সম্পাদকীয় রমযান-৮

রমযানুল মুবারক

শাহ নজরুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ০২-০৫-২০২০ ইং ১৪:০৫:৫১ | সংবাদটি ১১২ বার পঠিত
Image

আজ শনবিার, ৮ রমযান ১৪৪১ হিজরী। রহমতের দশকের অষ্টম দিন। ফণির আক্রমণে নানা আশংকার মাঝেও মাঠের ফসলকে রিযিক বানিয়ে ঘরে ওঠাবার সুযোগ মানুষ পাচ্ছে সে জন্য মালিকের দরবারে নিযুত কোটি শুকুর। বাংলাদেশে বিশেষ করে সিলেট বিভাগে শান্ত পরিবেশেই মানুষ এবার সিয়াম সাধনা করছে। এরপরও ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণহানীজনিত কারণে জন মানুষের হৃদয় ভারাক্রান্ত। অবৈধ অভিবাসনের তালিকায় বাংলাদেশের নাম উঠে এসেছে আট নম্বরে। এটা আমাদের জন্য লজ্জ্বার বিষয়। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যেতে হলে অবশ্যই বিদেশী কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মাধ্যমে বৈধভাবে যাওয়া উচিৎ। বিষয়টি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মসজিদের ইমাম ও খতীব সাহেবানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিৎ। মহান আল্লাহ আমাদের সুমতি দিন।

আজ মানুষের কিছু জিজ্ঞাসা সম্পর্কে আলোচনা করবো। অনেকেই সাক্ষাতে কিংবা মোবাইলে অনেক মাসাঈল জিজ্ঞেস করেন। যে সব কারণে রোযার কোন ক্ষতি হয় না এসব বিষয়ে মনে করা হয় যে রোযা ভেঙ্গে গেছে। পরে আবার ইচ্ছা করে পানাহার করে। ফলে বাস্তবিকই রোযা ভেঙ্গে যায়। অথচ এগুলোর কারণে রোযা ভঙ্গ হয় না, মাকরূহও হয় না। নিম্নে এর বিবরণ দেয়া হলো- রোযার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার করা কিংবা যৌনাচার করা। কাঁচা বা শুকনা যে কোন ধরণের মিসওয়াক ব্যবহার করা। চোখে বা কানে কোন ঔষধ ব্যবহার করা কিংবা পানি ঢুকে যাওয়া। ফুল কিংবা আতর ইত্যাদির ঘ্রাণ নেয়া। গরমের কারণে কিংবা পিপাসার কারণে গোসল করা বা ভিজা কাপড় দিয়া গা মোছা। অনিচ্ছাকৃত গলায় ধোয়া, ধুলাবালি বা মাছি মশা প্রবেশ করা। স্বপ্নদোষ হওয়া কিংবা কামোত্তেজনার সাথে কারো দিকে শুধু তাকানোর দ্বারা বীর্যপাত হয়ে যাওয়া। মুখে থুথু আসার পর তা গিলে ফেলা। সাপ ইত্যাদির দংশনের শিকার হওয়া। পান খাওয়ার পর ভালভাবে কুলি করা স্বত্ত্বেও থুথুর সাথে লালচে ভাব থেকে যাওয়া। ফরয-গোসল না করা অবস্থায় সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়া। নাক দিয়ে রক্ত বের হলে, যদি পেটে না যায়। তদ্রুপ শরীরের অন্য কোন স্থান থেকে রক্ত বের হলে। পাইরিয়া রোগের কারণে যে সামান্য রক্ত পুজ সর্বদা বের হতে থাকে, তা মুখের ভিতরে চলে যাওয়া। রোযা অবস্থায় প্রয়োজনে কাউকে রক্ত দেয়া। তবে রোযা রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে-এমন দুর্বল হওয়ার আশংকা হলে, রক্ত দেয়া মাকরূহ।

যে সব কারণে রোযা মাকরূহ হয় বিনা প্রয়োজনে কোন বস্তু মুখে নিয়ে চিবানো বা লবণ ইত্যাদি চেখে দেখা। তবে ছোট বাচ্চার প্রয়োজনে কোন কিছু চিবানো বা স্বামী কিংবা মালিক বদ মেযাজী হলে, স্ত্রীর জন্য তরকারী চেখে দেখার অবকাশ আছে। উভয় ক্ষেত্রে থুথু ফেলে দিতে হবে। রোযা অবস্থায় টুথপেষ্ট, মাজন বা কয়লা ইত্যাদি ব্যবহার করা। গোসল ফরয অবস্থায় পুরা দিন গোসল না করে অতিবাহিত করা। এ পরিমান রক্ত দেয়া যাতে শরীর দূর্বল হয়ে যায়। গীবত, চোগলখুরী, ঝগড়া-বিবাদ কিংবা গালিগালাজ করা। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না রাখার আশংকা সত্ত্বেও স্ত্রীকে চুম্বন বা আলিঙ্গন করা। ছোলা বুট থেকে ছোট কোন জিনিস দাঁতে আঁটকে গেলে তা বের না করে গিলে ফেলা।

যে কারণে রোযা ভেঙ্গে যায় এবং শুধু কাযা ওয়াজিব হয় তা হলো : নাকে তেল বা ঔষধ দিলে। ইচ্ছা করে মুখ ভরে বমি করলে বা বমি আসার পর তা গিলে ফেললে। কুলি বা নাকে পানি দেয়ার সময় অসতর্কতার কারণে পানি ভিতরে চলে গেলে। নারীকে স্পর্শ করার কারণে বীর্যপাত হলে। হস্তমৈথুনে বীর্যপাত হলে। কাঠ, লোহা, পাথর বা এ জাতীয় কোন অখাদ্য বস্তু খেলে। আগরবাতি, ধুপ বা বিড়ি সিগারেট ইত্যাদির ধোঁয়া ইচ্ছা করে নাকে বা কণ্ঠ নালীতে পৌঁছালে। ভুলে পানাহার করার পর রোযা ভেঙ্গে গেছে মনে করে পরে ইচ্ছা করে পানাহার করলে।
সময় আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর পানাহার বা সহবাস করলে বা ইফতারের সময় হয়ে গেছে মনে করে সময়ের পূর্বেই ইফতার করে নিলে। পান মুখে রেখে ঘুমিয়ে গেলে আর এমতাবস্থায় সুবহে সাদিক হয়ে গেলে। নিয়ত একেবারেই না করলে বা এমন সময় করলে যে সময় নিয়ত গ্রহণযোগ্য হয় না। ছোলা বুট পরিমাণ বা ততোধিক পরিমান কোন খাদ্যের টুকরা দাঁতে আটকে থাকলে এবং সুবহে সাদিকের পর তা মুখ থেকে বের না করে গিলে ফেললে। অবশ্য এর চেয়ে ছোট হলে রোযা ভাঙবে না। তবে কাজটা মাকরূহ হবে। হ্যাঁ, মুখ থেকে বের করার পর গিললে তা যতই ছোট হোক না কেন রোযা ভেঙ্গে যাবে। দাঁত বা মুখের ভিতর থেকে রক্ত বের হলে যদি তা পরিমাণে থুথু বরাবর বা বেশি হয় এবং গলার ভিতর চলে যায়। ভিজা আঙ্গুল পায়ূপথের ভিতরে প্রবেশ করালে।
এক দেশে রোযা শুরু করে ভিন্ন দেশে চলে গেলে যদি দেখা যায় সেখানে আগে ঈদ হয়ে গেছে, তাহলে আগের দেশের হিসেবে যে কয়টা রোযা বাদ গেছে তা কাযা করতে হবে। পক্ষান্তরে ভিন্ন দেশে যাওয়ার পর সেখানে এক দুইটা রোযা বেড়ে গেলে তা রাখতে হবে। (মুফতী জমীরুদ্দীন, তুহফাতুল খাইর, পৃ. ৮-৯) রোযাদারের জন্য এসব মাসআলা মাসাঈল জানা জরুরী। মহান আল্ল¬াহ আমাদের জেনে বুঝে সহীহ শুদ্ধভাবে রোযা রাখার তাওফীক দিন। আমীন।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT