প্রথম পাতা পুলিশ-র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধ’

গোলাপগঞ্জে হত্যা মামলার আসামী ও বিশ্বনাথে ডাকাত নিহত

মাহফুজ আহমদ চৌধুরী, গোলাপগঞ্জ ও এমদাদুর রহমান মিলাদ, বিশ্বনাথ প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-০২-২০২০ ইং ০২:৫৬:৫০ | সংবাদটি ২৫৫ বার পঠিত

 সিলেটে র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যা মামলার এক আসামি এবং এক ডাকাত নিহত হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে জেলার গোলাপগঞ্জে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যা মামলার আসামি আলী হোসেন (৩৫) এবং বিশ্বনাথে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৮ মামলার আসামী ফটিক ওরফে লিটন নামের এক ডাকাত নিহত হয়েছে।
গোলাপগঞ্জ ॥ র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার মো. মনিরুজ্জামান জানান, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কদুপুর এলাকায় হত্যাসহ তিনটি মামলার আসামি চিহ্নিত অস্ত্র ব্যবসায়ী আলী হোসেনকে ধরতে যায় র‌্যাব। এ সময় তার সহযোগীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। আত্মরক্ষায় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুঁড়লে আলী হোসেন গুলিবিদ্ধ হন।’
সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলেও জানান তিনি। নিহত আলী হোসেন কদুপুর গ্রামের আত্তর আলীর ছেলে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার ও করা হয়েছে। আলী কদুপুর গ্রামের আত্তর আলীর পুত্র।
গোলাপগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী আলী হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যাসহ ৩/৪টি মামলা রয়েছে। আলী নিহতের ঘটনায় একটি পুলিশ এসল্ট মামলা ও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। ময়না তদন্তশেষে আলীর লাশ গতকালই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিশ্বনাথ ॥ বিশ্বনাথে গত শুক্রবার দিবাগত ভোর রাতে ডাকাত-পুলিশের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ফটিক উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের নওধার (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত ইদ্রিছ আলীর পুত্র। এসময় নিহত ফটিকের হাতে থাকা একটি দেশীয় পাইপগান ও ৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ডাকাত দলের গুলিতে বিশ্বনাথ থানার এস আই মিজানুর রহমান মিজান, কনস্টেবল চন্দন গৌর, রাসেল দাস গুরুতর আহত হয়েছে। তারা পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরের বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর বাইপাস সড়কের মরমপুর-সুরিরখাল এলাকার মধ্যবর্তী জায়গায় সড়কের পার্শ্বের গাছ কেটে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল অস্ত্রধারী একটি ডাকাত দল। নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার দিবাগত ভোর রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে থানার এসআই মিজানুর রহমান তার সঙ্গীয় কনস্টেবল চন্দন গৌর ও রাসেল দাসকে নিয়ে এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন। পুলিশের গাড়ি দেখতে পেয়ে ডাকাত দল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এতে পুলিশ সদস্যরা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শামীম মুসা, পরিদর্শক (তদন্ত) রমা প্রসাদ চক্রবর্তী, এসআই নূর হোসেন, দেবাশীষ শর্মা ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশের উপস্থিতি বাড়ছে টের পেয়ে ডাকাতদল দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এরপর স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল তল্লাশী করলে স্তুপ করা মাটির উপর অজ্ঞাতনামা হিসেবে ডাকাত ফটিকের লাশ উদ্ধার করে। এ সময় ওই ফটিকের হাতে একটি দেশীয় পাইপগান ও কোমরে থাকা ৩টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর গতকাল শনিবার দুপুরে নিহতের স্ত্রী হালিমা বেগম সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে ফটিকের লাশ সনাক্ত করেন। ময়না তদন্ত শেষে শনিবার বিকেলে ফটিকের লাশ তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন পরিবারের লোকজন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডাকাত ফটিক ওরফে লিটনের বিরুদ্ধে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় ১৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি ডাকাতি, ৩টি অস্ত্র, ১টি ছিনতাই, ২টি ডাকাতির প্রস্তুতি ও ১টি অন্যান্য মামলা। মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন। পুলিশের দাবি, সে ডাকাত দলের অন্যতম সদস্য। তার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা রয়েছে। বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের তিন সদস্যও আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে নিহত ডাকাত সদস্যের হাতে একটি দেশীয় পাইপগান ও কোমরে থাকা তিনটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, নিহত ফটিক ওরফে লিটনের স্ত্রী হালিমা বেগম তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামী দুই বছর দুই মাস কারাগারে আটক থাকার পর ১৮ ফেব্রুয়ারি জামিনে মুক্ত হন। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হওয়ার দুই মিনিটের মাথায় জেলগেট থেকে সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে শনিবার দুপুরে স্বামীর লাশ ফেসবুকে দেখে সনাক্ত করেন। থানায় এসে খবর পাই, পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিনি মারা গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী ডাকাত হতে পারে না। পুলিশ আমার স্বামীকে ডাকাত বানিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’
সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দীন জানান, ডাকাতির সময় ডাকাত দলের সাথে পুলিশের গোলাগুলিতে এক ডাকাতের মৃত্যু হয়। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার ছাড়াও সড়কে পড়ে থাকা কাটা গাছের গুড়ি ও করাত উদ্ধার করা হয়েছে।
বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শামীম মুসা বলেন, রাস্তায় গাছ ফেলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালেই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ফটিক। শনিবার বিকেলে তার পরিচয় সনাক্ত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, ডাকাতিসহ সকল প্রকার অপরাধ দমনে থানা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। ফটিকের স্ত্রীর অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলেও দাবি করেন ওসি।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • শামসুদ্দিন হাসপাতালে আইসোলেশনে নারীর মৃত্যু
  • সিলেটের হবিগঞ্জ জেলা লকডাউন
  • বিয়ানীবাজারে প্রথম ব্যক্তির নমুনা রেজাল্ট করোনা নেগেটিভ
  • বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ কারাগারে
  • একদিনে ৪১জন সংক্রমণ, ২৪ ঘন্টায় ৫ জনের মৃত্যু
  • লিডিং ইউনিভার্সিটির ব্যবস্থাপনায় ও রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
  • ত্রাণের তালিকায় কৃষিপণ্য
  • বাংলাদেশে করোনা’র বিস্তারকে ধীর করে দিতে পারে তাপমাত্রাঃ সিকৃবি’র গবেষক দল
  • করোনায় বিশ্বব্যাপী মৃত্যু সাড়ে ৭৪ হাজার
  • কোম্পানীগঞ্জে কর্মহীন মানুষের পরিবারে চরম দুর্দশা
  • যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণ গেল আরও ৬ বাংলাদেশির
  • এবার ফ্রান্সে রেকর্ড সংখ্যক ৮৩৩ জনের মৃত্যু
  • দুর্ভোগের সময় যারা দুর্নীতি করবেন তাদের এতটুকু ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী
  • বঙ্গবন্ধুর খুনি আবদুল মাজেদ গ্রেপ্তার
  • সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও বিশেষ প্রণোদনা দিতে সরকারকে আইনি নোটিশ
  • গোলাপগঞ্জ পৌরসভার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ শুরু
  • শাল্লা হাসপাতালে ড. জয়া সেনগুপ্তা’র পিপিই প্রদান
  • ছাতক-দোয়ারা হাসপাতালের ৩৭ কর্মচারীর মাঝে এমপি মানিকের চাল বিতরণ
  • ছাতক ও দোয়ারায় সাংবাদিকদের মাঝে এমপি মানিকের পিপিই বিতরণ
  • আসামিদের মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • Developed by: Sparkle IT