'/> SylheterDak.com.bd
সম্পাদকীয় ২৯ রমযান

রমযানুল মুবারক

শাহ নজরুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-০৫-২০২০ ইং ০০:৫৩:৪১ | সংবাদটি ২০৯ বার পঠিত
Image

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ, তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ। তোর সোনা-দানা, বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। আজ পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ। ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমণ, হাত মেলাও হাতে, তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ। ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। যারা জীবন ভরে রাখছে রোজা, নিত্য উপবাসী সেই গরিব ইয়াতীম মিসকিনে দে যা কিছু মুফিদ ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ।

ঢাল হৃদয়ের তশতরীতে শিরনি তৌহিদের,তোর দাওয়াত কবুল করবেন হজরত হয় মনে উম্মীদ। ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। তোরে মারল' ছুঁড়ে জীবন জুড়ে ইট পাথর যারাসেই পাথর দিয়ে তোলরে গড়ে প্রেমেরই মসজিদ। ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ। কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী কবিতাশুনলেই মনে হয় ঈদ এসে গেছে। এটি যেন ঈদের বার্তা বহনের কবিতায় পরিনত হয়েছে। একই সাথে এই কবিতার যে আবেদন তা যে এ সময়ের সাথে আরো বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে আমাদের সামনে উপস্থাপিত হচ্ছে। তবে মনে রাখতে হবে যে আমাদের নিজেদের সুরক্ষার জন্য এবার ঈদগাহে নয় মসজিদে ঈদের নামায হবে এবং হাত মেলানো ও কুলাকুলিতে নিষেধাজ্ঞা আছে। আজ ২৯ রমযান, শনিবার ১৪৪১ হিজরী। বেলা শেষে সকলের দৃষ্টি খোঁজে বেড়াবে শাওয়ালের নতুন চাঁদ। চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর। রহমত মাগফিরাতের দশক পেরিয়ে নাজাতের দশকের শেষ প্রান্তে আমরা উপনীত। যারা রমযানের সওগাত অর্জন করতে পেরেছেন তারাই সৌভাগ্যবান। নবী করীম সা. বলেছেন- আল্লাহ তা আলা প্রতিদিন ইফতারের সময় জাহান্নামের উপযোগী দশ লক্ষ লোককে ক্ষমা করেন এবং রমযানের শেষ তারিখে প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত যত লোক নাজাত পেয়েছেন সকলের সমপরিমাণ লোককে ক্ষমা করেন।মাস যদি ৩০ দিনে হয় তাহলে সারা মাসে কেবল ইফতারের সময় ৩ কোটি মানুষকে ক্ষমা করা হয়। শেষ দিন পুরো মাসের সমপরিমাণ মানুষকে ক্ষমা করা হয়। তাহলে তিন+ তিন ছয় কোটি মানুষ কেবল ইফতারের সময় ক্ষমা লাভ করে, যারা দোযখের উপযোগী ছিল। আবার ঈদের রাত আসলে মহাকাশে এরাতকে পুরস্কারের রাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ঈদের সকালে মহান আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে প্রত্যেক শহর ও জনপদে প্রেরণ করেন। তারা জমিনে অবতরণ করে প্রত্যেকগলি ও রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে যান এমন উচ্চকন্ঠে আওয়াজ দিতে থাকেন যা মানব ও দানব ব্যতীত সকলেই গুনতে পায়। তারা বলতে থাকেন, হে মুহাম্মদের উম্মতেরা! পরম দয়ালু আল্লাহর সান্নিধ্যে চল, তিনি অপরিসীম দাতা ও ক্ষমাশীল। ঈদের দিন মানুষ যখন ঈদের নমায পড়তে অগ্রসর হতে থাকে আল্লাহ তা‘আলা ফেরেশতাদেরকে বলেন যে শ্রমিক নিজ দায়িত্ব যথাযত ভাবে পালন করেছে তার বিনিময়ে সে কি পেতে পারে? ফেরেশতারা আরজ করেন হে মাবুদ! আমরা চাই যথাযোগ্য মজুরী যেন পায়। তখন আল্লাহ পাক ইরশাদ করবেন, হে ফেরেশতারা তোমরা সাক্ষী থাক রোযা ও তারাবীহর প্রতিদানে আমার সন্তুষ্টি এবং ক্ষমা তাদেরকে দান করলাম। আবার বান্দাদের দিকে লক্ষ্য করে বলেন- প্রার্থনা কর, আমার ইজ্জত এবং বুজুর্গীর কসম। আখিরাতের ব্যাপারে সব চাহিদাই আমি পূর্ণ করব, আর দুনিয়ার ব্যাপারে যা তোমার জন্য মঙ্গল তাই মঞ্জুর করবো। আমার ইজ্জতের কসম! যতক্ষণ আমার প্রতি দৃষ্টি রাখবে আমি তোমাদের পাপ রাশি গোপন রাখবো এবং পাপিষ্ট কাফেরদের সামনে তোমাদের লজ্জিত করবো না। সুতরাং ক্ষমা প্রাপ্ত হয়ে গৃহে ফিরে যাও। তোমরা আমাকে সুন্তুষ্ট করেছে আমিও তোমাদের প্রতি রাজি। ফেরেশতাগণ তা দেখে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে যান। মানুষের জন্ম মৃত্যু অস্তিত্ব সকল কিছুর মূল উদ্দেশ্য আল্লাহ তা আলার সন্তোষ অর্জন করা। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে ধন্য হতে পারলেই জীবনে চরম সাফল্য লাভ করা হয়। রমযানের সিয়াম সাধনা ইফতার সেহরী তারাবীহ আর সাদকাতুল ফিতরের পর আসন্ন ঈদ নামাযে সমগ্র উম্মাহর প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি ঘোষিত হোক এ মুনাজাত করছি। একই সাথে দুনিয়ার মযলুম মুসলমানদের সামগ্রিক মুক্তি ও নাজাত কামনা করছি। সিলেট এর ডাক পরিবার ও পাঠবৃন্দকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও সালাম জানাচ্ছি। বছর ঘুরে ইনশাআল্লাহ আবারো এ কলাম নিয়ে প্রিয় পাঠকের সামনে হাজির হবার প্রত্যাশা রইলো। সবাইকে ঈদ-মুবারক-আসসালাম।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT