সম্পাদকীয় রমযান-১৬

রমযানুল মুবারক

শাহ নজরুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০৫-২০২০ ইং ০০:০৯:৩০ | সংবাদটি ১৮৫ বার পঠিত
Image

আজ ১৬ রমযান রবিবার, ১৪৪১ হিজরি। মাগফিরাতের দশকের আজ ষষ্ঠ দিন। আমাদের সিয়াম সাধনা কিয়ামুল লাইল সেহরি ইফতার এ সবই তাকওয়া অর্জনের প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মানুষ তার ঐকান্তিকতা নিষ্ঠা আর আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেকে তাকওয়ার মানে উন্নীত করতে পারে। আমরা রোযা রাখি ইফতার ও সেহরি খাই সকলেই; কিন্তু সবাই একই মানে উন্নীত হতে পারি না। এটা অনেকটা এরকম যে এস এস সি লেভেলে যারা পড়ে তারা একই সিলেবাসে একই পরীক্ষায় অংশ নেয় কিন্তু সকলে একই গ্রেডে উন্নীত হতে পারে না। কারণ সকলের প্রস্তুতি প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা সমান থাকে না। তেমনিভাবে সিয়াম সাধনায় রত রোযাদারগণও সকলে সমান পর্যায়ে ও তাকওয়ার মানে উন্নীত হতে পারে না। বিশেষজ্ঞ আলেমগণ বলেছেন রোযাদার তিন প্রকার। ১. যারা রোযার নিয়তে মহান আল্লাহকে রাযি খুশি করার জন্য সুবহি সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনাচার থেকে বিরত থাকে। সাথে সাথে শরীয়ত বিরোধী সকল হারাম কাজ ও আচরণ থেকে বিরত থাকে। একইভাবে যে সব বৈধ কাজ মহান আল্লাহর স্মরণ ও নিরন্তন ইবাদত থেকে বিমুখ করে সেব কথা কাজ আচরণ থেকেও তারা বিরত থাকে এবং সদা সর্বদা মহান আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকে। ২. যারা রোযার নিয়তে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সুবহি সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনাচার থেকে বিরত থাকে। সাথে সাথে শরীয়ত বিরোধী সকল হারাম কাজ ও আচরণ থেকে বিরত থাকে। ৩. যারা কেবল রোযার নিয়তে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সুবহি সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনাচার থেকে বিরত থাকে।
প্রেক্ষিতে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে নিজেদের মানোন্নয়নে মনোনিবেশ করা এবং তৃতীয় শ্রেণি থেকে ক্রমশঃ দ্বিতীয় এরপর প্রথম শ্রেণির রোযাদার হিসেবে নিজেকে উন্নীত করার জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। সে শিক্ষা আমরা রাসূলুল্লাহ সা. থেকে পাই। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. বর্ণনা করেন, ‘রমযান মাস শুরু হওয়ার সাথে সাথেই রাসূলুল্লাহ সা. কোমর বেঁেধ প্রস্তুতি নিতেন এবং রমযান মাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিছানায় তাশরীফ নিতেন না। বায়হাকী ২/২৩০
অন্য এক হাদীসে হযরত আয়েশা রা. বলেন, ‘রমযান মাস এলে রাসূলুল্লাহ সা. এর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে যেত, বেশি বেশি নফল নামায পড়তেন, খুব আহাজারী করে দু‘আ করতেন এবং মহান আল্লাহর ভয়ে কাদঁতেন। ই‘লাউস সুনান ৭/৭০
অপর এক হাদীসে হযরত আয়েশা রা. বলেন, রমযান মাসের শেষ দশকে রাসূলুল্লাহ সা. ইযার বেঁেধ নিতেন, অর্থাৎ ইবাদতের জন্য পরিপূর্ণ হুশিয়ার হয়ে যেতেন। সারা রাত ইবাদতে কাটাতেন এবং স্ত্রীদেরকে জাগিয়ে রাখতেন। সহীহ মুসলিম ১/৩৭২
আসুন! নবীজীর অনুসরণে আমরা রমযানের গুরুত্ব উপলব্ধি করি এবং আমল জিন্দা করি। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফীক দিন। আমীন।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT