সম্পাদকীয় রমযান-১৪

রমযানুল মুবারক

শাহ নজরুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৫-২০২০ ইং ১২:১৭:২৭ | সংবাদটি ৯৯ বার পঠিত
Image

আজ শুক্রবার, ১৪ রমযান, ১৪৪১ হিজরি। রমযানের দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের চতুর্থ দিন। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে,
কুরআন নাযিল হলো
রমযান মাসে
হিদায়াত নিয়ে এলো
মানুষের পাশে।
গতকাল কুরআন ও রমযানের তাৎপর্য ও শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আজও একই বিষয়ে আরো কিছু নিবেদন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করল এবং এর শিক্ষাকে ধারণ করল আর কুরআনের হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম হিসেবে জীবনে মেনে নিল তাকে মহান আল্লাহ দুটি পুরুষ্কার দান করবেন। ১. মহান আল্লাহ নিজ দায়িত্বে তাকে জান্নাতে পৌঁছাবেন। ২. তাকে হাশরের মাঠে শাফায়াত করার অধিকার দিবেন। যাতে সে তার পরিবারের এমন দশজন এমন মানুুষকে সুপারিশ করে বেহেশতে নিয়ে যাবে যাদের প্রত্যেকের দোযখে যাওয়া অবধারিত হয়ে পড়েছিল।’
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুরআন শিখে অথবা শেখায় সে সর্বোত্তম।’ কুরআন হচ্ছে মহান আল্লাহর কালাম। বিধি-বিধান, নির্দেশনা ও হিদায়াত। সৃষ্টির মোকাবেলায় স্রষ্টার যেমন শ্রেষ্ঠত্ব তেমনি সমগ্র সৃষ্টির ভাষা ও বক্তব্যের মোকাবেলায় মহান আল্লাহর কালাম সর্বশ্রেষ্ঠ। স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হচ্ছে কুরআন তিলাওয়াত ।
কুরআন পাঠের কিছু আদাব আছে। যদি প্রশ্ন করা হয় আদাব কী? আদাব যে কোন কাজ যথাযথ ভাবে পালন করার নিয়ম পদ্বতিকে বলে। কুরআন তিলাওয়াতের কিছু আদাব আছে যেমন-
১. মহান আল্লাহর কালামের আযমত গুরুত্ব ও মর্যাদা হৃদয়ঙ্গম করে অযু করে সম্ভব হলে
কিবলা মুখী হয়ে বসা।
২. পড়ার সময় তাড়াহুড়া না করে, ধীরে স্থীরে তাজ্উইদ সহকারে পড়া।
৩. বিনয় ও নম্রতার সাথে পাঠ করা।
৪. মহান আল্লাহর দয়া মায়া অবদান সংক্রান্ত আয়াত এবং তাঁর আযাব-গযব সংশ্লিষ্ট
আয়াতগুলোর হক আদায় করে পড়া।
৫. লোক দেখানোর ভয় হলে বা অন্যের অসুবিদার আশংকা থাকলে নিরবে পড়া ।
৬. মিষ্টি সুরে মক্কা মদীনার লেহজায় করআন মজীদ পাঠ করা উত্তম। এগুলো হচ্ছে প্রত্যক্ষ
আদাব।
এছাড়াও পরোক্ষ কিছু আদাব আছে- ১. কালামুল্লাহ শরীফের মহত্ত্ব অনুধাবন করা। ২. যার কালাম সেই মহান মালিকের প্রতি হৃদয় গভীরে শ্রদ্ধা পোষণ করা। ৩. শয়তানের প্ররোচনা ও চক্রান্ত থেকে নিজের অন্তরকে পবিত্র রাখা। ৪. অর্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে, শিক্ষা গ্রহণ ও আমলের নিয়তে কুরআন মাজীদ পাঠ করা। ৫. নিজেকে কুরআনের অনুসারী করা। ৬. মনের মধ্যে এমন ভাব তৈরি করা যে, নিজের কানে মহান মালিকের কালাম শুনছি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝে মধ্যে কুরআন মাজীদের কিছু আয়াত সারা রাত পড়তে থাকতেন। যেমন-একটি আয়াত যার অর্থ ‘(হে আল্লাহ!) আপনি যদি তাদের শাস্তি দেন তবে তারা তো আপনারই বান্দা, আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন তবে আপনি তো মহাপরাক্রমশালী, বিজ্ঞানময়।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবি যুবাইর রা. এক রাতে ফজর পর্যন্ত নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেন। ‘ওয়ামতাযুল ইয়াওমা আইয়্যুহাল মুজরিমূন।’ অর্থ ‘হে পাপীগণ! আজ তোমরা আমার অনুগত বান্দাদের থেকে পৃথক হয়ে যাও।’
কিয়ামতের মাঠে মহান আল্লাহ এ ঘোষণা দেবেন। এমনিভাবে কুরআন মাজীদের একেকটি আয়াত মানব মনে ঝড় তুলে, আলোড়ন সৃষ্টি করে, মনে দাগ কাটে, প্রভাব ফেলে। জীবনের মোড় ঘুরে যায়। সুতরাং কুরআন বুঝে পড়ার প্রতি সকলেরই গুরুত্ব দেয়া উচিত। এ কাজকে দৈনন্দিন রুটিন কাজের অন্তর্ভূক্ত করা প্রয়োজন। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফীক দিন। আমীন।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT