সম্পাদকীয়

উপদ্রব বাড়ছে মশার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৩-২০২০ ইং ০০:২৭:৫৬ | সংবাদটি ১০৯ বার পঠিত

দিন কিংবা রাত, কোন পার্থক্য নেই; সমানতালে দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে একটি ক্ষুদ্র প্রাণী। তাদের যন্ত্রণাময় রীতিমতো দিশেহারা মানুষ। এই প্রাণীটি হচ্ছে মশা। শীতের বিদায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্বিগুণ উৎসাহে আক্রমণ শুরু করেছে। ঘরে-বাইরে সবখানেই তারা সর্বক্ষণ খুঁজে বেড়াচ্ছে শিকার। আর তাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রাণান্তকর কসরতে ব্যস্ত মানুষ। শহর-নগর কিংবা গ্রাম সর্বত্র বেড়েছে মশার উপদ্রব। দিনের বেলায়ই মশার প্রকোপে টেকা দায়; আর সন্ধ্যা হলে তো কথাই নেই। ঘরের দরজাজানালা বন্ধ করেও ঠেকানো যায় না মশাকে। অপরদিকে খোলা জায়গায় এক দণ্ড দাঁড়ানোরও ফুসরত নেই। মশারী-মশার কয়েল কোনকিছুই যেন মানতে চায় না তারা। সবচেয়ে ভয়াবহ দুঃসংবাদ হচ্ছে, বর্তমানে যে হারে মশার আক্রমণ হচ্ছে, তা অচিরেই বাড়বে দ্বিগুণ হারে। আর সেই সঙ্গে মশাবাহিত নানা রোগের প্রকোপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু মশার বিরুদ্ধে কার্যকর কোন অভিযান নেই এখন পর্যন্ত।
অর্থাৎ সারা দেশে মশার আক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করবে চলতি মাসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা নিধনের উদ্যোগ না নিলে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে একশ’ ২৩ প্রজাতির মশা রয়েছে। এর মধ্যে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মারাত্মক রোগের বাহক মশাও রয়েছে। আর এই সব রোগের প্রকোপের ব্যাপারে মানুষ অবগত রয়েছে অনেক আগে থেকেই। বিগত বছর কয়েক ধরেই ডেঙ্গু-চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। মৃত্যুও হয়েছে অনেকের। অতীতে মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও সবার জানা। সুতরাং এই ক্ষুদ্র প্রাণীটির ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতেই হবে, এর বিকল্প নেই। মশার বিরুদ্ধে চালাতে হবে সর্বাত্মক অভিযান। মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করতে হবে প্রথমেই। ড্রেন, ডোবা-নালাসহ সর্বত্র পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে। ফুলের টবে জমে থাকা পানি, নারিকেলের মালায় জমে থাকা পানি, পুকুর, জলাশয়, ঝোপঝাড়, বাড়ির আঙিনায় নোংরা জায়গাগুলো নিজ দায়িত্বেই পরিস্কার করতে হবে। সর্বোপরি, সরকারের উদ্যোগে দরকার সর্বাত্মক মশক নিধন অভিযান। শুধু শহর নয়, গ্রাম পর্যায়েও চালাতে হবে এই অভিযান।
তবে এখানে একটা বিষয় অত্যন্ত জরুরি। বিগত সময়ে, বিশেষ করে সিলেট নগরীতে যে ক’বারই মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তাতে আশানুরূপ সাফল্য আসে নি। মানে [মশা মারার ওষুধ স্প্রে করার পরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় মশার উপদ্রব তেমন একটা কমেছে বলে মনে হয় নি। তাছাড়া দেখা গেছে, যে এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানো হয়, সেই এলাকায় কেবল মূল রাস্তায়ই ওষুধ স্প্রে করে চলে যায় কর্মীরা। যা অনেকটা লোক দেখানোর পর্যায়ে চলে যায়। এমন পরিস্থিতি এবারও হোক, আমরা তা চাই না। মশা নিধনের কার্যকর ওষুধ ছিটানো হোক এবং তা যাতে নগরীর ছোটবড় অলিগলিতে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে হবে।]

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT