উপ সম্পাদকীয়

বিশ্বনবী (সা) এর মিরাজ

মো. মঈনুল হক প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০৩-২০২০ ইং ০০:১৯:০৯ | সংবাদটি ১৫৮ বার পঠিত
Image

শব অর্থ রাত্রি আর মিরাজ আরবি শব্দ এর অর্থ রাত্রিকালীন ঊর্ধরোহন ও মর্যাদার চরম শিখরে আরোহন। ইসলামী পরিভাষায় আল্লাহর ইচ্ছায় বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর জীবনের সংঘটিত ঘটনাগুলোর মধ্যে মিরাজ রজনী বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন মোজেযায় পরিপূর্ণ। হযরত (সা) এর ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপট আলোচনায় মুসলিম জাতির জন্য অগণিত কল্যাণ নিহিত রয়েছে। নবি করিম (সা) এর জীবনাদর্শ মানবজাতির জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণে অতুলনীয় ভুমিকা পালন করে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর জীবনাদর্শের মধ্যে মিরাজের গুরুত্ব অপরিসীম।
পৃথিবীতে আগমনকারী প্রত্যেক নবী ও রাসুলগণের জীবন মোজেযায় পরিপূর্ণ ছিল। পূর্বেকার নবী ও রাসুলগণের মোজেযা সমূহের বৈশিষ্ট্য ছিল তাদের জীবনকাল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। হযরত মোহাম্মদ (সা) এর মোজেযা হল পবিত্র কোরআন শরীফ। যা আজও প্রত্যেক মুসলমানের কাছে অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। যার সমতূল্য আর কোন কিছুই হতে পারে না। সর্বপ্রকার গুণাবলী ও আদর্শিক বৈশিষ্ট্যতায় পরিপূর্ণ। ইহা আল্লাহর বাণী সমূহের এক অপূর্ব সমাহার।
পবিত্র মিরাজ রজনীর বিস্তারিত আলোচনা এই ক্ষুদ্র পরিসরে সম্ভব নয়। শুধুমাত্র এই মহিমান্বিত বরকতময় রাত্রির গুরুত্ব ও তাৎপর্য সংক্ষিপ্ত আকারে পেশ করছি। এই মহিমান্বিত রাত্রি সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা তার কালামে সূরা বনী ঈসরাইলের প্রথম আয়াতে বলেন, আল্লাহ তায়ালা প্রিয় হাবিব হযরত মুহাম্মদ (সা) কে রাতের বেলায় মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকছায়ে নিয়ে গেলেন, যার পরিপার্শ্বিকতাকে আমি আগে থেকেই বরকতপূর্ণ করে রেখেছিলাম। আল্লাহ তায়ালা তার দৃশ্য অদৃশ্য নিদর্শনগুলো দেখালেন।
মিরাজ রজনী পবিত্র রজব মাসের ২৭ তারিখ রাত্রে নবুয়তের দশম বৎসর ৬২১ খৃষ্টাব্দে সংগঠিত হয়েছিল। জিবরিল (আ) ফেরেস্তা আল্লাহর নির্দেশে গ্রহ, নক্ষত্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি চন্দ্র সূর্যের আলো এক সাথে মিশিয়ে এবং তারার সঙ্গে চাদের আলো মিশিয়ে রাত্রের আকাশকে ঝলমলে আলোক উজ্জ¦ল করেছিলেন। তারপর রাত্রের আকাশকে অপূর্ব সৌন্দর্য মন্ডিত করে নবিজির কাছে আসলেন। তিনি তখন মকামে হাতিমে শায়িত ছিলেন। হযরত (সা) কে জাগ্রত করে প্রথমে তার বক্ষ বিদারণ করলেন। তারপর জমজমের পানি দিয়ে ধৌত করে ঈমান ও হিকমতের শ্রেষ্ঠতায় শক্তিশালী করে যথাস্থানে সংস্থাপন করলেন।
অতঃপর গর্দভ হতে বড় এবং খচ্চর হতে ছোট সাদা রঙ্গের বোরাক নামক একটি জন্তু নবিজিকে আরোহনের জন্য আনা হল। পৃথিবীর কোন প্রাণীর সাথে এ প্রাণীর কোন তুলনা নাই। হযরত (সা) বোরাকে সওয়ার হলেন। মুহুর্তের মধ্যে বোরাক আরোহন করে নবিজি (সা) মসজিদে হারাম থেকে জিবরিলে আমিনসহ মসজিদে আকসায়ে উপনীত হলেন। নবিজি তথায় অবতরণ করে দু‘রাকাত নামাজ আদায় করলেন। তারপর জিবরিল (আ)কে সঙ্গে নিয়ে উর্ধ্বাকাশে তিনি বেহেস্তী পরিচালকের তত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে ক্রমান্বয়ে একটার পর একটা বেহেস্ত উত্তরন করতে থাকেন। তিনি বিশ্বাসীদের বেহেস্ত পরিদর্শন করলেন। নবিজি সা. সেখানে পৌছলে ফুলের বাগানগুলো তাদের খুশবো ছড়িয়ে দেয়। এরপর নবিজি (সা) অবিশ্বাসীদের জন্য নির্দিষ্ট দোজখ দর্শন করেন। তিনি সেখানে গেলে তার সম্মানে দোজখের আগুন নিভে যায়।
হযরত (সা) তথায় হযরত আদম (আ) এর সাথে সাক্ষাত লাভ করে। তার কাছে সালাম ও সম্ভাষনের পর তিনি দ্বিতীয় আসমানে উপনীত হয়ে হযরত ঈসা (আ) এর দর্শন লাভ করেন। এভাবে তৃতীয়, চতুর্থ পঞ্চম ও ষষ্ঠ আসমানে তিনি যথাক্রমে হযরত ইউসুফ (আ) হারুন (আ) মুসা (আ) ও ইব্রাহিম (আ) এর দর্শন লাভ করেন। প্রত্যেককেই সালাম ও অভিনন্দিত করেন। এরপর তিনি আরও উপরে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত গিয়ে উপনীত হন। সেখানে জিব্রাইল (আ) আর অগ্রসর হলেন না। বোরাক হযরত (সা)কে নিয়ে বায়তুল মামুর পর্যন্ত গিয়ে গতি ভঙ্গ করল। বোরাক এর চেয়ে বেশি অগ্রসর হওয়ার হুকুম ছিল না। জিব্রাইল (আ) বললেন আপনি এগিয়ে যান। আপনার কোন প্রতিবন্ধকতা নেই।
অতঃপর সবুজ রঙ্গের গদি বিশিষ্ট্য রফরফ নামক এক স্বর্গীয় যানে চড়ে তিনি আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্যে আরশে আজিমে গিয়ে উপনীত হন। সেখানে গিয়ে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেন। তিনি পরম করুণাময় আল্লাহর পক্ষ হতে হাদিয়া স্বরূপ দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে দুনিয়ায় ফিরে আসলেন। আর এই জন্য নামাজ মুমিনদের জন্য মেরাজ স্বরূপ বলা হয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করে বিশ্বাসীরা চরম শান্তি ও তৃপ্তি লাভ করতে পারি। এই পবিত্র রাত্রির রহমত বরকত ও কল্যাণ আমাদের ওপর বর্ষিত হউক।
লেখক : কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • করোনাকালের ঈদোৎসব
  • মহাপূণ্য ও করুণার রাত শবে-কদর
  • মাহে রামাজান: যাকাত আদায়ের উত্তম সময়
  • দারিদ্র দূরীকরণে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
  • চীন-আমেরিকার শীতল যুদ্ধ
  • চাই আশার বাণী
  • কোভিড-১৯:সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি
  • ক্যাস্পিয়ান সাগরের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব
  • নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন
  • বেকারত্ব ও যুবসমাজ
  • আমার হাতেই আমার সুরক্ষা
  • কুড়িগ্রামের সুলতানা সরেবোর
  • স্মার্টফোনের আনস্মার্ট ব্যবহার
  • কোয়ারেন্টাইন না বলে ঘরবন্দি, একঘরে, ছোঁয়াচে বলুন
  • বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের বন্ধু
  • করোনা ভাইরাস ও করুণ পরিস্থিতি
  • পানির অপচয় রোধ করতেই হবে
  • বিশ্বনবী (সা) এর মিরাজ
  • বিদ্যুৎসাশ্রয় এবং আমাদের করণীয়
  • বেঁচে থাকি প্রাণশক্তির জোরে
  • Image

    Developed by:Sparkle IT