উপ সম্পাদকীয়

করোনা ভাইরাসে আমাদের করণীয়

আমীরুল হোসেন খান প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৩-২০২০ ইং ২৩:১৮:১৮ | সংবাদটি ১৪১ বার পঠিত

আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সরকারী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক লোক যেভাবে সুরক্ষিত থাকতে পারে বাচ্চারা তা পারবে না। মিনিমাম সুরক্ষার যত উপায় আছে তা মোটামুটি সবার এক। করোনা ভাইরাস বিস্তারের তথ্য উপাত্ত ভিন্ন ভিন্ন। কোনটা সঠিক তা নির্ভুলভাবে নিরুপণের কোন উপায় নেই। শীতপ্রধান অঞ্চলে দ্রুত ছড়ায় স্বাভাবিক সে ধারণাকে মিথ্যে প্রমাণ করে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ আবহাওয়ায়ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে! মৃত্যুর হার যেভাবে মিডিয়া সহ বিভিন্ন চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মাধ্যমে আসছে তার উপরে খুব ভরসা করা যাচ্ছে না। গত দুদিনে আক্রান্তের হারের তুলনায় মৃত্যুর হার অনেক অনেক বেশী। উদাহরণ স্বরূপ ইতালীতে গতকাল একদিনে সর্বোচ্চ ৩৬৮ জন মারা গেছেন! গোটা ইতালীতে সর্বমোট আক্রান্ত দের তুলনায় একদিনের মৃত্যুর হার ই বেশী। চিকিৎসা সেবা বলেন অথবা নাগরিক সুযোগ সুবিধার দিক থেকে পৃথিবীর অন্য যেকোন দেশের তুলনায় এই ইউরোপিয়ান দেশ এগিয়ে। সব দেশের যত ধরণের মেডিকেল ইকুইপমেণ্ট আছে তার মধ্যে ইটালী হচ্ছে সবচেয়ে বিশ্বস্ত, অথচ তারাই হিমশিম খাচ্ছে। সব ধরণের সুরক্ষা সচেতনতা থাকা সত্ত্বেও ইতালী এমেরিকা সহ পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত! মৃত্যুপুরীর আতংক! ব্যবসা বাণিজ্য গোটা অর্থনীতি স্থবির। গোটা পৃথিবীর সাথে রেল বিমান স্থল জলপথ মোটামুটি বিচ্ছিন্ন। নিকট অতীতে এরকম ভয়াবহতা উন্নত বিশ্বের এসব দেশে কল্পনায় ও ছিল না। আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় সব কাজকর্ম স্থগিত করে মৃত্যু ঠেকাতে ব্যস্ত সবাই।
এখন প্রশ্ন হল তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্রতম দেশ হিসেবে আমরা কি করতে পারি? করোনা আক্রান্ত দের প্রধান শর্ত আইসিইউ সার্ভিস কি আমাদের আছে? কতগুলো নিরাপদ কোয়ারেণ্টাইন হাউস আছে? বাসায় চৌদ্দ দিনের যে গৃহবন্দী তা মানার মত যথেষ্ট সচেতনতা লোকবল যার কোনটাই আমাদের নাই। সারা দেশের সব সরকারী হাসপাতাল ক্লিনিক সব মিলিয়ে ও আমরা লাখখানেক রোগীর সেবা দিতে পারব না অথচ আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক কোটিও ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশাল এই জনসংখ্যা ,ঘনবসতি ও নোংরা পরিবেশের কারণে করোনা বাংলাদেশে মহামারীর রুপ নিতে সময় লাগবে না! সমগ্র বিশ্বজুড়ে যে মৃত্যুর পরিসংখ্যান তা আমাদের দেশে বেড়ে যাবে বহুগুণ।
এখন এই অসহায় পরিস্থিতিতে আমরা কি করতে পারি? শুধুমাত্র নিয়তি নির্ভর হয়ে এতবড় ভয়াবহতার জন্য অপেক্ষা? নিশ্চয় নয়! সাধ্যমত সব ধরণের আগাম প্রস্তুতি! সবধরণের জনসমাগম বন্ধ করা হোক। বিয়ে শাদী, অফিস আদালত, হাট বাজার পরিবহন, লোক চলাচল সব সীমিত করা সংক্রমণ ঠেকানোর উপায়।ইতিমধ্যে কজন প্রবাসী করোনা আক্রান্ত! তাদেরকে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে সুস্থ করা আর যারা সুস্থ আছেন তারা যেন অবশ্য অবশ্যই স্বপ্রণোদিত হয়ে গৃহবন্দী থাকেন। বিমানবন্দর বা স্থলবন্দরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েনি, এর মানে এই নয় যে তিনি সুস্থ। একজন পূর্ণ সুস্থ ব্যক্তির দেহে চৌদ্দ দিন পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় থাকে। যেকোন সময় তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো দেশজুড়ে। সতর্কতা শুধু সতর্কতা ই কেবল পারে এই ভয়াবহ বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দিতে! শীর্ষস্থানীয় যত মিডিয়া টিভি সোশাল মিডিয়ার সর্বত্র সতর্কতা ও সুরক্ষা বার্তা ছড়িয়ে দিন! অন্তত আগামী কিছুদিন আমরা সব চালু স্ক্রিপ্ট টপিক্স বাদ দিয়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করি।মিথ্যা তথ্য, বক্তব্য বা অহেতুক লুকোচুরি দিয়ে লোকজনকে বিভ্রান্ত করবেন না। সবার সম্মিলিত প্রতিরোধ হোক আমাদের রক্ষাকবজ!
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ক্যাস্পিয়ান সাগরের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব
  • নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন
  • বেকারত্ব ও যুবসমাজ
  • আমার হাতেই আমার সুরক্ষা
  • কুড়িগ্রামের সুলতানা সরেবোর
  • স্মার্টফোনের আনস্মার্ট ব্যবহার
  • কোয়ারেন্টাইন না বলে ঘরবন্দি, একঘরে, ছোঁয়াচে বলুন
  • বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের বন্ধু
  • করোনা ভাইরাস ও করুণ পরিস্থিতি
  • পানির অপচয় রোধ করতেই হবে
  • বিশ্বনবী (সা) এর মিরাজ
  • বিদ্যুৎসাশ্রয় এবং আমাদের করণীয়
  • বেঁচে থাকি প্রাণশক্তির জোরে
  • রক্ত দিন জীবন বাঁচান
  • নদীকে না দেখলে নদীও আমাদের দেখবে না
  • করোনা ভাইরাসে থমকে গেল পৃথিবী
  • করোনা ভাইরাসে আমাদের করণীয়
  • বঙ্গবন্ধুর মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন
  • বঙ্গবন্ধু ও আমাদের শিশুরা
  • করোনা ভাইরাস ও দেশের অর্থনীতি
  • Developed by: Sparkle IT