সম্পাদকীয় রমযান-১৩

রমযানুল মুবারক

শাহ নজরুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৫-২০২০ ইং ১১:৫১:৫৬ | সংবাদটি ১২১ বার পঠিত
Image

আজ বৃহস্পতিবার, ১৩ রমযান, ১৪৪১ হিজরি। রহমতের দশক আমরা অতিক্রম করে এসেছি। মাগফিরাতের দশকের আজ তৃতীয় দিন। আজকের পৃতিবীতে মুসলমানদের অবস্থা ভাল নয়। এর সঠিক কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে মানব জাতীর হিদায়াতের মূল উৎস আল কুরআনুল কারীমকে সঠিকভাবে ধারণ ও গ্রহণ না করা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনাদর্শ বা সুন্নাহ থেকে আমাদের জীবন চর্চার দুরত্বই মুসলমানদের পতন ও লাঞ্চনার মূল কারণ। কুরআন-সুন্নাহর উপর যথাযথ আমল না করার খেসারত যেমন দুনিয়াতে দিতে হচ্ছে তেমনি দিতে হবে আখিরাতেও। কিয়ামতের ময়দানে বিচারের দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিযোগ করে বলবেন, হে প্রভু! আমার লোকেরা এই কুরআনকে পরিত্যাক্ত করে রেখেছিল। (কুরআন মাজীদ : সূরা ফুরকান ২৫/৩০) কুরআনের সাথে আমাদের সম্পর্ক কাঙ্খিত মানের নয়। যে কারণে মহিমান্বিত কুরআন মাজীদ থেকে উপকৃত হতে পারছি না। যাদের মনে আল্লাহর ভয় আছে কেবল তারাই উপকৃত হয়। ইরশাদ হয়েছে, এই কুরআন দ্বারা সে সব লোকদের উপদেশ দিতে ও সতর্ক করতে থাকো যারা আমার শাস্তিকে ভয় পায়। (কুরআন মাজীদ : সূরা কাফ ৫০/৪৫), আবার এমন দুরাচারও আছে যারা আল্লাহর কালাম কুরআন মাজীদের কথা শুনতেই চায় না। তাদের কথা মহান আল্লাহ কুরআন মজীদে এভাবে বলেছেন, ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে? যাকে তার প্রভুর আয়াত পেশ করে সতর্ক করা হলো তারপরও সে এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। এ ধরনের অপরাধীদের থেকে অবশ্যই আমরা প্রতিশোধ গ্রহণ করবো। (কুরআন মাজীদ : সূরা আস্-সাজদাহ ৩২/২২) আর সে প্রতিশোধ যে কত কঠিন হবে তা আন্দাজ অনুমান করাও অসম্ভব। মহান আল্লাহ আমাদের এহেন অপরাধী হওয়া থেকে মুক্তি দান করুন। মহান আল্লাহ কুরআনের মহিমা কুরআনেই বর্ণনা করেছেন, ইরশাদ হয়েছে এটি (আল কুরআন) হচ্ছে তোমাদের প্রভূর নিকট থেকে অবতীর্ণ অন্তর্দৃষ্টির সত্যায়িত প্রমাণ এবং সেই লোকদের জন্য শাশ্বত গাইড ও অনুকম্পা যারা বিশ্বাস স্থাপন করে। (কুরআন মাজীদ : সূরা আরাফ ৭/২০৩) ইরশাদ হয়েছে, আমি আমার রাসূলদের পাঠিয়েছি সুস্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাদের সাথে নাযিল করেছি কিতাব আর সত্য ও ন্যায়ের মাপকাটি। যাতে মানব জাতি সত্য ও ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। (কুরআন মাজীদ : সূরা আল হাদীদ ৫৭/২৫) ইরশাদ হয়েছে, এটি আল কুরআন, মানব জাতির জন্য একটি সুস্পষ্ট বিবরণ, আর বিবেকের অনুসারীদের জন্য একটি জীবন পদ্ধতি ও পথ নির্দেশ।(কুরআন মাজীদ : সূরা আলে ইমরান ৩/১৩৮) ইরশাদ হয়েছে, আমরা তোমার প্রতি এই কিতাব (আল কুরআন) নাযিল করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের পরিষ্কার বিবরণ সম্বলিত, তাছাড়া আত সমর্পনকারীদের জন্য এটি একটি শাশ্বত জীবন পদ্ধতি, একটি অনুকম্পা এবং সুসংবাদ। (কুরআন মাজীদ : সূরা নাহাল ১৬/৮৯) উপরের আয়াতগুলো থেকে কুরআন মাজীদের পরিচয় ও জীবন্ত ছবি ফুটে উঠেছে। যা বলা হয়েছে তা সংক্ষেপে এই- ১. কুরআন মাজীদ সত্য সঠিক পথ প্রদর্শক। ২. কুরআন মাজীদ মানুষকে শান্তি ও নিরাপত্তার পথ দেখায়।৩. কুরআন মাজীদ আল্লাহর সন্তুষ সন্ধানকারীদেরকে সকল প্রকার অন্ধকার থেকে আলোর পথে পরিচালিত করে। ৪. কুরআন মাজীদ আল্লাহর সন্তুষ সন্ধানকারীদেরকে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করে। ৫. কুরআন মাজীদ এক সুস্পষ্ট আলো। ৬. কুরআন মাজীদ মহান আল্লাহ কতৃক অবতীর্ণ ও অন্তর্দৃষ্টির সত্যায়িত প্রমাণ।৭. কুরআন মাজীদ ঈমানদারদের জন্য শাশ্বত গাইড।৮. কুরআন মাজীদ ঈমানদারদের জন্য এক বিরাট অনুকম্পা।৯. কুরআন মাজীদ সত্য ও ন্যয়ের মাপকাটি।১০. মানব জাতিকে ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত করাই কুরআন মাজীদ নাযিলের উদ্দেশ্য।প্রিয় পঠক! আসুন, কুরআন মাজীদের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করি। এর আলোয় জীবন ও জগত আলোকিত করি। ব্যক্তি পরিবার সমাজ ও জাতীয় জীবনে কুরআন মাজীদের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাই। কুরআন মাজীদের চর্চা ছড়িয়ে দেই সর্বত্র। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফীক দিন। আমীন।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT