ইতিহাস ও ঐতিহ্য

বায়ান্নতেই লিখেছিলেন ‘ঢাকাই কারবালা’

প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৩-২০২০ ইং ০০:৪৩:০২ | সংবাদটি ৪৯৭ বার পঠিত
Image

আর মাত্তর ছ’টি বছর পেরুলেই তিনি শতবর্ষী হবার কথা ছিলো। কিন্তু তার আগেই চলে গেলেন, ঢাকাই কারবালার কবি মু. আবদুর রহীম। এ বছরের ভাষার মাস শুরুর প্রথম দিন পহেলা ফেব্রুয়ারি সকালে (০১.০২.২০২০,৮টা ৪০মি.) তিনি পাড়ি জমালেন পরপারে। শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘরে নিজের বাসায়। ওইদিন বাদ জোহর তার গ্রামের বাড়ি শহরতলীর আলমপুর দারুলহুদা দাখিল মাদ্রাসা মাঠে প্রথম জানাজা এবং বাদ আসর ষোলঘর স্টেডিয়ামে তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে তাকে ষোলঘর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তাকে নিয়ে একটি সন্ধ্যের কথা আমার এখনো খুব মনে পড়ে। তখন তার বয়স পঁচাশি, মুখে বয়সের একটি ছাপ সুস্পষ্ট। কিন্তু সেই ছাপ মনে তো লাগেনি এমনকি শরীরেও নয়। পঁচাশি বছর বয়সেও তার চশমা লাগে না। সেদিন তিনি রাগীব-রাবেয়া একুশে সম্মাননা গ্রহণ করেছেন। সেই অনুষ্ঠান শেষে সিলেট অডিটোরিয়াম থেকে বেরিয়ে আসেন। অডিটোরিয়ামের বাইরে তেমন আলো নেই। আধো আলো, আধো অন্ধকার। আগের পরিচয়ের সূত্র ধরে, কথা হচ্ছিলো অডিটোরিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে। তার কবিতার বই ‘চোখের জলে হাসি’ একটি কপি দিলেন। বললাম কিছু লিখে দিলে ভালো হতো। রাত তখন সাড়ে ন’টা। সেই আধো আলো-আধারিতে দাঁড়িয়ে চশমা ছাড়াই বইয়ের বুকে লেখলেন ‘জনাব সেলিম আউয়াল প্রিয়বরেষু- মু. আবদুর রহীম, ২৭/০৪/২০১১ খ্রি।’ শব্দ সংখ্যা খুব বেশী নয়, কিন্তু আধো আলো আধো অন্ধকারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই একজন পঁচাশি বছরের প্রাজ্ঞজন কথাগুলো লিখেছেন, তাও আবার চশমা ছাড়া, বিষয়টি ভাবলে ক্যামন লাগে।
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে বায়ান্নের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবুল বরকতসহ ক’টি তরতাজা তরুণের জীবন আলো নিভে গেলো। একজন সংবেদনশীল মানুষের মধ্যে এ ঘটনাটি তো আলোড়ন তুলবেই। একজন কবির বুকেই তো এজন্যে বয়ে যাবে তুমুল ঝড়। বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় গুলি হবার পর সেই ঘটনা নিয়ে মু. আবদুর রহীম বটতলার পুথির স্টাইলে লিখলেন কবিতা- ‘ঢাকাই কারবালা’।
কবি, শিক্ষাবিদ আবদুর রহীম সম্পর্কে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ-গবেষক প্রফেসর মোহাম্মদ আবদুল আজিজ তার রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সিলেট বইয়ে লিখেছেনÑ‘সিলেট সাউথ সুরমা হাই স্কুলের শিক্ষক (স্কুলের এসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার) আবদুর রহীম ২২ ফেব্রুয়ারি একটি ‘কবিগান’ রচনা করেছিলেন। এ সম্পর্কে কবির নিজের কথাটি শোনা যাক : ‘১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা-আন্দোলনের মিছিলে বরকত, সালাম, জব্বার ও রফিকসহ অনেকের নিহত ও আহত হওয়ার মর্মান্তিক খবর পড়ে নিদারুনভাবে ব্যথিত হই। ভাষা-আন্দোলনের সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা সম্ভ্রমে আপ্লুত হই এবং তাৎক্ষণিকভাবে (২২.০৫.৫২) ‘ঢাকাই কারবালা’ কবিগানটি রচনা করি। কবি গানটি বন্ধু আবদুর রহমান চৌধুরী ও স্কুলের হেডমাস্টার আবদুল জব্বার স্যারকে পড়ে শোনাই। ২৩.০২.৫২ তারিখে তা সাপ্তাহিক নওবেলালে প্রকাশের জন্য পাঠিয়ে দিই। ঐ পত্রিকায় তখনকার কর্মরত বন্ধু আবদুল হাই কয়েকদিন পর আমাকে জানায়,‘ঢাকাই কারবালা’ ছিনতাই হয়ে গেছে ও তা অন্যের নামে বাজারে বেরিয়ে গেছে।’
ভাষাসৈনিক আবদুর রহীমের কাছে সেই কবিতার মূল কপিটি নেই। তবে কপাল ভালো কবিতাটি তার বন্ধু করম আলী মুখস্থ করে ফেলেছিলেন। তিনিও একজন লেখক। তারপর করম আলী আর নিজের স্মৃতি হাতড়ে কবিতাটি আবার লেখেন। ঘটনার পরপরই ছাপা না হওয়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। অনেক বছর পর সুনামগঞ্জের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সুনামকণ্ঠে’ কবিতাটি ছাপা হয়।
প্রফেসর মোহাম্মদ আবদুল আজিজ আরো উল্লেখ করেছেনÑ‘ঢাকাই কারবালা’র কবি আবদুর রহীম তাঁর দু’বন্ধুর সঙ্গে মিলে পরে নজরুলের ‘কান্ডারি হুশিয়ার’ কবিতার প্যারোডি রচনা করেন। তিনি লিখেছেনÑ‘১৯৫২ সালের শেষার্ধে আবদুর রহমান চৌধুরী, আবদুল হাই ও আমি রায়নগরের এক বাড়িতে থাকতাম। এ সময় নূরুল আমিন সরকারের বিরুদ্ধে গণ বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। আমরা তিনজন একদিন নজরুলের ‘কান্ডারি হুঁশিয়ার’ কবিতার প্যারোডি ‘ভান্ডারি হুঁশিয়ার’ লেখলাম। কবিতাটি নওবেলালের বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত হয় এবং পাঠক সমাজে বিপুলভাবে অভিনন্দিত হয়।’
আরো দশজন মানুষের মতো স্বপ্ন চোখে সেই ’৪৬-এ মিছিল করেছেন-‘লড়কে লেংগে পাকিস্তান’। ’৪৯-এর শেষদিকে যখন এম.সি কলেজে পড়তেন তখন সমাজে সাধারণ ছাত্রদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যে আজকের হাসান মার্কেটের সামনে আজকের জননেতা পীর হবিবুর রহমান, কমরেড তারা মিয়ার নেতৃত্বে মিটিং করেছেন। লিফলেট বিতরণ করেছেন। সুনামগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা আবদুজ জহুর আর তিনি একসাথে এম.সি কলেজে পড়তেন। থাকতেন রায়নগরের ফজল মিয়া-বারী মিয়ার বাড়িতে লজিং। সে সময় গ্রাম থেকে আসা শিক্ষিত যুবকরা এইভাবে শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন। তাদের কাজ ছিলো নিজের পড়াশোনার সাথে সাথে সেই বাসাবাড়ির বাচ্চাদের পড়ানো। বিনিময়ে তারা থাকার জায়গা আর খাবার পেতেন। সেই সময় আবদুর রহীম সাহিত্য সংসদেও আসতেন। ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ প্রসংগে বললেন, ‘আমরা তো আর নেতা ছিলাম না। গ্রাম থেকে এসেছি। কিছুটা সাম্যবাদের কথা ভাবি। পীর হবিবুর রহমান, ছাত্রনেতা তারা মিয়ার নেতৃত্বে মিছিল মিটিং-এ কর্মী হিসেবে অংশ নেই। বিশেষ করে সাহিত্য সংসদ ছিলো আমাদের প্রাণকেন্দ্র। বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রচন্ড উত্তেজনা অনুভব করতাম। যতোটুকু সম্ভব মিছিল মিটিং-এ থাকতাম।’
মু. আবদুর রহীম ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে এম.সি কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। বায়ান্নের দিকেই তিনি শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। এজন্যে ছাত্রসুলভ আন্দোলনের স্ট্রাটেজি পাল্টে তিনি বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্যে শিক্ষকদের নিয়ে আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। বাংলা ভাষাকে নিয়ে নানান স্বপ্ন। শিক্ষকতায় এসে প্রথমে তিনি যে বিষয়ে ধাক্কা খেলেন শিক্ষকতার চাকরির ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা বিষয়ের শিক্ষকের মর্যাদা কম। জাতীয় ভাষা বাংলা ভাষার শিক্ষকের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্যে আন্দোলন শুরু করলেন। এ নিয়ে সভার আয়োজন করেন। বাংলা ভাষার শিক্ষকদের কম বেতনের পরিবর্তে বেশী বেতন দেবার দাবী জানান। ‘বাংলা ভাষা ও বাংলা শিক্ষকের মর্যাদা বৃদ্ধি’র জন্যে চটি বই বের করেন। তার সহকর্মী আবদুল কাইয়ূম চৌধুরীও তার সাথে বাংলা ভাষা ও বাংলা শিক্ষকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী বাংলা হরফ সংস্কার করে ২৫টি হরফে বাংলা পড়ালেখার একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। সেটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কাছেও পাঠিয়েছিলেন। তখন তৃতীয় শ্রেণি থেকে ছুটি-ছাটার দরখাস্ত ইংলিশে লিখতে হতো। তারা সুনামগঞ্জ জুবিলি স্কুলে বাংলায় দরখাস্ত লেখার প্রচলন করেন। ’৬০ সালে সুনামগঞ্জ জুবিলি স্কুলের রেজিস্ট্রারে ইংলিশের পরিবর্তে বাংলায় ছাত্র-ছাত্রীদের নাম লেখার প্রচলন করেন। সেটি ছিল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। সরকারি চাকরি করছেন, কখন চাকুরিতে স্পট পড়ে যায়। প্রচন্ড আবেগ উচ্ছাস নিয়ে সদ্য জন্ম নেয়া পাকিস্তানে সরকারি চাকরিতে থেকে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালনার পরিণতি কি ভয়াবহÑবিষয়টি সেই সময়ের চাকরিজীবী ছাড়া কেউ সহজে অনুমান করতে পারবেন না।
আবদুর রহীম দীর্ঘ ৩২ বছর শিক্ষকতা করে ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে চাকরি থেকে অবসর নেন। শিক্ষকতার দীর্ঘ জীবনে তিনি যেমন সাহিত্য চর্চা করেছেন, তেমনি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও উন্নয়নে নিজের সাধ্যের মধ্যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন আজীবন। সুনামগঞ্জের সাংবাদিক-আইনজীবী হোসেন তওফিক চৌধুরী, সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ার, কবি মমিনুল মউজদীন, কবি ড. মুহাম্মদ সাদিক, গীতিকার মনিরুজ্জামান মনিরসহ সুনামগঞ্জের অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তি বাংলা ভাষা চর্চায় অনন্য অবদান রাখছেন এবং তাদের শিক্ষক ছিলেন মু. আবদুর রহীম। তিনি তাদেরকে লেখালেখিতে উৎসাহিত করেছেন। এ ধরণের অসংখ্য আলোকিত মানুষের কারিগর তিনি। দেশে বিদেশে বিভিন্ন পেশায় ছড়িয়ে আছেন তার ছাত্ররা। বললেন, আমি সবচে বেশী আনন্দ পাই, যখন দেখি আমার একজন ছাত্র আমার চেয়ে আরো অনেক অনেক বেশী এগিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা জীবনে তিনি প্রথম স্কুল ম্যাগাজিন বের করেন। সেটি ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে হাতে লেখে। শিক্ষার্থীরা ভীষণ উৎসাহে লেখা দিতো। তারপর তা হাতে লিখে বের করা হতো। ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম ছাপা হয়ে জুবিলি স্কুলের ম্যাগাজিন বের হয়।
মুহাম্মদ আবদুর রহীম যখন স্কুলের ছাত্র তখন বন্ধুদের নিয়ে তিনি হাতে লেখা একটি পত্রিকা বের করতেন। সুনামগঞ্জের চরমহল্লার আলমপুর মোল্লাপাড়া গ্রাম থেকে তার এক বছরের সিনিয়র রামেশ্বরপুর গ্রামের মসদ্দর আলীকে নিয়ে দিশারু নামের হাতে লেখা পত্রিকা বের করেন। প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন মসদ্দর আলী। হাতে লেখা পত্রিকাটিকে কেন্দ্র করে লেখালেখির ছোট্ট একটি দল গড়ে উঠেছিলো তাদের। তার চেয়ে আট ন’বছরের বড় আব্দুল্লাহ মাস্টার লেখতেন, দিগেন্দ্র নন্দী, মৃনালিনী নন্দী, নিহার নলিনী দত্ত চৌধুরী লেখতেন দিশারুতে।
দিশারু ম্যাগাজিনটি চল্লিশ-পঞ্চাশ পৃষ্ঠা নিয়ে বেরুতো। পৌনে দু’বছরের মতো বেরিয়েছিলো। তারা কার্বন দিয়ে একাধিক কপি করতেন। তাদের ছিলো নিজস্ব কিছু পাঠক। হাতে লিখে কয়েক কপি ম্যাগাজিন বের করে পর্যায়ক্রমে সেই নির্দিষ্ট পাঠককে পড়ানো হতো। সেই নির্দিষ্ট পাঠকরা চাঁদা দিতো। মু. আবদুর রহীম, তার চাচাতো বোন হাজেরা বানু এবং দিগেন্দ্র নন্দীর হাতের লেখায় ম্যাগাজিন বের হতো।
হাতের লেখা হলেও দিশারু ম্যাগাজিনটিতে থাকতো আন্তর্জাতিক সংবাদ, চরমহল্লার হালচাল। মাঝে মধ্যে লেখার সংকট হতো তখন আবদুর রহীম নিজের নামটি বাংলায় অনুবাদ করে ‘দয়াল দাস’ অথবা অন্য কোন মহিলার নামে লেখতেন। সেই পত্রিকাটিতে ছোটদেরও একটি পাতা ছিলো। সেই পাতায় তিনি ‘দাদাজীর চিঠি’ নামে লেখতেন।
শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ আবদুর রহীমের পিতা ইবরাহীম আলী মুনশী একজন মারিফতি পীর। বাবা মারিফতি গান পছন্দ করতেন। এই ধারাবাহিকতা সাহিত্যকর্মে নিজেকে জড়াতে তাকে প্রেরণা যুগিয়েছে। তার লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ বিভিন্ন পত্রিকা-সাহিত্য সংকলনে বেরিয়েছে। কবিতার বই বেরিয়েছে দুটো। একটি চোখের জলে হাসি, অপরটি কুরআন কুঞ্জিকা। প্রবন্ধের বই বেরিয়েছে একটি বাংলা ভাষা ও বাংলা শিক্ষকের মর্যাদা। বেশ কিছু পান্ডুলিপি রেডি থাকলেও বই হয়ে বের হয়নি। এগুলো হচ্ছে- জালালাবাদ (কবিতা), মনযিলে মকসুদ (কবিতা সমষ্টি), পাঁচ মিশালী (কবিতা সমষ্টি), সমাজ, ধর্ম ও সাহিত্য (প্রবন্ধ সংকলন) ও সৃজনবেদন (গল্প সংকলন)।
মু. আবদুর রহীম বার্ধক্যে পা রাখলেও লেখালেখি করতেন বিভিন্ন পত্রিকায়। সুনামগঞ্জ থেকে বের হয় স্বজন নামের পত্রিকা। তাতে তিনি ১০/১২টি সংখ্যায় আমার ভূবনে আমি শিরোনামে আত্মজীবনী লেখেন। সুনামগঞ্জ শহরের সকল সামাজিক কাজে তার ডাক পড়বেই। পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ প্রাজ্ঞজন, তাই পরিবারের কোন কর্মসূচী তাকে ছাড়া পালন করা হয় না। সেটা নিজের বাড়ি হোক আর মেয়ের বাড়ি হোক।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ঃ
ভাষাসৈনিক কবি মু. আবদুর রহীম ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে সুনামগঞ্জ জেলা সদর থানার আলমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আলহাজ্ব ইবরাহিম আলী মুনশী, মাতা মালিকা বানু। তিনি ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট এম.সি কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। তিনি কিছুদিন সিলেটের সাউথ সুরমা হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন। পরে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দিয়ে ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন। পাকিস্তান আমলে সুনামগঞ্জের সাহিত্য ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তার সক্রিয় পদচারণা ছিলো উল্লেখযোগ্য। তিনি মাসিক দিশারু (৪৮-৪৯ খ্রি.) বার্ষিকী মহানবী স্মরণিকা (৬১-৬৩ খ্রি.), জুবিলি উচ্চ বিদ্যালয় বার্ষিকী (১৯৫৮-১৯৮৩), উন্মোচন (একুশে ফেব্রুয়ারি সংকলন ১৯৭০), মাসিক সবুজ পাতা (সুনামগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেয়াল পত্রিকা ১৯৮৯-৯১) সম্পাদনা করেন। তিনি ছিলেন পাক্ষিক সুরমা পত্রিকার (১৯৬২-৭০ খ্রি:) সম্পাদনা বোর্ডের সদস্য। যৌথভাবে সম্পাদনা করেছেন দ্বীনি মাদ্রাসা বার্ষিকী কাওসার (১৯৯৮ খ্রি:)। সুনামগঞ্জ সাহিত্য মজলিশের তিনি ছিলেন সক্রিয় সদস্য ও এককালীন সভাপতি।
সম্পাদিত বই: ১. মুহসীন (স্মারকগ্রন্থ, উপদেষ্টা), ২. এক আলোকিত ব্যক্তিত্ব মুনাওওয়ার আলী (স্মারকগ্রন্থ-২০০৭ খ্রি.- আহ্বায়ক সম্পাদনা বোর্ড, সম্পাদক-সরকার শাহাবউদ্দিন আহমদ), ৩. কালের দর্পণে সাংবাদিক রাজনীতিবিদ মকবুল হোসেন চৌধুরী (স্মারকগ্রন্থ-২০০৮ খ্রি. উপদেষ্টা, সম্পাদক- সালেহ চৌধুরী), ৪. চরমহল্লার ইতিবৃত্ত (সম্পাদক, রচয়িতা- মোঃ আবদুল¬া)
প্রাপ্ত সম্মাননা : ১. ভাষা সৈনিক সংবর্ধনা : ভাষা সৈনিক সংবর্ধনা পরিষদ, সিলেট-২০০২ খ্রি. ২. গুণীজন সংবর্ধনা: আলমপুর সমাজকল্যাণ সংস্থা, সুনামগঞ্জ-২০০২ খ্রি. ৩. প্রবীণ শিক্ষক সম্মাননা : জেলা প্রশাসন, সুনামগঞ্জ, জাতীয় শিক্ষক দিবস-২০০৩ খ্রি. ৪. ভাষা সৈনিক সংবর্ধনা : জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ, সুনামগঞ্জ জেলা শাখা-২০০৫ খ্রি. ৫. সম্মানিত জীবন সদস্য : কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেট-২০০৫ খ্রি. ৬. সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি : বিসেপ (ব্রিটিশ সুনামগঞ্জ এডুকেশন্যাল প্রমোশন), সুনামগঞ্জ, ২১শে ফেব্রুয়ারি-২০০৬ খ্রি. ৭. গুণীজন সংবর্ধনা (বিশিষ্ট কবি ও ভাষা সৈনিক) : বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির, সুনামগঞ্জ-২০০৬ খ্রি. ৮. সংবর্ধনা (প্রবীণ শিক্ষক ও সাহিত্যিক) আলী ফরিদ ফাউন্ডেশন, সুনামগঞ্জ, ১৪ নভেম্বর ২০০৮ খ্রি. ৯. সাহিত্যে অবদানের জন্য সম্মাননা : রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন, সিলেট (সিলেট লেখক ক্লাবের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে) ১৬ জানুয়ারি ২০০৯ খ্রি. ১০. রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন সিলেট কর্তৃক ২০১১ খ্রি. সনের ২১শে সম্মাননা পুরস্কার গ্রহণ, ২৭ এপ্রিল ২০১১ খ্রি.।
মুহাম্মদ আবদুর রহিমের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন। ৪ ছেলে আজিজুর রহিম ব্যাংকার, ফয়জুর রহীম আইনজীবী, আনিসুর রহিম স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত ও জয়নুল আবেদীন ব্যবসায়ী। তিন মেয়ের সবাই বিবাহিত। মৃত্যু: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২০।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বালাগঞ্জের বাতিঘর বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়
  • বঙ্গবন্ধু ও গান্ধীজী
  • সিলেটের দ্বিতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন ‘মেশিনম্যান’
  • একটি যুদ্ধ : একটি শতাব্দী
  • বালাগঞ্জের প্রাচীন জনপদ শিওরখাল গ্রাম
  • ভাটিপাড়া
  • সময়ের সোচ্চার স্বর সোমেন চন্দ
  • বঙ্গবন্ধুর সিলেট সফর ও কিছু কথা
  • বায়ান্নতেই লিখেছিলেন ‘ঢাকাই কারবালা’
  • জীবনের শেষক্ষণে অর্থ-স্বর্ণ সবই জড়পদার্থ
  • কমরেড বরুণ রায়
  • বঙ্গবন্ধু ও রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
  • নারী ভাষাসৈনিকদের কথা
  • মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবীর ওসমানী
  • ভাটির বাতিঘর সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ
  • মাওয়ের লংমার্চের ৪ বছর পর সিলেটিদের লং মার্চ
  • শহীদ মিনারের ইতিকথা
  • সিলেটের লোকসংগীত : ধামাইল
  • পর্যটক ইবনে বতুতার কথা
  • বই এল কোথা থেকে?
  • Image

    Developed by:Sparkle IT