আবিরের বাবা আরো কিছু লিখতে চান। কিন্তু শরীর দ্রুত অবনতির দিকে যেতে থাকে। তাই ডাক্তার থাকে আইসিইউ তে নিয়ে যায়। সেদিন রাতেই মৃত্যু হয় আবিরের বাবার। মৃত্যুর পর নীরব অভিমানে আবির তার বাবার মুখ একবারও দেখেনি। প্রচন্ড ঘৃণা আর অনুশোচনায় তার আকাশ ঘন মেঘে ঢেকে যায়।
বাবার মৃত্যুর এক বছর পর আবির বিয়ে করে। নিঃসঙ্গতার বারো মাসকে পিছনে ফেলে আবিরের পুরো বাড়িতে নিয়মিত দুটি মানুষের ছায়া পড়তে থাকে। বাহ্যিক দিক হতে বেশ সুখেই চলছিল আবিরের জীবন।
আবির যখন বাসায় থাকে তখন তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যেই প্রাণ থাকে। কিন্তু আবির বাইরে থাকলে আবিরের বউ নীলার কিছুই করার থাকে না। নীলার তখন সময় যেতে চায় না। টিভি দেখতে দেখতে মাঝে-মধ্যে আসে বিরক্তি। তাই আবির নীলার জন্য কিনে নিয়ে আসে স্মার্ট ফোন। ইন্টারনেটের এই যুগে স্মার্ট ফোন হাতে নিয়ে কেউ কি শুধু ফোন কলে ব্যস্ত থাকে? নীলা প্রবেশ করে নতুন এক জগতে। সে জগৎ ইন্টারনেটের জগৎ। অসম্ভব রূপবতী এই মেয়েটি অবসর সময়ে প্রায়শই ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখে। একদিন হঠাৎ তার পতিতাপল্লী নিয়ে একটি ভিডিও চোখে পড়ে। ভিডিওটি দেখবে কি দেখবে না ভাবতে গিয়ে তার মনে একটা অজানা আগ্রহের সৃষ্টি হয়। বেশ দীর্ঘ প্রতিবেদনটি দেখতে গিয়ে তার চোখে পড়ে চোখে চশমা বুট-কোর্ট পরা এক ভদ্রলোক। অন্যান্য ব্যক্তি হতে খানিকটা আলাদা ব্যক্তিটির মুখের কাছে ক্যামেরা আসতেই নীলা দেখে, এতো তার গর্ভে বেড়ে উঠা সন্তানের জন্মদাতা। নীলা তার চোখকে সে বিশ্বাস করাতে পারে না, লজ্জায় তার মুখ ঢেকে যায়। কোনো নারী কি। চাইবে তার স্বামী খদ্দের হয়ে কারো শরীর ভাড়া করবে? নিজেকে সামলাতে না পেরে রাগে তাৎক্ষণিক আবিরের সামনে হতে চলে যায় নীলা। আবিরের মনে হয়, নীলার গর্ভে থাকা ছ'মাসের বাচ্চার কথা। সে তার মায়ের ভালোবাসা হতে তো বঞ্চিত হবে না। আবির তার জীবনের সবটুকু সময় তার বাবার সাথে কাটিয়ে যখন কিছুই পায়নি তখন আবিরের সন্তানের তার বাবার সাথে থাকার কিইবা প্রয়োজন আছে? আবির বড় হয়েছে। তার মায়ের ভালোবাসা ছাড়া আর তার সন্তান বড় হবে তার বাবার ভালোবাসাহীন। নিয়তির নিষ্ঠুর এক খেলা। যেন পৃথিবীর কোনো মানুষ সয়ংসম্পূর্ণ নয়।
বাবার মৃত্যুর পর আবিরের নিয়মিত যাতায়াত হয় পতিতাপল্লী নামক পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট জায়গায়। দেহ ভোগের খারাপ কোনো উদ্দেশ্য তার মনে কখনো কাজ করেনি। যেই পল্লীতে তার মায়ের বসবাস সেখানে সে যাবে নিজের খায়েশ মেটাতে- এই কল্পনা তার মাথায় কখনো আসেনি। আবির খুঁজতে থাকে তার মাকে। কিন্তু পায় না। কেউ বলতেও পারে না। এ পৃথিবীর কেউ জানে না একজন অসহায় মায়ের গল্প- একজন হতভাগা সন্তানের গল্প। শেষ পর্যন্ত আবির তার মাকে খুঁজতে গিয়ে আবিষ্কার করে তার বাবার মৃত্যুর পর একজন মহিলা তাদের খারাপ পল্লী হতে পালিয়ে যায়। হয়তো ওই মহিলা জানতেন, বাবার মৃত্যুর পর বিশাল এই পল্লীর উত্তরাধিকারী হবে তার গর্ভের সন্তান।
পতিতাপল্লী হতে পালিয়ে যাওয়া মহিলাই হয়তো আবিরের মা। সন্তানের সামনে ওই মহিলা নিজের মুখটাকে দেখানো জগতের সবচেয়ে বড় পাপ মনে করেছিলেন। আবির পালিয়ে যাওয়া মহিলাকে খুঁজতে থাকে কিন্তু একা কতটুকুই বা খোঁজা সম্ভব? আবার এমন মায়ের কথা সে কাউকে বলবে কি করে? আবির যেন হেরে যায় নিজেই নিজের গল্পে।
... আবির বিছানা হতে উঠে দাঁড়ায়। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সে মোমবাতি খুঁজতে থাকে। মোমবাতি খুঁজে পেয়ে সে মনে মনে ভাবে এই মোমের আলোর মতোই তার জীবন। জ্বলছে। যে-কোনো সময়ই তা নিভে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা আছে। বিষণ্নতায় তাকে ভর করে, সে একটা বই পড়ে বিষণ্নতা কাটাতে চায়। বুকসেলফে বই খুঁজতে গিয়ে আবির তার বাবার বেশ পুরোনো একটা ডায়রী পায়। যেই জানালা দিয়ে বৃষ্টি আসছিল সেই জানালা সে বন্ধ করে দেয়। মোমবাতির আলোয় ডায়রী খুলে একেকটা পাতা উল্টায় সে। বাবার অনেক অজানা কথাই লেখা তাতে। একটা পাতায় তার চোখ আটকে যায়। সেখানে নীল কালিতে লেখা, ‘তোমাকে কখনোই আমি অন্য কোনো পুরুষের সাথে শুবার সুযোগ দেইনি। সবাই জানবে তুমি খারাপ কিন্তু আমিতো জানি তুমি জগতের সবচেয়ে শুদ্ধতম নারীদের একজন’।
আবিরের চোখ দিয়ে টলমল করে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে ভিজিয়ে দেয় ডায়রী। না আবির কোনো জারজ সন্তান নয়। আবিরের মনে হয়, এর পরের পাতায়ই হয়তো লেখা, ‘আজ তোমাকে বিয়ে করলাম অথচ তুমি কেন আমার ঘরণী হয়ে এই অন্ধকার ঘর আলোকিত করলে না?’
আবির একেক পাতা উল্টায়।
প্রত্যেকটি খারাপ মানুষের একটা ভালো দিক থাকে। আবিরের বাবা সেই বিশ্বাস তার মনে খুব যত্ন করে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।

 

'/> SylheterDak.com.bd
সাহিত্য

নিয়তি

জুনায়েদুর রহমান প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০৩-২০২০ ইং ০০:২৭:০৬ | সংবাদটি ১৪৬ বার পঠিত
Image

বাইরে বেশ বৃষ্টি হচ্ছে। দক্ষিণের জানালা দিয়ে খানিকটা জল এসে ভিজিয়ে দিচ্ছে ঘর। শীতের শুরুতেই এমন ঝড়-বৃষ্টি! মনে হচ্ছে যেন ঋতু বদলে শীতের জায়গাটা দখল করে নিয়েছে বর্ষা। পৃথিবীর বুকে সন্ধ্যা নেমে আসছে কিনা ব্যাপারটা বুঝতে পারছে না আবির। হাতের নাগালে ঘড়ি নেই। মনে হচ্ছে বিদ্যুৎ চলে গেছে। না হলে দেয়ালে ঝুলানো ঘড়ি ঠিক বুঝিয়ে দিতে সময়। বিছানা ছেড়ে উঠতেও ইচ্ছে করছে না তার। হঠাৎ বজ্রপাতের প্রবল শব্দে খানিকটা চমকে উঠে সে।
আজ সকালে নয় মাসের বিবাহিতা স্ত্রী তাকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যে রেখে চলে গেছে। তাতে একটুও বাধা দেয়নি মানুষটি। বাধা দেবার মতো সাহসও তখন তার হয়ে উঠেনি।
আবিরের আটাশ বছরের দীর্ঘ জীবনে বহুবার তাকে হারাতে হয়েছে বহু মানুষকে। কখনোই সে এতটা বিচলিত বোধ করেনি। ভালোবেসে বিয়ে করা সাজানো এ সংসারের রাণী যদি তাকে না বুঝতে পারে- তখন তার কিইবা করার থাকতে পারে?
বিভীষিকাময় জীবনের শুরু আবিরের জন্মলগ্ন হতে। নাকি ভুল বলছি? হয়তো আবিরের জন্মেরও খানিকটা আগে হতে।
একদিন আবির ভোরে ঘুম হতে উঠেছে। হঠাৎ শুনে তার বাবার চিৎকার। ভোরের এত সুন্দর মনোরম এক পৃথিবী তার জন্য এতটা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে আসবে তখনও আবির বুঝে উঠতে পারেনি। আবির তার একমাত্র আপন মানুষটাকে একটা প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যায়। অথচ সেই নিয়ে যাওয়াটাই যে আবিরের বাবার বাসায় শেষ ফেরা হবে তা কে জানতো?
ছোটবেলা হতে আবির জেনে এসেছে, তার জন্মের সময় তার মা মারা যান। আবির তার। মাকে নিয়ে বাবাকে কোন প্রশ্ন কখনো করলেও কোনো গুছালো উত্তর সে শুনতে পায়নি। অসম্ভব স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন আবিরের বাবা কি তার মায়ের ব্যাপারটি শুধু ভুলে গেলেন? নাকি অন্য কোনো রহস্য? আবির মাঝে-মধ্যে ভাবে, হয়তো কিছু স্মৃতি প্রকৃতিই খুব যত্নে মুছে দেয়। আবার কখনো অনেক মানুষ মস্তিষ্ক হতে স্মৃতি সরিয়ে ফেলে। মস্তিষ্ক হতে স্মৃতি সরিয়ে রাখার ব্যাপারটি সাধারণ মানুষদের ব্যাপারে হয়তো অসম্ভব। কিন্তু মহাপুরুষদের ব্যাপারে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। আবির তার বাবাকে সেই সব মহাপুরুষদের কাতারের একজন ভাবে।
ক্লিনিকে ভর্তি হবার পর হতে আবিরের বাবার অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পূর্বেও হার্ট এটাক হবার পর ডাক্তার খুব সতর্ক থাকতে বলেছিল। কিন্তু আবির আর তার বাবা দুজন মানুষ। কে খেয়াল রাখবে তাদের?
এক সকালে আবির বারান্দায় দাঁড়িয়ে উদাস মনে আকাশ দেখছিল। হঠাৎ একজন নার্স এসে আবিরকে বলল, আপনাকে রোগী ডাকেন। আবির তখন ভেবেছিল বাবা তার সাথে গল্প করবেন তাই ডাকছেন। আবির দ্রুত বাবার ডাকে সাড়া দিয়ে হেঁটে চলল কেবিনের দিকে। বাবার সামনে দাঁড়াতেই তার মনে হল বাবা যেন স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। আবিরের চোখ টলমল করছে। কম্বলের নিচ হতে হাত বের করে তার একমাত্র সন্তানের হাত ধরলেন আবিরের বাবা। তখন তার হাতটি ক্রমাগত কাঁপছিল। আবিরের বাবা ঠোঁট নাড়ছেন। কিন্তু কোনো কথা বের হচ্ছে না। তিনি হাত ইশারায় তাই কলম-খাতা চাইলেন। একজন নার্স কলম-খাতা দিয়ে গেলো। আবিরের সাহায্যে তিনি উঠে বসে কাঁপাকাঁপা হাত আর অশ্রু চোখে নিয়ে লিখতে শুরু করলেন।
'বাবা আবির, তুমি সারাজীবন তোমার যেই বাবাকে দেখেছো তিনি ভয়ংকর এক মানুষ। শহরের উত্তরে খারাপ মেয়েদের নিয়ে যে ব্যবসাটি রয়েছে সেটিতে মৃত্যু শয্যায় শায়িত তোমার বাবার। তোমার জন্ম সেখানেই। আর তোমার মায়ের মৃত্যু সংবাদটি আসলে মিথ্যা’।
আবিরের বাবা আরো কিছু লিখতে চান। কিন্তু শরীর দ্রুত অবনতির দিকে যেতে থাকে। তাই ডাক্তার থাকে আইসিইউ তে নিয়ে যায়। সেদিন রাতেই মৃত্যু হয় আবিরের বাবার। মৃত্যুর পর নীরব অভিমানে আবির তার বাবার মুখ একবারও দেখেনি। প্রচন্ড ঘৃণা আর অনুশোচনায় তার আকাশ ঘন মেঘে ঢেকে যায়।
বাবার মৃত্যুর এক বছর পর আবির বিয়ে করে। নিঃসঙ্গতার বারো মাসকে পিছনে ফেলে আবিরের পুরো বাড়িতে নিয়মিত দুটি মানুষের ছায়া পড়তে থাকে। বাহ্যিক দিক হতে বেশ সুখেই চলছিল আবিরের জীবন।
আবির যখন বাসায় থাকে তখন তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যেই প্রাণ থাকে। কিন্তু আবির বাইরে থাকলে আবিরের বউ নীলার কিছুই করার থাকে না। নীলার তখন সময় যেতে চায় না। টিভি দেখতে দেখতে মাঝে-মধ্যে আসে বিরক্তি। তাই আবির নীলার জন্য কিনে নিয়ে আসে স্মার্ট ফোন। ইন্টারনেটের এই যুগে স্মার্ট ফোন হাতে নিয়ে কেউ কি শুধু ফোন কলে ব্যস্ত থাকে? নীলা প্রবেশ করে নতুন এক জগতে। সে জগৎ ইন্টারনেটের জগৎ। অসম্ভব রূপবতী এই মেয়েটি অবসর সময়ে প্রায়শই ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখে। একদিন হঠাৎ তার পতিতাপল্লী নিয়ে একটি ভিডিও চোখে পড়ে। ভিডিওটি দেখবে কি দেখবে না ভাবতে গিয়ে তার মনে একটা অজানা আগ্রহের সৃষ্টি হয়। বেশ দীর্ঘ প্রতিবেদনটি দেখতে গিয়ে তার চোখে পড়ে চোখে চশমা বুট-কোর্ট পরা এক ভদ্রলোক। অন্যান্য ব্যক্তি হতে খানিকটা আলাদা ব্যক্তিটির মুখের কাছে ক্যামেরা আসতেই নীলা দেখে, এতো তার গর্ভে বেড়ে উঠা সন্তানের জন্মদাতা। নীলা তার চোখকে সে বিশ্বাস করাতে পারে না, লজ্জায় তার মুখ ঢেকে যায়। কোনো নারী কি। চাইবে তার স্বামী খদ্দের হয়ে কারো শরীর ভাড়া করবে? নিজেকে সামলাতে না পেরে রাগে তাৎক্ষণিক আবিরের সামনে হতে চলে যায় নীলা। আবিরের মনে হয়, নীলার গর্ভে থাকা ছ'মাসের বাচ্চার কথা। সে তার মায়ের ভালোবাসা হতে তো বঞ্চিত হবে না। আবির তার জীবনের সবটুকু সময় তার বাবার সাথে কাটিয়ে যখন কিছুই পায়নি তখন আবিরের সন্তানের তার বাবার সাথে থাকার কিইবা প্রয়োজন আছে? আবির বড় হয়েছে। তার মায়ের ভালোবাসা ছাড়া আর তার সন্তান বড় হবে তার বাবার ভালোবাসাহীন। নিয়তির নিষ্ঠুর এক খেলা। যেন পৃথিবীর কোনো মানুষ সয়ংসম্পূর্ণ নয়।
বাবার মৃত্যুর পর আবিরের নিয়মিত যাতায়াত হয় পতিতাপল্লী নামক পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট জায়গায়। দেহ ভোগের খারাপ কোনো উদ্দেশ্য তার মনে কখনো কাজ করেনি। যেই পল্লীতে তার মায়ের বসবাস সেখানে সে যাবে নিজের খায়েশ মেটাতে- এই কল্পনা তার মাথায় কখনো আসেনি। আবির খুঁজতে থাকে তার মাকে। কিন্তু পায় না। কেউ বলতেও পারে না। এ পৃথিবীর কেউ জানে না একজন অসহায় মায়ের গল্প- একজন হতভাগা সন্তানের গল্প। শেষ পর্যন্ত আবির তার মাকে খুঁজতে গিয়ে আবিষ্কার করে তার বাবার মৃত্যুর পর একজন মহিলা তাদের খারাপ পল্লী হতে পালিয়ে যায়। হয়তো ওই মহিলা জানতেন, বাবার মৃত্যুর পর বিশাল এই পল্লীর উত্তরাধিকারী হবে তার গর্ভের সন্তান।
পতিতাপল্লী হতে পালিয়ে যাওয়া মহিলাই হয়তো আবিরের মা। সন্তানের সামনে ওই মহিলা নিজের মুখটাকে দেখানো জগতের সবচেয়ে বড় পাপ মনে করেছিলেন। আবির পালিয়ে যাওয়া মহিলাকে খুঁজতে থাকে কিন্তু একা কতটুকুই বা খোঁজা সম্ভব? আবার এমন মায়ের কথা সে কাউকে বলবে কি করে? আবির যেন হেরে যায় নিজেই নিজের গল্পে।
... আবির বিছানা হতে উঠে দাঁড়ায়। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সে মোমবাতি খুঁজতে থাকে। মোমবাতি খুঁজে পেয়ে সে মনে মনে ভাবে এই মোমের আলোর মতোই তার জীবন। জ্বলছে। যে-কোনো সময়ই তা নিভে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা আছে। বিষণ্নতায় তাকে ভর করে, সে একটা বই পড়ে বিষণ্নতা কাটাতে চায়। বুকসেলফে বই খুঁজতে গিয়ে আবির তার বাবার বেশ পুরোনো একটা ডায়রী পায়। যেই জানালা দিয়ে বৃষ্টি আসছিল সেই জানালা সে বন্ধ করে দেয়। মোমবাতির আলোয় ডায়রী খুলে একেকটা পাতা উল্টায় সে। বাবার অনেক অজানা কথাই লেখা তাতে। একটা পাতায় তার চোখ আটকে যায়। সেখানে নীল কালিতে লেখা, ‘তোমাকে কখনোই আমি অন্য কোনো পুরুষের সাথে শুবার সুযোগ দেইনি। সবাই জানবে তুমি খারাপ কিন্তু আমিতো জানি তুমি জগতের সবচেয়ে শুদ্ধতম নারীদের একজন’।
আবিরের চোখ দিয়ে টলমল করে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে ভিজিয়ে দেয় ডায়রী। না আবির কোনো জারজ সন্তান নয়। আবিরের মনে হয়, এর পরের পাতায়ই হয়তো লেখা, ‘আজ তোমাকে বিয়ে করলাম অথচ তুমি কেন আমার ঘরণী হয়ে এই অন্ধকার ঘর আলোকিত করলে না?’
আবির একেক পাতা উল্টায়।
প্রত্যেকটি খারাপ মানুষের একটা ভালো দিক থাকে। আবিরের বাবা সেই বিশ্বাস তার মনে খুব যত্ন করে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।

 

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT