সম্পাদকীয় দুঃখ নিজেই নিজের খেয়াল রাখতে পারে, কিন্তু আনন্দের পুরোটা উপভোগ করতে চাইলে অবশ্যই তোমাকে তা কারও সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে। -মার্ক টোয়েন।

জিন্দাবাজারে হত্যাকা-

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৩-২০২০ ইং ০১:১৩:১২ | সংবাদটি ১৪৩ বার পঠিত

কলেজ ছাত্র মুন্না খুন হয়েছে হকারদের হাতে। শনিবারের সব দৈনিকেই খবরটি গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে। ফুটপাতের হকাররা উপর্যপরি ছুরিকাঘাতে খুন করেছে মুন্নাকে। ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যে সাড়ে আটটার দিকে নগরীর জিন্দাবাজার কৃষি ব্যাংকের সামনে ফুটপাতের হকাররা একজন বৃদ্ধ ক্রেতাকে বেধড়ক পেটাচ্ছিলো। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মুন্না ওই বৃদ্ধকে না মারার জন্য হকারদের অনুরোধ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফুটপাতের হকাররা উল্টো মুন্নার ওপরই হামলা চালায়। গুরুতর আহত মুন্নাকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে হকাররা পালিয়ে যায়। পথচারীরা মুন্নাকে হাসপাতালে ভর্তি করলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। ফুটপাতের হকাররা কতোটুকু বেপরোয়া হলে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে, সেটাই বড় প্রশ্ন।
ফুটপাত কিংবা নগরীর ব্যস্ততম রাস্তাগুলো কাদের জন্যÑ হকারদের জন্য না জনগণের জন্য? এই ধরণের একটি প্রশ্ন সচেতন মহলের। আর সেটা আজকের নয়, অনেক পুরনো। নগরীতে রাস্তাঘাট ছোট থেকে বড় হয়, সম্প্রসারিত হয়, ফুটপাত তৈরি হয়। অতীতেও হয়েছে, হচ্ছে এখনও। বর্তমানে নগরীর অনেক সড়কেরই দু’পাশে ফুটপাত নির্মিত হচ্ছে; অনেক জায়গায় ফুটপাত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বেশ কয়েক মাস ধরেই কাজ চলছে। এতে ভোগান্তিও হচ্ছে নগরবাসীর। তবে প্রত্যাশা এটাই যে, কাজ শেষ হলে একটি ‘সুন্দর-পরিকল্পিত নগরী’ দেখতে পাবে তারা। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন কি আদৌ পূর্ণতা পাবেÑ সেটা বলা মুশকিল। কারণ ফুটপাত কিংবা রাস্তাঘাট তো মূলত হকারদের দখলে। তারা ফুটপাত তো দখল করেছেই, সেই সঙ্গে রাস্তার অনেক অংশই দখল করে নিয়েছে। তারা দিন দিন এতোই বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে যে, একদিকে ফুটপাত-রাস্তা দখল করে পথচারী ও যানবাহনের চলাচলে বিঘœ ঘটাচ্ছে, আর অপরদিকে পথচারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করছে। তাদের সেই দৃষ্টতা এখন চরমে পৌঁছে গেছে। যার একটি উদাহরণ হলো জিন্দাবাজারে একজন বৃদ্ধকে বেধড়ক পেটানো এবং কলেজ ছাত্র মুন্নাকে খুন করা। এইসব ঘটনা একটা সভ্য সমাজে ঘটতে পারে না। এটা মেনে নেয়া যায় না।
সম্প্রতি এই পত্রিকায়ই ‘হকারদের যন্ত্রণায় অতিষ্ট নগরবাসী’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয় নগরীর বিভিন্ন স্থানে নবনির্মিত ফুটপাতগুলো দখল করে নিয়েছে হকাররা। শুধু তাই নয়, তারা সদ্য নির্মিত সরকারি মহিলা কলেজের দৃষ্টিনন্দন ফটকটিও রীতিমতো দখল করে নিয়েছে। সব মিলিয়ে হকারদের প্রতি কোন দয়া, করুণা, অনুকম্পা দেখানোর কোন সুযোগ আছে বলে আমরা মনে করি না। [ফুটপাত পথচারীদের জন্য, আর রাস্তা যানবাহনের জন্য। এখান থেকে উচ্ছেদ করতে হবে হকারদের। অন্তত মুন্না হত্যাকা-ের পরে হকারদের প্রতি কারও সামান্যতম করুণা থাকার কথা নয়। আর যদি কারও থেকে থাকে, তবে সেটা হবে নগরবাসীর স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া, মানবতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। আর নিহত মুন্নার আত্মা তখনই শান্তি পাবে, যখন খুনীরা যথাযথ শাস্তি পাবে।] আমরা মুন্নার শোকাহত স্বজনদের প্রতি জানাচ্ছি সমবেদনা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT