মহিলা সমাজ

জীবন থেকে পাওয়া

সোনিয়া আলম প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৩-২০২০ ইং ০১:০৯:১৮ | সংবাদটি ৩৯ বার পঠিত


প্রেমে ছ্যাকা খেয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে উন্মাদ হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে, এমন যুবতীর সংখ্যা এদেশে অনেক। পরস্পরের প্রতি জীবনপণ ভালবাসা এবং পরিণত পর্যায়ে একজনের প্রতারণা, সেই ভালোবাসা বাসির সূচনালগ্ন থেকেই সমান্তরালভাবে চলে আসছে, দুটোই পুরনো এবং প্রতিষ্ঠিত। স্থান কাল পাত্র ভেদে প্রেম ও প্রতারণার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে নন্দিত ও নিন্দিত রূপে, চেনা জানা কর্মকান্ডে। ব্যতিক্রম গত ০৮ ফেব্রুয়ারি ০৭ সংখ্যা চিকিৎসা সাময়িকীর ‘জীবন থেকে নেয়া’ বিভাগের ‘অনন্ত প্রেম’ এর নায়িকা নয়নার সাথে সজলের প্রতারণার পদ্ধতিটি। যেমন প্রথমে নয়না সজলকে পাত্তা দেয়নি এই আক্রোশে সে নয়নার সাথে দীর্ঘ ৫ বছর ভালোবাসার অভিনয় করে ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে পরিকল্পিতভাবে নয়নাকে বাগিয়ে নিয়ে ওর নারীত্ব হরণ করে মাথার একগোছা চুল কেটে রেখে একটি চিরকুটের মাধ্যমে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নয়নাকে কোনদিন সে ভালোবাসেনি। গত রাতে বহু দিনের লালিত আশা পূরণ করেছে মাত্র। দুঃখবোধ করেছে ভ্যালেন্টাইন নাইটে আরেকজনকে ঠকানোর জন্য যে তার বউ হবে। মনে রাখতে বলেছে বিয়ের আগে যে নারী তার সর্বস্ব বিকিয়ে দেয় অন্যের কাছে, তার অহংকার করার কিছু থাকে না। তাকে ঘৃণা করা যায় বউ হিসেবে বিয়ে করে ঘরে তোলা যায় না। কোন রাখঢাক নেই তার বক্তব্যে। অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে বলেছে তার মনের কথা। নির্মমভাবে দিয়েছে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত। সাবাশ তার সততা আর নিষ্ঠা। এক রাতে দুজনকে দুইভাবে প্রতারিত করেছে মাত্র। একজনকে নষ্ট করার, অপরজনকে বিয়ে করার জন্য অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা স্বীকার করে অর্ধেক সাফল্য অর্জন করে সে সপ্তাহেই পালিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসে, পূর্ণ সাফল্য লাভের মানসে। সে কিনা কলেজ ছাত্র, আলোকিত অঙ্গনে যার বিচরণ। বিদ্যাসাগর বেঁচে থাকলে বিদ্যার্জন কেন্দ্রিক এ প্রতারণার দায়ে অর্ধচন্দ্র উপহার দিতেন নিশ্চয়। ভালোবাসায় আবিষ্ট নিশ্চিত নির্ভরতায় নিবেদিত প্রাণ এক তরুণীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অপকৌশলে উদ্বুদ্ধ করে সদৃচ্ছা ভোগ তথা নিজেই নষ্ট করে উল্টো তাকে নষ্ট বলা সত্যের অপলাপ নয় শুধু ধৃষ্টতাও। নয়নার প্রেম ছিল নিখাঁদ, প্রথমে তাকে এড়িয়ে চলা, পরে দেখে শুনে আকৃষ্ট হওয়া, ভেবে চিন্তে মন দেয়াই এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ। নয়না নষ্ট হলে সজলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের প্রয়োজন হত না। সুতরাং উদ্দেশ্য প্রণোদিত এই প্রেম ও প্রতারণার সমস্ত দায়ভার তো বটেই এর মধ্যে কোন কৃতিত্ব থাকলে সেটাও এককভাবে সজলের ড: ইউনুস ও গ্রামীণ ব্যাংকের ন্যায় যৌথ নয়। সজলের অনুরোধে নয়না বাড়ির কাছে এসে খামটি খুলে দেখতে পায় পাঁচশত টাকার দুটো নোটও কথিত চিরকুট খানা। পড়েই রাগে দুঃখে তা ছুড়ে ফেলে, নয়নার বোন তা কুড়িয়ে নেয়। রিকশা থেকে দৌড়ে নেমে মাকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মা আমি নষ্ট হয়ে গেছি। মা আমি........ সেই থেকে নয়না পাগল, শিকল, পায়ে ঘরের বারান্দায় আবদ্ধ। অপরিচিত দর্শনার্থীর প্রতি তার সক্রোধ প্রশ্ন? তুই আমায় নষ্ট করলি ক্যান? নয়নার কেটে রাখা চুলগুচ্ছ দেখিয়ে কোন অর্বাচীনের বাহবা কুড়ানো গেলেও সভ্য সমাজের স্বীকৃতি পাবে না। এটা পল্লী গাঁয়ের গৃহ বিবাদের মৌখিক আস্ফালন, সতীনের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ। প্রশ্ন জাগে কেন এ প্রতারণা, কিইবা এত শত্রুতা অবলা অসহায় এক মেয়ের সাথে? সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে (মনে মনে চ্যালেঞ্জ) কারো সর্বনাশ করার মধ্যে বীরত্বই বা কি? সজলের কাপুরুষোচিত এ কার্যকলাপের ফলে ব্যক্তি নয়নার জীবন নয় শুধু, গোটা পরিবারটিই যে বিধ্বস্ত হয়ে গেল, লঘু পাপে গুরুদন্ড নয় কি? মন্দের ভাল হত সজল যদি নয়নার সর্বস্ব লুন্ঠন করে নীরবে চলে যেত বিদেশ। প্রবাসে থাকাকালীন নয়নার সাথে সর্ব প্রকার যোগাযোগ এড়িয়ে চলত সুকৌশলে। নয়না তার ভুলের মাশুল গুনত ধীরে সুস্থে, প্রত্যাখ্যাত প্রেমের ধকলটা সয়ে নিত সময়ের বিবর্তনে। সেই অবসরে সে দেশে এসে অন্য জনকে বিয়ে করে নিত। ভালবাসার অনাবিল আনন্দ, ঘৃণার মধ্যে গ্লানি। ক্ষমায় মহত্ব, প্রতিরোধে হিংস্রতার। ভালর বিপরীতে যা কিছু তা বর্জন মানবতার মহৎ গুণটি অর্জন ও লালন করা কর্তব্য। মনের সাথে মুখের সমন্বয় সাধন আরো জরুরি। অনন্ত প্রেমের নায়ক সজলের কর্মকান্ডে নেতিবাচক দিকটাই প্রকট। স্রেফ মানবতার খাতিরে নয়নার জন্য ইতিবাচক কোন পদক্ষেপ নেয়া যায় কিনা ভেবে দেখবেন। অন্যথায় প্রত্যেকটা ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া সমান ও বিপরীত মহাবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন এর অভ্রান্ত এ মতবাদের প্রতিক্রিয়ায় আপনার জীবনেও ঘটে যেতে পারে মহাবিপর্যয়। যার প্রতিকারের পথ খুঁজে পাবেন না তখন। নয়নাকে বলার তেমন কিছু নেই, সে অপ্রকৃতিস্থ। প্রেমিকের প্ররোচনায় বান্ধবীর বিয়েতে যাবার কথা বলে ভ্যালেন্টাইন ডে তে ডেটিং করতে জন মানব শূন্য এক বাড়িতে অবস্থান ও পাকা গৃহিনীর মত রান্না-বান্না করত: হবু বরফে খাওয়ানোর পরে তার গা ঘেষে এক সোফায় বসে অসংকোচে ইন্ডিয়ান ফিল্ম দেখা অথচ ব্লু ফিল্ম দেখতে লজ্জাবোধ ও শরীরি আবেদনে অসম্মতি প্রদান নাচতে নেমে ঘোমটা টানার শামিল। সজলের সেদিনের আচরণে রহস্যময়তা ছিল অনেক, নয়না তা গায়ে মাখেনি ভালোবাসা বোধ হয় সত্যিই অন্ধ তাই ওর চাতুরী চোখে পড়েনি। সে মনে প্রাণে সজলকে ভালোবেসেছিল। তাই উচ্চাসিত আবেগে তাড়িত হয়েছে, বিবেক দ্বারা চালিত হয়নি। এছাড়া প্রগাঢ় প্রেমের সাথে বিশ্বাস অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত, বিশ্বাসের প্রাবল্যে সন্দেহ দানা বাধেনি, কুট কৌশলকে কৌতুক মনে করেছে। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। বান্ধবীর বিয়েতে যাচ্ছি, আজ আসব না এ সংবাদটুকুই কি সোমও মেয়েকে একাকী বাইরে রেখে কোন মা-বাবার নাক-ডাকা ঘুমের জন্য যথেষ্ট। কোথাকার কোন বান্ধবীর বিয়ে! সত্যিই কি বিয়েতে যাচ্ছে, আর গেলেই বা কি? সেখানে কি কোন অঘটন ঘটতে পারে না? তরুণী যুবতীদের নিরাপদ বলয়বৃত্ত। নয় বিয়ে বাড়ি বরং যুবক-যুবতীদের মনো দৈহিক সম্পর্ক তৈরির অনুকূল ক্ষেত্র অতএব নয়নার পদস্খলের জন্য সে নিজে তো বটেই, পরিবার, সমাজ ও যুগপৎভাবে দায়ী। নয়নার জন্য বেদনা বোধ করছি, কামনা করছি আর যেন কেউ এভাবে প্রতারিত না হয়। সজলের জন্য নিন্দাবাদের পাশাপাশি একটি উপদেশ প্রায়শ্চিত করলে আত্মগ্লানি দূর হবে, নয়নাও নব জীবন ফিরে পেতে পারে। মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি এই হোক সজলের সকলের প্রাণান্ত প্রয়াস।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT