সম্পাদকীয়

গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে

প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০২-২০২০ ইং ০১:০০:১৬ | সংবাদটি ৯৭ বার পঠিত


গ্যাস সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। বর্তমানে যে পরিমাণ মজুদ রয়েছে, তাতে খুব বেশি দিন চলবে না। বড়জোর বছর কয়েক। তারপরই শুরু হবে বিপর্যয়। কল কারাখানায় উৎপাদন বিঘ্নিত হবে, বিঘ্নিত হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন। তাছাড়া, গৃহস্থালীর রান্নাবান্নার কাজে চরম বিপত্তি সৃষ্টি হবে। পাইপলাইনে গ্যাস সংযোগের আশা ছেড়ে দিয়ে অনেকে এলপিজি সিলিণ্ডার ব্যবহার করছেন। সংকট মোকাবেলায় সরকার বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানীও শুরু করেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত গ্যাসের মজুদের পরিমাণ প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। এর মধ্যে ব্যবহার হয়ে গেছে প্রায় ১৭ টিসিএফ। অর্থাৎ বর্তমানে মজুদ আছে তিন টিসিএফ- এর কিছু বেশি। বছরে গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে এক টিসিএফ। সুতরাং গ্যাসের নতুন মজুদ আবিষ্কার না হলে তীব্র জ্বালানী সংকট আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে, এই আশংকা করা-ই যায়।
মানুষের জীবন ধারণের জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য্য একটি বস্তু হচ্ছে জ্বালানী গ্যাস। দেশে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র হচ্ছে ২৯টি। প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে। আর সর্বশেষ ২০১৭ সালে ভোলায় আবিষ্কৃত হয় ২৯তম গ্যাস ক্ষেত্র। এইসব গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে শিল্পকারখানাসহ গৃহস্থালীর কাজে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। [বর্তমানে দৈনিক কমপক্ষে ছয়শ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ঘাটতি রয়েছে বলে জানা যায়। প্রতি বছরই ঘাটতির পরিমাণ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে চাহিদাও। তবে সংকট মোকাবেলায় সরকারের তেমন প্রস্তুতি নেই বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। তাদের মতে বাংলাদেশের সাগর বক্ষে যথেষ্ট পরিমাণে গ্যাস আছে। যদি সেগুলো অনুসন্ধান এবং উত্তোলন করা হতো তাহলে গ্যাসের সংকট হতো না।] আর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও বেশ জটিলতা রয়েছে। কারণ গভীল সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নির্ভর করতে হয় বিদেশী কোম্পানীগুলোর ওপর। কিন্তু সরকার সে দিকে যাচ্ছে না বলেই মনে হয়।
সংকট মোকাবেলায় শুরু হয়েছে গ্যাস আমদানী। তার সঙ্গে রয়েছে নতুন নতুন গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা। স্থল এবং সমুদ্রের বেশিরভাগ স্থানেই এখন পর্যন্ত অনুসন্ধান করা হয় নি। পাশাপাশি গ্যাসের অপচয় রোধ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে এলপি গ্যাস (সিলিণ্ডার) -এর ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের সঙ্গে সঙ্গে এর মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা জরুরি বলে আমরা মনে করি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT