শিশু মেলা

বন্ধু

সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৩-২০২০ ইং ০১:০৯:৩৫ | সংবাদটি ৬১ বার পঠিত

শহিদ মিনার থেকে বাসায় ফিরছে জাভেদ। খুব ভোরে ওঠে সে শহিদ মিনারে ফুল দিতে গিয়েছিল। সকালের মিঠে রোদ তার গায়ে আমেজ ছড়িয়ে দিয়েছে। কিছুদূর আসতেই তার কানের পর্দায় ভেসে আসে কান্নার স্বর। জাভেদ চারদিকে চেয়ে খুঁজতে থাকে, কে কাঁদছে। হঠাৎ তার চোখ যায় একটি দোকানের বারান্দায়। তারই বয়সি একটি ছেলে কাঁদছে। জাভেদ ছেলেটির পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। ছেলেটিকে দেখে নেয় একনজর। ছেলেটির পরনে ছেঁড়া লুঙ্গি ও গায়ে ছেঁড়া শার্ট। চুলগুলো এলোমেলা। চোখ দুটো ডাগর ডাগর।
জাভেদকে দেখে ছেলেটি কান্না থামায়। ফ্যালফ্যাল করে তার দিকে চেয়ে থাকে। জাভেদ জিজ্ঞেস করে, তুই কাঁদছিস কেন? ছেলেটি কান্নাভেজা গলায় উত্তর দেয়-কাইল রাইত তনে কোনতা খাইছি না, পেটর মাঝে বড়ো ভুক লাগছে।
- তোর বাড়িঘর নেই?
- জ্বী না! ফুটপাতউ আমরার বাড়িঘর।
ছেলেটির কথাগুলো শুনে জাভেদের মন দুঃখে ভরে যায়। সে ছেলেটিকে বলে, এখানে থাকিস, আমি আসছি। জাভেদ কাছের একটি হোটেলের দিকে যায়। পকেট থেকে বিশ টাকার একটা নোট বের করে। গরম পরোটা ও ভাজি নিয়ে এসে ছেলেটির হাতে তুলে দেয়।
ছেলেটির মুখটা খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ডান হাতের আঙুল দিয়ে চোখের অশ্রু মুছে নেবার চেষ্টা করে। এরপর খেতে শুরু করে। জাভেদ জিজ্ঞেস করে-হ্যারে, তোর নাম কী?
- বাদশা।
- বেশ সুন্দর নাম তো! বাদশাহ, জানিস আজ শহিদ দিবস?
- জ্বী না! আমরা কোনান-তনে যানমু। শহিদ দিবস কিতা?
- তাহলে শোন, আজ থেকে কয়েক বছর আগে আমাদের দেশের ক’জন ভাই আমাদের মায়ের মুখের বুলির জন্য মারা গিয়েছিল।
- কিলা মারা গেছিলা সাব?
- দুশমনের গুলিতে।
- ও!, ওথার লাগি আইজকু শহিদ দিবস!
- অ্যা! তাহলে এখন বুঝেছিস।
বাদশা খাওয়া শেষ করে জাভেদের দিতে তাকিয়ে বলে, আপনার দয়ার কথা কুনুদিন বুলতাম নায়।
- না, না, দয়া নয়। বন্ধুকে খাওয়ালে দয়া করা হয় নাকি! বললো জাভেদ।
- বন্ধু!
- হ্যাঁ, আজ থেকে তুই আমার বন্ধু।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT