শিকার বা নিপিড়ন হয়রানিতে না পড়েন সেটা খেয়াল করুন। কর্তৃপক্ষকে বলতে চাই আপনারা একটু সজাগ হোন, একটু নড়ে-চড়ে বসুন, একটা বিহিত ব্যবস্থা করুন। নইলে পরিস্থিতি সহজে সামাল দেয়া যাবে না। খুব শীঘ্রই এর একটি সুষ্ঠু সমাধান দেখতে চায় নগরবাসী।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ক্যাস্পিয়ান সাগরের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব
  • নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন
  • বেকারত্ব ও যুবসমাজ
  • আমার হাতেই আমার সুরক্ষা
  • কুড়িগ্রামের সুলতানা সরেবোর
  • স্মার্টফোনের আনস্মার্ট ব্যবহার
  • কোয়ারেন্টাইন না বলে ঘরবন্দি, একঘরে, ছোঁয়াচে বলুন
  • বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের বন্ধু
  • করোনা ভাইরাস ও করুণ পরিস্থিতি
  • পানির অপচয় রোধ করতেই হবে
  • বিশ্বনবী (সা) এর মিরাজ
  • বিদ্যুৎসাশ্রয় এবং আমাদের করণীয়
  • বেঁচে থাকি প্রাণশক্তির জোরে
  • রক্ত দিন জীবন বাঁচান
  • নদীকে না দেখলে নদীও আমাদের দেখবে না
  • করোনা ভাইরাসে থমকে গেল পৃথিবী
  • করোনা ভাইরাসে আমাদের করণীয়
  • বঙ্গবন্ধুর মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন
  • বঙ্গবন্ধু ও আমাদের শিশুরা
  • করোনা ভাইরাস ও দেশের অর্থনীতি
  • Developed by: Sparkle IT