আমরা এতো অলস যে, ঘরে বসেই সব কিছু পেতে চাই। আমরা কখনও ভাগ্যান্বেষণে বাইরে বের হই না। ভাগ্যের উপর ঈমান আনা মুসলমানদের উপর ফরজ। ভাগ্যকে বিশ্বাস না করলে সে ব্যক্তি প্রকৃত মুসলমান হতে পারবে না। তবে আল্লাহ তায়ালার এ-ও ঘোষণা রয়েছে যে, তুমি চেষ্টা ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে ভাগ্যকে বদল করতে পারবে। প্রতি বছর আল্লাহ ভাগ্য বদলের এক অনুপম পন্থা বান্দাদের সামনে হাজির করেন যা ‘লাইলাতুল বরাত’ ও ‘শবে ক্বদর’ নামে খ্যাত। এ যুগল রাতে আল্লাহ একেবারে নীচের আসমানে নেমে আসেন, বান্দাদের আব্দার অভিযোগ শোনার নিমিত্ত। যে ব্যক্তি এ দুটি রাতে একনিষ্ট চিত্তে আল্লাহর উপাসনায় নিমগ্ন থাকে তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অবশ্য রয়েছে অসামান্য পুরস্কার। এ রাত সমূহে বান্দা যদি অনুনয় বিনয় করে আল্লাহর কাছে কিছু চায় তবে আল্লাহ তাকে খালি হাতে ফিরায়ে দেন না। এ রাতগুলোতে আসলে তো আমরা ঘুম রাজ্যের রাজা বনে যাই । তাহলে কিভাবে আমাদের ভাগ্য বদল হবে? আমরা নিজেই তো নিজেদের ভাগ্য বদলে সচেষ্ট নই, আমরাই তো আমাদের ভাগ্য বদল চাই না।
এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের একমাত্র মালিক পরাক্রমশালী আল্লাহ তায়ালা কাউকেই গরীব হিসেবে জন্ম দান করেন নি। প্রতিটি মানুষের জন্য একই পদ্ধতি বা নিয়মে। ধনীর ছেলে বা মেয়ে যেমন এ সময় অসহায় ঠিক তেমনি গরীবের সন্তানও সমান অসহায়। এই নিয়মে কি আল্লাহ কোন কার্পণ্যতা প্রদর্শন করেছেন? আমরা জন্ম নেয়ার পর তবেই কর্মগুণে দরিদ্র বা ধনী হই। আমি বাস্তবে দেখেছি, একই মা বাবার সন্তান দু’জন দুই অবস্থানে। এক ভাই কোটি কোটি টাকার মালিক, অপর ভাই দিনমজুরের কাজ করে। কিন্তু তারা পৈত্রিক সম্পত্তি দুজনেই সমান ভাগে ভাগ করে নিয়েছিল। দু’জনই ছিল সম্পদওয়ালা। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে একজন লন্ডনে বিরাট অট্টালিকার মালিক অপর জন দেশে দিন মজুর। এখন বলুন দোষটা কি আল্লাহর? দু’জনই তো সমান সম্পত্তির মালিক ছিলেন, তবে কেন দু’জনের দু’অবস্থা হলো? এখানে আমি বলবো, তাদের ভাগ্যের কোন দোষ নেই। দোষ ও গুণ ওদের কর্মগুণের। দু’জনের কর্মগুণের ফলে আজ দু’জনের দু’অবস্থা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন এখন কেবল অযথা আল্লাহকে দোষ দেয়া ছাড়া আর কোন গতি নেই। কিন্তু সে একবারও ভেবে দেখবে না যে তারই দোষ এখানে নিহিত। নিজের দোষ আমরা কেউ খতিয়ে দেখি না, পরের দোষ খুঁজতে আমরা অত্যন্ত পারদর্শি। আমরা আমাদের ভাগ্য বদলের কোন চেষ্টা না করে আল্লাহকে দোষ দিয়েই যেন ক্ষান্ত হয়ে যাই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গন্তব্যে পৌঁছতে বারবার ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাতে থেমে থাকেন নি। চেষ্টা ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে তিনি অবশেষে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। পৃথিবীর মধ্যে যত বড় বড় ব্যক্তি আছেন সকলেই এক সময় এ অবস্থানে ছিলেন না। তারা চেষ্টার মাধ্যমে বড় হয়েছেন। কাজেই দারিদ্রতা দূরিকরণে আপনাকেও নিরলস চেষ্টা করতে হবে। হয় তো এক সময় আপনিও হয়ে যাবেন পৃথিবীর নাম করা কেউ।

'/> SylheterDak.com.bd
ধর্ম ও জীবন

দারিদ্র দূরীকরণে নিরলস চেষ্টা

আজিজ ইবনে গণি প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৩-২০২০ ইং ২৩:৩৬:৫৮ | সংবাদটি ৪৫৩ বার পঠিত
Image

মানুষের জীবনে যখন দারিদ্র এসে ভর করে, তখন অনেকেই ব্যক্তিগত জীবন কলুষিত করে বা অসততার কাছে হেরে যায়। শয়তান তখন তাকে যত অপথ কুপথ আছে সে দিকে ধাবিত হওয়ার কুমন্ত্রণা দিয়ে থাকে, যা স্পষ্ট আল্লাহ্ তায়ালার বাণী থেকেই। আর বাস্তবেও তার প্রমাণ মিলে। দরিদ্রতার চাপে অনেকেই খুন-খারাবী, চুরি-চামারী, হাইজ্যাক, ডাকাতি, সুদ-ঘুষ খাওয়া ও দেওয়া, মদ-গাঁজা বিক্রিসহ নানা অপকর্ম ও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তাদের অবস্থা এমন যে, টাকা হলে এমন কোন কর্ম নেই যে, তারা পারে না বা পারবে না। কিন্তু তা কখনও ইসলাম সমর্থন করে না। দরিদ্রতার কারণে ব্যক্তিগত জীবন বা চরিত্র নষ্ট করে উপার্জন করতে হবে কেন? দরিদ্রতাকে আপনার জয় করতে হবে। দরিদ্রতাকে ভয় করা মানেই তো কাপুরুষতার বহিঃপ্রকাশ। মনকে শক্ত করে এগুতে হবে সামনের দিকে, জয়ের প্রত্যয় নিয়ে। যে আল্লাহ আপনাকে সৃষ্টি করেছেন, তার উপরও রাখতে হবে ভরসা, ঈমান। দুঃখ-কষ্ট, দৈন্য যখন একজন মানুষের জীবনে দেখা দেয়, তখন তাকে ধৈর্য হারা হলে চলবে না। একটি পাতাও যখন মহান আল্লাহ তায়ালার হুকুম ছাড়া ঝরে না, তখন আপনার এই দরিদ্র জীবন কি আল্লাহর ‘মহান দান’ নয়? তাহলে কেন আপনি ধৈর্য্যচ্যুত হবেন? এতে আল্লাহর উপর নাফরমানিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন পাকে ঘোষণা করেছেন-
“যখন দুঃখ-দৈন্য তোমাদের স্পর্শ করে তখন তোমরা তাকেই বিনীতভাবেই আহ্বান করো।”
“তোমরা ভরসা করো তো একমাত্র আল্লাহর উপরই ভরসা করো যদি তোমরা মুমীন হয়ে থাকো।” -সূরা মায়িদা, ৬ পারা, আয়াত ২৩
আল্লাহ তায়ালার কাজে কোন প্রকার অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা কোন মুমীন মুসলমানের কাজ নয়। দারিদ্রতা যে ব্যক্তির উপর আল্লাহ চাপিয়ে দেন তাকে তা পরীক্ষার জন্যই করে থাকেন। এ দুনিয়াতে একমাত্র আল্লাহ তায়ালা ছাড়া কি এমন কেউ আছে যে রিযেক এর ব্যবস্থা করে দেবে? একমাত্র মুমীন ব্যতিরেকে অন্যরা আল্লাহর ভরসা ছেড়ে কথা বলতে পারে। রিযিকের ভরসা করতে পারে। অনেক মুমীন মুসলমান আছেন, যারা দারিদ্রতার কারণে আল্লাহ এবং নবীকে গালিগালাজও করে থাকে। আবার ধর্মান্তর হওয়ার মত ঘটনাও ঘটে থাকে এ সমাজে। তা একেবারেই অনুচিত কর্ম। আল্লাহ পৃথিবীর এমন কোন প্রাণী নেই যে, তাকে আহার যোগান না। তা প্রমাণ মিলে আল কোরআনের ভাষায়-
“ভূ-পৃষ্ঠের উপর যত প্রাণী বিচরণ করিতেছে, তাহাদের প্রত্যেকের রিযিকের দায়িত্বই আল্লাহ তায়ালার উপর রহিয়াছে।” -সূরা হুদ, পারা ১২, রুকু ১
“তোমরা অভাবের আশংকায় সন্তানকে হত্যা করিও না, আমি তোমাদের এবং তাহাদের রিযিকের ব্যবস্থা করিয়া থাকি। তাহাদের হত্যা করা নিঃসন্দেহে মহা অপরাধ।" সূরা বনী ইসরাঈল, পারা ১৫, রুকু ৪
অভাব অনটনের কারণে আল্লাহ এবং নবীকে ভুলে বেপথে চলাই শয়তানের কাজ। তার কুমন্ত্রণা পেয়ে দরিদ্রজনেরা এমনটা করে থাকে। আল্লাহ বা নবী কারো ঘরে এসে খাবার হাতে তুলে দিবেন না। নিজেকে তা সন্ধান করে আনতে হবে। একটার পর একটা কাজের পিছে আপনাকে লেগে থাকতে হবে। এই অসীম পৃথিবীর মধ্যে যদি আপনি আপনার রিযিক খুঁজে না পান, তবে তার মত ভাগ্যাহত আর কে হতে পারে ? আমাদের দেশে অবশ্য অভাবের তাড়নায় সন্তান বিক্রি বা হত্যা করা কোন অসম্ভব ঘটনা নয়। কিন্তু তা জঘন্য অপরাধ কাজ। মহান আল্লাহ এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডেই আপনার রিযিক রেখেছেন, শুধু আপনাকে তা সন্ধান করতে হবে। কেননা, উপর্যুক্ত আয়াতে আল্লাহ নিজেই তা ঘোষণা করেছেন। এবং অভাবের তাড়নায় সন্তান হত্যা বা বিক্রি করাটাও জঘন্য অপরাধ বলেও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা এতো অসচেতন যে, রিযিক সন্ধান না করেই আমরা আল্লাহকে দোষারোপ বা গালিগালাজ করি। কিন্তু এখানে মহান সৃষ্টিকর্তার কি কোন দোষ আছে বলুন? আল্লাহ তায়ালা বলেন- “নিশ্চয় আল্লাহ কোন জাতীর অবস্থা পরিবর্তন করেন না-যে পর্যন্ত তাহারা নিজেই নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন না করে।” -সূরা রা'আদ, রুকু ২
আমরা এতো অলস যে, ঘরে বসেই সব কিছু পেতে চাই। আমরা কখনও ভাগ্যান্বেষণে বাইরে বের হই না। ভাগ্যের উপর ঈমান আনা মুসলমানদের উপর ফরজ। ভাগ্যকে বিশ্বাস না করলে সে ব্যক্তি প্রকৃত মুসলমান হতে পারবে না। তবে আল্লাহ তায়ালার এ-ও ঘোষণা রয়েছে যে, তুমি চেষ্টা ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে ভাগ্যকে বদল করতে পারবে। প্রতি বছর আল্লাহ ভাগ্য বদলের এক অনুপম পন্থা বান্দাদের সামনে হাজির করেন যা ‘লাইলাতুল বরাত’ ও ‘শবে ক্বদর’ নামে খ্যাত। এ যুগল রাতে আল্লাহ একেবারে নীচের আসমানে নেমে আসেন, বান্দাদের আব্দার অভিযোগ শোনার নিমিত্ত। যে ব্যক্তি এ দুটি রাতে একনিষ্ট চিত্তে আল্লাহর উপাসনায় নিমগ্ন থাকে তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অবশ্য রয়েছে অসামান্য পুরস্কার। এ রাত সমূহে বান্দা যদি অনুনয় বিনয় করে আল্লাহর কাছে কিছু চায় তবে আল্লাহ তাকে খালি হাতে ফিরায়ে দেন না। এ রাতগুলোতে আসলে তো আমরা ঘুম রাজ্যের রাজা বনে যাই । তাহলে কিভাবে আমাদের ভাগ্য বদল হবে? আমরা নিজেই তো নিজেদের ভাগ্য বদলে সচেষ্ট নই, আমরাই তো আমাদের ভাগ্য বদল চাই না।
এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের একমাত্র মালিক পরাক্রমশালী আল্লাহ তায়ালা কাউকেই গরীব হিসেবে জন্ম দান করেন নি। প্রতিটি মানুষের জন্য একই পদ্ধতি বা নিয়মে। ধনীর ছেলে বা মেয়ে যেমন এ সময় অসহায় ঠিক তেমনি গরীবের সন্তানও সমান অসহায়। এই নিয়মে কি আল্লাহ কোন কার্পণ্যতা প্রদর্শন করেছেন? আমরা জন্ম নেয়ার পর তবেই কর্মগুণে দরিদ্র বা ধনী হই। আমি বাস্তবে দেখেছি, একই মা বাবার সন্তান দু’জন দুই অবস্থানে। এক ভাই কোটি কোটি টাকার মালিক, অপর ভাই দিনমজুরের কাজ করে। কিন্তু তারা পৈত্রিক সম্পত্তি দুজনেই সমান ভাগে ভাগ করে নিয়েছিল। দু’জনই ছিল সম্পদওয়ালা। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে একজন লন্ডনে বিরাট অট্টালিকার মালিক অপর জন দেশে দিন মজুর। এখন বলুন দোষটা কি আল্লাহর? দু’জনই তো সমান সম্পত্তির মালিক ছিলেন, তবে কেন দু’জনের দু’অবস্থা হলো? এখানে আমি বলবো, তাদের ভাগ্যের কোন দোষ নেই। দোষ ও গুণ ওদের কর্মগুণের। দু’জনের কর্মগুণের ফলে আজ দু’জনের দু’অবস্থা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন এখন কেবল অযথা আল্লাহকে দোষ দেয়া ছাড়া আর কোন গতি নেই। কিন্তু সে একবারও ভেবে দেখবে না যে তারই দোষ এখানে নিহিত। নিজের দোষ আমরা কেউ খতিয়ে দেখি না, পরের দোষ খুঁজতে আমরা অত্যন্ত পারদর্শি। আমরা আমাদের ভাগ্য বদলের কোন চেষ্টা না করে আল্লাহকে দোষ দিয়েই যেন ক্ষান্ত হয়ে যাই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গন্তব্যে পৌঁছতে বারবার ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাতে থেমে থাকেন নি। চেষ্টা ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে তিনি অবশেষে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। পৃথিবীর মধ্যে যত বড় বড় ব্যক্তি আছেন সকলেই এক সময় এ অবস্থানে ছিলেন না। তারা চেষ্টার মাধ্যমে বড় হয়েছেন। কাজেই দারিদ্রতা দূরিকরণে আপনাকেও নিরলস চেষ্টা করতে হবে। হয় তো এক সময় আপনিও হয়ে যাবেন পৃথিবীর নাম করা কেউ।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT