প্রথম পাতা কর্মচঞ্চল সিলেট

বেড়েছে মাস্ক এবং গ্লাভসের ব্যবহার

আহমাদ সেলিম প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০৬-২০২০ ইং ০০:০৫:০৯ | সংবাদটি ১০৬ বার পঠিত
Image

দুই মাসের লকডাউন শেষে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সীমিত আকারে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস গতকাল রোববার থেকে খুলে দেয়া হয়েছে। খুলে দেয়া হয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও। সবার সাথে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান, ট্রেন, বিমানও চলাচল শুরু করেছে। গতকাল রোববার থেকে একযোগে এগুলো খুলে দেয়া হয়। সবকিছু খুলে দিলেও কেউ মুখ থেকে মাস্ক খুলতে দেখা যায়নি। সকল শ্রেণিপেশার মানুষ সরকারের মাস্কপড়ার নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন।
বিশ্বে করোনা ভাইরাসের মহামারি ঠেকানো যাচ্ছে না কিছুতেই। লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ এবং মৃতের সংখ্যা। বাংলাদেশও নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে অন্যসবার মতো সিলেট নগরী তার বন্ধ দুয়ার খুলেছে। তবে খুলে দেয়ার প্রথম দিনের চিত্র ছিলো একটু ভিন্ন। ব্যস্ততম সড়কগুলো বিশেষ করে বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, আম্বরখানাসহ আশপাশ এলাকায় খুব একটা উপচেপড়া ভীড় দেখা যায়নি। শহরের ভেতর সবধরনের যানবাহন সীমিত আকারে চলাফেরা করেছে। অধিকাংশ বিপণীবিতান খুলে দিলেও দোকানপাট খোলা ছিলো দুই তৃতীয়াংশ। যেসকল দোকানপাট, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিলো তারা সবাই মাস্ক পরিহিত ছিলেন। মাস্কের সাথে অনেকে পড়েছেন গ্লাভস। তবে পিপিই (পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপম্যান্ট) পরা মানুষের সংখ্যা ছিলো অপ্রতুল। মাস্ক পরার পাশাপাশি সব বিপণীবিতান, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিসের প্রবেশদ্বারেই রক্ষিত ছিলো সুরক্ষা সামগ্রী। কোনো ক্রেতা আসামাত্র তারা বাড়িয়ে দিচ্ছেন সুরক্ষা সামগ্রী। সবার মতো মাস্ক ব্যবহার করেছেন নগরীর ভেতরের চালকরা।
করোনা সময়ের মধ্যে এবারের ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। ঈদের সময় সিলেটের অধিকাংশ বিপনীবিতান বন্ধ ছিলো। এর মধ্যে শেষ পর্যায়ে এসে যেসকল দোকানপাট খোলা ছিলো সেগুলোতে কিছু পরিবারকে ঝুঁকি নিয়ে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। কিন্তু গতকাল সবকিছু খুলে দেয়ার পরও মানুষজনের মধ্যে ব্যস্ততা খুব একটা দেখা যায়নি। যেসকল বিপণীবিতান, দোকানপাট, লাইব্রেরী, হোটেল, ফ্যাশনহাউস খোলা ছিলো সেখানে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিলো না বললেই চলে। এমন চিত্র ছিলো সরকারি-আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানেও। তবে ব্যাংকগুলো ছিলো আগের মতোই ব্যস্ত। ছিলো মানুষের ভিড়। তবে যারা যে অবস্থায় ছিলেন সেই অবস্থায় মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা ১৩ দফা নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন সবাই। ফুটপাত থেকে শুরু করে সবখানেই মানুষজন মাস্ক ব্যবহার করেছেন। বন্দরবাজারে মাস্কপরা অবস্থায় রিকসা চালাচ্ছেন চল্লিশোর্ধ মনফর মিয়া। কথা হলে তিনি বলেন, ’আমাদের সামনের দিন আরো খারাপ অইবো। এখন আমাদের সতর্ক থাকা জরুরী। বাঁচার জন্যই তো কষ্ট করছি।’ ব্লু ওয়াটার শপিং সিটির জেনারেল ম্যানেজার মলয় ভূষণ দত্ত মিঠু বলেন, অনেকদিন পর আমাদের বিপণীবিতান খুলেছে। কিন্তু, এর আগ থেকেই আমরা সতর্ক। আমাদের সবগুলো দোকান এবং অফিস স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে সচেতন।’ একইভাবে অন্য সব প্রতিষ্ঠানও মাস্ক অথবা আনুষঙ্গিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করেছেন। মধুবন সুপার মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তারা সরকারের সকল নির্দেশনা মেনে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মেনে দোকানপাট খুলেছেন।
নয়াসড়কের ফ্যাশন হাউস মাহা’র কর্ণধার মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম জানান, ‘আমরা আপাতত খুলছি না। কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করে দেখবো খোলা যায় কি না। তবে আজ সোমবার থেকে নয়াসড়কের অন্যসব প্রতিষ্ঠান খোলা হবে। যারাই খুলবেন তাদেরকে মাস্কসহ সরকারের নির্দেশনা মেনে ব্যবসা করার জন্য বলা হয়েছে।’
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের সহকারী পরিচালক প্রতাপ চৌধুরী জানান,‘আমরা অফিস করছি। তবে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করে। অফিসের সবাই সেই নিয়ম শতভাগ মেনে কাজ করছেন। আমরা চাই নিজেরা সুরক্ষিত থাকবো এবং অন্যকে সুরক্ষিত রাখবো।’
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ‘প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস করার জন্য বলা হয়েছে। সেই নিয়ম মেনেই তারা অফিস করছেন। সরকারের এই নিয়ম সকলকে মানতে হবে।’ বেসরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মতো সরকারি অফিসগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি’র নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে মানা হচ্ছে। গতকাল অধিকাংশ সরকারি অফিসে ছিলো একই চিত্র। বিপণীবিতান ছাড়াও সড়কের পাশে, ফুটপাতে যেসকল স্থায়ী, অস্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তারাও মাস্ক পড়েছেন। সার্বক্ষণিক মাস্ক পড়ে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের।
গত বৃহস্পতিবার জারি করা ছুটির আদেশে বলা হয়, ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে সীমিত আকারে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসগুলো নিজ ব্যবস্থায় খোলা থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি, অসুস্থ কর্মচারী এবং সন্তানসম্ভবা নারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকবেন। সব অবস্থায় মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা ১৩ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। নিষেধাজ্ঞাকালীন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • জাফলংয়ে নিখোঁজ এক বালু শ্রমিকের লাশ উদ্ধার
  • বিদেশ যেতে লাগবে ‘করোনাভাইরাসমুক্ত’ সনদ
  • ডা. সাবরিনা সাময়িক বরখাস্ত, স্বাস্থ্যের ডিজিকে শোকজ
  • আলিয়া মাদরাসা মাঠে কোরবানির পশুর হাট না বসাতে লিগ্যাল নোটিশ
  • ঢাকায় নতুন ভারতীয় হাই কমিশনার হচ্ছেন বিক্রম দোরাইস্বামী
  • সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ এগারোটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে
  • সারাদেশে অধস্তন আদালতে ভার্চুয়ালী ৫৪৬৭৭ জন আসামির জামিন
  • সাহেদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হতে হবে : এসএমপি কমিশনার
  • রিজেন্টের সাহেদের সিলেট কানেকশন !
  • ঈদুল আজহার জামাতও মসজিদে
  • কোভিড-১৯ মৃত্যু ও সুস্থতা :দেশের তুলনায় সিলেট জেলায় মৃত্যুর হার দ্বিগুণ ॥ সুস্থতা অর্ধেকের কম
  • ১৫ বছর ধরে বন্ধ টেংরাটিলায় উৎপাদনে যেতে চায় এসজিএফএল
  • সিলেট-সুনামগঞ্জে পানিতে ভাসছে গ্রাম-জনপদ
  • করোনায় ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত ২৬৬৬, মৃত্যু ৪৭
  • চীনে করোনার উৎপত্তির বিষয়ে ডব্লিউএইচও’র তদন্তের সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাগত
  • করোনার মধ্যে উপ-নির্বাচনের সিদ্ধান্ত : সিইসি
  • সিঙ্গাপুরের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের জয়
  • ছাতকে করোনায় আক্রান্ত আ’লীগ নেতার মৃত্যু
  • পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কার্যক্রমে মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হ্রাস পেয়েছে
  • Image

    Developed by:Sparkle IT