মহিলা সমাজ

স্বাধীনতার সূর্য

জাহিদা চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৩-২০২০ ইং ০০:৫৯:২৪ | সংবাদটি ২৮২ বার পঠিত
Image

১৯৭১ সালে পৃথিবীর মানচিত্রে একটি দেশের নামের অন্তর্ভূক্তি ঘটে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস এ দিনটিকে ঘিরে রচিত হয়েছে। এ দেশের নবীন সূর্যদয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতীয় জীবনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
এ দেশের স্বাধীনতা অর্জনের আনন্দোজ্জ্বল মুহূর্তের মধ্যে এ দেশের অসংখ্য দেশ প্রেমিক শহীদের আত্মদান, লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্তে রাঙানো আমাদের স্বাধীনতার সূর্য।
এ দেশের জাতীয় জীবনে স্বাধীনতা দিবস সবচাইতে গৌরবময় ও পবিত্রতম দিন। ২৬ শে মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিব। ১৯৭১ সালে বাংলার মানুষ পাকিস্তানী ঔপনিবেশিকে স্বৈরশাসনের ২৫ বছরের গ্লানি থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছিলো।
বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। তবে এই স্বাধীনতা সহজভাবে আসেনি। ১৯৭১ সালের এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে আমাদের স্বাধীনতার লাল সূর্যকে আমরা ছিনিয়ে আনতে পেয়েছি।
প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষের আত্মাহুতির বিনিময়ে আমরা আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতা পেয়েছি। পৃথিবীতে কোন জাতি এতো কম সময়ে স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি।
স্বাধীনতার ইতিহাসে বাঙালিরা এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করে। লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়ে, অর্থ দিয়ে, সম্পদ দিয়ে সম্ভ্রম বিলিয়ে স্বাধীন পতাকা এ দেশের ভূমিতে ওঠাতে সক্ষম হয়েছিলো।
সমগ্র দেশবাসীর আকাক্সক্ষা ও আত্মত্যাগের ফলেই স্বাধীনতা লাভ সক্ষম হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আমাদের দায়িত্ব পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশকে একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই মূলত স্বাধীনতার বীজ বপন করা হয়।
১৯৫২ সালে পুনরায় উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা দিলে ছাত্র জনতা পুনরায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
১৯৬৫ সালে মৌলিক গণতন্ত্রের নামে আইয়ুব খান এক প্রহসনের নির্বাচন দিয়ে এ দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে নেয়। তখন থেকেই স্বাধীনতা আদায়ের আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। বাঙালির স্বাধীনতার আদাযের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উদযাপিত হয়।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতা সংগ্রাম,, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম বলে জাতিকে মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। সারা বাংলায় শুরু হয় তুমুল আন্দোলন।
২৫শে মার্চ রাতের অন্ধকারে হানাদার বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে বিপর্যস্ত জাতির স্বাধীনতা ঘোষিত, ২৬ শে মার্চ। ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন সেনাবাহিনীর মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন এবং মুক্তি সংগ্রামের ঘোষণা দেন।
২৫শে মার্চ ১৯৭১ সালে জাতীয় জীবনে নেমে আসে এক সংকটময় দিন। এক নারকীয় রাত্রির অন্ধকারে স্বাধীনতার অগ্নি তপস্যার নিমগ্ন ছিলো বাঙালি জাতি।
কিন্তু এ যাত্রাপথে ছিলো অতি বন্ধুর, এই অতি বন্ধুর পথটি পার হলে শেষ পর্যন্ত এই স্বাধীনতার মাধ্যমে চরম সার্থকতাটি অর্জিত হয়েছে।
এই স্বাধীনতা দারিদ্র সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মহান আদর্শে উদ্ভুব্ধ।
সমগ্র দেশবাসীর আকাক্সক্ষা ও আত্মত্যাগের ফলেই এই স্বাধীনতা লাভ সম্ভব হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
জাতীয় জীবনে স্বাধীনতা যেমন তাৎপর্য বহন করে তেমনি লক্ষ লক্ষ ক্লিষ্ট ও আর্ত মানুষ জাতীয় পতাকাকে সমুন্নত রেখে নতুন জীবনকে পাথেয় করে নিজেদের গড়ার শপথ নিয়ে যেনো এগুতে পারে সেদিকে লক্ষ্য থাকাতে হবে।
স্বাধীনতা জাতীয় জীবনের অমূল্য সম্পদ। স্বাধীন থাকার মর্যাদা ও গৌরব অতুলনীয়। কোন জাতিকেই জন্মভূমির জন্য এমনভাবে আত্মত্যাগ করতে হয়নি।
স্বাধীনতার ইতিহাসে বাঙালিরা এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করে। এ সূচনা বিশ্বের প্রতিটি স্বাধীনতা কামী মানুষের জন্য এক অভিনব প্রেরণার উৎস।
এ দেশের মানুষকে সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় সংগ্রাম করতে হয়েছে এক শক্তিশালী বাহিনীর বিরুদ্ধে। অবশেষে তারা এ সংগ্রামে জয়ী হয়েছে। ফলে আমরা লাভ করেছি একটি স্বাধীন স্বার্বভৌম দেশ, বাংলাদেশ এবং আমাদের স্বাধীনতার লাল সূর্যকে।

 

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT