সম্পাদকীয় আল্লাহর নিরান্নব্বই অর্থাৎ এক কম একশ’টি নাম রয়েছে; যে ব্যক্তি তা স্মরণ রাখবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। Ñআল হাদিস।

শিশুর প্রতি সহিংসতা

প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৩-২০২০ ইং ২৩:২১:০৮ | সংবাদটি ৬৬ বার পঠিত

শিশুর প্রতি সহিংসতা বেড়ে চলেছে। খুন, ধর্ষণসহ নানা ধরণের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে শিশুরা। একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপের তথ্য হচ্ছেÑ গত জানুয়ারি মাসে দেশে নির্যাতনের শিকার হয় একশ’ ১৫ শিশু। এর মধ্যে হত্যার শিকার হয় ৬৩ শিশু। সংস্থার মতে ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। ২০১৯ সালে শারীরিক নির্যাতনের কারণে মৃত্যু ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা, অপহরণ, নিখোঁজের পর হত্যা সহ বিভিন্ন কারণে নিহত হয় চারশ’ ৮৮ শিশু। আর ২০১৮ সালে নিহত শিশুর সংখ্যা ছিলো চারশ’ ১৯। এছাড়া, ২০১৯ সালে বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয় এক হাজার সাতশ’ শিশু। ২০১৮ সালে যে সংখ্যা ছিলো এক হাজার। ২০১৯ সালে যৌন হয়রানী ও ধর্ষণের শিকার হয় এক হাজার ৮৭ শিশু,; ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিলো চারশ’ ৪৪।
ইউনিসেফ-এর মতে, ১৮ বছর পর্যন্ত প্রত্যেকেই শিশু। শিশুরা ভবিষ্যতের নাগরিক। এদের জন্য একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব, যাতে তারা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তাছাড়া, একটা শিশু পরিবারের কাছে যেমন সর্বাধিক প্রিয়, তেমনি সমাজের কাছেও। একটি সভ্য সমাজে এমনি গুরুত্ব পাওয়া উচিত শিশুদের। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, [আমাদের সমাজে দিন দিন শিশুরা চরম অবহেলার পাত্রে পরিণত হয়ে পড়ছে। মানুষের পশুবৃত্তিক আচরণের শিকার হচ্ছে শিশুরা। অনেক সময় পরিবারে নিকটজনের হাতেও নির্যাতন, হত্যার শিকার হচ্ছে শিশুরা। বিশেষজ্ঞদের মতে পরিবারের আর্থিক অনটন ও মা বাবার দাম্পত্য কলহের বলি হচ্ছে অবুঝ শিশুরা। তাই নিজ বাসা ও আশেপাশেও অনিরাপদ শিশুরা। বিকৃত লালসার শিকার হচ্ছে অনেক মেয়েশিশু। সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক অনটন ও পারিবারিক কলহ থেকে মা বাবার হাতে শিশু হত্যার কয়েকটি ঘটনা বিবেকবান মানুষদের স্তম্ভিত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নানা কারণে মানুষের মধ্যে সহিষ্ণুতা কমে যাচ্ছে। এমন স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরাও চরম অবহেলার শিকার।
শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো বর্বরতা থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হবে। জ্ঞানে-বিজ্ঞানে আমরা প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছি; কিন্তু তার সবই ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে শিশুসহিংসতাসহ নানা ধরণের সামাজিক অপকর্মের কারণে। আসল কথা হলো, দিন দিন বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা। বিশেষ করে মানসিকভাবে সামাজিক মূল্যবোধের জায়গায় একটা অসুস্থ সময় অতিক্রম করছি আমরা। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে অর্থনৈতিক সূচকের অগ্রগতিসহ অন্যান্য সব সাফল্যই বিফলে যাবে। এক্ষেত্রে সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি প্রদানও একটা জরুরি বিষয়।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT