সম্পাদকীয় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব

সব দেশ পারলে বাংলাদেশ পারবে না কেন

হাবিবুর রহমান, ফ্রান্স থেকে : প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৪-২০২০ ইং ১৪:৩৩:৩৩ | সংবাদটি ৫৩৮ বার পঠিত
Image

সদা ব্যস্ত পর্যটন নগরীগুলোসহ সব ক’টি জনপদ কার্যতঃ জনশূণ্য - মৃতপ্রায়। স্থানীয় বাসিন্দারাও কঠোর কোয়ারান্টাইনে থাকায় রাজপথ-ফুটপাত, উদ্যানগুলো প্রায়ই ফাঁকা। নাইট ক্লাব, সিনেমা, থিয়েটারসহ সব ধরনের চিত্ত বিনোদনের স্থান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ। প্রতিদিনের দেখা এত এত মানুষ সবাই যেন নিজেদেরকে খোলসের মধ্যে লুকিয়ে রাখতে ব্যস্ত। জরুরী প্রয়োজনে কেউ বাইরে বের হলেও কঠোরভাবে নিরাপত্তা দূরত্ব মেনে চলছেন। আশপাশে সবারই চকিত দৃষ্টি, মনে সন্দেহের ঢেউ। কেউ ভুলক্রমে আরেকজনের কাছাকাছি এসে পড়লে, অন্যজন চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে দ্রুতই সরে যাচ্ছেন। এক অজানা ভয়-সন্দেহ সবাইকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। মানুষ চলাচলের সম্ভাব্য সব রাস্তায় পুলিশসহ আধা সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি। সাদা পোষাকেও নিরাপত্তা কর্মীদের বিচরন। এ যেন একধরনের যুদ্ধকালীন অবস্থা। হাঁ, ঠিকই এটা যুদ্ধ - নতুন মরণব্যাধী কোভিড-১৯, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে। এ পর্যন্ত কোন যুদ্ধেও ধারাববিকভাবে এত বিপুল সংখ্যক লোকের মৃত্যু হয়নি। বিভিন্ন দেশের স্থানীয় টিভি চ্যানেলগুলোর সৌজন্যে ঘন্টায় ঘন্টায় এই চিত্র চোখের সামনে ভেসে উঠছে। ইউরোপ যেন দিনকে দিন মৃত্যুপূরীর দিকে ধাবিত হচ্ছে। ফ্রান্সে আছি অনেক দিন হলো। ফরাসীদের চোখে-মুখে এত হতাশা-অনিশ্চয়তা আগে কখনও দেখিনি। প্রতিদিনই বাড়ছে মুত্যুর মিছিল। ৮ এপ্রিলও এদেশে ১হাজার ৪২৭ জন মারা গেছেন। এনিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০ হাজার ৩২৮। গৃহবন্দিত্বের মধ্যেও টেলিভিশনের সৌজন্যে দেখা কিছু কিছু দৃশ্য মানুষের হৃদয় ভেঙ্গে দিচ্ছে। স্থায়ী কিছু হাসপাতালের পাশাপাশি খোলা প্রান্তরে অস্থায়ীভাবে নির্মিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শতশত মানুষ ও প্লাস্টিকে মোড়ানো লাশের সেন্সর করা ছবি আসছে। এ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পদধ্বনি। প্যারিসসহ ফ্রান্সের প্রায় সব ক’টি জনপদেই এখন এই অস্বাভাবিক, ভয় জাগানিয়া চিত্র। বিশ্বের সব ক’টি দেশই এখন এ রোগ থেকে বাঁচতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে। ৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় ৮২ হাজার মানুষ মারা গেছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ ভাইরাসে আক্রান্ত। বাংলদেশ সরকারের দেওয়া তথ্য মতে, আমাদের দেশে করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত ১৬৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দেশে এই রোগের টেস্টের সুযোগ সীমিত। টেস্টেও কীটসহ চিকিৎসা সামগ্রীর প্রচন্ড অভাব। সরকারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে করোনা আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা জানা যাচ্ছে না। এটা শুধু বাংলাদেশেই নয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ উন্নত দেশগুলোতেও একই অবস্থা।

স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য রীতি-রেওয়াজ বিসর্জন

মানবিকতা ও সহমর্মিতার অনন্য সাধারণ গুণাবলীর জন্য ফরাসী জনগণের খ্যাতি রয়েছে। সদা কর্ম চঞ্চল ফরাসীরা একটু সময় হলেই কোথাও না কোথাও বেড়াতে যায়। তা নিজ দেশের ভেতরে কিংবা অন্য দেশে। এছাড়াও, প্রায় প্রতি মাসে কোন ছুটির দিনে আবার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে কাছাকাছি কোন স্থানে গিয়ে একসাথে খাওয়া-দাওয়া, নাচ-গান, হৈ-হুল্লোড় করে সময় কাটানো ফরাসীদের জাত বৈশিষ্ট্য। শুধু গরমের মৌসুম নয়, শীতেও তাদের এ ধরনের আয়োজনের কমতি নেই। অবশ্য তা ঘরের ভেতরে। আমাদের দেশে মিলনায়তনের মত ছোট-বড় অসংখ্য স্থান আছে প্রতিটি এলাকায়। প্যারিস থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ শ’ কিলোমিটার দূরত্বে সপরিবারে বসবাসের সুযোগে এ দেশের রীতি-রেওয়াজ, কৃষ্টি খুব কাছ থেকেই দেখার সুযোগ হয়েছে। সেই সাথে ফরাসীদের আন্তরিকতা ও ভালবাসায় সিক্ত হয়েছি। আসলে নগর জীবন নয়, প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদেই একটি দেশ-জাতির মানুষের প্রকৃত সত্ত্বা অনুভব করা যায়। গত অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এধরনের কয়েকটি স্থানে পরিবারসহ আমার যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। বাংলাদেশে বড় শহর কেন্দ্রিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধার মত এদেশে প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদেও তা বিদ্যমান। বরং কোন কোন ক্ষেত্রে বেশীই আছে। তাই ফরাসীরা শহরমুখী নয়, গ্রামমুখী। রাজধানী প্যারিসে তাই ফরাসীদের চেয়ে অভিবাসীদের সংখ্যাই বেশী দেখা যায়। ফরাসীদের একটি জনপ্রিয় রেওয়াজ হচ্ছে বিজু। এটা হলো - গালের সাথে গাল মিলানো। পরিচিত কোন মহিলার সাথে মহিলা অথবা পুরুষ অথবা শিশু-কিশোরদের দেখা হলেই বিজু দেওয়া ভদ্রতার অংশ। পুরুষের সাথে পুুরুষরা অবশ্য অন্য দেশের মতই হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই হৃদ্যতা, ভালবাসা হঠাৎ করেই যেন বন্ধ হয়ে গেল। মার্চের প্রথম সপ্তাহে রাষ্ট্রীয়ভাবে আসা এক ঘোষণায় হাজার বছরের ঐতিহ্য থেকে সবাই নিজেদের সংবরণ করে নেন। পরিচিত কারো সাথে হাত মিলানোও বন্ধ। অবশ্য, কেউ কেউ নতুন কায়দাও রপ্ত করে নেন। তা হচ্ছে, একজন ডান হাতের কনুইর সাথে অন্যজনের ডান হাতের কনুই’র হালকা স্পর্শ। তারপর দ্রুতই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মত, কমপক্ষে এক মিটার দূরত্বে দাঁড়িয়ে কথা বলতে অথবা হাটতে দেখা যায়। গত ১২ মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ’র ভাষণের পর থেকে দৃশ্যপট আরও কঠোরভাবে বদলে যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বেশীরভাগ কর্মক্ষেত্রই বন্ধ হয়ে যায়। শুধুমাত্র ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর দোকান সীমিত সময়ের জন্য খোলা রাখতে দেওয়া হচ্ছে। মানুষকে নিজ ঘরের মধ্যে কোয়ারেন্টাইন পালনের সিদ্ধান্ত অধিকাংশ জনগণই বিনা বাক্যে মেনে নেন। একান্ত জরুরী প্রয়োজনে লোকজন নির্দিষ্ট ফরমে নিজের নাম ঠিকানা ও উদ্দেশ্য লিখে বাইরে যান এবং সবাই নির্দিষ্ট দূরত্বসহ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বজায় রাখেন। অবশ্য বাংলাদেশের মত ফ্রান্সেও ফার্মেসী ও সুপারশপগুলো থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উধাও হয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা দেশে দেশে করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়লেও এটি ততটা প্রাণঘাতি নয়। মৃত্যু সংখ্যার চেয়ে আক্রান্ত মানুষের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠার হার অনেক বেশী। তারপরও মারাত্মক দিক হচ্ছে, দেশে দেশে এটি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে। পূর্ব থেকেই কোন না কোন কঠিন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যু ঘটাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত ভাইরাসটি তার গতি-প্রকৃতি পরিবর্তন করছে। এখনও এর প্রতিষেধক বা প্রতিরোধমূলক টিকা আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তাই সংক্রমিত ব্যক্তিদের বেশীরভাগইকে সাধারণ জ্বরের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। শ্বাস-প্রশ্বাসের সুবিধার জন্য অনেক রোগীকে অক্সিজেন ব্যবহার করতে দিতে হচ্ছে। ক্ষেত্র বিশেষে চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় এবং করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেকে দূরে রাখার জন্য কয়েকটি নির্দেশনা প্রদান করেছে। এগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে- হাত ও মুখমন্ডল গ্লাভস্ ও মাস্ক দিয়ে আবৃত রাখা, সাবান দিয়ে ঘন ঘন হাত ধৌত করা। জরুরী প্রয়োজনের বাইরে বের হলে একজন থেকে আরেকজনের নিরাপদ দূরত্ব, কমপক্ষে একমিটার দূরত্ব বজায় রাখা। হাত ভালভাবে জীবানুমুক্ত না করে নিজের মুখমন্ডল কোনভাবেই স্পর্শ না করা। নিশ্চিত বিপদমুক্তির আগ পর্যন্ত নিজেকে এবং পরিবারের সকল সদস্যকে ঘরের মধ্যে থাকা নিশ্চিত করা। অর্থাৎ স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিন করা। সংক্রমিত ব্যক্তিকে দ্রুত আইসোলেশন অথবা বিশেষায়িত চিকিৎসালয়ে স্থানান্তর।

ফ্রান্সসহ বিশ্বের সব ক’টি দেশেই মানুষ এই নির্দেশনা

মেনে চলছে এবং ফলও পাচ্ছে। বাংলাদেশেও সরকার জনগণকে এই নির্দেশনা মেনে চলার জন্য উদাত্ত আহবান জানাচ্ছে। নিজে বাঁচতে, পরিবার-প্রতিবেশীকে বাঁচাতে এবং দেশব্যাপী করোনা সংক্রমন ঠেকাতে এই নির্দেশনা মানার বিকল্প নেই।কঠোর নজরদারি ও জনবান্ধব কার্যক্রম বড় বড় শহরগুলোর কিছু লোক অবশ্য এর ব্যত্যয় ঘটায়। তাদের জন্য কঠোর নজরদারি-জরিমানার ব্যবস্থা করা হয়। এই কঠোরতার পাশাপাশি সরকার অবশ্য প্রত্যেক কর্মজীবীর জন্য মাসিক বেতনের ৭৫ থেকে ৮৫ ভাগ টাকা প্রদানের নিশ্চয়তা প্রদান করে। ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের জন্য গ্যাস-বিদ্যুৎসহ সব ধরনের বিল স্থগিত এবং ক্ষেত্র বিশেষে স্থাপনার ভাড়াও স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর আগেই প্যারিসসহ বড় শহরগুলো থেকে সকল ভবঘুরেদের নিরাপদ কোনস্থানে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ফুটপাতসহ মানুষের সংস্পর্শে আসা সব ধরনের স্থাপনায় নিয়মিত চালানো হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা ও জীবানুমুক্তকরন কার্যক্রম। প্যারিসে বসবাসরত আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত এক শুভাকাঙ্খী কুশলাদি জানতে প্রায়ই আমাকে ফোন করে। গত সপ্তাহেও আমাদের খোঁজ-খবর জানতে সে ফোন করে। কুশলাদি বিনিময়ের পর কথা হয় করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে। সে জানায়, প্যারিসের চিরচেনা রূপে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। রাজপথগুলোতে এখন আর কোন ট্রাফিক জ্যাম নেই। গাড়ি চলাচল অবিশ্বাস্য রকমভাবে কমে গেছে। পর্যটক ও স্থানীয় কর্মজীবী মানুষের ব্যস্ততায় সদা মুখরিত প্রশস্ত ফুটপাতগুলোতে হাতেগোনা কয়েকজন মানুষের চলাচল। সবাই যেন এক অচেনা আতংকে আছে। একজন থেকে আরেকজন যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। গণপরিবহনের সংখ্যা কমে গেছে। যেগুলো চলছে, সেগুলোতেও যাত্রির সংখ্যা খুবই সীমিত। টিভি চ্যানেলগুলোতে ঘন্টায় ঘন্টায় করোনা ভাইরাস আপডেট দিচ্ছে। পাশাপাশি, প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, প্যারিস গেইটসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় পর্যটন স্থান-উদ্যানের জনশূন্য চিত্র বারবারই তুলে ধরছে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দরিদ্র-অসহায়দের

সহায়তা করতে হবে

করোনা প্রতিরোধে দেশে দেশে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে এবং বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো অর্থসহ সব ধরনের সামর্থ নিয়ে এগিয়ে এসেছে। সবার আগে জীবিকা। এই নিশ্চয়তা না থাকলে এই ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে যত কঠোর আইনই হোক কেন হত-দরিদ্রদের পক্ষে তা মানা সম্ভব হবে না। তাই প্রতিটি দেশই জনবান্ধব নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে বেশ কিছু পদক্ষেপ। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। ফ্রান্সসহ ইউরোপের সব ক’টি দেশের খেলাধুলা বন্ধ। ফুটবলের জনপ্রিয় ইউরো চ্যাম্পয়নস লীগসহ সব ধরনের স্থানীয় লীগ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে। তবে এর মধ্যে করোনা মোকাবিলায় বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব, রাগবি ক্লাব এবং এর তারকাদের মুক্ত হস্তে দানের কথাও টিভি চ্যানেলগুলোর খবরে আসছে। এসব খবরের মধ্যে শীর্ষে আছে ইতালির ফুটবল ক্লাব জুভেন্টাস তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও তাঁর এজেন্ট হোর্হে মেন্দেজ এক মিলিয়ন ইউরো দান। এই অর্থ ব্যয় হবে তাঁদের দেশ পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের দু’টি হাসপাতালে। স্পেনের বার্সোলোনা তারকা লিওনেল মেসি সে শহরেরই একটি হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা ও এই ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারে গবেষণা কাজের জন্য এক মিলিয়ন ইউরো দান। এছাড়া, তাঁর দেশ আর্জেন্টিনার একটি হাসপাতালেও বিরাট অংকের অর্থ প্রদান। ফুটবল বিশ্বের দুই প্রভাবশালী কোচ ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা ও টটেনহামের কোচ হোসে মরিনহোও পিছিয়ে নেই। বার্সোলোনার একটি মেডিক্যাল কলেজ ও সেখানকার একটি ফউন্ডেশনে এক মিলিয়ন ইউরো প্রদান করেছেন গার্দিওলা। হোসে মরিনহো লন্ডনের দু’টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে বিপুল অর্থ সহায়তা ছাড়াও নিজেই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কোয়ারেন্টাইনে থাকা হাজার হাজার মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিচ্ছেন। শুনেছি, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও দেশে করোনা মোকাবেলায় বড় অংকের একটি তহবিল গঠন করেছেন। এটি অবশ্যই অনুকরণীয়। আকিজ ও বসুন্ধরা গ্রুপ ঢাকার দু’টি স্থানে পৃথক হাসপাতাল করতে যাচ্ছে। মানবতার সেবায় ধনাঢ্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসার এখনই সময়। শুধুমাত্র সরকারের পক্ষে এই কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠা দূরুহ হবে। আমাদের মত গরীব দেশে নিম্ন আয়ের মানুষগুলোকে দু’বেলা খাবারের নিশ্চয়তা দিতে না পারলে, মানুষ ঘর থেকে বের হবেই। এতে ভয়াবহ এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যাবে। আর তা ধনী-গরীব নির্বিশেষে সকলকেই গ্রাস করবে। নিজেকে এবং প্রিয়জনকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে নিশ্চয়ই আমরা তা চাইবো না। হাবিবুর রহমান: দৈনিক সিলেটের ডাক-এর সাবেক সিনিয়র সাব এডিটর ও বর্তমানে ফ্রান্স প্রবাসী সাংবাদিক

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT