সম্পাদকীয় ১৯ রমযান

রমযানুল মুবারক আস্সালাম

শাহ নজরুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৫-২০২০ ইং ০০:০৯:০২ | সংবাদটি ১০৬ বার পঠিত
Image

আজ বুধবার, ১৯ রমযান, ১৪৪১ হিজরি। মাগফিরাতের নবম দিন। মাগফিরাতের দশকের আর মাত্র এক দিন বাকী। আগামীকাল ২০ রমযান সূর্যাস্তের পূর্বেই ই’তিকাফকারীদের ই’তিকাফের স্থানে পৌঁছতে হবে। অনেক জায়গায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ নিজ মানোন্নয়নের উদগ্র বাসনা নিয়ে লোকজন ই’তিকাফে বসেন। আবার অনেক জায়গায় ই’তিকাফে বসার লোক খুঁজে পাওয়া যায় না।
দেখা যায় চুক্তি করে ই’তিকাফে বসাতে হয়। এটা খুবই দুঃখজনক। অনেক ক্ষেত্রে মসজিদের ইমামগণও ই’তিকাফে বসতে নারাজ। যদিও ব্যতিক্রম আছে। ই’তিকাফ মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ। ই‘তিকাফ সুন্নাতে মুআক্কাদাহ কিফায়া। উম্মুল মুমিনীন আয়শা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রমযানের তৃতীয় দশকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা রাত জেগে থাকতেন। নিজ পরিবার পরিজনকে ইবাদত বন্দেগিতে জাগিয়ে রাখতেন। নিজে ইবাদত বন্দেগিতে কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং উম্মুল মুমিনীনগণ থেকে দূরে থাকতেন। (সহীহ মুসলিম) উম্মুল মুমিনীন আয়শা রা. থেকে বর্ণিত, অপর এক হাদীসে তিনি বলেন, ‘রমযানের তৃতীয় দশকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কঠোর পরিশ্রম করতেন যে রকম কঠোর পরিশ্রম অন্য সময় করতেন না।’
সাহাবি আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক রমযানে দশ দিন ই’তিকাফ করতেন। কিন্তু যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন সে বছর তিনি বিশ দিন ই’তিকাফ করেছেন।’ (সহীহ বুখারী) উবাই ইবনে কা’ব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক রমযানের শেষ দশ দিন ই’তিকাফ করতেন। কিন্তু এক বছর তিনি ই’তিকাফ করেননি। এজন্য পরের বছর তিনি বিশ দিন ই’তিকাফ করেছেন।’ (সুনানে আবূ দাউদ)
উম্মুল মুমিনীন আয়শা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশ দিন ই’তিকাফ করতেন। কিন্তু এক বছর তিনি সফর করেছিলেন সেজন্য পরের বছর বিশ দিন ই’তিকাফ করেছেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ্) আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশ দিন ই’তিকাফ করতেন। বর্ণনাকারী নাফী বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. আমাকে মসজিদে নববীর সেই স্থানটি দেখিয়েছেন যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই’তিকাফ করেছেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ্) আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ই’তিকাফ করতেন তখন আবূ লুবাবা ইবনে মুনযির রা. এর তাওবার খুটির পাশে তাঁর জন্য বিছানা বিছানো হতো।’
(সুনানে ইবনে মাজাহ্)
আবূ সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তুর্কী তাবুতে রমযানুল মুবারকের প্রথম দশ দিন ই’তিকাফ করেছেন, এরপর দ্বিতীয় দশ দিনও। এরপর তাবু থেকে মাথা বের করে বললেন, ‘আমি কদরের রাতের অনুসন্ধানে প্রথম দশ দিন ই’তিকাফ করেছি। এরপর দ্বিতীয় দশ দিনও। এরপর স্বপ্নে একজন ফেরিশতা এসে আমাকে বললেন যে এ রাতটি রমযানের শেষ দশকে। কাজেই যে আমার সাথে ই’তিকাফ করেছে, সে যেন শেষ দশ দিনও ই’তিকাফ করে। আমাকে এ রাতটি দেখানো হয়েছিল এবং তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি স্বপ্নে দেখেছি যে এ রাতের সকালে ফযরের নামাযে আমি পানি ও কাদা মাটিতে সিজদাহ করেছি। তোমরা শেষ দশ দিনের বেজোড় রাত গুলিতে এ রাতের অনুসন্ধান করবে।’ বর্ণনাকারী বলেন, এই রাতে বৃষ্টি হয়েছিল, তখন মসজিদের ছাদ খেজুর গাছের ডাল দ্বারা নির্মিত ছাপরার ন্যায় ছিল।
এতে মসজিদের ছাদ থেকে পানি টপকে পড়েছিল। বর্ণনাকারী সাহাবী বলেন, রমযানের ২১ তারিখ সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কপাল মুবারকে আমি স্বচক্ষে কাদা মাটির চিহ্ন দেখেছি।’ (মিশকাত শরীফ) হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই’তিকাফ ছাড়েন নি। সহাবীদের এব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন।
এজন্য ফকীহগণ এ ই’তিকাফকে সুন্নাতে মুআক্কাদায়ে কিফায়া বলেছেন। যাদের সময় ও সুযোগ আছে তারা ই’তিকাফের প্রস্তুতি নিন।
বি.দ্র. এবার সংকট কালীন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে ই’তিকাফ সম্পর্কে একটি গাইড লাইন দেয়া হয়েছে। সেটি হচ্ছে-শর্ত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ পাঁচ জন একটি মসজিদে ইতিকাফ করতে পারবেন। আসুন আমরা নিজেদের স্বার্থে মেনে চলি। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফীক দিন। আমীন।

 

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT