বিশ্ব এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এটা নিয়েও চলছে অনেক অশুভ প্রতিযোগিতা। কী বিষাদ আমাদের চারিদিকে! করোনাভাইরাসে যারা আক্রান্ত এদের অধিকাংশই বয়স্ক! এটাই আপাতত পরিসংখ্যান! যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যেও সিংহভাগ বয়স্ক! যে বিষয়টি পরিলক্ষিত হচ্ছে- তা হলো যে কোনো মৃত্যুর কারণের লেজুড়েই এখন 'করোনাভাইরাস' যোগ করে দেয়া হচ্ছে! ভীতির ত্রাস তৈরি করা হচ্ছে। বিষয়টি যেন এমন, এত জন করোনাভাইরাসে মারা গেছে তা প্রমাণ করতেই হবে! এর কারণ কি? আমি এখানে দুটি উদাহরণ দিই। সিলেটে ইংল্যাণ্ড থেকে আগত একজন মহিলা করোনাভাইরাসে মারা গেছেন বলে ফেসবুকে খবর রটিয়ে দেয়া হয়। এর প্রকৃত রিপোর্ট আসে পরে। এই রিপোর্ট থেকে জানা যায়- করেনাভাইরাস আক্রান্ত কিনা এমন তথ্য জানার আগেই ওই যুক্তরাজ্য প্রবাসী মহিলার মৃত্যু হয়েছে। ওই মহিলার মৃত্যুর আগে ও পরে কয়েক দফা নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছিল।
সেই রিপোর্ট এখনও আসেনি। এদিকে এখন প্রচার করা হচ্ছে, ৬১ বছর বয়স্ক ওই মহিলা করোনাভাইরাসে মারা যান নি! আরেকটি ঘটনা ঢাকার মীরপুরের। বয়স্ক ভদ্রলোক যে বাসায় থাকতেন, সেটি লকডাউন করা হয়েছে। করোনাভাইরাসে বাবার মৃত্যু নিয়ে তাঁর ছেলে নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। ইকবাল আব্দুল্লাহ নামের ওই পোস্টদাতা তার পোস্টে লিখেছেন- ''গত ১৬ তারিখে আব্বা অসুস্থ বোধ করলে আমাদের ড্রাইভার ওই দিন বিকেলে তাঁকে কল্যাণপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসে। ওই সময় আমরা ভাইয়েরা সবাই অফিসে। আমি অফিস থেকে বাসায় এসে শুনলাম ডাক্তার ধারণা করছে উনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং কোভিড ১৯ টেস্ট এর জন্য প্রস্তাব করেছে। অতঃপর ওই রাত্রেই আমরা টেস্ট এর জন্য (আইইডিসিআর) এর হান্টিং নম্বরে ফোন দেওয়া শুরু করি। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তাদের সঙ্গে আমরা কমিউনিকেশন করতে সমর্থ হই, তারা আমাদের জানায় যেহেতু অসুস্থ ব্যক্তি বিদেশ ফেরত না এবং বিদেশ ফেরত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে উনি আসেন নাই সেহেতু এই টেস্ট ওনার জন্য প্রযোজ্য নয়, আমি তাদের বলেছিলাম উনি মসজিদে যায় এবং ওখান থেকে এই ভাইরাস আসতে পারে কিনা তারা আমাদের বলেছেন যে এই ভাইরাস বাংলাদেশে কমিউনিটিতে মাস লেভেলে এখনো সংক্রমিত হয়নি সুতরাং আপনারা চিন্তা করেন না, এটা সাধারণ শ্বাস কষ্টের প্রবলেম।''
এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে সরকারের 'রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান' (আইইডিসিআর) বিষয়টিকে প্রথমেই সিরিয়াসভাবে নেয়নি কেন? কেন তারা গড়িমসি করেছিল? ওই পোস্টদাতা আরও লিখেছেন- ''১৮ তারিখ দুপুর থেকে আমরা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইইডিসিআর এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি কিন্তু ব্যর্থ হই। অতঃপর ১৯ তারিখ বিকেলে আইইডিসিআর রাজি হয় এবং রাত্রে টেস্ট করে এবং পরের দিন ২০ তারিখ দুপুরে আইইডিসিআর আমাদের জানায় যে রিপোর্ট পজিটিভ। আমাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলে ১৫ দিন। রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর থেকে ওই হাসপাতাল আমাদের প্রেশার দিতে থাকে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়ার অনুমোদন দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা অনুমতি না দিয়ে তাদের বলতে থাকি ট্রিটমেন্ট দিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তারা আর রোগীর কাছেও যায়নি এবং আমাদের আইসিইউ এর ভেতর ঢুকতেও দেয়নি। যা হোক আমার আব্বু অবশেষে ২১ তারিখ ভোর তিনটার সময় ইন্তেকাল করে।
আমরা সন্তানরা ব্যর্থ, পিতার সঠিক ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করতে এবং এমনকি তার জানাজা তে আমরা উপস্থিত থাকতে পারি নাই। সন্তান হিসেবে, একজন পুত্র হিসেবে এর চেয়ে কঠিন কষ্ট আর কিছুই হতে পারে না। আমার বুকে পাথর বেঁধে বাসায় অবস্থান করছি সরকারের আইন মেনে ১৫ দিন। কিন্তু কিছু পেজ এবং ফ্রন্ট লাইনের মিডিয়া আমাদের নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে আমার ভগ্নিপতি বিদেশ থেকে আমাদের বাসায় এসেছে, যেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমার দুই ভগ্নিপতি, বড় বোন এবং তার স্বামী চিটাগং এর দুটি সরকারি কলেজের অধ্যাপক। অন্য ভগ্নিপতি জাপান থাকে। সে গত এক বছরের মধ্যে আসে নাই, আমার বাবা যেদিন আইসিইউতে লাইফ সাপোর্ট এ চলে যায় সে দিন মানে ১৯ তারিখে আমার বড় বোন এবং বড় দুলাভাই চিটাগং থেকে আমাদের বাসায় আসে এবং তারাও হোম কোয়ারেন্টাইন পালন করছে।''
দেখা যাচ্ছে, ঢাকার বেশ কিছু হাসপাতাল রোগীদের সেবা দেয়ার নামে দায়িত্বহীন আচরণ করছে। এটা মানা যায় না। শুরু থেকেই একজন রোগীর যথাযোগ্য সেবা পাওয়া রোগীর অধিকার।
দেশে তো বটেই, বিদেশেও চলছে একধরণের আবছায়া অবস্থা। কে কোথায় কি রোগে মারা যাচ্ছে, এর সঠিক পরিসংখ্যান আছে বলে আমার মনে হচ্ছে না। করোনাভাইরাস একজন রোগীকে আক্রমণ করে ঠিকই, কিন্তু ওই রোগীর শারীরিক সিস্টেম অন্য কোনো রোগাক্রান্ত কী না- তা জানার উপায় নেই!এখানে তার প্রাইভেসি বলে কথা!
আপাতত সেল্ফ কোয়ারেন্টাইনের নামে মানুষের হল্লা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। খুব দরকারি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হচ্ছে। এটা সকলেরই মানা উচিৎ। কারণ করোনাভাইরাসের গন্তব্য কি এর শেষ কোথায় তা স্পষ্ট করে কেউই কিছু বলছে না, বলতে পারছে না। ব্যবসা-বাণিজ্যে যে ধ্বস নামছে- তা পুষিয়ে উঠতে বিশ্বকে কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, এটাও প্রায় অনিশ্চিত। হ্যাঁ, একটি কথাই বলা যায়- যারা সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি জানেন ও বুঝেন, খেলার নাটাই তাদের হাতেই। মানুষকে নাক, চোখ, কান খাড়া রেখে সতর্ক থাকতে হবে।
আপাতত এর বেশি কিছুই বলার নাই। কারণ পরিস্থিতি পরিবর্তিত হচ্ছে প্রতিদিনই। সময় আমাদের উদ্বাস্তু করে রেখেছে নিজগৃহেই। প্রকৃতি যে সবই পারে, এটি তারই একটি বড় উদাহরণ।
লেখক : কবি, কলামিস্ট।

'/> SylheterDak.com.bd
উপ সম্পাদকীয়

নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন

ফকির ইলিয়াস প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৩-২০২০ ইং ০১:১৭:৫৭ | সংবাদটি ৪৬১ বার পঠিত
Image


আমি এমনিতেই নিজের অবস্থান লুকিয়ে রাখতে বেশি পছন্দ করি। সুখের কথাগুলো শেয়ার করাই যায়! কিন্তু বেদনার কথাগুলো? না- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের শারীরিক হালচাল পোস্ট করে দেয়ার পক্ষপাতি নই আমি। একবারের একটি ঘটনা বলি। বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। হঠাৎ দেখি, তিনি তার মেয়ের বিদেশের পাওয়া ভিসার পাতাটি পুরো স্ক্যান করে ফেসবুকে দিয়েছেন! পাসপোর্ট নম্বর, জন্ম তারিখ, ভিসা নম্বর-মেয়াদ ইত্যাদি সবই পড়া যাচ্ছে! দেখে খুব অবাক হলাম। ইনি বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর নাগরিক! তিনিও এটি করতে পারেন? তাকে ইনবক্সে বুঝিয়ে বললাম, এটি সরিয়ে নিন।তিনি ভুল বুঝতে পেরে এটি সরিয়ে নিলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে আমার কাছে সবসময়ই অরক্ষিত মনে হয়। অনেক সময়ই এটা বেইসলেস হিসেবে প্রমাণিত হয়। এর কারণ কি? কারণ হচ্ছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। কার আগে কে দেবে? কার আগে কে 'ব্রেকিং নিউজ' বাজারে ছাড়বে! একটি হাতফোন মানেই একটি মিডিয়া। ছবি তোলা যাচ্ছে, নিউজ ছড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে ফেসবুকে,টুইটারে,ইনস্টিগ্রামে।লাইভে আসা যাচ্ছে। এই যে মিডিয়াদৌড়, তা মানুষকে অশান্ত করে তুলেছে।
বিশ্ব এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এটা নিয়েও চলছে অনেক অশুভ প্রতিযোগিতা। কী বিষাদ আমাদের চারিদিকে! করোনাভাইরাসে যারা আক্রান্ত এদের অধিকাংশই বয়স্ক! এটাই আপাতত পরিসংখ্যান! যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যেও সিংহভাগ বয়স্ক! যে বিষয়টি পরিলক্ষিত হচ্ছে- তা হলো যে কোনো মৃত্যুর কারণের লেজুড়েই এখন 'করোনাভাইরাস' যোগ করে দেয়া হচ্ছে! ভীতির ত্রাস তৈরি করা হচ্ছে। বিষয়টি যেন এমন, এত জন করোনাভাইরাসে মারা গেছে তা প্রমাণ করতেই হবে! এর কারণ কি? আমি এখানে দুটি উদাহরণ দিই। সিলেটে ইংল্যাণ্ড থেকে আগত একজন মহিলা করোনাভাইরাসে মারা গেছেন বলে ফেসবুকে খবর রটিয়ে দেয়া হয়। এর প্রকৃত রিপোর্ট আসে পরে। এই রিপোর্ট থেকে জানা যায়- করেনাভাইরাস আক্রান্ত কিনা এমন তথ্য জানার আগেই ওই যুক্তরাজ্য প্রবাসী মহিলার মৃত্যু হয়েছে। ওই মহিলার মৃত্যুর আগে ও পরে কয়েক দফা নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছিল।
সেই রিপোর্ট এখনও আসেনি। এদিকে এখন প্রচার করা হচ্ছে, ৬১ বছর বয়স্ক ওই মহিলা করোনাভাইরাসে মারা যান নি! আরেকটি ঘটনা ঢাকার মীরপুরের। বয়স্ক ভদ্রলোক যে বাসায় থাকতেন, সেটি লকডাউন করা হয়েছে। করোনাভাইরাসে বাবার মৃত্যু নিয়ে তাঁর ছেলে নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। ইকবাল আব্দুল্লাহ নামের ওই পোস্টদাতা তার পোস্টে লিখেছেন- ''গত ১৬ তারিখে আব্বা অসুস্থ বোধ করলে আমাদের ড্রাইভার ওই দিন বিকেলে তাঁকে কল্যাণপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসে। ওই সময় আমরা ভাইয়েরা সবাই অফিসে। আমি অফিস থেকে বাসায় এসে শুনলাম ডাক্তার ধারণা করছে উনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং কোভিড ১৯ টেস্ট এর জন্য প্রস্তাব করেছে। অতঃপর ওই রাত্রেই আমরা টেস্ট এর জন্য (আইইডিসিআর) এর হান্টিং নম্বরে ফোন দেওয়া শুরু করি। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তাদের সঙ্গে আমরা কমিউনিকেশন করতে সমর্থ হই, তারা আমাদের জানায় যেহেতু অসুস্থ ব্যক্তি বিদেশ ফেরত না এবং বিদেশ ফেরত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে উনি আসেন নাই সেহেতু এই টেস্ট ওনার জন্য প্রযোজ্য নয়, আমি তাদের বলেছিলাম উনি মসজিদে যায় এবং ওখান থেকে এই ভাইরাস আসতে পারে কিনা তারা আমাদের বলেছেন যে এই ভাইরাস বাংলাদেশে কমিউনিটিতে মাস লেভেলে এখনো সংক্রমিত হয়নি সুতরাং আপনারা চিন্তা করেন না, এটা সাধারণ শ্বাস কষ্টের প্রবলেম।''
এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে সরকারের 'রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান' (আইইডিসিআর) বিষয়টিকে প্রথমেই সিরিয়াসভাবে নেয়নি কেন? কেন তারা গড়িমসি করেছিল? ওই পোস্টদাতা আরও লিখেছেন- ''১৮ তারিখ দুপুর থেকে আমরা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইইডিসিআর এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি কিন্তু ব্যর্থ হই। অতঃপর ১৯ তারিখ বিকেলে আইইডিসিআর রাজি হয় এবং রাত্রে টেস্ট করে এবং পরের দিন ২০ তারিখ দুপুরে আইইডিসিআর আমাদের জানায় যে রিপোর্ট পজিটিভ। আমাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলে ১৫ দিন। রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর থেকে ওই হাসপাতাল আমাদের প্রেশার দিতে থাকে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়ার অনুমোদন দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা অনুমতি না দিয়ে তাদের বলতে থাকি ট্রিটমেন্ট দিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তারা আর রোগীর কাছেও যায়নি এবং আমাদের আইসিইউ এর ভেতর ঢুকতেও দেয়নি। যা হোক আমার আব্বু অবশেষে ২১ তারিখ ভোর তিনটার সময় ইন্তেকাল করে।
আমরা সন্তানরা ব্যর্থ, পিতার সঠিক ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করতে এবং এমনকি তার জানাজা তে আমরা উপস্থিত থাকতে পারি নাই। সন্তান হিসেবে, একজন পুত্র হিসেবে এর চেয়ে কঠিন কষ্ট আর কিছুই হতে পারে না। আমার বুকে পাথর বেঁধে বাসায় অবস্থান করছি সরকারের আইন মেনে ১৫ দিন। কিন্তু কিছু পেজ এবং ফ্রন্ট লাইনের মিডিয়া আমাদের নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে আমার ভগ্নিপতি বিদেশ থেকে আমাদের বাসায় এসেছে, যেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমার দুই ভগ্নিপতি, বড় বোন এবং তার স্বামী চিটাগং এর দুটি সরকারি কলেজের অধ্যাপক। অন্য ভগ্নিপতি জাপান থাকে। সে গত এক বছরের মধ্যে আসে নাই, আমার বাবা যেদিন আইসিইউতে লাইফ সাপোর্ট এ চলে যায় সে দিন মানে ১৯ তারিখে আমার বড় বোন এবং বড় দুলাভাই চিটাগং থেকে আমাদের বাসায় আসে এবং তারাও হোম কোয়ারেন্টাইন পালন করছে।''
দেখা যাচ্ছে, ঢাকার বেশ কিছু হাসপাতাল রোগীদের সেবা দেয়ার নামে দায়িত্বহীন আচরণ করছে। এটা মানা যায় না। শুরু থেকেই একজন রোগীর যথাযোগ্য সেবা পাওয়া রোগীর অধিকার।
দেশে তো বটেই, বিদেশেও চলছে একধরণের আবছায়া অবস্থা। কে কোথায় কি রোগে মারা যাচ্ছে, এর সঠিক পরিসংখ্যান আছে বলে আমার মনে হচ্ছে না। করোনাভাইরাস একজন রোগীকে আক্রমণ করে ঠিকই, কিন্তু ওই রোগীর শারীরিক সিস্টেম অন্য কোনো রোগাক্রান্ত কী না- তা জানার উপায় নেই!এখানে তার প্রাইভেসি বলে কথা!
আপাতত সেল্ফ কোয়ারেন্টাইনের নামে মানুষের হল্লা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। খুব দরকারি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হচ্ছে। এটা সকলেরই মানা উচিৎ। কারণ করোনাভাইরাসের গন্তব্য কি এর শেষ কোথায় তা স্পষ্ট করে কেউই কিছু বলছে না, বলতে পারছে না। ব্যবসা-বাণিজ্যে যে ধ্বস নামছে- তা পুষিয়ে উঠতে বিশ্বকে কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, এটাও প্রায় অনিশ্চিত। হ্যাঁ, একটি কথাই বলা যায়- যারা সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি জানেন ও বুঝেন, খেলার নাটাই তাদের হাতেই। মানুষকে নাক, চোখ, কান খাড়া রেখে সতর্ক থাকতে হবে।
আপাতত এর বেশি কিছুই বলার নাই। কারণ পরিস্থিতি পরিবর্তিত হচ্ছে প্রতিদিনই। সময় আমাদের উদ্বাস্তু করে রেখেছে নিজগৃহেই। প্রকৃতি যে সবই পারে, এটি তারই একটি বড় উদাহরণ।
লেখক : কবি, কলামিস্ট।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য
  • আল্লামা আহমদ শফী চলে গেলেন
  • কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির নব্য রূপকার
  • স্মরণ:ডা. দেওয়ান নূরুল হোসেন চঞ্চল
  • কোভিড-১৯ এর সম্মুখ সমরে লড়ছে জিন প্রকৌশলীরা
  • মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে তুরস্কের প্রভাব
  • বৃদ্বাশ্রম
  • পুষ্টি-অপুষ্টি প্রসঙ্গ
  • পুষ্টি-অপুষ্টি প্রসঙ্গ
  • সত্য যখন উক্তি হয়ে ফিরে আসে
  • প্রসঙ্গ : মহামারিতে ধৈর্য ধারণ
  • মা-বাবার সাথে থাকি
  • নব্যউদারনীতিবাদ নিয়ে কিছু কথা
  • মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  • বাউল সম্রাট ও গ্রামীণ সংস্কৃতি
  • সমাজসেবা ও দেশপ্রেম
  • ক্ষণজন্মা সৈয়দ মহসীন আলী
  • শিক্ষার সাথে চরিত্র গঠনও প্রয়োজন
  • জাতীয় প্রবীণ নীতিমালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
  • ম. আ. মুক্তাদির : বিপ্লবীর স্বপ্নের দেশ
  • Image

    Developed by:Sparkle IT