সম্পাদকীয়

অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে সতর্কতা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৩-২০২০ ইং ০০:২৯:০৭ | সংবাদটি ৯১ বার পঠিত


পলাশ-শিমুল-কৃষ্ণচূড়ার মওসুম চলছে। বসন্তের বাতাসে ফুরফুরে একটা আমেজ বিরাজ করছে প্রকৃতিতে। ঋতুরাজ বসন্তের এই সময়ে বাতাস থাকে শুষ্ক। আর এই শুষ্ক বাতাসেই আতংকের খবরটি মাঝে মধ্যেই কানে আসে। সেটা হলো অগ্নিকান্ড। নানা কারণে নানা জায়গায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে এই মওসুমে। অতি সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অগ্নিকান্ডের খবর পাওয়া গেছে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, মানুষের অসতর্কতার কারণেই ঘটছে অগ্নি দুর্ঘটনা। আবার যথাযথ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরও দুর্ঘটনা ঘটছে। সেটা হতে পারে নাশকতা কিংবা শত্রুতাবসত অন্যের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া। এই ধরনের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে সর্বাত্মক সচেতনতাই অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকার সর্বোৎকৃষ্ট উপায়।
একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা যায় অসাবধানতা ও অসতর্কতার কারণে প্রতি বছর অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অসংখ্য মানুষ হতাহত হচ্ছে; সম্পদহানি হচ্ছে বিপুল পরিমাণ। গত বছর সারা দেশে ২৪ হাজার ৭৪টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছে একশ’ ৮৫ জন। আর সহস্রাধিক আহত হয়েছে। এতে সম্পদহানি হয়েছে তিনশ’ ৩০ কোটি ৪১ লাখ টাকার। এছাড়া গত ১৩ বছরে বাংলাদেশে আগুনে পুড়েছে কমপক্ষে ১২ হাজার। এর মধ্যে মারাগেছে এক হাজার নয় শ’ ১৬ জুন। আর সম্পদহানি হয়েছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার। এই পরিসংখ্যানে ছোট খাটো অনেক দুর্ঘটনারই তথ্য আসেনি। অগ্নি দুর্ঘটনার প্রধান প্রধান কারণগুলো হচ্ছে বৈদ্যুতিক শকসার্কিট, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, দাহ্য পদার্থের গোডাউন, রান্নাঘরের আগুন ইত্যাদি। ফেলে দেয়া জ্বলন্ত সিগারেট-বিড়ি কিংবা মশার কয়েল থেকেও ঘটছে বড় ধরণের অগ্নিকান্ড। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে একই ধরণের ঘটনা ঘটছে বারবার। অথচ একটি ঘটনা থেকে মানুষ সতর্ক হলে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতোনা।
একটা বিষয় খুবই জরুরী যে, বড় বড় দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হয়; কমিটি তদন্ত করে অগ্নিকান্ডের কারণ চিহ্নিত করে প্রতিবেদনও দাখিল করে। প্রতিবেদনে অগ্নিকান্ড রোধে নানা সুপারিশও করা হয়। কিন্তু সেই সব সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়না। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিতে হবে আইনানুগ ব্যবস্থা। বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী ভবনে অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। নিম্নমানের ও মেয়াদ উত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডারের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। আবাসিক এলাকা থেকে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থের গুদাম সরাতে হবে। সর্বোপরি অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT