সম্পাদকীয় মাঝে মাঝে তুচ্ছ বিষয় চোরাকাঁটার মতো মনে লেগে থাকে। ব্যথা দেয় না, অস্বস্তি দেয়। -হুমায়ুন আহমেদ।

ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্স

প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০২-২০২০ ইং ০১:২৯:০৭ | সংবাদটি ১২৫ বার পঠিত

সড়কে ‘মৃত্যুর মিছিল’ থামাতে নতুন নির্দেশনা এসেছে। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফিটনেসবিহীন গাড়ি। ফিটনেস ও নিবন্ধনবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নিবন্ধিত ফিটনেসবিহীন; অনিবন্ধিত এবং চলাচলের অযোগ্য গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা, তদারকি ও সেগুলোর চলাচল বন্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে সব জেলায় একটি করে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং বিআরটিএ-র তত্ত্বাবধানে গঠিত এই টাস্কফোর্স নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও বিআরটিএ’র প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠন করতে বলা হয়েছে। জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র এবং সড়ক পরিবহন সচিবের প্রতি এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়, সড়ক আইন ২০১৮ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে টাস্কফোর্স। প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট চালককে গ্রেপ্তার, গাড়ি জব্দ ও জরিমানা করতে পারবে এই টাস্কফোর্স।
সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন। অসংখ্য তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি। সেই সঙ্গে রয়েছে রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ির দাপট। সাধারণত ভাঙাচুরা রাস্তায় অদক্ষ চালকের কারণে কিংবা বেপরোয়া চালানোর কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। কিন্তু [অনেক সময় রাস্তা চলাচল উপযোগী থাকা সত্ত্বেও দক্ষ চালক থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ফিটনেসবিহীন গাড়ি থাকার কারণে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে। গবেষকদের মতে, ফিটনেসবিহীন-অবৈধ যানবাহনেই দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি। আর এই ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্যই নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।] নির্দেশনায় এই সংক্রান্ত টাস্কফোর্স গঠনের কথা বলা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই নির্দেশনা কীভাবে কার্যকর হয়। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এই টাস্কফোর্স গঠন করা হবে এবং এর তত্ত্বাবধানে থাকবে বিআরটিএ। এক্ষেত্রে কিছু প্রশ্নের উদ্রেগ হয় স্বাভাবিকভাবেই। সেটা হলো, ফিটনেসবিহীন কিংবা রেজিস্ট্রেশনবিহীন কিংবা ভূয়া সনদ নিয়ে যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে প্রধান ‘ভূমিকাই’ রাখছে বিআরটিএ। অর্থাৎ বিআরটিএ’র দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের ঘুষের বিনিময়ে ভূয়া সনদ দিচ্ছে অদক্ষ চালকদের। তারা ফিটনেসবিহীন যানবাহনগুলোকেও রাস্তায় চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে। সুতরাং এই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে গঠিত টাস্কফোর্স তাদেরই অনুকম্পা নিয়ে পরিচালিত গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে কতোটুকু সফল অভিযান পরিচালনা করতে পারবে, সেটাই বড় প্রশ্ন্।
সড়কে চলাচল করছে অসংখ্য অবৈধ যানবাহন। যেগুলোর ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই কিংবা রেজিস্ট্রেশন নেই। অনেক চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সই নেই। খোদ সরকারী প্রতিষ্ঠান বিআরটিএ-র হিসাবে দেশে কমপক্ষে তিন লাখ গাড়ির ফিটনেস নেই। এর বাইরে আরও কয়েক লাখ গাড়ি রয়েছে, যেগুলো চলাচল করছে গ্রামীণ সড়কে। তিন চাকার এইসব যানবাহনের নেই বৈধ কাগজপত্র। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার টাস্কফোর্স গঠন করে নিবন্ধিত ফিটনেসবিহীন, অনিবন্ধিত এবং চলাচলের অযোগ্য গাড়ির বিরুদ্ধে সফল অভিযান পরিচালনা করবে এবং সেই সঙ্গে সড়ক আইন’ ২০১৮ যথাযথভাবে কার্যকর হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT