উপ সম্পাদকীয়

ভাষা বিপ্লব থেকে স্বাধীনতা

হোসেন তওফিক চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০২-২০২০ ইং ০১:২৪:৪৯ | সংবাদটি ১১১ বার পঠিত

বিশ্ব ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যুগে যুগে বিভিন্ন দেশেই রাজনৈতিক অধিকার আদায়, স্বাধীনতা অর্জন এবং ভূখন্ড প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিপ্লব, দুর্বার ও প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে কোথাও আন্দোলন বা বিপ্লব হয়েছে এমন নজির নেই। ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে বাঙালিদের মরণপণ সংগ্রাম-আন্দোলন নজিরবিহীন ও অনন্য। ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের দুর্বার ও অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনই বাঙালিদের জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবোধে উজ্জীবিত করে। স্বাধিকার ও স্বাধীনতা চেতনায় মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়। ভাষা বিপ্লব থেকেই একসাগর রক্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ অর্জিত হয়।
১৯৪৭ সালের পরই তদানীন্তন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু হবে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। স্বাভাবিক কারণেই তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের আপামর জনগণ মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করে। কিন্তু দেশের রাষ্ট্রনায়ক থেকে শুরু করে ক্ষমতার মসনদে আসীন কিছু নেতা প্রবল জনমতকে উপেক্ষা করে বাংলার বদলে উর্দু চাপিয়ে দেয়ার অশুভ পায়তারায় লিপ্ত হয়। এতে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানবাসী রুখে দাঁড়ায়। ফুঁসে উঠে এবং প্রবল আন্দোলন শুরু করে। ভাষা আন্দোলন চূড়ান্তরূপ পরিগ্রহ করে ১৯৫২ সালে। ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে মিছিলে সরকার গুলীবর্ষণ করে। শহীদ হন রফিক, সালাম, জব্বার। শহীদদের রক্তদানে ভাষা আন্দোলনেন দাবির আগুন ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। আন্দোলন গণ-আন্দোলনে পরিণত হয়।
রচিত হয় ২১ দফা। ২১ দফার ভিত্তিতে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি হয়। নতুন সরকার ক্ষমতায় বসেই বাংলা ভাষার দাবিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষায় পরিণত করে।
কিন্তু এই ভাষা আন্দোলনকে ভাষা বিপ্লব বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই বিপ্লব বাঙালিদেরকে স্বকীয়তা নিয়ে এগিয়ে যেতে উজ্জীবিত করে। এভাবেই স্বায়ত্বশাসন, স্বাধিকার ও স্বাধীনতা চেতনার বিকাশ ঘটে। পরিণতিতে দীর্ঘ সংগ্রাম ও এক সাগর রক্ত পেরিয়ে ৩০ লক্ষ প্রাণের ও ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা লাভ করি। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বুকে বাঙালিরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।
বাংলা এখন ‘আন্তর্জাতিক ভাষায়’ পরিণত হয়েছে। হয়তো অচিরেই বাংলা জাতিসংঘের একটি দাপ্তরিক ভাষায়ও রূপ নেবে। সেই শুভ দিনের প্রতীক্ষায় আমরা প্রতিক্ষারত। সেজন্য বলা যায় বাংলা ভাষা রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠার দাবিতেই আমাদের জাতীয়তাবাদের যাত্রা শুরু। বাংলা ভাষার দাবির প্রেক্ষিতেই আমাদের জাতীয় রাজনীতি আবর্তিত। তাই বলা চলে ভাষা বিপ্লব থেকেই আমাদের স্বাধীনতা।
লেখক : আইনজীবী, কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ক্যাস্পিয়ান সাগরের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব
  • নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন
  • বেকারত্ব ও যুবসমাজ
  • আমার হাতেই আমার সুরক্ষা
  • কুড়িগ্রামের সুলতানা সরেবোর
  • স্মার্টফোনের আনস্মার্ট ব্যবহার
  • কোয়ারেন্টাইন না বলে ঘরবন্দি, একঘরে, ছোঁয়াচে বলুন
  • বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের বন্ধু
  • করোনা ভাইরাস ও করুণ পরিস্থিতি
  • পানির অপচয় রোধ করতেই হবে
  • বিশ্বনবী (সা) এর মিরাজ
  • বিদ্যুৎসাশ্রয় এবং আমাদের করণীয়
  • বেঁচে থাকি প্রাণশক্তির জোরে
  • রক্ত দিন জীবন বাঁচান
  • নদীকে না দেখলে নদীও আমাদের দেখবে না
  • করোনা ভাইরাসে থমকে গেল পৃথিবী
  • করোনা ভাইরাসে আমাদের করণীয়
  • বঙ্গবন্ধুর মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন
  • বঙ্গবন্ধু ও আমাদের শিশুরা
  • করোনা ভাইরাস ও দেশের অর্থনীতি
  • Developed by: Sparkle IT