'/> SylheterDak.com.bd
উপ সম্পাদকীয়

চাই আশার বাণী

আব্দুস সবুর মাখন: প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৫-২০২০ ইং ২৩:১৭:২২ | সংবাদটি ৫৬৮ বার পঠিত
Image

সংবাদ অসংখ্য চারদিকে। সত্য কিংবা মিথ্যা যেটাই হোক,দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে। অনেকে বিশ্বাস করছে, আবার "ভিত্তিহীন'বলে অনেকেই তা উড়িয়ে দিচ্ছে। আর মানুষের মনে যখন শক্তি থাকে না,তখন অনেক অমূলক কথাই তারা বিশ্বাস করে ফেলে ; আবার কখনও মোটামুটি বিশ্বাসযোগ্য কথাও তারা মেনে নিতে চায় না। তবে বিগত দুই মাসের বেশী সময় ধরে যেসব কথাবার্তা ভেসে বেড়াচ্ছে তার মধ্যে বেশীরভাগই হতাশাজনক। পক্ষান্তরে এগুলোকে " গুজব' বলেও অখ্যায়িত করা হচ্ছে। আর এই গুজব বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করায় বিশ্বব্যাপী চলমান ভয়াবহ করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত মানবিক বিপর্যয় আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। দেশে-বিদেশে এক শ্রেণীর মিডিয়াকর্মী,বিজ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী, সচেতন ব্যক্তিবর্গ নানাভাবে-নানা ছলে রকমারী তথ্য প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় মার্চ মাসের আট তারিখ। এর পর থেকে করোনা মোকাবেলায় সম্ভাব্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে সরকার। ধীরে ধীরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে ;সেই সাথে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপও দৃষ্টিগোচর হতে থাকে। এক পর্যায়ে সাধারণ ছুটি,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণাসহ সারা দেশেই কার্যত লকডাউন শুরু হয়। সার্বিকভাবে পুরো পরিস্থিতিকে আত্মস্থ করতে সকলকে কিছুটা সময়ক্ষেপন করতে হয়েছে, এটা ঠিক;তবে পর্যায়ক্রমে করোনা মোকাবেলায সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে এটা বলাই যায়। করোনা সংক্রান্ত সরকারের নির্দেশাবলী মেনে চলার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকটাই অভ্যস্থতা গড়ে ওঠেছে। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। অনেকেই সরকারের নির্দেশনার ব্যাপারে উদাসীন। অপরদিকে সরকারের এই সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও একটা অস্থিরতা-অদূরদর্শীতার ছাপ লক্ষ করা যাচ্ছে। দেখা গেছে, পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান,বিপনী ভবন খুলে দেয়ার মতো সরকারের সিদ্ধান্তগুলোকে সচেতন মহল মেনে নিতে পারছে না। তাদের মতে,সবকিছু খুলে দেয়ার সময় এখনও আসেনি। তাছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বাংলাদেশে করোনা পরিস্থতি উন্নতির ব্যাপারে কোন গ্রিন সিগনাল দেয়নি। সব মিলিয়ে একটি শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যেই সময় কাটছে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের মানবজাতির। বিশ্ববাসীর এই ভয়াবহ দুঃসময়ে একশ্রেণীর মানুষ নানান ভূঁয়া-বিভ্রান্তিকর তথ্য-মন্তব্য প্রচার করে চলেছে। এতে গৃহে অবস্থানরত মনুষের হতাশা বাড়ছে,কষ্ট বাড়ছে;তাদের সামনে ভেসে উঠছে কেবলই নিকষ-কালো রাত। অথচ এই সময়ে সবচেয়ে জরুরী হচ্ছে মানবজাতিকে অভয়বাণী-আশারবাণী শোনানো। একটা সুন্দর কথা একজন মুমূর্ষু মানুষকেও চাঙ্গ করে তুলতে পারে। আমরা এটা বিশ্বাস করতে চাই না যে,করোনাভাইরাসের আক্রমণ আগামীতে আরও ভযাবহ আকার ধারণ করবে,মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘায়িত হবে। মণিষীরা বলেন, মানবজাতির জন্য কোন বিপদই স্থায়ী হতে পারে না। আমরা সেটাই বিশ্বাস করতে চাই। আস্থা রাখতে চাই, বিশ্বের বিজ্ঞানীদের ওপর--যারা দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রমে করোনার কার্যকর প্রতিষেধক তৈরী করতে সক্ষম হবেন। এটাও আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে,করোনা রোগীদের চিকিৎসায় বহুল আলোচিত ওষুধ "রেমিডিসিভির'কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। তাছাড়া,মহান সৃষ্টিকর্তার দয়ার বদৌলতে বিশ্ববাসী এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবে অচিরেই -এই বিশ্বাস সবার ওপরে রাখতেই হবে।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT