স্বাস্থ্য কুশল

এ্যাপোলো হসপিটালে ভারতের প্রথম ইনভেসিভ ডবল কার্ভ কারেকশন সার্জারি

সানজীদা সাঈদ প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০২-২০২০ ইং ০১:০৭:১৪ | সংবাদটি ৫৬৫ বার পঠিত
Image

এশিয়ার বৃহত্তম ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞ হাসপাতাল চেইন এ্যাপোলো হসপিটাল এমন একটি সার্জারি সম্পাদনা করেছে যা এক অস্ট্রেলিয়ান শিশুর জীবন বদলে দিয়েছে। ডাঃ সাজান কে হেগড়ে এবং তার দল বৈপ্লবিক নন-ফিউশন অ্যান্টিরিওর স্কোলিওসিস কারেকশন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে একটি মিনিমালি ইনভেসিভ ডবল কার্ভ কারেকশন সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। রোগি ছিল ১৩ বছর বয়সী একটি মেয়ে, যে মেরুদ-কে একপাশে বাঁকা করে ফেলা অ্যাডোলেসেন্ট ইডিওপ্যাথিক স্কোলিওসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনের ১৩ বছর বয়সী শিশু মিস জ্যাভিয়া মঞ্চে নাচ পরিবেশন করা অবস্থায় তার মা নাচের ভঙ্গিতে একটি পরিবর্তন লক্ষ করেন। জ্যাভিয়া’র বাবা মিঃ ওয়েইন রবার্ট এলিসন ও মা মিসেস টিজিয়ানা তেরেসা সিমোনেলি চিন্তিত হয়ে তাদের মেয়ের মেরুদ-ের বদলে যাওয়া আকৃতি সংশোধন করার জন্য সার্জন খুঁজতে থাকেন। জ্যাভিয়া অন্য যেকোনো ১৩ বছর বয়সী শিশুর মতোই সুস্থ ছিল, কিন্তু হঠাৎ তার মেরুদ-ে বদলে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়ায় সে প্রায়ই ব্যথা অনুভব করতো। এই পরিবর্তন দ্রুত বাড়তে শুরু করে, প্রতিদিনের কাজ চালিয়ে যেতেও তার কষ্ট হতো। চিকিৎসকের মতামত অনুযায়ী সে অ্যাডোলেসেন্ট ইডিওপ্যাথিক স্কোলিওসিস-এ আক্রান্ত। অন্যান্য দেশের বেশ কয়েকজন সার্জনের সাথে যোগাযোগ করার পরে জ্যাভিয়া বাবা-মা চেন্নাইয়ের এ্যাপোলো হসপিটাল আসেন।
মেরুদ-ের এই অস্বাভাবিক ‘এস’ আকারের ডাবল কার্ভ সাধারণত ৮-১২ বছর বয়সী কিশোরী মেয়েদের মধ্যে দেখা যায়। এই অসুখটি ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সের মধ্যে দুই থেকে তিন শতাংশ শিশুকে প্রভাবিত করে, এমন সময় যখন মানবদেহের সর্বাধিক বৃদ্ধি ঘটে। অ্যাডোলেসেন্ট ইডিওপ্যাথিক স্কোলিওসিস একটি কমন কন্ডিশনÍ যেখানে মেরুদ-ের দৃষ্টিকটু পর্যায়ে বেঁকে যাওয়া বুকে বা পিঠের আকৃতিতে পরিবর্তন ঘটায়, কিছু ক্ষেত্রে শরীরের উপরের অংশ বেঁকেও যেতে পারে। অসুখ মারাত্মক আকার ধারণ করলে এই বেঁকে যাওয়ার কারণে পিঠে তীব্র ব্যথা হতে পারে এবং হৃৎপি- ও ফুসফুসের স্বাভাবিক কাজকে প্রভাবিত করতে পারে।
মেরুদ- বদলে যাওয়ার পরিমাণ সামান্য হলে সাধারণত ব্রেস ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয়, যাতে প্রাপ্তবয়স্ক হতে হতে সমস্যাটা আরো প্রকট না হয়। যখন মারাত্মক আকার ধারণ করে, তখন গত ৬০ বছরের প্রথাগত চিকিৎসায় ইমপ্ল্যান্ট আর রড, স্ক্রু বা প্লেটের সাহায্যে মেরুদ-কে স্বাভাবিক আকারে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। তবে এই ধরনের স্কোলিওসিস কারেকশনের ফলে মেরুদ- শক্ত হয়ে যায়, ফলে রোগি স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে পারে না।
বৈপ্লবিক এই পদ্ধতি সম্পর্কে ডাঃ সাজান কে হেগড়ে বলেন- “এই সমস্যাটির সমাধান করার জন্য ঐতিহ্যগতভাবে ফিউশন সার্জিক্যাল ট্রিটমেন্ট করা হয়, যেখানে মেরুদ-ের সাথে ধাতব প্লেট যুক্ত করে দু’টি রডের সাথে আটকে দেয়া হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত মেরুদ-ের আলাদা অংশগুলো একসাথে মিশে একটি হাড় গঠন না করে, ততদিন এই ইমপ্ল্যান্টগুলো মেরুদ-কে একটি স্থানে ধরে রাখে। কিন্তু এখন শিশুদের সারিয়ে তুলতে আজ আমাদের একটি বৈপ্লবিক পদ্ধতি চলে এসেছে। এই কৌশলটি দিয়ে মেরুদ-ের আকার সংশোধন করা হয়, বাইরে থেকে কিছু সংযুক্ত করা হয় না। এই সার্জারির পর বাচ্চারা আগের মতোই স্পোর্টস, জিমন্যাস্টিকস বা নাচ-সহ স্বাভাবিক কাজগুলো শুরু করতে পারে। পুরোনো চিকিৎসা পদ্ধতিতে এটি সম্ভব ছিল না।”
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কয়েকটি স্পাইন-সেন্টারে এই পদ্ধতিটি থাকলেও, ভারতের এ্যাপোলো ইন্সটিটিউট অব স্পাইন সার্জারি একমাত্র কেন্দ্র যেখানে এটি ব্যবহার করা হয়। সার্জারির পর মিস জ্যাভিয়া-কে ফিজিওথেরাপির অধীনে রাখা হয়েছে। তার দেহভঙ্গি স্বাভাবিক হয়ে রিব-কেইজ সেরে উঠছে, শরীর ও কাঁধের সঙ্গতি ফিরে আসছে। সবচেয়ে ভালো খবর হচ্ছে, আস্তে আস্তে সে প্রতিদিনের স্বাভাবিক রুটিনে ফিরে আসছে।
এ্যাপোলো হসপিটালের বিষয়ে
১৯৮৩ সালে ডাঃ প্রতাপ রেড্ডি অগ্রগামী হয়ে ভারতের প্রথম কর্পোরেট হসপিটালÍ চেন্নাইয়ের এ্যাপোলো হসপিটাল চালু করেন। বছরের পর বছর ধরে এ্যাপোলো হসপিটাল ১৬০,০০০-এরও বেশি কার্ডিয়াক সার্জারি করে ভারতের বৃহত্তম কার্ডিয়াক অনুশীলনের আবাসস্থল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শুধু তাই নয়, এ্যাপোলো হসপিটাল বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ক্যান্সার কেয়ার প্রদানকারী, এবং একইসাথে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সলিড অর্গ্যান ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্নকারী।
এশিয়ার বৃহত্তম এবং সবচেয়ে বিশ্বস্ত হেলথকেয়ার গ্রুপ হিসেবে এ্যাপোলো হসপিটালের পরিচালনায় ৬৪টি হসপিটালে ৯২১৫টি বেড, ২,৫০০ ফার্মেসি, ৯০টিরও বেশি প্রাইমারি কেয়ার ও ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক, ১১০টিরও বেশি টেলিমেডিসিন কেন্দ্র এবং ৮০টিরও বেশি অ্যাপোলো মিউনিখ ইন্স্যুরেন্সের শাখা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
স্বাস্থ্য বীমা পরিষেবা, গ্লোবাল প্রজেক্টস কনসালটেন্সি সক্ষমতা, ১৫টিরও বেশি মেডিক্যাল এডুকেশন সেন্টার এবং গ্লোবাল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস, এপিডেমিওলজিক্যাল স্টাডিজ, স্টেম সেল এবং জেনেটিক গবেষণা-কে ফোকাস করে একটি গবেষণা ফাউন্ডেশন- সবকিছু মিলিয়ে একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহকারী হিসেবে এ্যাপোলো হসপিটাল চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশ্বজয়ী সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে আছে। সেই সাফল্যের পথ ধরে এ্যাপোলো হসপিটালের সাম্প্রতিক বিনিয়োগ হচ্ছে চেন্নাই, এশিয়া, অ্যাফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়া জুড়ে প্রথম প্রোটন থেরাপি কেন্দ্র চালু করতে। এ্যাপোলো হসপিটাল প্রতি চার দিনে প্রায় ১ মিলিয়ন মানুষের জীবনে সেবার ছোঁয়া দিয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি মানুষের নাগালের মধ্যে আনাই তাদের লক্ষ্য।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • জুতায় কতদিন বেঁচে থাকতে পারে করোনাভাইরাস?
  • হার্ট সুস্থ রাখা চাই
  • হাম রুবেলা ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে প্রচারণা
  • গাজরের উপকারিতা
  • রোগ প্রতিরোধে ডুমুর
  • তরমুজ এক উপকারী ফল
  • সকালের নাস্তা যখন সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি
  • করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার উপায়
  • শাকসবজি ও ফলমূল কেন খাবেন
  • দৈনন্দিন জীবনে লেবুর চাহিদা
  • এ্যাপোলো হসপিটালে ভারতের প্রথম ইনভেসিভ ডবল কার্ভ কারেকশন সার্জারি
  • হাঁড়ের ক্ষয় রোগ : নীরব ঘাতক
  • আপনার সন্তানের চোখের যত্ন নিন
  • আয়োডিন স্বল্পতায় জটিল রোগ
  • শারীরিক শক্তি বাড়ায় যে খাবার
  • সুস্থতার জন্য পানি
  • রোগ প্রতিরোধে ডালিম
  • শীতে হাঁপানি এড়াতে কী করবেন
  • শীতে ঠোঁটের সুরক্ষা
  • এক জায়গায় বসে কাজ করার কুফল
  • Image

    Developed by:Sparkle IT