আলোচ্য ১৪৪তম আয়াতের প্রথম বাক্যে কা'বার প্রতি রসুলুল্লাহ (সা.)- এর 'আকর্ষণ এবং এর বিভিন্ন কারণ বর্ণিত হয়েছে। এসব কারণের মধ্যে কোন বিরোধ নেই-সবই সম্ভবপর। উদাহরণতঃ মহানবী (সা.) ওহী অবতরণ ও নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বে স্বীয় স্বভাবগত ঝোকে দ্বীনে ইবরাহিমীর অনুসরণ করতেন। ওহী অবতরণের পর কোরআনও তার শরীয়তকে দ্বীনে ইবরাহিমীর অনুরূপ বলেই আখ্যা দিয়েছে। হযরত ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আ.)-এর কেবলা কা’বাই ছিল। আরও কারণ ছিল এই যে, আরব গোত্রগুলো মৌখিকভাবে হলেও দ্বীনে-ইবরাহীমী স্বীকার করত এবং নিজেদেরকে তার অনুসারী বলে দাবী করত। ফলে কা’বা মুসলমানদের কেবলা হয়ে গেলে তারা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারত। সাবেক কেবলা বায়তুল-মোকাদ্দাস দ্বারা আহলে কিতাবদের আকৃষ্ট করা উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু যোল/সতের মাসের অভিজ্ঞতার পর সে উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যায়। কারণ, মদীনার ঈহুদীরা এর কারণে ইসলামের নিকটবর্তী হওয়ার পরিবর্তে দূরেই সরে যাচ্ছিল।
মোটকথা, কা’বা মুসলমানদের কেবলা সাব্যস্ত হোক-এটাই ছিল মহানবী (সা.)-এর আন্তরিক বাসনা। তবে আল্লাহর নৈকট্যশীল পয়গম্বরগণ কোন দরখাস্ত ও বাসনা পেশ করার অনুমতি আছে বলে, না জানা পর্যন্ত আল্লাহর দরবারে কোন দরখাস্ত ও বাসনা পেশ করেন না। এতে বুঝা যায়, যে, মহানবী (সা.) এ দোয়া করার অনুমতি পূর্বাহ্নেই পেয়েছিলেন। এজন্য তিনি কেবলা পরিবর্তনের দোয়া করেছিলেন এবং তা কবুল হবে বলে আশাবাদীও ছিলেন। একারণেই তিনি বারবার আকাশের দিকে চেয়ে দেখতেন যে, ফেরেশতা নির্দেশ নিয়ে আসছে কিনা। আলোচ্য আয়াতে এ দৃশ্যটি বর্ণনা করার পর প্রথমে দেয়া কবুল করার ওয়াদা করা হয়- অর্থাৎ আমি আপনার চেহারা-মোবারক সেদিকেই ফিরিয়ে দেব, যেদিকে আপনি পছন্দ করেন। অতঃপর তৎক্ষণাৎ সে দিকে মুখ করার আদেশ নাযিল করা হয়, যথা : এর বর্ণনা পদ্ধতিটি বিশেষ আনন্দদায়ক। এতে প্রথমে ওয়াদার আনন্দ ও পরে ওয়াদা পূরণের আনন্দ একই সাথে উপভোগ করা যায়।
নামাযে কেবলামুখী হওয়ার মাসআলা : পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে সবদিকই সমান পূর্ব-পশ্চিম আল্লাহরই মালিকানাধীন। কিন্তু উম্মতের স্বার্থে সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্যে একটি দিককে কেবলা হিসাবে নির্দিষ্ট করে সবার মাঝে ধর্মীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। তবে এ দিকটি বায়তুল মোকাদ্দাসও হতে পারত। কিন্তু মহানবী (সা.)-এর আন্তরিক বাসনার কারণে কাবাকে কেবলা সাব্যস্ত করে আলোচ্য আয়াতে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখানে (অর্থাৎ মসজিদে হারামের দিকে) বলা হয়েছে। এতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা স্পষ্ট হয়ে গেছে। [চলবে]

'/> SylheterDak.com.bd
ধর্ম ও জীবন অনুবাদ : মাওলানা মুহিউদ্দিন খানতাফসিরুল কুরআন

মূল : মুফতি মুহাম্মদ শফী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৩-২০২০ ইং ২৩:৫২:০০ | সংবাদটি ৩০৭ বার পঠিত
Image

সূরা : বাক্বারাহ [পূর্ব প্রকাশের পর]
কাজেই তোমরা নির্বোধদের কথায় কর্ণপাত করো না। কোন কোন হাদীসে এবং মনীষীদের উক্তিতে এখানে ঈমানের অর্থ করা হয়েছে নামায। মর্মার্থ এই যে, সাবেক কেবলা বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে মুখ করে যেসব নামায পড়া হয়েছে, আল্লাহ তাআলা সেগুলো নষ্ট করবেন না; বরং তা শুদ্ধ ও মকবুল হয়েছে। সহীহ বোখারীতে ইবনে-আযেব (রা.) এবং তিরমিযীতে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে যে, কা'বাকে কেবলা করার পর অনেকেই প্রশ্ন করে যে, যেসব মুসলমান ইতিমধ্যেই ইন্তেকাল করেছেন, তাঁরা বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে নামায পড়ে গেছেন। কা’বার দিকে নামায পড়ার সুযোগ পাননি, তাঁদের কি হবে? এ প্রশ্নের প্রেক্ষিতেই আলোচ্য আয়াত নাযিল হয়। এতে নামাযকে ‘ঈমান’ শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করে স্পষ্ট করে বলে দেয়া হয়েছে যে, তাদের সব নামাযই শুদ্ধ ও গ্রহণীয়। তাদের ব্যাপারে কেবলা পরিবর্তনের কোন প্রতিক্রিয়া হবে না।
আলোচ্য ১৪৪তম আয়াতের প্রথম বাক্যে কা'বার প্রতি রসুলুল্লাহ (সা.)- এর 'আকর্ষণ এবং এর বিভিন্ন কারণ বর্ণিত হয়েছে। এসব কারণের মধ্যে কোন বিরোধ নেই-সবই সম্ভবপর। উদাহরণতঃ মহানবী (সা.) ওহী অবতরণ ও নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বে স্বীয় স্বভাবগত ঝোকে দ্বীনে ইবরাহিমীর অনুসরণ করতেন। ওহী অবতরণের পর কোরআনও তার শরীয়তকে দ্বীনে ইবরাহিমীর অনুরূপ বলেই আখ্যা দিয়েছে। হযরত ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আ.)-এর কেবলা কা’বাই ছিল। আরও কারণ ছিল এই যে, আরব গোত্রগুলো মৌখিকভাবে হলেও দ্বীনে-ইবরাহীমী স্বীকার করত এবং নিজেদেরকে তার অনুসারী বলে দাবী করত। ফলে কা’বা মুসলমানদের কেবলা হয়ে গেলে তারা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারত। সাবেক কেবলা বায়তুল-মোকাদ্দাস দ্বারা আহলে কিতাবদের আকৃষ্ট করা উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু যোল/সতের মাসের অভিজ্ঞতার পর সে উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যায়। কারণ, মদীনার ঈহুদীরা এর কারণে ইসলামের নিকটবর্তী হওয়ার পরিবর্তে দূরেই সরে যাচ্ছিল।
মোটকথা, কা’বা মুসলমানদের কেবলা সাব্যস্ত হোক-এটাই ছিল মহানবী (সা.)-এর আন্তরিক বাসনা। তবে আল্লাহর নৈকট্যশীল পয়গম্বরগণ কোন দরখাস্ত ও বাসনা পেশ করার অনুমতি আছে বলে, না জানা পর্যন্ত আল্লাহর দরবারে কোন দরখাস্ত ও বাসনা পেশ করেন না। এতে বুঝা যায়, যে, মহানবী (সা.) এ দোয়া করার অনুমতি পূর্বাহ্নেই পেয়েছিলেন। এজন্য তিনি কেবলা পরিবর্তনের দোয়া করেছিলেন এবং তা কবুল হবে বলে আশাবাদীও ছিলেন। একারণেই তিনি বারবার আকাশের দিকে চেয়ে দেখতেন যে, ফেরেশতা নির্দেশ নিয়ে আসছে কিনা। আলোচ্য আয়াতে এ দৃশ্যটি বর্ণনা করার পর প্রথমে দেয়া কবুল করার ওয়াদা করা হয়- অর্থাৎ আমি আপনার চেহারা-মোবারক সেদিকেই ফিরিয়ে দেব, যেদিকে আপনি পছন্দ করেন। অতঃপর তৎক্ষণাৎ সে দিকে মুখ করার আদেশ নাযিল করা হয়, যথা : এর বর্ণনা পদ্ধতিটি বিশেষ আনন্দদায়ক। এতে প্রথমে ওয়াদার আনন্দ ও পরে ওয়াদা পূরণের আনন্দ একই সাথে উপভোগ করা যায়।
নামাযে কেবলামুখী হওয়ার মাসআলা : পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে সবদিকই সমান পূর্ব-পশ্চিম আল্লাহরই মালিকানাধীন। কিন্তু উম্মতের স্বার্থে সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্যে একটি দিককে কেবলা হিসাবে নির্দিষ্ট করে সবার মাঝে ধর্মীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। তবে এ দিকটি বায়তুল মোকাদ্দাসও হতে পারত। কিন্তু মহানবী (সা.)-এর আন্তরিক বাসনার কারণে কাবাকে কেবলা সাব্যস্ত করে আলোচ্য আয়াতে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখানে (অর্থাৎ মসজিদে হারামের দিকে) বলা হয়েছে। এতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা স্পষ্ট হয়ে গেছে। [চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT