ড. টেড্রস বলেন, মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকতে বলা এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো পদক্ষেপ ভাইরাসের সংক্রমণের গতি কমিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু এগুলোকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি জিততে সাহায্য করবে না।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দেশগুলোকে আগ্রাসী ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ডা. টেড্রস। জয় পেতে হলে আমাদের আগ্রাসী আর সুনির্দিষ্ট কৌশল গ্রহণ করতে হবে- প্রতিটি সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরীক্ষা করতে হবে, শনাক্ত হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইসোলেশন ও যত্নে রাখতে হবে এবং আর তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে।
তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে চিকিৎসা কর্মীদের আক্রান্ত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ড. টেড্রস। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামাদি বা পিপিই পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকার কারণেই সংক্রমণের শিকার হয়েছেন তারা। তিনি সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা তখনই তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন, যখন তারা নিজেরা নিরাপদে থাকতে পারবেন।
আমরা যদি অন্য সবকিছুই ঠিকঠাক করি; কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করি, তা হলে অনেক মানুষ মারা যাবে। কারণ যে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের সেবা দিতেন তারাই অসুস্থ। তিনি বলেন, পিপিইকে অগ্রাধিকার দেয়া এবং এর গুরুত্ব নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর অংশীদারদের সঙ্গে মিলে কাজ করছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে এর সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরা হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে জি-২০ জোটভুক্ত নেতাদের তিনি আহ্বান জানাবেন, তারা যাতে সুরক্ষা সরঞ্জামাদি উৎপাদন বাড়ায় এবং সেগুলো রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সোমবার রাতে ঘোষণা দেন যে, সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কাউকে ঘরের বাইরে বের হতে দেয়া হবে না।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে- নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা, প্রতিদিন এক ধরনের ব্যায়াম করা, যে কোনো চিকিৎসাসেবার জন্য এবং ঘরে থেকে কাজ করা সম্ভব না হলে কাজে যাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষজন বের হতে পারবে।
বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইতালিতে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৬০২ জন। সব মিলিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬০৭৭ জনে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবারের পর এই প্রথম একদিনে কমসংখ্যক মানুষ মারা গেল। ধারণা করা হচ্ছে যে, সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছিল তা কাজ করতে শুরু করেছে।
স্পেনে একদিনে মারা গেছে ৪৬২ জন, যা মিলিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২১৮২ জনে। ফ্রান্সে নতুন করে মারা যাওয়া ১৮৬ জনসহ মোট মৃতের সংখ্যা ৮৬০ জন। সেখানে মঙ্গলবার থেকে লকডাউন কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শরীরচর্চার মতো কার্যক্রম কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে এবং খোলাবাজার বন্ধ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সদস্য ডিক পাউন্ড বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে টোকিও অলিম্পিক এক বছর পেছানো হতে পারে। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি আইওসি।

'/> SylheterDak.com.bd
শেষের পাতা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হুঁশিয়ারি

দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে মহামারী করোনা

প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০৩-২০২০ ইং ০২:২০:৩১ | সংবাদটি ৪৮ বার পঠিত


ডাক ডেস্ক : করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট মহামারী আরও বেগবান হয়ে বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে হুশিয়ার করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোভিড-১৯ রোগে এ পর্যন্ত তিন লাখের বেশি মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছেন সাড়ে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। খবর বিবিসির।
প্রাণঘাতী এ আক্রান্ত হওয়া প্রথম ব্যক্তি থেকে শুরু করে এই সংখ্যা এক লাখে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল ৬৭ দিন। পরের মাত্র ১১ দিনে আরও এক লাখ মানুষ আক্রান্ত হন এবং এর পরের এক লাখে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র চার দিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ড. টেড্রস অ্যাডহানম গেব্রেইয়েসুস আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এখনও এর গতিপথ পাল্টে দেয়া সম্ভব।
কোভিড-১৯ শনাক্তের পরীক্ষা ও আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কৌশলের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান বিশ্ববাসীকে। তিনি বলেন, আমরা কী পদক্ষেপ নিই, সেটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়ে একটি ফুটবল ম্যাচ জেতা যায় না। প্রতিরক্ষার সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণও করতে হবে। ফুটবল খেলোয়াড়দের নিয়ে 'কিক আউট করোনাভাইরাস' বা করোনাভাইরাসকে দূর কর- এমন একটি কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিফার প্রেসিডেন্ট গিয়ান্নি ইনফানটিনোর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ড. টেড্রস বলেন, মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকতে বলা এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো পদক্ষেপ ভাইরাসের সংক্রমণের গতি কমিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু এগুলোকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি জিততে সাহায্য করবে না।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দেশগুলোকে আগ্রাসী ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ডা. টেড্রস। জয় পেতে হলে আমাদের আগ্রাসী আর সুনির্দিষ্ট কৌশল গ্রহণ করতে হবে- প্রতিটি সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরীক্ষা করতে হবে, শনাক্ত হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইসোলেশন ও যত্নে রাখতে হবে এবং আর তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে।
তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে চিকিৎসা কর্মীদের আক্রান্ত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ড. টেড্রস। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামাদি বা পিপিই পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকার কারণেই সংক্রমণের শিকার হয়েছেন তারা। তিনি সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা তখনই তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন, যখন তারা নিজেরা নিরাপদে থাকতে পারবেন।
আমরা যদি অন্য সবকিছুই ঠিকঠাক করি; কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করি, তা হলে অনেক মানুষ মারা যাবে। কারণ যে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের সেবা দিতেন তারাই অসুস্থ। তিনি বলেন, পিপিইকে অগ্রাধিকার দেয়া এবং এর গুরুত্ব নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর অংশীদারদের সঙ্গে মিলে কাজ করছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে এর সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরা হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে জি-২০ জোটভুক্ত নেতাদের তিনি আহ্বান জানাবেন, তারা যাতে সুরক্ষা সরঞ্জামাদি উৎপাদন বাড়ায় এবং সেগুলো রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সোমবার রাতে ঘোষণা দেন যে, সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কাউকে ঘরের বাইরে বের হতে দেয়া হবে না।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে- নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা, প্রতিদিন এক ধরনের ব্যায়াম করা, যে কোনো চিকিৎসাসেবার জন্য এবং ঘরে থেকে কাজ করা সম্ভব না হলে কাজে যাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষজন বের হতে পারবে।
বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইতালিতে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৬০২ জন। সব মিলিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬০৭৭ জনে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবারের পর এই প্রথম একদিনে কমসংখ্যক মানুষ মারা গেল। ধারণা করা হচ্ছে যে, সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছিল তা কাজ করতে শুরু করেছে।
স্পেনে একদিনে মারা গেছে ৪৬২ জন, যা মিলিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২১৮২ জনে। ফ্রান্সে নতুন করে মারা যাওয়া ১৮৬ জনসহ মোট মৃতের সংখ্যা ৮৬০ জন। সেখানে মঙ্গলবার থেকে লকডাউন কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শরীরচর্চার মতো কার্যক্রম কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে এবং খোলাবাজার বন্ধ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সদস্য ডিক পাউন্ড বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে টোকিও অলিম্পিক এক বছর পেছানো হতে পারে। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি আইওসি।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • হবিগঞ্জে সামাজিক দূরত্ব মানছেন না সাধারণ মানুষ
  • হবিগঞ্জে করোনা পরীক্ষায়৮ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ
  • বিয়ানীবাজারে দুঃস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
  • জৈন্তাপুরে সর্বদলীয় খাদ্য ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত
  • আজমিরীগঞ্জের হাওর অঞ্চলে চিকিৎসা সহায়তা
  • জৈন্তাপুরে ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিনের পরিবারের উদ্যাগে খাদ্য সহায়তা বিতরণ
  • দিরাইয়ে সামছুল হক চৌধুরীর পক্ষে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
  • খাগড়াছড়িতে সেনাক্যাম্পে চিকিৎসা, আরও ৮ শিশু হাসপাতালে
  • ছবি
  • ছবি
  • ছবি
  • ছবি
  • করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দেশের সকল জেলায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন
  • সিলেটের চার জেলায় কোয়ারেন্টাইনে ২,১৭৬ জন
  • মহানগর আ’লীগের স্বাধীনতা দিবসের সকল অনুষ্ঠান স্থগিত
  • রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে পিপিইসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ
  • সিলেটেও কাল থেকে বন্ধ থাকবে গণপরিবহন
  • চীনের উহান থেকে লকডাউন উঠছে ৮ এপ্রিল
  • দোকানপাট বন্ধ
  • নগরীর হাউজিং এস্টেটে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা বৃদ্ধের মৃত্যু
  • Developed by: Sparkle IT