উপ সম্পাদকীয়

রক্ত দিন জীবন বাঁচান

এম. লোকমান হেকিম প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৩-২০২০ ইং ০০:১০:৪৪ | সংবাদটি ১৭২ বার পঠিত
Image

রক্ত কৃত্রিমভাবে তৈরি করা যায় না। মুমূর্ষ রোগীর রক্তের প্রয়োজনে অন্য একজন সুস্থ মানুষকেই এগিয়ে আসতে হয়। যথাসময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্ত সংগৃহীত না হওয়ার মূল কারণ হলো মানুষের মধ্যে রক্তদানের সম্পর্কে রয়েছে অনেক ভুল ধারণা এবং ভয়। সচেতনতার অভাবে এবং কিছু ভুল ধারণার কারণে আমরা অনেকেই রক্তদানের মতো মহৎ কাজ এবং দুর্লভ সুযোগ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করছি প্রতিনিয়ত। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে প্রতিবছর প্রয়োজনীয় ৯ লাখ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা কঠিন কিছু নয়। শুধু প্রয়োজন মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। রক্তদানের উপকারিতা, যোগ্যতা এবং ভুল ধারণা সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করে তাদের সচেতন করতে হবে। সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমেই রক্তের সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাই নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী ও পরিচিত মানুষের রক্তের গ্রুপ জেনে রাখুন এবং নোট করে রাখুন। রক্তদান কী-তখনই বুঝবেন, যখন আপনজনের জন্য রক্তের প্রয়োজন হবে।
জীবনের জন্য প্রয়োজন রক্ত। রক্তের বিকল্প শুধু রক্ত। অপারেশনের জন্য, হিমোফেলিয়া, থ্যালাসেমিয়া বা দুর্ঘটনার কারণে রক্তক্ষরণ হলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন প্রয়োজন হয়। শুধু রক্ত হলেই হবে না, জীবনের জন্য চাই বিশুদ্ধ রক্ত। রক্ত দিন জীবন বাঁচান । রক্ত দিতে আপনার সদিচ্ছাই যথেষ্ট। রক্ত দিতে ৫-৭ মিনিট সময় লাগে। আপনার দেওয়া এক ব্যাগ রক্ত ফিরিয়ে দিতে পারে একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন। একজন সুস্থ মানুষ প্রতি ৪ মাস পরপর রক্ত দিতে পারবেন। ঘাটতি রক্ত অল্প দিনের মধ্যেই পূরণ হয়ে যায় এতে শরীরের কোন ক্ষতি হয় না। রক্ত দেওয়ার পর সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে তরল গ্রহণ করুন। তবে রক্ত গ্রহণ করার আগে জানা দরকার, তা কতটুকু নিরাপদ।
আসুন জেনে নিই রক্ত গ্রহণ সম্পর্কিত কিছু তথ্য- ১.রক্তদাতার যোগ্যতা : রক্তদাতার বয়স হতে হবে ১৮-৫৫ বছর। ২. রক্তদাতার ওজন: পুরুষ অন্যূন ৪৮ ও মহিলা ৪৫ কেজি । তবে বিশেষ উপাদানের ক্ষেত্রে ওজন ন্যূনতম ৫৫ কেজি। ৩. রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলেও কোনো অ্যান্টিবায়োটিক না নিলে রক্ত দেয়া যাবে। মোট কথা, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই কেবল রক্ত দেয়া যাবে। রক্তদানের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখুন, জ্বর-ভাইরাস জ্বর থেকে সুস্থ হওয়ার ৭ দিন পর রক্ত দেয়া উচিত। ডেঙ্গুজ্বর হওয়ার কমপক্ষে ৬ মাস পর । ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে সুস্থ হওয়ার কমপক্ষে ১২ মাস পর। টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে সুস্থ হওয়ার কমপক্ষে ৬ মাস পর । ডায়রিয়ার ৩ সপ্তাহ পর। বসন্তের ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার কমপক্ষে ৬ মাস পর। যক্ষ্মার ক্ষেত্রে পূর্ণমাত্রার ওষুধ সেবনের ২ বছর পর। চর্মরোগজনিত সমস্যায় রক্তনালী আক্রান্ত না হলে রক্ত দেয়া যাবে। কারও হাঁপানি হলে সে যদি ইনহেলার নেয় বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করে, তবে রক্ত দিতে পারবে। ডায়াবেটিস হলে ওষুধ চলা অবস্থায় রক্ত দিতে পারবে না। তবে খাবার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রক্তে গ্লুকোজ স্বাভাবিক মাত্রায় থাকলে দিতে পারবে। রক্তস্বল্পতায় কেউ রক্ত দিতে পারবে না। মৃগীরোগী হলে না দেয়াই উচিত। অ্যাকজিমা থাকলে রক্ত দেয়া যাবে না। কান বা নাক ফোঁড়ালে আগে স্ক্রিনিং করে নিতে হবে। রক্তদানের আগে ধূমপান করা উচিত নয় এবং রক্তদানের পর কমপক্ষে ১ ঘন্টা ধূমপান করা যাবে না। অ্যালকোহল পানের ৭২ ঘন্টার মধ্যে রক্তদান করা উচিত নয়। অপারেশন করলে সুস্থ হওয়ার ১ বছর পর। রক্তগ্রহণ করলে কমপক্ষে ১ বছর পর। দাঁতের চিকিৎসা যেমন ফিলিংয়ের একদিন ও রুটক্যানেলের তিনদিন পর। হেপাটাইটিস থেকে সুস্থ হওয়ার ৬ মাস পর। তবে হেপাটাইটিস বি ও সি আক্রান্তরা কখনও রক্তদান করতে পারবেন না। ইনফ্লুয়েঞ্জা,টিটেনাস, জ্বর ও কোনো উপসর্গ না থাকলে একজন মানুষ রক্ত দিতে পারবে। বসন্ত, পোলিও , হেপাটাইটিস, মেনিনজাইটিস হলে ৪ সপ্তাহ পর। নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভবতী মহিলারা রক্ত দিতে পারবেন না। সন্তান জন্মদানের ৬ মাস পর দিতে পারলেও বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো অবস্থায় দিতে পারবে না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ঋতুস্রাব চলা অবস্থায় রক্ত না দেয়াই ভালো। তবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়া অবস্থায় রক্ত দিতে বাধা নেই। ৪. যারা কখনোই রক্ত দিতে পারবে না: এইচআইভি পজিটিভ রোগী, সুঁচ, সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী, ক্যান্সার, হৃদরোগ, বাতজ্বর, সিফিলিস (যৌন রোগ), করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও কুষ্ঠ বা শ্বেতী রোগীরা রক্ত দিতে পারবেন না।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • প্রসঙ্গ : হিন্দু ব্যক্তির মরদেহ সৎকার
  • সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে করণীয়
  • করোনা ও মানবিক সহযোগিতা
  • চীন-ভারত স্নায়ুযুদ্ধ : বাংলাদেশে প্রভাব
  • মানব পাচার আইনের প্রয়োগ
  • কৃষিই হোক একুশ শতকের প্রধান অবলম্বন
  • স্বাস্থ্যবিধি মানলে প্রশমিত হবে করোনা
  • তিস্তা ও ফারাক্কা চুক্তিই এখন জীয়ন কাঠি
  • দার্শনিক মানুষ ও বেপরোয়া মানুষ
  • প্রসঙ্গ : শিশুদের অভ্যাস
  • আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্কে নতুন মেরুকরণ
  • হারিয়ে যাচ্ছে মিঠে পানির মাছ
  • করোনাকালের কবিতা ‘বনি আদম’
  • শিক্ষায় নব সঞ্জীবনী
  • করোনার ক্রান্তিকাল ও ম্যালথাসে জনসংখ্যা হ্রাস তত্ত্ব
  • ভগবান শ্রী জগন্নাথদেবের মহিমা
  • করোনা ও খাদ্য নিরাপত্তা
  • একাত্তর বছরে আওয়ামী লীগ
  • প্রেমকান্তের প্রেমকাহিনী
  • করোনা : জয় হবে মানুষের
  • Image

    Developed by:Sparkle IT