অতঃপর স্যার সাদ উল্লাহ তাঁর অবসর জীবনের বাইরে আসলেন না। মাওলানার ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য পরবর্তিতে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। মাওলানার পথে সবচে বড় প্রতিবন্ধক ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। কারণ, তিনি সুবিধাবাদি কলাগাছ মার্কা সেক্রেটারী ছিলেন না। দলের কর্মি-সমর্থকদের মধ্যে তাঁর প্রভাব ও জনপ্রিয়তা ছিলো। আওয়ামী লীগকে তিনি এমনভাবে তৈরি করেছিলেন যেন সকল পথ গিয়ে তার কাছে শেষ হয়। আওয়ামী লীগ ছাড়াও অঙ্গসংগঠনগুলো যেমন ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ, মহিলালীগ ইত্যাদিতেও তাঁর প্রভাব ছিলো। কাউন্সিলের বেশিরভাগ সদস্য তাঁর সমর্থক ছিলেন। প্রদেশের জনসভা, মিছিল, হরতাল, সরকারের সাথে আলোচনা ইত্যাদি সবই শেখ মুজিবের দায়িত্বে ছিলো। সকাল আটটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সংগঠনের অফিসে কর্মব্যস্ত থাকার পরও সকল সদস্যদের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ থাকতো। মাওলানা ভাসানী এবং মসিউর রহমান যাদু মিয়া চেষ্টা করেছেন সংগঠনের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সৃষ্টি করতে। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। সোহরাওয়ার্দীর কাছ থেকে আমি একটি ঘটনা শোনেছি, ‘একবার মাওলানা ভাসানী নিজের জেনারেল সেক্রেটারী শেখ মুজিবকে না বলে প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের মজলিসে আমেলার সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশ করেন এবং সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তিও পাঠিয়ে দিলেন। সেদিন সভাপতি ও সেক্রেটারী দু’জনই ট্রেনে খুলনাতে যাচ্ছিলেন। নারায়নগঞ্জ যাওয়ার পর মাওলানা তাঁর কর্মের কথা শেখ মুজিবকে বর্ণনা দেন। সাথে সাথে শেখ মুজিব ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আপনার উচিৎ ছিলো কমপক্ষে আমাকে বলা।’ মাওলানা বলেন, ‘আমি সভাপতি এবং মজলিসে আমেলার সদস্য নির্বাচিত করা আমার সাংবিধানিক অধিকার।’ মুজিব বলেন, ‘এভাবে জেনারেল সেক্রেটারী হিসাবে আমারও অধিকার রয়েছে কাউন্সিল মিটিং আহ্বান করে অনাস্থা প্রস্তাব করার।’ মাওলানা বুঝতে পারলেন তার চাল পাল্টে গেছে। তিনি দ্রুত এক সদস্যকে পত্রিকাগুলোর অফিসে পাঠিয়ে প্রেস রিলিজ ফেরত নিয়ে আসেন।’
সোহরাওয়ার্দী সাহেব তাঁর দু’জন প্রতিনিধির উপর গর্ব করতেন। যার মধ্যে একজন জহির উদ্দিন এবং অন্যজন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বলতেন, ‘পশ্চিম পাকিস্তানে আমার যদি একজন শেখ মুজিব মিলে যেতো তবে আমি পাকিস্তানের রাজনৈতিক চিত্র পাল্টিয়ে দিতাম।’ কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানে তিনি শেখ মুজিব পাননি। শেখ মুজিবের গুণের মধ্যে অন্যতম একটি হলো, তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে এক প্লাট ফরমে নিয়ে আসতে পারতেন। শেখ মুজিবুর রহমানের এই গুণ তখনই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে যখন সোহরাওয়ার্দী প্রথম মূখ্যমন্ত্রী হয়ে ঢাকায় আসেন। এই সময় পল্টন ময়দানে এক জনসভা হয়। মাওলানা ভাসানী সেই জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় সোহরাওয়ার্দীকে নিজের তীরের লক্ষ্য করে ফেলেন। সোহরাওয়ার্দী নিরবে সব শোনছিলেন। কিন্তু শেখ মুজিব নিরব থাকতে পারলেন না। জনসভাতেই তিনি প্রতিবাদ করলেন এই বলে, ‘মাওলানার ডান হাত মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ইস্কান্দার মির্জার সাথে মোলাকাত হয়েগেছে। মাওলানা খুব দ্রুত বিপত্তি সৃষ্টি করবেন।’ সোহরাওয়ার্দী এই বিপত্তির নমুনা জানতে চাইলে শেখ মুজিব বলেন, ‘যেকোন কিছু হতে পারে।’ সুয়েজ খালের উপর বৃটেন ও ফ্রন্সের যৌথ হামলার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত জনসভায় সোহরাওয়ার্দী তাঁর বক্তব্যে সার্বিক অবস্থার উপর দৃষ্টি রেখে আরবদের সৈন্যশক্তি দুর্বল হওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করলে মাওলানা সুযোগ পেয়ে যান এবং সোহরাওয়ার্দীর বিরোধীতা শুরু করেন। অথচ আজ চল্লিশ বছর পরও সোহরাওয়ার্দীর এই কথা সত্য বলে প্রমাণিত। অবস্থার প্রেক্ষাপটে ইস্কান্দার মির্জা সোহরাওয়ার্দীর বিরোধী হয়ে যান। পরামর্শ ছাড়া সোহরাওয়ার্দী চীন সফরে যান এবং চীনা নেতাদেরকে পাকিস্তানে আমন্ত্রণ করেন। চীন থেকে আসা রাষ্ট্রীয় মেহমানদের সম্বর্ধনার আয়োজন করা হয় এবং তা সোহরাওয়ার্দী নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। এ থেকে ইস্কান্দার মির্জা সবসময় সোহরাওয়ার্দীকে নিজের মসনদের জন্য হুমকি ভাবতেন। ইস্কান্দার মির্জা শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের মাধ্যমে প্রথমে যুক্তফ্রন্টে ভাঙ্গন তৈরি করেছেন। পরে মাওলানা ভাসানীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। মাওলানা আওয়ামী লীগকে প্রভাবিত করতে ঢাকা গুলিস্তান সিনেমা হলে প্রাদেশিক কাউন্সিল ডাকেন। মাওলানা ও তাঁর সাথীরা প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক নীতির বিরোধীতা করে কাউন্সিলে প্রস্তাব আনতে চেষ্টা করেন। তা বিফল হয়। মাওলানা ও তাঁর সাথীরা গুলিস্তান সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে পল্টন ময়দানে সভা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাও বিফল হয়। মাওলানার সাথে ছিলেন মশিউর রহমান যাদু মিয়া, হাজী দানেশ ও মুহাম্মদ আলী। তাদের রাজনৈতিক দলের নাম ছিলো ‘গণতান্ত্রিক দল’। তারা সোহরাওয়ার্দী-মুজিবের শত্রুতায় মাওলানার সঙ্গ নিলেন। ঢাকায় বিফল হয়ে মাওলানা কাগমারীতে সম্মেলন ডাকলেন। তা সফল করতে ইস্কান্দার মির্জা ফান্ড দিলেন। সম্মেলনে সুভাস চন্দ্র বুস, নেহেরু, প্যাটল এবং ইস্কান্দার মির্জার নামে সাজসজ্জা হতে থাকে। এই সম্মেলনে ন্যাশনাল আওয়ামী পাটি অর্থাৎ ন্যাপ প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বামদের বিভিন্ন ব্যক্তি শরিক হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়, যার মধ্যে জি এম সাইদ, খান আব্দুল ওয়ালী খান এবং মিয়া ইফতেখার উদ্দিনের নাম উল্লেখযোগ্য। তবে মাওলানা চলে যাওয়ায় আওয়ামীলীগে কোন প্রভাব ফেলেনি। ইস্কান্দার মির্জার শত বিরোধের পরও আওয়ামী লীগ কেন্দ্র এবং প্রদেশে সক্রিয় রয়েছে। আর তা সম্ভব হয়েছে শেখ মুজিবের সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বের কারণে। সোহরাওয়ার্দীর পরামর্শক্রমে কেন্দ্রে নির্বাচনী নীতিমালা পরিবর্তন করে উন্নত করতে হয়েছে। নির্বাচনকে কারচুপিমুক্ত রাখতে চেষ্টা করা হয়েছে, যখন মুসলিমলীগ এবং তাদের সমর্থিত দলসমূহ কারচুপির নির্বাচনকে বহাল রাখতে চেষ্টা চালায়। এই অবস্থায় জামায়াতে ইসলামী পার্লামেন্টে প্রতিনিধি না দিলেও মুসলিমলীগের সহযোগিতা করতে থাকে। এই প্রশ্নে রিপাবলিকান দলে ভাঙ্গন শুরু হয়ে যায়। মাখদুম জাদা হোসেন মাহমুদ এবং কর্ণেল আবিদ হোসেন আওয়ামী লীগের শুভাকাঙ্খি ছিলেন। তারা দু’জন পশ্চিম পাকিস্তানের পার্লামেন্টে ন্যাশনাল আওয়ামী পাটিতে জনাব জি এম সাইদের নেতৃত্বে ‘ওয়ান ইউনিট’ বিরোধী প্রস্তাবে একে অন্যের সহযোগিতার জন্য চুক্তি করেন। প্রথমে তারা রিপাবলিকান পাটি এবং পরে মুসলিমলীগের নেতাদের স্বাক্ষর নেন। একথা ঘোষিত হওয়ার পথে ছিলো যে, রিপাবলিকান এবং মুসলিমলীগ দু’জনের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়ে আছে। হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী সমস্ত দেশে ‘ওয়ান ইউনিট’-এর পক্ষে প্রচার শুরু করেন। কোয়েটা এবং লাহোরে জনসভা খুব সফল হয়েছিলো। সাধারণ মানুষ এক ইউনিটের পক্ষে রায় দিতে থাকে। এই সময় মূখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে নেতা করে একটি সংসদীয় গ্রুপ পূর্ব ইউরোপ এবং সোভিয়েত উনিয়ন প্রেরণ করেন। এই গ্রুপের বৈশিষ্ট্য হলো শেখ মুজিবের এটাই প্রথম বিদেশী মিশনে যোগ দেওয়া। এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য ছিলো, কাশ্মীর ইস্যুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পূর্ব ইউরোপকে সংযুক্ত করে সহযোগিতার ওয়াদা আদায়। এই ঘটনা সেই সময় ছিলো যখন ইস্কান্দার মির্জার ইশারায় রিপাবলিকান পাটি তাদের সাহায্য ফিরিয়ে নিয়েছো এবং ইস্কান্দার মির্জা প্রধানমন্ত্রীকে ইস্তোফা দিতে বলেছিলো। এই সময় মুসলিমলীগ প্রধানমন্ত্রীকে সাহায্য করার আশ্বাস দেয়। কিন্তু এই আশ্বাস শুধু বাতাসেই ছিলো। মুসলিমলীগ মন্ত্রীত্বের দাওয়াত পেতেই পাল্টে গেলো। অতঃপর মুসলিমলীগ ও রিপাবলিকান একে অন্যের সহযোগি হয়ে যায়।
শেখ মুজিব ও তাঁর সঙ্গীরা বিদেশী মিশন শেষে ফিরে আসেন। তখন শেখ মুজিব রাগাম্বিত ছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে বারবার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী সাহেবের পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞান ছিলো। তিনি তখন বললেন, ‘মুসলিমলীগের শাসন কিছুদিনের মেহমান, আর মেহমানদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা অনুচিত।’ লকম হাউসে উচ্চপর্যায়ের এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথাগুলো বলেন। সত্যই এই মেহমানদের শাসন দু মাসের বেশি ছিলো না। এরপর আওয়ামীলীগ ও রিপাবলিকানদের যৌ'/> SylheterDak.com.bd
পাঁচ মিশালী

বঙ্গবন্ধু : এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের দৃষ্টিতে

উর্দু থেকে বাংলা অনুবাদ : সৈয়দ মবনু প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৩-২০২০ ইং ০০:৩৫:০৭ | সংবাদটি ৩৪৭ বার পঠিত
Image

মুহাম্মদ বদর মুনির, সত্তর-আশির দশকে পাকিস্তানের সাংবাদিকতায় অত্যন্ত আলোচিত-সমালোচিত এক নাম। তাঁর জন্ম, শৈশব এবং কৈশোরের কিছুদিন গিয়েছে ভারতে। তাঁর বাবা একজন সেনাবাহিনীর অফিসার ছিলেন। ভারতের বিহারের মূখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ জাদব ছিলেন তাঁর কৈশোরের ক্লাস-বন্ধু। ১৯৪৭-এ ভারত ভেঙ্গে পাকিস্তানের জন্মলগ্নে পরিবারের সাথে পাকিস্তান আসেন। কৈশোর, যৌবন কিংবা কর্মজীবনে তাঁর বন্ধুদের তালিকায় বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানের অনেক হাই প্রফাইল ব্যক্তি রয়েছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহিদ-বুদ্ধিজীবি অনেক ছিলেন তাঁর বন্ধু। লেখালেখির শুরু ছোটবেলা থেকেই। পাকিস্তান আন্দোলন নিয়ে তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় দৈনিক সদা-এ আম পত্রিকায়। সাংবাদিকতা পেশায় আসেন তৎকালিন উর্দু পত্রিকা দৈনিক জমিনদার-এ। তিনি কাজ করেছেন ইমরোজ, আকরাম, শাহাব, এশিয়া ইত্যাদি দৈনিক পত্রিকায়। সাপ্তাহিক আইন, নেদা, নেদা-এ খিলাফত, নওয়া-এ ওয়াক্ত, ফ্যামেলি, এমন কি বাংলাদেশের দৈনিক ইত্তেফাকেও নিয়মিত লিখেছেন। রাজনীতিতে তিনি এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে আওয়ামী লীগে। আওয়ামী লীগই তাঁর প্রথম ও শেষ রাজনৈতিক দল। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনের সময় তিনি আওয়ামী লীগের সকল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে পাঞ্জাব আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ওল-পাকিস্তান আওয়ামী লীগের মজলিসে আমেলার সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পাকিস্তান আন্দোলন, পাকিস্তান-বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ইত্যাদি নিয়ে তাঁর প্রচুর গবেষণা কিংবা স্বক্ষীধর্মী লেখা রয়েছে। তাঁর লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য তিনি সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে কার্পণ্য করেননি। উর্দু-ই তাঁর মূল ভাষা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তিনি যেভাবে দেখেছেন এবং জেনেছেন তা নিয়ে ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে উর্দুতে প্রকাশিত হয় তাঁর লেখা ‘ জেয়সা কেহ ময় জানতাহু শেখ মুজিবুর রহমান’ গ্রন্থ। লেখকের প্রায় পঁচিশ বছরের কর্মের ফসল দু শত ছিয়াশি পৃষ্টার এই বই। বইটিতে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্যের পাশাপাশি উপমহাদেশীয় রাজনীতির অনেক নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান সফরকালে বইটি করাচির উর্দু বাজার থেকে খরিদ করেছিলাম এবং ইচ্ছে ছিলো অনুবাদ করবো, কিন্তু করা হয়নি। অবশেষে মুজিববর্ষ উপলক্ষে দৈনিক সিলেটের ডাকের সাহিত্য সম্পাদক ফায়যুর রাহমানের অনুরোধে অনুবাদের কাজে হাত দেয়া। আশা করি সাংবাদিক মুহাম্মদ বদর মুনির-এর এই গ্রন্থ থেকে আমরা ইতিহাসের অনেক উপাদান পাবো।Ñঅনুবাদক

মুজিব-ভাসানির শীতল যুদ্ধ
মালিক গোলাম মুহাম্মদ সাংবিধানিক পার্লামেন্ট ভেঙে নতুন নির্বাচন ঘোষণা দিলেন। ঘোষণা অনুযায়ি পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত সাংবিধানিক পার্লামেন্টের কার্যক্রম অকার্যকর হলে নতুন নির্বাচন জরুরী হয়ে যায়। পূর্ব পাকিস্তানের পার্লামেন্ট সদস্যদেরকে বলা হলো তারা নতুন সদস্য নির্বাচিত করবে। নতুন নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে এম ফজলুল হক, আবুল মনসুর আহমদ, জহির উদ্দিন, দিলদার আহমদ, মাহমুদ আলী প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। পশ্চিম পাকিস্তানে খান আব্দুল কাইয়ূম খান এবং সর্দার আব্দুর রবও নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনের পূর্বে মালিক গোলাম মুহাম্মদ ওয়াদা করেছিলেন হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীকে প্রধানমন্ত্রী করার, কিন্তু নির্বাচনের পর সেই ওয়াদা ভঙ্গ করে তাঁকে মুহাম্মদ আলী বগুড়ার মন্ত্রী পরিষদে আইনমন্ত্রী হিসেবে স্থান দেওয়া হয়। হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীর যোগ্যতাকে মালিক গোলাম মুহাম্মদ ভয় করতেন, তিনি মুহাম্মদ আলী বগুড়াকে সেইফ মনে করতেন বলেই প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন। হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী এই ওয়াদা ভঙ্গের প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলেন। তখন মুহাম্মদ আলী বগুড়া বললেন, ‘স্যার আমি প্রধানমন্ত্রী তো একটা লোক দেখানো কাজ, মূলত প্রধানমন্ত্রী তো আপনি। আমি কি আপনার সাথে বেয়াদবী করতে পারি?’ স্মরণ আছে নিশ্চয়, ঐক্য বাংলায় যখন সোহরাওয়ার্দী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন মুহাম্মদ আলী বগুড়া ছিলেন আইনমন্ত্রী? মুহাম্মদ আলী বগুড়া অবগত ছিলেন সোহরাওয়াদীর কর্মদক্ষতা ও ভদ্রতার ব্যাপারে। সেটাও সবার জানা ছিলো, পাকিস্তানের পার্লামেন্টের বাইরে এবং ভেতরে একজনই দক্ষ এবং দৃঢ় রাজনীতিবিদ আছেন, এবং তিনি চাইলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন করে দিতে পারেন। তাই মুহাম্মদ আলী বগুড়ার মন্ত্রী পরিষদে সোহরাওয়ার্দী প্রধানমন্ত্রীর মতো ক্ষমতাশীল ছিলেন। সেই সময় সবচে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলো পাকিস্তানের জন্য একটি সংবিধান তৈরি করা। আর এজন্য সোহরাওয়ার্দীকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিলো। তিনি দুই হায়দারাবাদের ঐক্য উপলক্ষে এই ইস্তেকবালি সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছিলেন,‘যদি দ্রুত পাকিস্তানে সংবিধান গ্রহণ করা না হয় তবে সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে।’ তিনি পাকিস্তানের রাজনীতিতে প্রথম ব্যক্তি যিনি সামরিক শাসনের অশুভ দিক বর্ণনা করে চিন্তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। গভর্ণর জেনারেল মালিক গোলাম মুহাম্মদ ও সেনা প্রধান আয়ূব খান এই অগ্রিম ইঙ্গিতে খুব নারাজ হয়েছিলেন। তাদেরকে তখন উস্কিয়ে দিয়েছিলেন গভর্ণরের সেক্রেটারী কুদরতুল্লাহ শিহাব। গভর্ণর জেনারেল মালিক গোলাম মুহাম্মদ ও সেনা প্রধান আয়ূব খান তখন সোহরাওয়ার্দীকে কিছু বলেননি। তবে মুহাম্মদ আলী বগুড়ার সামনে তারা তাদের নারাজি প্রকাশ করেছেন। এদিকে করাচির উর্দু পত্রিকাগুলো সোহরাওয়ার্দীর বিরুদ্ধে চিৎকার শুরু করলো। বেশকিছু পত্রিকায় বিশেষ সমালোচনা প্রকাশিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমীক পার্টির মধ্যে শীতল বিরোধ শুরু হয়ে যায়। এদিকে পার্লামেন্টের বাইরে প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের সভাপতি মাওলানা ভাসানী এবং সেক্রেটারী শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে শক্ত বিরোধ শুরু হয়। পার্লামেন্টের ভেতর আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন আতাউর রহমান খান, তাঁরও মন্ত্রী হওয়ার খায়েশ ছিলো। মাওলানা ভাসানীর সাথে তারা সবাই সহমত হলেন যারা মাওলানার জনপ্রিয়তাকে পূঁজি করে ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণের ধান্ধায় ছিলেন। মাওলানা ভাসানি খুব সরল মানুষ ছিলেন। যে কেউ তাঁকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করতে পারতো। বলা হয়ে থাকে, যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পর পূর্ব পাকিস্তান মুসলিমলীগের এক গ্রুপ আসামে গিয়েছিলেন মুসলিমলীগের সাবেক মূখ্যমন্ত্রী স্যার সৈয়দ সাদ উল্লাহর সাথে দেখা করতে এবং তাঁরা তাঁকে প্রস্তাব করেছিলেন মুসলিমলীগের নেতৃত্ব গ্রহণের। স্যার সৈয়দ সাদ উল্লাহ এই প্রস্তাবে কিছু সময় ভেবে-চিন্তে বলেন, আমি তো অনেকদিন হলো রাজনীতি থেকে দূরে অবসরে আছি। আমার জানা নেই এখন কারা নেতৃত্বে আছেন। আপনারা বলুন, যুক্তফ্রন্টে কোন কোন নেতা নেতৃত্ব দিচ্ছেন? উপস্থিত একজন যুক্তফ্রন্টের নেতাদের নাম বলেন। যখন তিনি মাওলানা ভাসানির নাম বলেন তখন স্যার সাদ উল্লাহ বর্ণনাকারিকে আটকিয়ে দিয়ে বলেন; 'ঐর রং ঝঁভভরপবহঃ ঃড় উবংঃৎড়ু ঔঁমঃড় ঋৎড়হঃ’
অতঃপর স্যার সাদ উল্লাহ তাঁর অবসর জীবনের বাইরে আসলেন না। মাওলানার ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য পরবর্তিতে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। মাওলানার পথে সবচে বড় প্রতিবন্ধক ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। কারণ, তিনি সুবিধাবাদি কলাগাছ মার্কা সেক্রেটারী ছিলেন না। দলের কর্মি-সমর্থকদের মধ্যে তাঁর প্রভাব ও জনপ্রিয়তা ছিলো। আওয়ামী লীগকে তিনি এমনভাবে তৈরি করেছিলেন যেন সকল পথ গিয়ে তার কাছে শেষ হয়। আওয়ামী লীগ ছাড়াও অঙ্গসংগঠনগুলো যেমন ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ, মহিলালীগ ইত্যাদিতেও তাঁর প্রভাব ছিলো। কাউন্সিলের বেশিরভাগ সদস্য তাঁর সমর্থক ছিলেন। প্রদেশের জনসভা, মিছিল, হরতাল, সরকারের সাথে আলোচনা ইত্যাদি সবই শেখ মুজিবের দায়িত্বে ছিলো। সকাল আটটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সংগঠনের অফিসে কর্মব্যস্ত থাকার পরও সকল সদস্যদের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ থাকতো। মাওলানা ভাসানী এবং মসিউর রহমান যাদু মিয়া চেষ্টা করেছেন সংগঠনের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সৃষ্টি করতে। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। সোহরাওয়ার্দীর কাছ থেকে আমি একটি ঘটনা শোনেছি, ‘একবার মাওলানা ভাসানী নিজের জেনারেল সেক্রেটারী শেখ মুজিবকে না বলে প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের মজলিসে আমেলার সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশ করেন এবং সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তিও পাঠিয়ে দিলেন। সেদিন সভাপতি ও সেক্রেটারী দু’জনই ট্রেনে খুলনাতে যাচ্ছিলেন। নারায়নগঞ্জ যাওয়ার পর মাওলানা তাঁর কর্মের কথা শেখ মুজিবকে বর্ণনা দেন। সাথে সাথে শেখ মুজিব ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আপনার উচিৎ ছিলো কমপক্ষে আমাকে বলা।’ মাওলানা বলেন, ‘আমি সভাপতি এবং মজলিসে আমেলার সদস্য নির্বাচিত করা আমার সাংবিধানিক অধিকার।’ মুজিব বলেন, ‘এভাবে জেনারেল সেক্রেটারী হিসাবে আমারও অধিকার রয়েছে কাউন্সিল মিটিং আহ্বান করে অনাস্থা প্রস্তাব করার।’ মাওলানা বুঝতে পারলেন তার চাল পাল্টে গেছে। তিনি দ্রুত এক সদস্যকে পত্রিকাগুলোর অফিসে পাঠিয়ে প্রেস রিলিজ ফেরত নিয়ে আসেন।’
সোহরাওয়ার্দী সাহেব তাঁর দু’জন প্রতিনিধির উপর গর্ব করতেন। যার মধ্যে একজন জহির উদ্দিন এবং অন্যজন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বলতেন, ‘পশ্চিম পাকিস্তানে আমার যদি একজন শেখ মুজিব মিলে যেতো তবে আমি পাকিস্তানের রাজনৈতিক চিত্র পাল্টিয়ে দিতাম।’ কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানে তিনি শেখ মুজিব পাননি। শেখ মুজিবের গুণের মধ্যে অন্যতম একটি হলো, তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে এক প্লাট ফরমে নিয়ে আসতে পারতেন। শেখ মুজিবুর রহমানের এই গুণ তখনই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে যখন সোহরাওয়ার্দী প্রথম মূখ্যমন্ত্রী হয়ে ঢাকায় আসেন। এই সময় পল্টন ময়দানে এক জনসভা হয়। মাওলানা ভাসানী সেই জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় সোহরাওয়ার্দীকে নিজের তীরের লক্ষ্য করে ফেলেন। সোহরাওয়ার্দী নিরবে সব শোনছিলেন। কিন্তু শেখ মুজিব নিরব থাকতে পারলেন না। জনসভাতেই তিনি প্রতিবাদ করলেন এই বলে, ‘মাওলানার ডান হাত মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ইস্কান্দার মির্জার সাথে মোলাকাত হয়েগেছে। মাওলানা খুব দ্রুত বিপত্তি সৃষ্টি করবেন।’ সোহরাওয়ার্দী এই বিপত্তির নমুনা জানতে চাইলে শেখ মুজিব বলেন, ‘যেকোন কিছু হতে পারে।’ সুয়েজ খালের উপর বৃটেন ও ফ্রন্সের যৌথ হামলার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত জনসভায় সোহরাওয়ার্দী তাঁর বক্তব্যে সার্বিক অবস্থার উপর দৃষ্টি রেখে আরবদের সৈন্যশক্তি দুর্বল হওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করলে মাওলানা সুযোগ পেয়ে যান এবং সোহরাওয়ার্দীর বিরোধীতা শুরু করেন। অথচ আজ চল্লিশ বছর পরও সোহরাওয়ার্দীর এই কথা সত্য বলে প্রমাণিত। অবস্থার প্রেক্ষাপটে ইস্কান্দার মির্জা সোহরাওয়ার্দীর বিরোধী হয়ে যান। পরামর্শ ছাড়া সোহরাওয়ার্দী চীন সফরে যান এবং চীনা নেতাদেরকে পাকিস্তানে আমন্ত্রণ করেন। চীন থেকে আসা রাষ্ট্রীয় মেহমানদের সম্বর্ধনার আয়োজন করা হয় এবং তা সোহরাওয়ার্দী নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। এ থেকে ইস্কান্দার মির্জা সবসময় সোহরাওয়ার্দীকে নিজের মসনদের জন্য হুমকি ভাবতেন। ইস্কান্দার মির্জা শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের মাধ্যমে প্রথমে যুক্তফ্রন্টে ভাঙ্গন তৈরি করেছেন। পরে মাওলানা ভাসানীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। মাওলানা আওয়ামী লীগকে প্রভাবিত করতে ঢাকা গুলিস্তান সিনেমা হলে প্রাদেশিক কাউন্সিল ডাকেন। মাওলানা ও তাঁর সাথীরা প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক নীতির বিরোধীতা করে কাউন্সিলে প্রস্তাব আনতে চেষ্টা করেন। তা বিফল হয়। মাওলানা ও তাঁর সাথীরা গুলিস্তান সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে পল্টন ময়দানে সভা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাও বিফল হয়। মাওলানার সাথে ছিলেন মশিউর রহমান যাদু মিয়া, হাজী দানেশ ও মুহাম্মদ আলী। তাদের রাজনৈতিক দলের নাম ছিলো ‘গণতান্ত্রিক দল’। তারা সোহরাওয়ার্দী-মুজিবের শত্রুতায় মাওলানার সঙ্গ নিলেন। ঢাকায় বিফল হয়ে মাওলানা কাগমারীতে সম্মেলন ডাকলেন। তা সফল করতে ইস্কান্দার মির্জা ফান্ড দিলেন। সম্মেলনে সুভাস চন্দ্র বুস, নেহেরু, প্যাটল এবং ইস্কান্দার মির্জার নামে সাজসজ্জা হতে থাকে। এই সম্মেলনে ন্যাশনাল আওয়ামী পাটি অর্থাৎ ন্যাপ প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বামদের বিভিন্ন ব্যক্তি শরিক হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়, যার মধ্যে জি এম সাইদ, খান আব্দুল ওয়ালী খান এবং মিয়া ইফতেখার উদ্দিনের নাম উল্লেখযোগ্য। তবে মাওলানা চলে যাওয়ায় আওয়ামীলীগে কোন প্রভাব ফেলেনি। ইস্কান্দার মির্জার শত বিরোধের পরও আওয়ামী লীগ কেন্দ্র এবং প্রদেশে সক্রিয় রয়েছে। আর তা সম্ভব হয়েছে শেখ মুজিবের সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বের কারণে। সোহরাওয়ার্দীর পরামর্শক্রমে কেন্দ্রে নির্বাচনী নীতিমালা পরিবর্তন করে উন্নত করতে হয়েছে। নির্বাচনকে কারচুপিমুক্ত রাখতে চেষ্টা করা হয়েছে, যখন মুসলিমলীগ এবং তাদের সমর্থিত দলসমূহ কারচুপির নির্বাচনকে বহাল রাখতে চেষ্টা চালায়। এই অবস্থায় জামায়াতে ইসলামী পার্লামেন্টে প্রতিনিধি না দিলেও মুসলিমলীগের সহযোগিতা করতে থাকে। এই প্রশ্নে রিপাবলিকান দলে ভাঙ্গন শুরু হয়ে যায়। মাখদুম জাদা হোসেন মাহমুদ এবং কর্ণেল আবিদ হোসেন আওয়ামী লীগের শুভাকাঙ্খি ছিলেন। তারা দু’জন পশ্চিম পাকিস্তানের পার্লামেন্টে ন্যাশনাল আওয়ামী পাটিতে জনাব জি এম সাইদের নেতৃত্বে ‘ওয়ান ইউনিট’ বিরোধী প্রস্তাবে একে অন্যের সহযোগিতার জন্য চুক্তি করেন। প্রথমে তারা রিপাবলিকান পাটি এবং পরে মুসলিমলীগের নেতাদের স্বাক্ষর নেন। একথা ঘোষিত হওয়ার পথে ছিলো যে, রিপাবলিকান এবং মুসলিমলীগ দু’জনের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়ে আছে। হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী সমস্ত দেশে ‘ওয়ান ইউনিট’-এর পক্ষে প্রচার শুরু করেন। কোয়েটা এবং লাহোরে জনসভা খুব সফল হয়েছিলো। সাধারণ মানুষ এক ইউনিটের পক্ষে রায় দিতে থাকে। এই সময় মূখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে নেতা করে একটি সংসদীয় গ্রুপ পূর্ব ইউরোপ এবং সোভিয়েত উনিয়ন প্রেরণ করেন। এই গ্রুপের বৈশিষ্ট্য হলো শেখ মুজিবের এটাই প্রথম বিদেশী মিশনে যোগ দেওয়া। এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য ছিলো, কাশ্মীর ইস্যুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পূর্ব ইউরোপকে সংযুক্ত করে সহযোগিতার ওয়াদা আদায়। এই ঘটনা সেই সময় ছিলো যখন ইস্কান্দার মির্জার ইশারায় রিপাবলিকান পাটি তাদের সাহায্য ফিরিয়ে নিয়েছো এবং ইস্কান্দার মির্জা প্রধানমন্ত্রীকে ইস্তোফা দিতে বলেছিলো। এই সময় মুসলিমলীগ প্রধানমন্ত্রীকে সাহায্য করার আশ্বাস দেয়। কিন্তু এই আশ্বাস শুধু বাতাসেই ছিলো। মুসলিমলীগ মন্ত্রীত্বের দাওয়াত পেতেই পাল্টে গেলো। অতঃপর মুসলিমলীগ ও রিপাবলিকান একে অন্যের সহযোগি হয়ে যায়।
শেখ মুজিব ও তাঁর সঙ্গীরা বিদেশী মিশন শেষে ফিরে আসেন। তখন শেখ মুজিব রাগাম্বিত ছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে বারবার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী সাহেবের পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞান ছিলো। তিনি তখন বললেন, ‘মুসলিমলীগের শাসন কিছুদিনের মেহমান, আর মেহমানদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা অনুচিত।’ লকম হাউসে উচ্চপর্যায়ের এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথাগুলো বলেন। সত্যই এই মেহমানদের শাসন দু মাসের বেশি ছিলো না। এরপর আওয়ামীলীগ ও রিপাবলিকানদের যৌ

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT