উপ সম্পাদকীয়

টিলায় থাকা ছেলেটি

সুলতান মাহমুদ প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০২-২০২০ ইং ০১:২৭:০২ | সংবাদটি ২১০ বার পঠিত

তীব্র শীত সন্ধ্যাকে গ্রাস করে ফেলেছে। তার সাথে যুক্ত হয়ে সাদা ঘন কুঁয়াশার চাদর। এ বছর শীত আক্রমণ করেছে তার সর্বশক্তি নিয়ে। শরীর গরম করা নামী দামী কোন কাপড় চোপড়কেই শীত কোন প্রকার পাত্তা দিচ্ছে না। মনে হয় গরম কাপড়গুলো শীতের সাথে পাঞ্জা লড়ে সুবিধে করতে পারছে না।
ফলে শীতের কষ্টে আছি আমাদের মতো সাধারণ মানুষেরা। সন্ধ্যার পরে শীতের ভয়ে ঘরের বাহিরে যাই না। বিছানায় লেপের সাথে জড়াজড়ি করে ঘর বন্দী হয়ে থাকার চেষ্টা করি।
তার পরেও প্রয়োজনের তাগিদে অনেক সময় বাইরে যেতেই হয়।
ফেঞ্চুগঞ্জের পোস্ট অফিস রোডের একটি ‘স’ মিলের কাছেই আমার বাসা। ‘স’ মিলের পাশ ঘেঁষে দুইটি মুদির দোকান। মশা খেদানোর কয়েল এবং পান খাওয়ার তাগিদে ঘর থেকে বের হলাম। কুয়াশা এতো ঘন যে দু’হাত সামনের বস্তুকে দেখতে কষ্ট হচ্ছে। সাথে শীতের হাড় কামড়ানো টর্চারিং তো লেগেই আছে। কয়েল কিনব, খিলি পান খাব। দোকানের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। জায়গাটি অনেকটাই ফাঁকা। এর আশে পাশে আর কোন দোকান নেই।
দোকানের সামনে দু’জন মহিলা ক্রেতা থাকার কারণে দোকানে ঢুকতে পারছিনে। তাই বারান্দায় এক সাইডে একাকী দাঁড়িয়ে আছি।
খেয়াল করে দেখলাম আমার পাশেই একটি ছোট ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। বয়স তার সাত-আট বছরের বেশি হবে না। পোশাক পরিচ্ছেদের বেগতিক অবস্থা দেখে অনুমান করা যায় শিশুটি হতদরিদ্র ঘরের। মাথায় সজারু কাঁটার মতো খাড়া খাড়া চুল। ধুলা মলিন, তৈল বিহীন রুক্ষ্ম। স্বাস্থ্যগত অবস্থায় তাকে নাদুুস নুদুস বলা যাবে না। তবে একেবারে হালকা পাতলাও নয়। মধ্যম মানের স্বাস্থ্য তার। বুদ্ধিদীপ্ত দুটো চোখ তার। ছেলেটির হাতে দুটো ক্রিকেট বল। আমার গা ঘেঁষে এসে দাঁড়াল। আর চোখে কয়েক বার আমার মুখের দিকে তাকাল। তার তাকানোতে একটু স্ব লজ্জ ভাব। তবে দৃষ্টিতে বুঝা যাচ্ছে সে আমাকে যেনো কিছু বলতে চায়। আমি তাকে কৌতুহল বশতঃ লক্ষ্য করে যাচ্ছি। চেহারা গঠন একেবারে খারাপ না, ঘষা মাজা করলে, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন জামা কাপড় পরালে নেহায়েত মন্দ লাগবে না তাকে। আমার দিকে আড় চোখে ঘন ঘন তাকানো। কিছু একটা বলবে বলবে ভাব। অবশেষে সে ভঙ্গ করে আমাকে আচমকা প্রশ্ন করে বসল-
- ‘আমাকে বিশটে টেকা দিবে?’
- আমি অবাক হলাম।
- তোমাকে কেন বিশটে টাকা দিব?
- দুটো চিপস কিনব?
- তুমি কি ভিক্ষে কর?
আমার এ ধরনের প্রশ্নে সে ভীষণভাবে যেনো অপমানিত হলো। জোরালো গলায় সে উত্তর দিল।
- আমি কখনো ভিক্ষে করি না। করবোও না।
- তবে আমার কাছে বিশটি টাকা চাচ্ছো কেন?
সে লজ্জিত হলো। নত মুখে মাথা নিচু করে আমার সামনে দাঁড়িয়ে র’ল।
- আমাকে তো তুমি চিন না, জানও না, আমিও তোমাকে চিনি না। আমি তোমাকে কেন বিশটি টাকা দিতে যাবো? আবার বলছ, ভিক্ষেও কর না?
- তুমি আমাকে চিন না, কিন্তু আমি তোমাকে চিনি। তুমি আমাদের অনিক ভাইয়ের আব্বু।
- আমার ছেলে অনিককে তুমি কীভাবে চিন? সে তো পড়ে কলেজে, তুমি তো পিচ্ছি ছোট পোলাপান। সে তো তোমার বয়েসী নয়।
- তাতে কী হয়েছে। আমরা তো এক সাথেই অনেক দিন ধরেই ক্রিকেট খেলি। এবার আমিই যেনো একটু লজ্জা পেলাম। হাজার হউক আমার ছেলের খেলার বন্ধু তো। বয়স বা ধনী গরীবের কী এসে যায়। বন্ধু তো বন্ধুই। এতে বয়েসের কী এসে যায়।
- ও: বুঝতে পেরেছি। আমি তোমার বন্ধুর বাবা; এ হিসেবেই টাকাটা চেয়েছো? তাইতো?
- ওতো কিছু তো আমি বুঝি না। তোমার কাছে বিশটি টাকা চেয়েছি, থাকলে দাও। না থাকলে, নাই।
আমার মাঝে ছেলেটিকে নিয়ে ভীষণ কৌতুহলের সৃষ্টি হচ্ছে। আমাকে ডাকছে তুমি, তুমি করে। তবে এটা ঠিক সহজ সরলতায় পরিপূর্ণ তার আবদার। আমি তাকে একটু বাজিয়ে দেখতে চাচ্ছি। আমি সরহফ-এ কিছু নিলাম না। আমি একটু কৌতুক করে বললাম
- যদি টাকা না দেই।
- না দিলে আর কি করার।
- তোমার কী খুউব ইচ্ছে করছে চিপস খাবার?
- না, আমার চিপস খাবার ইচ্ছে করছে না।
- তবে?
- দুটো চিপস কিনে নিয়ে বাসা যাবো। দুটো চিপস কিনে বাসায় গেলে আমার খুব ভাল লাগবে।
- কেন বাসায় দুটো চিপস নিতে হবে।
ছেলেটি আর কোন অনুরোধ আমার কাছে করল না। সরাসরি আমায় বললো, ‘আচ্ছা টাকা না দাও অসুবিধা নেই।’ আমার বাসা পর্যন্ত একটু এগিয়ে দাও। আমার একা যেতে ভয় করছে। অন্ধকার হয়ে গেছে তো। রাস্তায় তো কোন মানুষজন নেই। ভয় পাচ্ছি আমি। যাবে তো আমার সাথে। সামান্য একটু পথ।
- তোমার বাসাটা কোন দিকে?
সে আঙুল দিয়ে টিলার উপর একটা টিপা গলি আমাকে দেখিয়ে দিল।
- আচ্ছা ঠিক আছে, চল তোমাকে এগিয়ে দেই। তবে সত্যি করে বলতো চিপস কি তোমার নিতেই হবে।
- বলেছি তো, নিতে পারলে ভাল হত।
আমি আর কথা বাড়ালাম না। দোকান থেকে চিপস কিনে তার হাতে দিয়ে বললাম, চল তোমায় এগিয়ে দেই।
ছেলেটির মধ্যে কোন ভনিতা নেই। কার দয়া মায়া পাওয়ার জন্যে কোন ছল চাতুরীর আশ্রয়ও নিচ্ছে না। তার অতি সহজ সরল কথা বার্তায় আমি খুশিই হলাম। যেটা ভিক্ষুকেরা করে যাকে- সে-এ-রকম করছে না।
এবার আমার রীতিমতো অবাক হওয়ার পালা। ছেলেটি চিপস দুটো হাতে পেয়ে খুশিতে গদ গদ হয়ে উঠলো। তারপর তার হাতের দুটো ক্রিকেট বল আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো;
- এ দুটো তুমি নাও? অনিক ভাইয়াকে দিও?
- বিশ টাকার বদলে তুমি কী এগুলো আমায় দিচ্ছো?
- হ্যাঁ।
- কিন্তু তুমি তো আগে আমায় এ কথা বলনি যে তুমি বল দুটো বিক্রি করতে চাও?
- অতো বুদ্ধি তো আমার মাথায় আসে না। এমনি এমনি বিশ টেকা তোমার কাছ থেকে নেবো কেন? বল দুটো দিলাম, দাম বিশ টাকার বেশি হবে।
আমি এতো টুকু বাচ্চার প্রখর ব্যক্তিত্বের কাছে ‘থ’ হয়ে গেলাম।
আমি আর কথা না বাড়িয়ে তাকে বাড়ি পর্যন্ত আগায়ে দেওয়ার জন্যে তার সাথে পথে নামলাম। ততোক্ষণে অন্ধকার গাঢ় হয়েছে। কুয়াশার ধোঁয়া ছুটছে। কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না সামনে। তারপর আবার শীতের তীব্র আক্রমণ। পাশাপাশি আমি তার সাথে হাটছি।
প্রশ্ন করলাম তাকে
- তোমার নাম কী?
- কালাম
- শুধুই কালাম, নামের আগে আবুল নেই।
- বাপে রেখেছিল, আবুল কালাম। মাইনস্যে ডাকে আবুল্ল্যা কালাম।
- মাইনস্যে কেন ডাকে?
- গরীব মাইনস্যের পোলাপানেরে তো মাইনস্যে চৌধুরী, তালুকদার, রাজকুমার করে ডাকবো না আবুল্ল্যা, কামাইল্ল্যে কইয়াই ডাকে?
- তা, ঠিক, আমাদের সমাজটাই এরকম। আমি আবারও তাকে প্রশ্ন করলাম।
- সংসারে তোমার কে কে আছে?
- মা, এবং ছোট দুটো বোন আছে।
- বাবা নেই।
সে আমার এ প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে অন্য প্রসঙ্গে চলে গেল।
- ঐ যে, উঁচু টিলাটা দেখছো ওর উপরে একটা চিপা গলি আছে। ঐ গলির ভিতরেই আমাদের বাসা। আমি এখন যেতে পারব। তুমি এখন যাও? আমি তার হাত ধরলাম।
- তুমি তো তোমার বাবার কথা কিছু বললে না।
- আমি তো বলেছি, আমার মা আছে, বোন আছে।
- তার মানে তোমার বাবা কী নেই?
- আবারও সে আগের মতো প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেল।
আমি আবার কিছু বলতে গিয়ে চুপ হয়ে গেলাম। কি দরকার জোর করে তার কাছ থেকে কিছু শুনার, যা সে বলতে চাচ্ছে না। না বলার নিশ্চয় কোন কারণ থাকতে পারে তার। সেটা তার নিতান্তই ব্যক্তিগত। ব্যক্তিগত বিষয়ে না ঢুকাই ভাল।
আমি ক্রিকেট বল দুটো তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললাম, এ দুটো আপাতত: তোমার কাছেই থাক। সে ঝটপট উত্তর দিল। কিন্তু তোমার কাছ থেকে যে টাকা নিলাম?
- তুমি তো আমার ছেলের বন্ধু। বিপদ হলে, দরকার হলে, আমার কাছ থেকে তো কিছু নিতেই পারো। এতে দোষের কিছু নেই।
সে কিছুক্ষণ চুপ থাকল। কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর অত্যন্ত লজ্জিত ভঙ্গিতে সে বললো, এটা তো ভিক্ষে নেওয়া হল।
- কেন ভিক্ষে হবে? আমি তো তোমার বাবার মতো আদর করে তোমায় দিচ্ছি, তুমি যদি বল দুটো না নাও, তবে তো তোমার বেয়াদবী হবে? এতে সে ঘাবড়ে গেল।
- ঠিক আছে, তোমার কথা মানলাম। তবে আমার কাছে যখন টাকা থাকবে তখন তোমায় ফেরৎ দিবো।
- আচ্ছা ঠিক আছে। সে দেখা যাবে। তারপর সে দ্রুত টিলার উপরে উঠে চলে গেল।
দুই
সেদিন ছিল শুক্রবার। স্কুল বন্ধের দিন। যেহেতু মাস্টারী চাকুরি করি, তাই বন্ধের দিনটা একটু অবসরে কাটাই। বাজারে যাই। কিছু মিছু কিনা কাটা থাকে, সেগুলো সারতে হয়। পোস্ট অফিস রোড হয়ে বাজারে যাচ্ছিলাম। টিলার উপর থেকে হঠাৎ একটি ছেলে আমায় জোরে জোরে স্যার-স্যার বলে ডাকছিল। আমি সে দিকে তাকালাম, দেখলাম, সে রাতের সেই আবুল কালাম ছেলেটি। দৌড়ে আমার কাছে এলো
- স্যার, ভাল আছেন।
আমি অবাক হলাম। আজকে সে সম্বোধন করছে আপনে আপনে, তার সাথে আবার যুক্ত করেছে স্যার। পরিবর্তনের হেতুটা কী?
- ভাল আছি। তুমি কেমন আছো?
আজকে আপনি আপনি বলছ যে।
- ‘মা’ আমাকে ধমকে দিয়েছে আপনাকে আপনি এবং স্যার বলে ডাকতে।
- ‘ও’ তাই নাকি?
- হ্যাঁ।
- সে তার প্যান্টের পকেট থেকে বিশটি টাকা বের করে আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো, আপনার ঋণ আমি পরিশোধ করে দিলাম।
- কিন্তু তোমার টাকা তো আমি নেবো না। তোমাকে আমি আদর করে দুটো চিপস কিনে দিয়েছি, ভালোবাসা, আদরের মূল্য তো টাকা দিয়ে হয় না।
- আমি তো স্যার অতো কিছু বুঝি না, আমি তো টাকাটা আপনের কাছ থেকে ধার নিয়েছিলাম।
- আমি তো তোমাকে ধার দেইনি। আমি যতোই তাকে বুঝাতে চেষ্টা করে টাকাটা ফেরৎ দিতে চেষ্টা করছি, সে নাছুড়বান্দা, কিছুতেই সে টাকা নেবে না। অবশেষে আমি এক প্রস্তাব দিলাম, আচ্ছা আমি টাকা নিতে পারি এক শর্তে, আমাকে এখন তোমাদের বাড়িতে নিয়ে যেতে হবে। সে ভীষণ অসুবিধায় পড়লো, বুঝতে পারলাম। না শব্দটাও বলতে পারছে না, আবার আমাকে সাথেও নিতে কেমন যেনো সংকোচবোধ করছে। আমার মনে তখন ভীষণ কৌতুহল, তার ফ্যামিলি সম্পর্কে আমাকে জানতেই হবে। তার বাবার কথা কেন সে বলতে চাচ্ছে না।
আমি এক প্রকার জোর করেই তাকে সাথে নিয়ে তার বাড়িতে হাজির হলাম।
এক চালা একটা টিনের ঘর। বাঁশের বেড়া। হতদরিদ্র যাকে বলে। বস্তির মতো পরিবেশে কোন মতে মাথা গুজে এই চারটি প্রাণী এখানে থাকে। তার ছোট দুটো বোনকে দেখলাম, রোগাটে ফ্যাকাশে চেহারায়। ময়লা জামা কাপড় গায়ে। তার মার সাথে পরিচয় হলো। আমাকে যতœ করে একটি প্লাস্টিকের চেয়ারে বসতে দিল। বুঝতে পারলাম, আমার সম্পর্কে এরা সবাই জানে। তার মায়ের স্বাস্থ্যগত অবস্থাও খুব একটা ভাল না। মহিলার বয়স বেশি হবে না। বুঝা যাচ্ছে সাতাশ আটাশের এ মহিলা পুরোপুরি বুড়িয়ে যাচ্ছে। চোখে মুখে হতাশার ছাপ।
তারপর তার মার কাছে আমি তাদের পরিবারের অবস্থা এবং কামালের আব্বা সম্পর্কে জানতে চাইলাম। তিনি কেঁদে কেঁদে অতি সংক্ষেপে আমাকে যা জানালেন, তা রীতিমত বেদনাদায়ক।
নয় মাস আগে, কামালের আব্বা নিখোঁজ হয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করে, থানা পুলিশ, খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়েও লোকটির কোন প্রকার হদিস তারা পাচ্ছে না। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি হারিয়ে গেলে হতদরিদ্র সংসার কীভাবে চলে। তাই বাধ্য হয়েই কামালের মা দুটো বাসায় ঝিঁ গিরির কাজ করে। কামাল নিজে দু-তিনটে বাসায় গাড়ী ধোয়া মোছার কাজ করে দৈনিক একশ দেড়শ টাকা কামাই করে কোন মতে দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে না খেয়ে তাদের দিন চলে। স্বামীর জন্যে স্ত্রী কাঁদে। বাবার জন্যে সন্তানেরা কাঁদে। খোদার দরবারে নামাজ পড়ে আরজি জানায় বিধাতাকে, কামালের আব্বা যেনো ফিরে আসে। কিন্তু বিধাতার ইচ্ছে বিধাতাই জানেন, গরীবের দুঃখ মোচনে, কান্না থামানোর জন্যে তাদের সংসারে কোন সুখবর আসে না। কামাল ক্লাস ফাইভে পড়তো। বাবা নিখোঁজ হওয়ার পর দুঃখে দুঃখে পাথর হয়ে গেছে। চরমভাবে মন ভেঙ্গে গেছে। আগে বাবার জন্যে প্রচুর কান্নাকাটি করতো। রাস্তায় রাস্তায় কেঁদে কেঁদে হন্যে হয়ে সারাদিন বাবাকে খুঁজে ফিরতো। এখন তার মনে নিরাশায় ঘন অন্ধকার বাসা বেধেছে। দুটো বোনকে মাকে খাওয়ানোর আশায় পড়াশুনা বাদ দিয়ে রুটি রুজির পথ ধরেছে। ছোট দুটো রোগাটে বোন মাঝে মধ্যে বায়না ধরে, চিপস খাবে, বিস্কুট খাবে, কামালের কাছে টাকা পয়সা থাকলে বোনের আবদার পূর্ণ করে। আর যখন টাকা পয়সা থাকে না একা সে হন্যে হয়ে খুঁজে টাকা, বোনের আবদার পূর্ণ করতে। অতোটুকু হতদরিদ্র পিচ্ছি ছেলেকে কে টাকা পয়সা ধার দেবে।
কাহিনী শুনে মনটা আমার ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। যারা সুখে শান্তিতে আছে, তাদের নিয়ে আমার কোন আফসোস নেই। তারা আরও সুখে থাক, আরও শান্তিতে থাকুক- এ কামনাই করি। কিন্তু বিধাতা তোমার কাছে আমার আবেদন। এ হতভাগা কামালের দুঃখবোধগুলো একটু কমিয়ে দাও না! তুমি না দয়ার সাগর। এ হতভাগা তিনটে মাসুম বাচ্চার খাঁটি নির্মল চোখের পানিতে তোমার কি এতোটুকু ইচ্ছে হয় না, এদের বাবাকে এদের কাছে ফিরিয়ে দিতে? কবুল কর মাবুদ আমার আবেদন।
আমি চলে আসার সময় কামালের মাকে অনুরোধ করলাম, কামালকে আবার স্কুলে ভর্তি করতে। খরচা পাতির একটা ব্যবস্থা হবেই, এমন আশ্বাস তাকে দিলাম। উঠে আসার আগে তার বোন দুটোর হাতে দু’শ টাকা ধরিয়ে দিলাম জোর করে।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ক্যাস্পিয়ান সাগরের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব
  • নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন
  • বেকারত্ব ও যুবসমাজ
  • আমার হাতেই আমার সুরক্ষা
  • কুড়িগ্রামের সুলতানা সরেবোর
  • স্মার্টফোনের আনস্মার্ট ব্যবহার
  • কোয়ারেন্টাইন না বলে ঘরবন্দি, একঘরে, ছোঁয়াচে বলুন
  • বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের বন্ধু
  • করোনা ভাইরাস ও করুণ পরিস্থিতি
  • পানির অপচয় রোধ করতেই হবে
  • বিশ্বনবী (সা) এর মিরাজ
  • বিদ্যুৎসাশ্রয় এবং আমাদের করণীয়
  • বেঁচে থাকি প্রাণশক্তির জোরে
  • রক্ত দিন জীবন বাঁচান
  • নদীকে না দেখলে নদীও আমাদের দেখবে না
  • করোনা ভাইরাসে থমকে গেল পৃথিবী
  • করোনা ভাইরাসে আমাদের করণীয়
  • বঙ্গবন্ধুর মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন
  • বঙ্গবন্ধু ও আমাদের শিশুরা
  • করোনা ভাইরাস ও দেশের অর্থনীতি
  • Developed by: Sparkle IT