পাঁচ মিশালী

বঙ্গবন্ধু : এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের দৃষ্টিতে

উর্দু থেকে অনুবাদ : সৈয়দ মবনু প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৩-২০২০ ইং ০০:০৫:৪৪ | সংবাদটি ১৩১ বার পঠিত



আয়ূব খানের সামরিক শাসন এবং পূর্ব পাকিস্তান
১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরের সম্পূর্ণ মাসই ছবি তৈরিকারকদের মতো গোয়েন্দাদের অত্যন্ত দৌঁড়ঝাঁপ ছিলো। ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে যে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো তা স্থগিত হয়ে যায়। কেন্দ্র এবং প্রদেশসমূহে নেতৃত্বের লড়াই অব্যাহত ধারায় চলছে। বাস্তব সত্য, পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে যে দলগুলোর বেশি সম্পর্ক তারা নির্বাচন স্থগিত করতে বিভিন্ন বাহানা খুঁজছিলো। পাকিস্তান মুসলিমলীগের সভাপতি আব্দুল কায়ূম খান সমস্ত দেশে জনসভা করে যাচ্ছিলেন। তিনি রক্তস্পর্শি শ্লোগান দিচ্ছিলেন। সাথে ছিলো ইস্কান্দার মির্জার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, রিপাবলিকান এবং অন্যান্য দলগুলো নির্বাচনের জন্য মাঠ গরম করছিলো। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) এফ এম খান নিজেও নির্বাচন মুলতবির বাহানা খুঁজছিলেন। তিনি ইস্কান্দার মির্জার অনুগত এবং তার সাবেক বস জেনারেল আয়ূব খানের সমর্থক ছিলেন। তিনি কখনও পূর্ব পাকিস্তানে বর্ষা, কখনও পাঞ্জাবে অত্যন্ত গরম, কখনও সীমান্ত প্রদেশে অত্যন্ত শীত এবং বরফ ইত্যাদি খারাপ মৌসুমের অজুহাতে নির্বাচন স্থগিত করার কথা বলছিলেন। মৌলভী ফরিদ আহমদ এক সভায় তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, এখন পর্যন্ত গরম, শীত এবং বর্ষা এই তিন মৌসুমের কথা বলে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে, আপনি অতঃপর কি আর কোন মৌসুমের সন্ধানে আছেন? সেখানে উপস্থিত নির্বাচন কমিশনার কোন উত্তর না দিলেও উপস্থিত এক তরুণ রাজনীতিবিদ উত্তরে বলেছিলেন; ‘নির্বাচন কমিশনারের কাছে আরেকটি মৌসুম রয়েছে, তা হলো ‘ দেনা-এ ইয়ার’ অর্থাৎ বন্ধুর সন্তোষ্টি মৌসুম।’ তখন সভায় খুব হাততালি হয়। নির্বাচন কমিশনারের মুখ সাথে সাথে কালো হয়ে যায়। যাইহোক, অনেক কষ্টে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে সাধারণ নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ঘোষণা করেন এখন আর নির্বাচন স্থগিত হবে না এবং তা এক পাঠানের ওয়াদা। অতঃপর যখন নির্বাচন স্থগিত করা হলো তখন তিনি তাঁর ওয়াদাকে লজ্জা থেকে এমনভাবে রক্ষা করেছেন যে, নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণাকে তিনি না করে করিয়েছেন প্রেসিডেন্টকে দিয়ে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মালিক ফিরুজ খান নুন এবং তার পাটির জন্য নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার কিছু কৌশল ছিলো। ইস্কান্দার মির্জা নিজে ক্রেডিট নিতে তা ঘোষণা করে দিলেন। কিন্তু তবু তিনি ক্রেডিট পেলেন না। অর্থমন্ত্রী সৈয়দ আমজদ আলী নিজের পক্ষ থেকে কৌশল করে ইস্কান্দার মির্জার এই চেষ্টাকে বিফল করে দিলেন। অবশ্য পরে তিনি অন্য অজুহাতে ইস্কান্দার মির্জার সহযোগিতা শুরু করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাতীয় স্বার্থে তিনি আর কর্ণেল আবিদ হোসেন ইস্কান্দার মির্জার সহযোগিতা করেননি। তিনি জাতীয় স্বার্থে বিরোধীতা করেছেন। তাঁর বক্তব্য হলো, ইস্কান্দার মির্জার মিটিংগুলোতে মাদারে মিল্লাত ফাতেমা জিন্নার বিরোধীতা করে ঠাট্টা করা হতো এবং তাঁর ব্যাপারে খারাপ কথা বলা হতো। ইস্কান্দার মির্জা নিজেও কিছু কিছু করে অপপ্রচার চালিয়ে যেতেন। একবার যখন তাঁর উপস্থিতিতে ফাতেমা জিন্নার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু হলো তখন তিন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। এরমধ্যে একজন তিনি স্বয়ং নিজে এবং বাকী দু’জন জেনারেল আজম খান ও সৈয়দ আমজাদ আলী। করাচিতে কেন্দ্রীয় কেবিনেট সদস্য মনোনয়নে খুব মুশকিল দেখা দিলো। সেই সময় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কেবিনেটে যোগ দিয়ে পরেরদিন পদত্যাগ করে। তাদের বক্তব্য হলো মর্যাদা অনুযায়ি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি। অবশ্য পরে সমঝোতা হয়। কিছু মন্ত্রীত্ব পছন্দনীয়ভাবে পাওয়া যায়। কিন্তু এই রাতেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। ইস্কান্দার মির্জা শুধু দেশের রাষ্ট্রপতি নয়, বরং সমস্ত দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিলেন। এমন কি সেই আইনও বাতিল করে দিলেন যা তাকে দেশের প্রেসিডেন্ট বানিয়েছিলো। জাতির উদ্দেশ্যে সেদিন তিনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তা ছিলো অত্যন্ত শৈল্পিক। এই বক্তব্য লিখে দিয়েছিলেন কুদরতুল্লাহ শিহাব, যার বুদ্ধি, কৌশল এবং দূরদৃষ্টিভঙ্গি অনেক আলোচিত ছিলো। ইস্কান্দার মির্জা যে নতুন মন্ত্রী পরিষদ গঠন করলেন এতে কর্মের পুরস্কার হিসাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এফ এম খানকেও রাখা হলো। এতে আরও ছিলেন সিনিয়র মন্ত্রী হিসাবে জেনারেল আজম খান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে মঞ্জুর কাদির, খনিজমন্ত্রী হিসাবে জুলফিকার আলী ভুট্টো। আয়ূব খান প্রধান সামরিক প্রশাসক ছিলেন। যে কাজগুলো আগে ইস্কান্দার মির্জার স্বাক্ষরে চলতো তা এখন চলে জেনারেল আয়ূব খানের স্বাক্ষরে। অতঃপর আয়ূব খানের নির্দেশে দেশে আইনের উলট-পালট এবং আইন জারি করা চলতে থাকে। যদিও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মুসা হয়েছিলেন তবে সুপ্রিম কামান্ডার ছিলেন আয়ূব খান। ৭ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১৯দিন চারদিকে উত্তেজনা চলে। অক্টোবরের মধ্যখানে আয়ূব খান পূর্ব পাকিস্তান সফর করেন। সেখানে তিনি অনেক মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করেন। ফিরে এসে তিনি অনুভব করেন যে, ইস্কান্দার মির্জা তার পূর্বের তৎপরতা আবার শুরু করে দিয়েছেন এবং বিভিন্ন লোকদেরকে ডেকে সরকারে শরিক করার কথা বলছেন। এরপর আয়ূব খানের পরামর্শ দাতারা ইস্কান্দার মির্জার অবস্থানকে দুর্বল চিহ্নিত করে বলেন, তিনি যে আইনের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্টের আসনে বসেছেন তা তিনি নিজেই বাতিল করে দিয়েছেন। আয়ূব খান অনুভব করেন, ইস্কান্দার মির্জা সূক্ষ্ম পাগলামী শুরু করে দিয়েছেন। তিনি ২৬ অক্টোবর নতুন মন্ত্রী পরিষদ ঘোষণা করেন এবং সেখানে আয়ূব খানকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়। আয়ূব খানের পরামর্শদাতারা তাঁকে বিস্তারিত অবস্থা জানালে তিনি ইস্কান্দার মির্জাকে শক্ত ধমক দিয়ে নিজে প্রেসিডেন্ট হয়ে বসেন। ২৭ অক্টোবরের পত্রিকাগুলো নতুন কাহিনী দিয়ে বিশেষ বুলেটিন প্রকাশ করে। আয়ূব খান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদে কোন পরিবর্তন করেননি। তবে কিছু দফতরের মধ্যে পরিবর্তন করা হয়েছে। জেনারেল আজম খানকে স্বাস্থ্য ছাড়াও কৃষি মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে। আয়ূব খান জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্যে ওয়াদা করেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে সাথে সাথে সাধারণ নির্বাচন দেওয়া হবে এবং সেনাবাহিনী নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ব্যারাকে চলে যাবে। জেনারেল আজম খান নিজে আমাকে এক সাক্ষাতকারে বলেন, ইস্কান্দার মির্জাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে স্বয়ং মাদারে মিল্লাত ফাতেমা জিন্নাহ বলেছেন। কেননা তিনি জেনেছিলেন যে, ইস্কান্দার মির্জা সীমান্তবর্তী এলাকা শাহানশাহে ইরানকে দিয়ে দিতে রাজি হয়ে গিয়েছেন এবং গোদরগাহ সমুদ্র বন্দরকে লিজ দেওয়া হয়ে যাচ্ছিলো। জেনারেল আজমের বক্তব্য হলো, সে তার দুই সঙ্গী লেফন্টেনেন্ট জেনারেল কে এম শেখ এবং লেফটেনেন্ট জেনারেল রবকে যখন ইস্কান্দার মির্জার কাছে পদত্যাগের চিঠি নিয়ে যেতে বললো তখন তারা জানায় তা সম্ভব নয়। কারণ, তাদের উপর ইস্কান্দার মির্জার অনেক এহসান রয়েছে। যখন জেনারেল আজম প্রমূখরা ইস্কান্দার মির্জার সামনে যান তখন তিনি নিজের গাউনের রশি টানতে টানতে বেরিয়ে আসছিলেন। বেগমও তাঁর পিছনে ছিলেন। যখন তাঁকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের কথা বলেন তখন তিনি কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে যান। এক সময় ইস্কান্দার মির্জার বিশ্বাস ছিলো যে, আমেরিকার এম্বেসি তার সাথে থাকলে কেউ তাকে সরাতে পারবে না। তাই তার কোন ভয় নেই। কিন্তু সকালে যে সময় আমেরিকার হাইকমিশনার দেখলেন তার ছেলে ক্ষমতাচ্যুত তখন আয়ূব খান ক্ষমতা পূর্ণাঙ্গরূপে নিয়ন্ত্রণ করে নিয়েছেন। মির্জা সাহেবকে এক-দুদিনের জন্য কোয়েটায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর দাবী ছিলো তাকে যেন লন্ডনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আমেরিকান হাই কমিশন তো তাকে ক্ষমতায় রাখতে পারেনি, তবে তার বিশ্বাস ছিলো কমপক্ষে প্রাণ রক্ষা করতে পারবে। ১৩ অক্টোবর আমি যখন ঢাকায় পৌঁছি তখন মৌসুম পরিবর্তন হয়েগেছে। পূর্ব পাকিস্তানে অক্টোবর মাস শুরু হলেই রাজনৈতিক ময়দান গরম হয়ে ওঠে। পল্টন ময়দানে প্রতিদিন মানুষ এমনি আসে কোন না কোন নেতা বক্তব্য দিবেন বলে। তাদের এই আশা খুব কমই ভঙ্গ হতো। কিন্তু ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর যেন ছিলো এক নিরবতার মৌসুম। মানুষ মায়দানের সবুজ নিরবতায় বসতে যেন আতংকিত ছিলো। মুগ বিক্রেতারা নিজ নিজ মাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু কেউ তা খরিদ করে দাঁড়ায় না, সবাই দ্রুত চলে যায়। আঞ্জুমানে তরক্কিয়ে উর্দুর অফিসের পাশের ফুটবল ক্লাবও খুব নিরব ছিলো। এই ক্লাবের আত্মা ছিলেন ননি বাবু। তিনি ছিলেন পাকিস্তানের বিখ্যাত নায়িকা শবনমের বাবা। তিনি ফুটবল নিয়ে রাতদিন ব্যস্ত থাকতেন। সমারিক শাসনের শুরুর দিকে শুধু কিছু সম্মানিত লোক এখানে আসতেন। এই আসার মূল কারণ ছিলো ননিবাবু। একদিন ননিবাবুর সাথে দেখা হয়। সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এটা প্রথম দেখা। তিনি আমায় দেখেই বললেন, এসো সাহেবজী। এক কাপ চা-এর সাথে গল্প-স্বল্প করি। তিনি নাকি বিগত বিশ-বাইশদিন থেকে গল্প-স্বল্প করার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন। তাঁর সাথে সামরিক শাসনের ফলাফল এবং রাজনীতিবীদদের কাজের পরিবর্তন নিয়ে অনেক কথা হয়। তাঁর একটি কথা এমন ছিলো যে, ‘রাজনীতি ছাড়া বাঙালী এমন, যেমন পানি ছাড়া মাছ।’ বিদায়ের সময় তাঁর আরেকটি কথা ছিলো, ‘মুজিবের সাথে দেখা করো।’ পরেরদিন আমার মুজিবের সাথে দেখা হয়। তিনি তখন সামরিক শাসন নিয়ে বেশ পেরেশান। তখনও শেরে বাংলা ফজলুল হক ও হোসেন সোহরাওয়ার্দী বেঁচে আছেন এবং রাজনীতিতে গতিশীল। শেখ মুজিব চাচ্ছিলেন সামরিক শাসন দ্রুত শেষ হয়ে যাক। যদি শেষ না হয় তবে দেশের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অনেক কোরবানী দিতে হবে। পরবর্তীতে তাঁর এই কথা সত্য প্রমাণিত হয়। এক সময় কোরবানী ছাড়া দেশের মানচিত্র, ইতিহাস এবং গণতন্ত্র সবই সঠিক থাকা স্বপ্নের মতো হয়ে যায়। শেখ মুজিবের সাথে এই দেখা হয়েছিলো জহির উদ্দিনের বাসায়। এখানে আরও অনেক ছিলেন, যারমধ্যে এডভোকেট আব্দুল মুমিন, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আবুল মনসুর আহমদ এবং দিলদার আহমদের নাম উল্লেখযোগ্য। একথা সত্য, যখন রাজনীতিবীদরা একত্রিত হন তখন রাজনীতি নিয়েই আলোচনা হয়। জহির উদ্দিন বলছিলেন, পূর্ব পাকিস্তানে বঞ্চিতের অনুভূতি আন্দোলনের আগুনে রূপ নিতে পারে। ‘বঞ্চিতের অনুভূতি’ শব্দটা প্রথম আমি জহির উদ্দিনের কাছে শোনি যখন আবুল মনসুর আহমদ ও দিলদার আহমদ দেশের দুই অংশে লম্বা লাফ দিচ্ছিলেন। তাদের কথা হলো, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে দশ বছরের ঐক্য প্রথমত আবেগ প্রবণ ছিলো। দ্বিতীয়ত আইনী ছিলো, অর্থাৎ ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের আইন। কিন্তু আইন স্থগিত হওয়ার পর বর্তমানে ঐক্য বলপূর্বক। ‘বলপূর্বক’ কথাটা আমার মনে কম্পন সৃষ্টি করে। আমি তীক্ষè দৃষ্টিতে জহির উদ্দিন ও শেখ মুজিবকে দেখতে থাকি। তারা নিরব থাকেন। আহমদ সাহেব বলতে ছিলেন, এই বলপূর্বকতা যে কোন সময় শেষ হয়ে যাবে। এই পাথরহৃদয়ী কথা শোনে আমার ভেতর ক্ষয় শুরু হয়ে যায়। শেখ মুজিব এবং জহির উদ্দিনের নিরবতা আমাকে আরও অস্থির করে। আমি আরজ করলাম, ‘আমাদের নেতার তো আরও অন্যকিছু ইচ্ছে।’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ জানি। এই ইচ্ছে তাঁর নিজের এবং তিনি বেঁচে থাকা পর্যন্তই। তাঁর মৃত্যুর পর পূর্ব কিংবা পশ্চিম পাকিস্তানে কেউ তাঁকে গ্রহণ করবে না। মনসুর আহমদ ও দিলদার আহমদ চলে যাওয়ার পর শেখ মুজিব ও জহির উদ্দিন আমাকে বললেন, ‘আমরা শ্রদ্ধার কারণে নিরব ছিলাম। তার হলো মনের বেমারি। নেতা বলেছেন, ওদের দুজনের সাথে তর্ক-বিতর্ক না করতে।’ জহির উদ্দিন ও মুজিবের কথা হলো, ‘আমরা তাদের সাথে সহমত নয়। কারণ, পাকিস্তানের ঐক্যবদ্ধতার জন্য আরও অনেক উপাদান রয়েছে, যদি সবার সাথে ইনসাফ করা হয়। যদি কারো অধিকার খর্ব করা না হয়। সামরিক শাসন অধিকার খর্ব করার একটি অন্যতম কারণ হতে পারে। আয়ূব খান ও ইস্কান্দার মির্জা তা ভাবেননি যে, ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের আইন স্থগিতের কুফল কি হতে পারে। এটা জাতির ঐক্যের একটা দলিল ছিলো। বর্তমানে এমন ঐক্যের বিধান তৈরির অবস্থা তৈরি করা অনেক কঠিন।’ [চলবে]

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT