স্বাস্থ্য কুশল

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার উপায়

অধ্যাপক ডা. খাজা নাজিমউদ্দিন প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৩-২০২০ ইং ০১:০৫:৩০ | সংবাদটি ৫২৪ বার পঠিত
Image

দুনিয়াজোড়া সর্দি কাশির ১০-৩০ শতাংশ হয় করোনাভাইরাস দিয়ে। ২০০৩ সালের সারস করোনা, পরবর্তীকালের মিডল ইস্টের মারস করোনার মতোই আরেক করোনা এবারের উহানের (চীন) নভেল করোনা। মধ্যে ছিল সুয়াইনফ্লু-এইচ ১ এন ১-২০০৯। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া তো লেগেই আছ। ভাইরাসের স্বভাবই এটা। মিউটেশনে রূপ বদলায়, পরিবেশ পেলে বিধ্বংসী হয়। এদের মধ্যে মার্সে মৃত্যুর হার ৩০ শতাংশ, সার্সে ১০ শতাংশ, নভেল করোনায় এখন পর্যন্ত ৪ শতাংশ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা অসুখটির নাম দিয়েছে কোভিড-১৯।
করোনা সার্সের চেয়ে ভয়ংকর : ভাইরাস নাক, মুখ চোখের মাধ্যমে দেহে ঢোকার পর এসিই-২ নামক প্রোটিনের সঙ্গে মিশে আক্রমণ করে শরীরে। সুস্থ মানুষের শরীরে পর্যাপ্ত এসিই-২ না থাকার কারণে ২০০২ সালে সার্স প্রতিরোধ সম্ভব হয়েছিল। কোভিড-১৯ সিকোন্সে বলে এতে রূপান্তরিত জিনের অংশ থাকায় সুপ্তপ্রোটিন থাকে। সুপ্তপ্রোটিনকে সতেজ করতে হলে ভাইরাসকে শরীরে ঢুকতে হয়। ফিউরিন নামক এনজাইম সুপ্তপ্রোটিনকে সতেজ করে। ভাইরাস ফিউরিনকে আক্রমণ করে প্রোটিনকে সতেজ করে; এভাবে ভাইরাস ও মানবকোষে সংমিশ্রণ ঘটে, রোগের বিস্তার হয়।
বাচ্চা নয় বয়স্করা বেশি আক্রান্ত : ৫০-৬০ বছরের রোগীই বেশি কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছে বলে ধরে নেয়া হচ্ছে। যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আলাদা বলে বাচ্চারা ভালো থাকছে।
উপসর্গ : ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) লাইকইলনেস (আইএলআই): ঠা-া, কাশি, গলা ব্যথা, শরীর ব্যথা গা ম্যাজম্যাজ করা মানুষের ইনফেকশনের মূল সমস্যা এসব ক্ষেত্রে উপসর্গ মাফিক চিকিৎসা দিলেই হয়।
সারি (সারি) : সিভেয়াররেসপিরেটরি ইনফ্লামেশন-নিউমোনিয়া বাইলাট্যারেল ইনফেকশন হয়; দুই ফুসুফুসেই হয়; দ্রুত মারাত্মক হয়, রেসপিরেটরি ফেইলিউর হয়, আইসিইউ চিকিৎসা লাগে। নিউমোনিয়া লাংস (ফুসফুস) ফেইলিউরেই মূলত মৃত্যুবরণ করে।
ফ্লু যখন কিডনি বা হার্ট বা লিভার ফেইলিউর, ডায়াবেটিস বা অন্য অসুখে অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী মহিলাদের হয় সেটাও মারাত্মক।
করোনার জীবন বৈচিত্র্য : করোনা মূলত প্রাণীদের রোগ। সার্সকরোনা ছিল কুকুরের, মার্সকরোনা উটের আর নভেলকরোনা বাদুড়ের রোগ। ড্রপলেটে জীবাণু ১০ দিন পর্যন্ত জীবিত থাকে (ফ্লু মাত্র ৪৮ ঘণ্টা)। কারও হলে রোগী থেকে ৬ ফুট দূরে থাকতে হবে। ৮৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটে (৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড) বাঁচে না করোনা। ব্লিচিং বা দৈনন্দিন ব্যবহারের ডিসইনফ্যাক্টান্ট করোনাকে মারতে পারে।
কীভাবে ছড়ায় : চীন থেকে এটা ছড়িয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে বাদুড়, সাপ থেকে এটার উৎপত্তি। বাদুড়ের করোনা আর এবারের করোনা (নভেল-২০১৯) শারীরিক গঠন একই রকম বলে এ ধারণা। হুবেই প্রদেশের উহান শহরে এক কাঁচাবাজারের প্রথম রোগী বিধায় উহানই এটার উৎপত্তি ও বিস্তারের জায়গা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত যারা আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যুবরণ করেছে তাদের শতকরা নব্বইয়ের বেশি উহানের। মূলত প্রাণী থেকে প্রাণীতে ছড়ায়, প্রাণী থেকে মানুষেও ছড়ায় তবে কম; এখন উৎকণ্ঠার কারণ হোল প্রাণী থেকে মানুষে এবং তার চেয়েও বিপজ্জনক ঘনবসতির জনপদে দ্রুত ছড়াচ্ছে মানুষ থেকে মানুষে।
লব্ধ জ্ঞান থেকে বলা যায় ড্রপলেট ইনফেকশন অর্থাৎ হাঁচি-কাশি দিয়ে ছড়ায় এ রোগ। হাঁচি-কাশি কোথাও লাগলে সেখান থেকে (ফোমাইট) ছড়ায়। মলমূত্র বা অন্য কোনো দৈহিক রসে ছড়াতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। আক্রান্ত, সন্দেহজনক আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে না এলে অদ্যাবধি বিপদ নেই। অবারিত যোগাযোগ ও যাতায়াতের আজকের দুনিয়ায় সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশংকা অনেক।
ল্যাবটেস্ট : নিশ্চিত করার জন্য আরটিপিসিআর ভরসা। মুখের লালা, নাকের শ্লেষ্মা ও রক্তের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা যায়। আমাদের দেশে অনেককেই পরীক্ষা করলেও কারও মধ্যে রোগটি শনাক্ত হয়নি। আগে ৩-৪ দিন লাগলেও এখন ২-৩ ঘণ্টায় পরীক্ষার ফল পাওয়া যাচ্ছে। রক্তের রুটিন পরীক্ষা করতে হবে অন্য রোগ থেকে পৃথক করার জন্য। অন্য অসুখ থাকলে জটিলতা সন্দেহ করলে তাও পরীক্ষা করা দরকার হবে।
প্রতিকার : এখন পর্যন্ত চিকিৎসার প্রবর্তিত প্রোটকল নেই। অসুস্থ হয়ে পড়লে উপসর্গ অনুযায়ী প্রতিকার করতে হবে। জটিলতার চিকিৎসা করতে হবে। প্যারাসিটামল, এন্টিহিস্টামিন কাজে লাগবে নিউমোনিয়া না হওয়া পর্যন্ত। পানি পান করতে হবে যথেষ্ট, খাদ্য খাওয়া ঠিক রাখতে হবে। সোয়াইন ফ্লুতে ব্যবহৃত ও সেস্ল্টা মিভির (৭৫ মি.গ্রা. দিনে ২ বার ৫ দিন) প্রাথমিক স্টেজে ব্যবহারের কথা এখনও কেউ বলেনি। ইবোলার ওষুধ ব্যবহারের কথা ভাবছে অনেকে। কষ্ট হলে হাসপাতালে যেতে হবে, নিউমোনিয়া হয়েছে মনে করে। ব্যাক্টেরিয়ার উপরিইনফেকশন হয় বিধায় এন্টিবায়োটিক যোগ করতে হবে; রক্তনালি বা মাংসপেশিতেই নজেক্সন দেয়াই ভালো। বুকের এক্সরেতে ধরা পড়লে ভর্তি হতে হবে কারণ শ্বাস ফেল করতে পারে সে ক্ষেত্রে আইসিইউতে চিকিৎসা করতে হবে। করোনার ও সহযোগী রোগের জটিলতা যেমন কিডনি, লিভার দুর্বল ও লবণ, সুগার অস্বাভাবিক হলেও হাসপাতালে চিকিৎসা লাগবে। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাক্সিন নিলে ফ্লুর কাজ হবে কোভিড-১৯ নয়। আরও দেড় বছর লাগবে নতুন ভ্যাক্সিন আসতে।
প্রতিকার : ভ্রমণে কীভাবে নিরাপদ থাকবেন- চীনে বিশেষ করে চীনের ওই (উহান) এলকা সফর না করলে ভালো। চীনের বাইরে অনেক দেশে রোগ ছড়িয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে আমাদের নিকটতম মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড; সম্ভব হলে না যাওয়া উচিত। আমেরিকা সম্প্রতি চীন সফরকারী কাউকে ভিসা দিচ্ছে না। আসলে চীনে গেলেও বা চীন থেকে এলে ১৪ দিনের জন্য আলাদা করে রাখা রোগ প্রতিরোধের একটা ব্যবস্থা হতে পারে। জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেও আজ অবধি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা বিশেষ প্রটোকলের কথা বলেনি বরং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিরোধের অন্য সব ব্যবস্থা নিতে বাধ্য বাধকতার কথা বলছে কারণ ঠিক কীভাবে ছড়াচ্ছে অদ্যাবধি নিশ্চিত নয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্য হোল যেন কোনো দেশে আমদানি না হয়, হয়ে পড়লে রফতানিও না হয়। চিকিৎসা নেই, ভ্যাক্সিন নেই; বাংলাদেশে দশ হাজার চীনা কাজ করছে। ব্যক্তিগত সতর্কতার বিকল্প নেই।
ভাইরাস রোগ-ঋতু বৈচিত্র্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রাদুর্ভাবের সময়কালীন নিরাপদ থাকতে পারলেই হলো। হাঁচি-কাশি (ড্রপলেট ইনফেকশন) দিয়েই মূলত ছড়ায় কোভিড-১৯ নিউমোনিয়া। কারও হলে রোগী থেকে ৬ ফুট দূরে থাকতে হবে, নিজের হলে স্কুল অফিস বাদ দিতে পারলে ভালো, বাজার ঘাটে না গেলে হয়। রেলিং, দরজা, গেট বা সন্দেহজনক কিছুর সংস্পর্শে এলে হাত পরিষ্কার করতে হবে, সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
সব সময় ধারে কাছে সাবান-পানি নাও থাকতে পারে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে নিজেকে, প্রতিষ্ঠানকে। সেনিটাইজার ব্যবহার করতে হবে বা করাটাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। ধারণা করা হয় নাক মুখের সংস্পর্শে এলেও রোগ ছড়াতে পারে। বারবার হাত-আঙুল, চোখ, নাক মুখে লাগানোর বদ অভ্যাস বদলাতে হবে। আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা যাবে না; আসতে হলে মাস্ক পরতে হবে। ডিসপোজিবল মাস্ক একবার পরে ফেলে দিতে হবে। সব দেশে ভ্রমণে গেলে সতর্কতা অত্যাবশ্যকীয়।
* জ্বর, কাশি থাকলে সম্ভব হলে ভ্রমণ বাতিল করা যেতে পারে। ভ্রমণে থাকলে এ উপসর্গের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, চায়না বা অন্য আক্রান্ত এলাকায় সম্প্রতি সফর করে থাকলে চিকিৎসককে জানাতে হবে।
* আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ৬ ফুট দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে, সেটা সম্ভব না হলে মাস্ক পরতে হবে। সম্প্রতি সব বিমানবন্দরেই স্টাফরা মাস্ক পরছেন। তিন ধরনের মাস্কের মধ্যে এন ৯৫ সবচেয়ে কার্যকরী।
* বারবার সাবান পানিতে হাত ধুয়ে নিতে হবে, মাঝে মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজারে হাত ধুয়ে নিতে পারলে ভালো।
* বারবার হাত-আঙুল চোখ, নাক মুখে লাগানোর বদ অভ্যাস বদলাতে হবে।
* হাঁচি-কাশি এলে নাখ, মুখ কনুইয়ের ভাঁজের মধ্যে রাখতে হবে; টিসু পেপার ব্যবহার করে সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিতে হবে।
* মাস্ক ব্যবহার করলে খেয়াল রাখতে হবে যেন নাক মুখ কভার করে, ব্যবহারের সময় মাস্ক স্পর্শ করা যাবে না। ওয়ান টাইম হলে ব্যবহারের পর মাস্ক ফেলে দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।
* ভ্রমণ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্রুকে বলতে হবে স্বাস্থ্যসেবার জন্য, তাদের জানাতে হবে ভ্রমণ বৃত্তান্ত।
* ভালোভাবে ফুটিয়ে রান্না করা হয়েছে এমন খাবারই শুধু খাবেন।
* পাবলিক প্লেসে থুতু ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যকে বিরত রাখতে হবে।
* সন্দেহজনক জন্তু-জানোয়ারের সঙ্গে ভ্রমণ নিরাপদ নয়।
* আক্রান্ত এলাকার জন্তু-জানোয়ারের ফার্মে যাওয়া লাগলে প্রটেক্টেড গ্লাভস, মাস্ক গাউন পরে যেতে হবে।
* পরিবেশের কারণে দূষিত হতে পারে (যেমন দরজার হ্যান্ডল, হ্যান্ডসেট, ল্যান্ডফোন, ইলেক্ট্রিক সুইচ) এমন জিনিস স্পর্শ করলে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলার অভ্যাস করতে হবে।
* হোটেলে খাবার টেবিল, ট্রে, ওয়াশরুম পরিষ্কারও পরিশোধিত (ফরংরহভবপঃবফ) কিনা তদারক করতে হবে।
* লোক সমাগম থেকে দূরে থাকতে পারলে ভালো।
* লাইনে দাঁড়াতে হলে নিজের প্রতিরোধের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
* ভ্রমণের ১৪ দিন পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে; এখন বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা সারা দুনিয়াকেই করোনার জন্য জরুরি সংকেত দিয়েছে তাই সব দেশই সতর্কতার আওতায়। উপসর্গ দেখা দিলে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে জানাতে হবে।
* কাশি প্রতিরোধ করার জন্য গলা ভেজানোর প্রয়াস অব্যাহত রাখা যেতে পারে। অসুস্থ লোক, সন্দেহজনক লোকের সঙ্গে কাপ, চামচ, প্লেট ব্যবহার করা যাবে না।
* প্লেন-পরিবহনের ঠা-ায় কাশি, হাঁচি প্রতিরোধ করা কঠিন, ভাইরাল কাশি হওয়া অস্বাভাবিক নয়; এসব অসুখের মাত্র ১০-৩০ শতাংশ করোনা দিয়ে হয়। সব কিছুকে করোনা ভেবে প্যানিকের যুক্তি নেই।
* পৃথিবীর যে কোনো বিমানবন্দরে নামলেই ১৪০ কোটির যে কোনো একজন চৈনিকের সংস্পর্শে আসা অসম্ভব নয়, বিশেষ করে ইমিগ্রেশনে লাইন দিলে। সতর্কতার বিকল্প নেই। পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেয়া শিখতে হবে।
* হাঁচি-কাশি হলে বসে কাশি দেবেন, মাথা নিচু করে কাশি দেন।

ঈঙঠওউ-১৯ (করোনাভাইরাস রোগ) রোগ, ঝঅজঝ-ঈড়ঠ-২ ভাইরাসের দুটি ভিন্ন ভিন্ন স্ট্রেইনের যে কোনোটি দ্বারা সংক্রমণের ফলে ঘটে থাকে।
ঈঙঠওউ-১৯ (করোনাভাইরাস রোগ)-এর লক্ষণ কী কী?
সবচেয়ে কমন লক্ষণ- * জ্বর; * শুকনো কাশি বা গলাব্যথা; * ক্লান্ত লাগা বা গা ম্যাজম্যাজ করা।
অন্যান্য লক্ষণ- * নাক বন্ধ থাকা; * নাক দিয়ে পানি পড়া; * শরীর ব্যথা; * পাতলা পায়খানা; * শ্বাসকষ্ট।
ঝঅজঝ-ঈড়ঠ-২ ভাইরাস শরীরে ঢোকার কতদিন পর ঈঙঠওউ-১৯ রোগের লক্ষণ দেখা দিবে?
মানুষের শরীরে ঢোকার ৪ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে ঈঙঠওউ-১৯ (করোনাভাইরাস রোগ) রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া শুরু হয়। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে পাঁচ দিনের মধ্যেই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া শুরু হয়ে যায়।
ঈঙঠওউ-১৯-এর রোগীর অবস্থা কখন ‘সিরিয়াস’ বলা হয়?
যখন ঈঙঠওউ-১৯ রোগীর শ্বাসকষ্ট দেখা দিবে।
এ রোগ কীভাবে ছড়ায়?
আক্রান্ত রোগীর হাঁচি, কাশি, থুতু, কফের মাধ্যমে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে আক্রান্ত রোগীকে মাস্ক পড়ানো জরুরি এবং আক্রান্ত রোগীর (বা যে কোনো হাঁচি-কাশির রোগীর) ৩ ফুটের মধ্যে যাওয়া উচিত নয়।
রোগীর অবস্থা কখন ‘সিরিয়াস’ বলা হয়?
যখন ঈঙঠওউ-১৯ রোগীর শ্বাসকষ্ট দেখা দিবে।
রোগীর প্র¯্রাব বা পায়খানার মাধ্যমে কি এ রোগ ছড়াতে পারে?
না। এখন পর্যন্ত এমন কিছুই প্রমাণিত হয়নি।
যদি কোনো চেয়ার-টেবিল, দরজার হাতল, সিঁড়ি বা এস্কেলেটরের রেলিং বা দেয়ালে ঈঙঠওউ-১৯ (করোনাভাইরাস রোগ) রোগীর কফ, থুতু, শ্লেষ্মা পড়ে তাহলে সেখানে এ ভাইরাস কত সময় থাকতে পারে?
কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত। সুতরাং এমন কোনো জায়গা স্পর্শ করলে অবশ্যই সাবান পানি দিয়ে হাত ধুবেন বা এলকোহল-বেইজড হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করবেন।
ঈঙঠওউ-১৯ রোগ কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ?
ঝুঁকি কতটুকু তা বুঝতে নিচের পয়েন্টগুলো লক্ষ করুন-
* ৮০ শতাংশ ঈঙঠওউ-১৯ রোগী তেমন কোনো চিকিৎসা ছাড়াই ভালো হয়ে যায়;
* ১৬-১৭ শতাংশ ঈঙঠওউ-১৯ রোগী গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়। এদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়;
* ৪-৫ শতাংশ ঈঙঠওউ-১৯ রোগীর আইসিইউ সেবা লাগতে পারে;
* ২ শতাংশ ঈঙঠওউ-১৯ রোগী মারা যায় (সময়ের সঙ্গে এ হার কমে আসবে);
* শিশু, বৃদ্ধ, ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেশার, হার্টের অসুখ, ফুসফুসের অসুখের রোগী এবং অন্যান্য কারণে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম (যেমন হাসপাতালে ভর্তি যে কোনো রোগী) তাদেরই ঈঙঠওউ-১৯ রোগে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার আশংকা বেশি।
উপরের পয়েন্টগুলো পড়ে ঈঙঠওউ-১৯-কে খুব সাধারণ সমস্যা মনে হলেও এ সমস্যাকে জটিল করে তুলতে পারে নিচের বিষয়গুলো-
* এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে অসুখ এবং একটি নতুন ইনফেকশাস রোগ। ইতিমধ্যেই এ নতুন ভাইরাসটির আরও একটি ভিন্ন স্ট্রেইন পাওয়া গেছে;
* আমাদের দেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। সুতরাং একজন থেকে অন্যজনে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া খুব সহজ;
* আমাদের ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষার অভ্যাস অতটা ভালো নয়।
মাস্ক ব্যবহার করে কি এর হাত থেকে রক্ষা পেতে পারি?
সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ডঐঙ মাস্ক ব্যবহার করা সাজেস্ট করে না। মাস্ক শুধু হাঁচি বা কাশি বা জ্বর-এর রোগীদের এবং যারা এসব রোগীর স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে নিয়োজিত আছেন তাদের ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। অকারণে মাস্ক-এর ব্যবহার মানুষের মধ্যে ‘ভধষংব ংবহংব ড়ভ ংবপঁৎরঃ’ জন্ম দেয়।
মাস্ক যদি ব্যবহার নাই করি তাহলে কীভাবে আমি ঈঙঠওউ-১৯ রোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারি?
* বারবার সাবান পানিতে হাত ধোয়ার বিকল্প নেই। নিজের আশপাশের মানুষদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে বারবার অবহিত করুন;
* হঠাৎ করে হাঁচি-কাশি পেলে হাতের কনুই-এর ভাঁজ দিয়ে কিংবা টিস্যু দিয়ে মুখ ঢেকে হাঁচি বা কাশি দিতে হবে। তবে টিস্যু ব্যবহার করলে সেটি যেখানে-সেখানে ফেলা যাবে না;
* কারো যদি জ্বর বা হাঁচি বা কাশি ইত্যাদি থাকে তার থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরে থাকতে হবে।
মাস্ক কি তবে সুস্থ মানুষকে কোনোভাবেই সাহায্য করে না?
একেবারেই যে করে না-সে কথা বলা ঠিক হবে না। মাস্ক ব্যবহার করলে অকারণে বারবার নাক-মুখ-চোখে হাত দেয়া বন্ধ থাকে।
পোষা কুকুর-বিড়াল বা পাখি থেকে কি ঈঙঠওউ-১৯ রোগ হতে পারে?
না। এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। এটি একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষে ছড়ায়।
কোনো খাবার থেকে কি রোগ হতে পারে?
না। সরাসরি খাবার থেকে এ রোগ হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। এটি এক মানুষ থেকে অন্য মানুষের মধ্যে ছড়ায়।
যদি ব্যবসা বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে রোগ আছে এমন কোনো দেশ থেকে কোনো পণ্যের প্যাকেট বা বক্স আনা হয় তাহলে কি ঈঙঠওউ-১৯ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে?
* যদি দুর্ভাগ্যক্রমে বিদেশে প্যাকেট বা বক্সের গায়ে ঈঙঠওউ-১৯ রোগীর কফ, থুতু, শ্লেষ্মা পড়েও থাকে সেখানে ভাইরাসটি টিকে থাকতে পারবে সর্বোচ্চ কয়েকদিন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিদেশ থেকে পণ্য আসতে আরও অনেক বেশি সময় লাগে। এছাড়া আসার সময় পার্সেলটি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন তাপমাত্রার পরিবেশ অতিক্রম করে আসে। সুতরাং আপনার পণ্যের গায়ে করোনাভাইরাসের টিকে থাকার কথা নয়।
* যদি পার্সেল দিনের মধ্যেই পৌঁছে যায় তাহলে সেটি খোলার আগে এবং পরে ভালো করে সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলবেন।
এ রোগের বিরুদ্ধে কী কোন এন্টিবায়োটিক কাজ করে? জ্বর-হাঁচি-কাশি-শরীর ব্যথা হয় তাহলে কি এন্টিবায়োটিক খাব?
* ঈঙঠওউ-১৯ এ রোগ একটি ভাইরাসজনিত ব্যাধি। আর এন্টিবায়োটিক কাজ করে ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশনের বিরুদ্ধে। সুতরাং ঈঙঠওউ-১৯ রোগের বিরুদ্ধে কোনো এন্টিবায়োটিক কাজ করবে না।
* জ্বর-হাঁচি-ক

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • জুতায় কতদিন বেঁচে থাকতে পারে করোনাভাইরাস?
  • হার্ট সুস্থ রাখা চাই
  • হাম রুবেলা ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে প্রচারণা
  • গাজরের উপকারিতা
  • রোগ প্রতিরোধে ডুমুর
  • তরমুজ এক উপকারী ফল
  • সকালের নাস্তা যখন সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি
  • করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার উপায়
  • শাকসবজি ও ফলমূল কেন খাবেন
  • দৈনন্দিন জীবনে লেবুর চাহিদা
  • এ্যাপোলো হসপিটালে ভারতের প্রথম ইনভেসিভ ডবল কার্ভ কারেকশন সার্জারি
  • হাঁড়ের ক্ষয় রোগ : নীরব ঘাতক
  • আপনার সন্তানের চোখের যত্ন নিন
  • আয়োডিন স্বল্পতায় জটিল রোগ
  • শারীরিক শক্তি বাড়ায় যে খাবার
  • সুস্থতার জন্য পানি
  • রোগ প্রতিরোধে ডালিম
  • শীতে হাঁপানি এড়াতে কী করবেন
  • শীতে ঠোঁটের সুরক্ষা
  • এক জায়গায় বসে কাজ করার কুফল
  • Image

    Developed by:Sparkle IT