সম্পাদকীয় ২৩ রমযান

রমযানুল মুবারক

শাহ নজরুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-০৫-২০২০ ইং ০০:১৬:৩২ | সংবাদটি ৮৮ বার পঠিত
Image

আজ রবিবার, ২৩ রমযান, ১৪৪১ হিজরী। নাজাতের দশকের তৃতীয় দিন। রমযানের সিয়াম সাধনা শেষে এর ঘাটতি পুরনে এবং অভাবগ্রস্ত মানুষকে ঈদের আনন্দে শরীক করার জন্য ইসলামী শরীয়তে স্বচ্ছল মানুষের পক্ষ থেকে দান খয়রাতের বিধান রাখা হয়েছে। একে বলা হয়, সাদকাতুল ফিতর বা যাকাতুল ফিতর। সাদাকাহ আরবী শব্দ। অর্থ দান। পরিভাষায় যে দান দ্বারা আল্লাহর নিকট সওয়াবের আশা করা যায়, তাকে সাদাকাহ বলে।
আল-ফিতর আরবী শব্দ। ফকীহদের পরিভাষায় তাহল রোযা না রাখা। এ অর্থেই ব্যবহৃত হয় ঈদুল ফিতর। (কাওয়াঈদুল ফিকহ)। পরিভাষায় সাদকাতুল ফিতর বলা হয় নিসাব পরিমাণ মালের মালিকের উপর ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় যে দেয় ওয়াজিব হয়। আল্লামা যুবায়দী বলেন, যেহেতু সাদকাতুল ফিতর রমযান শেষে রোযা ভঙ্গের দরুন ওয়াজিব হয় তাই তাকে সাদাকাতুল ফিতর বলা হয়। এর অপর নাম যাকাতুল ফিতর মূলত পবিত্র মাহে রমজানের রোযা পালনের মাধ্যমে মহান আল্লাহ বান্দার প্রতি যে অফুরন্ত নেয়ামত দান করেছেন তার শুকুর হিসেবে এবং রোযা পালনের মূল উদ্দেশ্য সাধনে যে সব ক্রটি বিচ্যুতি হয়েছে তার ক্ষতি পুরন হিসেবে সাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব করা হয়েছে।
ওয়াকী ইবনুল জাররাহ র. বলেন, সাদকাতুল ফিতর রমজানের সিয়ামের ক্ষতি পুরনকারী যেমন সিজদায়ে সাহু নামাযের ক্ষতি পুরনকারী।’ ইমাম আয’ম আবূ হানীফা রহ. এর মতে নিসাব পরিমাণ মালের মালিকের উপর সাদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। রাসূলুল্লাহ সা. এক খুৎবায় ইরশাদ করেছেন আযাদ গোলাম ছোট বড় প্রত্যেকের পক্ষ থেকে তোমরা আধা সা গম (১.৬৫০ গ্রাম) বা এক সা (৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ) যব বা খেজুর সাদাকাতুল ফিতর হিসেবে আদায় করবে। (সুনানে আবূ দাউদ ) আযাদ মুসলমান যিনি জীবিকা নির্বাহের অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ যথা আবাস গৃহ পরিধেয় বস্ত্র, ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যদ্রব্য, যুদ্ধের বাহন অস্ত্র ও খিদমতের দাস দাসী ব্যতীত নিসাব পরিমাণ মালের মালিকের উপর সাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব (হিদায়া)। সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ মালের উপর এক বছর অবিবাহিত হওয়া শর্ত নয় বরং ঈদের দিনের সুবহি সাদিকের পূর্বে নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হলেই সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। (নূরুল ইযাহ) সাদাকাতুল ফিতরের মাল-মালে নামী বা বর্ধনশীল হওয়া শর্ত নয়।
যদি কোন ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হওয়ার পূর্বেই সাদকায়ে ফিতর আদায় করেন এবং পরে নিসাবের মালিক হন তবে তার ফিতরা আদায় হবে। (আলমগীরী ১ম খণ্ড) সাদাকায়ে ফিতর নিজের পক্ষ থেকে এবং নিজের নাবালিগ সন্তানের পক্ষ থেকে আদায় করা ওয়াজিব । তবে কোন ব্যক্তির উপর তার দাদা দাদী,নানা-নানী, মাতাপিতা ,প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান ও স্ত্রীর পক্ষ থেকে সাদকা আদায় করা ওয়াজিব নয়।
(আলমগীরী -১ খণ্ড )। একজনের সাদকায়ে ফিতর একজনকে অথবা কয়েক জনকে বন্টন করে দেয়া জায়িয আছে। যেমনিভাবে অনেকজনের সাদকা একজনকে দেয়া জায়েয আছে। তবে অনুমতি ছাড়া একজনের সাদকাতুল ফিতর অন্যজনের আদায় করা জায়েয নেই। (আলমগীরী ১ম খণ্ড )।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT