সাহিত্য

মান্টোর সাহিত্যকর্ম

মুস্তাফিজ সৈয়দ প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৩-২০২০ ইং ০০:০৩:১৯ | সংবাদটি ৪৩২ বার পঠিত
Image

১৯৪৭ সালে উপনিবেশ শাসনের অবসানের মাধ্যমে জন্ম হয় দুটি রাষ্ট্রের, যার একটি পাকিস্তান অন্যটি হলো ভারত। মান্টো দুটি দেশেরই সাহিত্য জগতের ক্ষণজন্মা নক্ষত্র। জীবনের প্রথমভাগ কাটিয়েছেন ব্রিটিশ ভারতে। শেষ সময়টুকু পাকিস্তানে। পুরো নাম সাদত হাসান মান্টো। জন্মগ্রহণ করেন ১৯১২ সালের ১১ মে ভারতের পাঞ্জাবের লুধিয়ানার পাপরউদি সোমরালা গ্রামে ব্যারিস্টার পরিবারে এবং ১৯৫৫ সালের ১৮ জানুয়ারী শীতের কুয়াশাময় ভোরের স্নিগ্ধ হাওয়ায় লাহোরের হল রোডে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করেন। মান্টোর বাবার নাম খাজা গোলাম হাসান। কর্মজীবনে প্রথমে পাঞ্জাব সরকারের মুন্সেফ ছিলেন, সময়ের বিবর্তনে এক সময় আদালতের বিচারকও হয়েছিলেন। খাজা গোলাম হাসান দুটি বিয়ে করেছিলেন। গোলাম হাসানের ২য় স্ত্রী সর্দার হাসানের গর্ভেই জন্ম হয় উর্দু সাহিত্যের রাজপুত্র সাদত হাসান মান্টোর। মান্টো কাশ্মীরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সুফিয়া নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। সুফিয়াও খুব অল্প বয়সে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বদ্ধ হয়ে মারা যান। পারিবারিক জীবনে তিন মেয়ে এবং এক ছেলের জনক হয়েছিলেন মান্টো। তাঁর পুত্র সন্তানটি মাত্র এক বছর বেঁচেছিল।
অমর সাহিত্য স্রষ্টা মান্টোর গতানুগতিক পড়াশোনার প্রতি ছিল এক ধরণের খামখেয়ালি ভাব। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু হয় ভারতের অমৃতসরের মুসলিম হাই স্কুলে। স্কুলের গন্ডিতে থাকতে তিনি খুব একটা আগ্রহ বোধ করতেন না বরং হাপিয়ে উঠতেন। মুক্ত চলাচল আর ভাবলেশহীন জীবন যাপনে আনন্দ পেতেন মান্টো। সিলেবাস বর্হিভূত গল্প উপন্যাসের প্রতি মান্টোর ছিল প্রবল আগ্রহ। সেই আগ্রহে ভর করে তরুণ বয়সেই মান্টো অমৃতসর রেল স্টেশনের হুইলার বুকস্টল হতে বই চুরি করেছিলেন। মান্টো ছাত্র হিসেবে খারাপ ছিলেন তবে উর্দু সাহিত্যে তিনি যেসব গল্প লিখে গিয়েছেন সেগুলোই শৈল্পিক অমর সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দিচ্ছে। উর্দু সাহিত্যে তিনবার অকৃতকার্য হয়ে চতুর্থবারে তিনি ম্যাট্রিক পাশ করেছিলেন। পারিবারিক কঠোর শাসনের বলয়ে থেকেও মান্টো শৈশবের দিনগুলো থেকেই বোহেমিয়ান হয়ে উঠেছিলেন।
১৯৩১ সালেই অবিভক্ত ভারতবর্ষে স্বাধীনতা বিপ্লবের নতুন হাওয়া দোল দেয়। এ সময় মানুষের যাবতীয় কাজকর্মের ব্যাঘাত ঘটে, মানুষের স্বীয় জীবনের ছিল না বেঁচে থাকার এক টুকরো বিশ্বাস। ঐ সময়ে মান্টোর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছিল। ১৯৩২ সালে তাঁর পিতা খাজা গোলাম হাসানের মৃত্যু হলে মান্টোর জীবনে নেমে আসে ঘোর অমানিশা, হয়ে যান একদম অসহায়। অর্থনৈতিক কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মান্টো রুজি-রোজগারের পথ খুঁজতে থাকেন কিন্তু খুব একটা সুবিধা করতে পারেন নি। বিখ্যাত তার্কিক লেখক আব্দুল বারী আলিগের সাথে মান্টোর পরিচয় ঘটে। এটিই মান্টোর জীবনধারা সম্পূর্ণরূপে বদলে দেয়। আব্দুল বারী আলিগ সেই সময়ের তরুণ সাহিত্য স্রষ্টা মান্টোকে রাশিয়ান এবং ফরাসি ভাষা শিখতে উদ্বুদ্ধ করেন । অল্প সময়ের মধ্যেই মান্টো উনিশ শতকের প্রভাবশালী রোমান্টিক ফরাসি কথা সাহিত্যিক ভিক্টোর হুগোর “The last Day of a Condemned Man” উর্দুতে অনুবাদ করেন। বিদেশি সাহিত্য নিজ মাতৃভাষায় অনুবাদ করতে গিয়ে মান্টো খুঁজে পান ভিন্ন এক জগতের, যে জগত তাঁকে দিয়েছে চির প্রশান্তির অমীয় সুরা।
সাদত হাসান মান্টো অনেক প্রভাবশালী কথা সাহিত্যিকের সাহিত্যকর্মের সাথে নিবিড় পরিচয়ে নিজেকে আবদ্ধ করান। এদের মধ্যে আছেন রোমান্টিক ফরাসি কথা সাহিত্যিক ভিক্টর হুগো, আইরিশ নাট্যকার অস্কার ওয়াইল্ড, বিখ্যাত রাশিয়ান লেখক ম্যা´িম গোর্কিসহ বিখ্যাত সাহিত্য স্রষ্টারা। সময়ের সাথে সাথে মান্টো উর্দু সাহিত্য জগতে জনপ্রিয় গল্পকার তথা গল্পজগতের এক ঈশ্বর হয়ে ওঠেন। তাঁর গল্পে তিনি সব থেকে বেশি তুলে ধরেছেন অন্ধকার জগতের কথা, সমাজের অন্যায় অবিচারের কথা, দেহবৃত্তি করা রমণীদের জীবনের অদৃশ্য গল্পগাঁথা। মান্টোর গল্পের শিরোনাম যেমন ব্যতিক্রম সুন্দর ঠিক তেমনি সুন্দর তাঁর গল্পের চিত্রকল্প। মান্টোর বিখ্যাত গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘লাইসেন্স’, ‘বারিশ’, ‘খোদা কী কসম’,‘তামাশা’, ‘ঠান্ডা গোশত’, ‘বু’, ‘টোবা টেক সিং’, ‘কালি সালোয়ার’, ‘খালি বোতল’, ‘ধোঁয়া’, ‘খুল দো’, ‘খুনি ঠুক’, ‘ইনকিলাব পাসান্দ’, ‘কাসিম’, ‘মাহি গাহির’, ‘তাকাত কা ইমতেহা’, ‘দিওয়ানা সাইর’ ইত্যাদি। ব্রিটিশ ভারতীয় লেখক সালমান রুশদী “Undisputed master of modern Indian short story” বলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন মান্টোর সাহিত্যকর্মের প্রতি। মান্টোর রচনা নিয়ে লেখক ও গবেষক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন “আমাদের আহমদ ছফার সাথে তাঁর (মান্টো) তুলনা চলে, গল্প টানটান, প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত একফোঁটা চর্বি নাই”। ‘লাইসেন্স’ গল্পটি পড়লে বুঝতে পারবেন কেমন আবেদন আছে এই গল্পের। মান্টো ‘লাইসেন্স’ গল্পে তুলে ধরেছেন তৎকালীন সমাজে স্বামীহারা রমণী কীভাবে জীবন অতিবাহিত করে।
‘লাইসেন্স’ গল্পের নায়ক হলো টাঙা-ঘোড়ার গাড়ির চালক আব্বু আর নায়িকা হলো ১৬ কিংবা ১৭ বছর বয়সী সুনয়না রূপসী ইনায়াত ওরফে নিথি। লম্বা কোর্তা পরিহিত নিথি স্টেশনে যাওয়ার জন্য আব্বুর টাঙা ঘোড়ায় চলল। প্রথম দেখায় আববু প্রেমে পড়ে গেল এবং প্রেম নিবেদন করল। হঠাৎ প্রেম এবং এখান থেকে বিয়ে হয় দুজনের কিন্তু সুখ বেশি সয়নি কারো কপালে। কিশোরী নিথিকে ভুল বুঝিয়ে ফুসলিয়ে বিয়ে করার অভিযোগে আব্বুর দুই বছরের জেল হয়। আদালত থেকে যখন আব্বুকে জেলে নেয়া হচ্ছিল তখন কেঁদে কেঁদে নিথি বলল “আমি আমার মা-বাবার সাথে যাব না, তোমার বাড়িতেই তোমার পথ চেয়ে বসে থাকব।” আব্বু তার প্রেয়শীর পিঠে হাত বুলিয়ে বলল “সাবধানে থেকো। আমার টাঙ্গা-ঘোড়া তোমার জিম্মায় রেখে যাচ্ছি। নিয়মিত ভাড়া তুলতে ভুলোনা কিন্তু।” নিথির মা-বাবা অনেক বুঝালো কিন্তু তাকে কোন ভাবেই তাদের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেনি। এভাবেই শুরু হলো নিথির নিঃসঙ্গ জীবনযাপন। টাঙ্গা-ঘোড়া ভাড়া বাবদ ৫ টাকা পেত সেটা দিয়েই কোনরকম চলতো তার দিনকাল। জেলে থাকতে থাকতে আব্বু দিনদিন অসুস্থ হয়ে ওঠে এবং একসময় মৃত্যুবরণ করে। নিথির জীবনে নেমে আসে বিষাদ করুণ অন্ধকারের রঙ তবু সে পথ চলে। প্রতিদিন দীনা আসতো আর নিথিকে ৫ টাকা দিয়ে যেত টাঙা-ঘোড়ার ভাড়া বাবদ। হঠাৎ একদিন দীনা তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। নিথির মাথায় রাগ চড়া দিয়ে ওঠে কিন্তু ঠান্ডা মাথায় বলে দেয় সে বিয়ে করবে না। এরই সাথে সাথে দীনার ব্যবহারও বদলে গেল। নিথি বুঝতে পেরে তাঁর টাঙা- ঘোড়া আর ভাড়া দেয়নি বরং টাঙা-ঘোড়ার গাড়ি ফিরিয়ে এনে আব্বুর আরেক বন্ধু মাঞ্চোকে দিল। কিছুদিন পর মাঞ্চোও তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসল। একটা সময় নীতিই নিজেই টাঙা-ঘোড়া চালাতে লাগলো কেননা কেউ তাকে ঠিকমতো সাহায্য করেনি বরং এই সব মানুষরূপী অমানুষেরা তাকে কুপ্রস্তাব দিত। সারা শহরে রটে গেল কিশোরী মেয়ে টাঙা গাড়ি চালাচ্ছে। নিথি ভালভাবেই টাঙা চালিয়ে উপার্জন করছিল। একটা সময় শহর কমিটি তাকে বলল “তুমি লাইসেন্স ছাড়া টাঙা চালাতে পারো না।” নিথি তাদের কাছে লাইসেন্স চাইলে কমিটি বলল “মেয়ে মানুষদের লাইসেন্স দেয়া হয়না।” শহর কমিটি বলল “বাজারে ধান্দা শুরু কর...।” বিচিত্র ঐ সমাজ ব্যবস্থা, একটি মেয়ে চাইছে নিজের খরচ নিজে বৈধপথে অর্জন করবে অথচ সমাজের অভিশপ্ত মানুষেরা দিচ্ছে ধান্ধা করার লাইসেন্স।
মান্টোর সাহিত্যকর্ম এমনই, ছোট গল্পের মাধ্যমে তুলে এনেছেন ঐ সমাজের কলুষতার দিক, অন্ধকারের কথা। মান্টোর সাহিত্যকর্ম দুটি দেশেই অশ্লীলতার মিথ্যে অভিযোগে বারবার তীরবিদ্ধ হয়েছিল অথচ মান্টোর সাহিত্যকর্ম এককথায় অনবদ্য। তাঁর রচনাশৈলিতে তিনি তুলে ধরেছেন বোহেমিয়ান জীবন কথা, সমাজের অন্ধকার জগতের নানা জটিল অধ্যায়, শ্রমজীবিদের সংগ্রামমুখর জীবনের নানাকথা,মাতাল মানুষের কাজ কারবার, পাগলের পাগলামি, ভবঘুরে মানুষের ভবঘুর চলাফেরা, নিষিদ্ধ নিশিকন্যাদের কথা। মান্টোর বিরুদ্ধে ছয়বার অশ্লীলতার অভিযোগে মামলা হয়। ভারত ও পাকিস্তানে তাঁকে অনবদ্য সৃষ্টিশীল গল্পের জন্য কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছিল।
১৯৫০ সালের ২৯ আগস্ট লাহোর আদালতে আসামীয় কাঠগড়ায় হাজিরা দেন এই ক্ষণজন্মা কথাশিল্পী। অভাব অনটনে জীবনের দিনগুলি চলে মান্টোর তাই তিনি তাঁর হয়ে মামলা পরিচালনা করার জন্য কোন আইনজীবি নিয়োগ করতে পারেননি তবে তাঁর জন্য একদম নিজ আগ্রহে তরুণ আইনজীবি শেখ খুরশিদসহ আরো তিন তরুণ আইনজীবি কোর্টে কাজ করেন। আদালতে অভিযুক্ত হলেও মান্টো কখনো মাথা নত করেননি। আদালতের বিচার রায় নিয়ে আমি কোন কিছু বলবো না কেননা মান্টোর বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের কোন মূল্য নেই সাহিত্য পাঠকদের কাছে। মান্টোর সাহিত্যকর্ম আমার কাছে ভিন্নধারার ভাবনার অফুরন্ত খনি। তাঁর রচনায় দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক দাঙার ভয়ংকর রূপ, মানব চরিত্রের কলুষতা আর বিভৎসতা ফুটে ওঠেছে নানাভাবে। মুক্তমনা প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক চিন্তাধারায় ছোটগল্পের জাদুকর সাদত হাসান মান্টোকে অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতে এবং পাকিস্তানে বারবার মামলার মুখোমুখি হতে হয়, লাঞ্চিত হতে হয়। একটা সময় ঠিক তিনি তাঁর মূল্য পেয়েছেন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের ৬৫ বছর উপলক্ষে পাকিস্তান সরকার তাঁর অমর সাহিত্যকর্মের জন্য “নিশান ই ইমতিয়াজ” পুরস্কার দিয়েছিল। পুরস্কার স্বীকৃতি নিয়ে মান্টো কখনোই আফসোস করেননি কেননা তিনি নিজেই নিজের মানদন্ডে তাঁর সৃষ্টিশীলতার মূল্যায়ন করতেন। ১৯৫০ সালে ব্যঙ্গ করে মান্টো লিখেন “ পাকিস্তান সরকার একদিন আমার কফিনে মেডেল পরিয়ে দিবে। সেটাই হবে আমার চরম অপমান।” মান্টো ব্যক্তিগত জীবনে অনেক বেশি মদ পান করতেন। নিম্নমানের মদ পানের ফলে অল্প বয়সেই লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হন যা তাঁর মৃত্যুকে অভিবাদন জানিয়েছিল পরম আগ্রহে। আর্থিক অভাব, মানসিক কষ্ট, বোহেমীয় জীবনযাত্রা, শরীরের প্রতি অযত্ন-অবহেলা ইত্যাদির কাছে পরাজিত হন ক্ষণজন্মা মান্টো।
১৯৫৫ সালের ১৮ জানুয়ারী শীতের কুয়াশাময় ভোরের স্নিগ্ধ হাওয়ায় লাহোরের হল রোডে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করেন। লেখকের জানাজায় অল্প ক’জন মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল, এর মধ্যে অন্যতম হলেন পাকিস্তানের হাসান আশকারী ও কবি আহমেদ নাদিম কাসিমী। মান্টোর জন্ম ও বেড়ে ওঠা ব্রিটিশ ভারতে এবং জীবনের শেষকালের ইতি হয় পাকিস্তানের লাহোরে। অবিভক্ত ভারতীয় উপমহাদেশীয় সাহিত্যিকদের জীবন বেদনার তৃণভূমি। এ অঞ্চলের সাহিত্যিকরা যেমন তাঁদের জীবনকালে অবহেলার শিকার হয়েছেন ঠিক তেমনি অবহেলা তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের পাত্র হয়েছিলেন মান্টো। জীবনে কোন কিছুতেই স্থির ছিলেন না এই ক্ষণজন্মা সাহিত্য পুরুষ। এখনো হয়তো স্বর্গ কিংবা নরকে অস্থির প্রাণ হয়ে আছেন সীমানার এপাড় কিংবা ওপাড় ছড়িয়ে থাকা অমর সাহিত্যশিল্পী সাদত হাসান মান্টো। সাহিত্যের কোন নির্দিষ্ট সীমানা নেই, সাহিত্য আকাশের অসীম সীমানায় বেঁচে থাকুন শিল্পের সাম্য মৈত্রী আর বিশ্বজনীন ভালবাসায় সাহিত্যজগতের এক নক্ষত্র হয়ে।

 

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT