প্রথম পাতা সারাদেশে পিছিয়ে সিলেট বোর্ড

পাসের হার ৭৮.৭৯ ভাগ এসএসসি’র ফল

আনাস হাবিব কলিন্স প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০৬-২০২০ ইং ০০:১৪:৪৬ | সংবাদটি ১১৭ বার পঠিত
Image

এসএসসিতে গতবারের চেয়ে তুলনামূলক পাসের হার ও জিপিএ-৫ বাড়লেও সারাদেশে এবারও পিছিয়ে রয়েছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড। এবার পাসের হার ৭৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। গত বছর পাশের হার ছিল ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ২৬৩ জন। গতবছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২ হাজার ৭৫৭ জন। গত বারের তুলনায় জিপিএ-৫ বেড়েছে ১ হাজার ৫০৬টি। গতকাল রোববার প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সিলেটের অধীনে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ১০৪ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৯১ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৩৯ হাজার ৫০৪ জন এবং ছাত্রী ৫১ হাজার ৯৭৬ জন। পাসের হারে ছাত্র ৭৯ দশমিক ২৩ এবং ছাত্রী ৭৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
করোনা ভাইরাসে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে গতকাল রোববার দুপুরে অন্যরকম এক আবহে ফলাফল ঘোষণা করে সিলেট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ছিল না আনুষ্ঠানিক কোন প্রেস ব্রিফিং। এ ফলাফল প্রসঙ্গে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কবির আহমদ বলেন, এবার গণিত ও ইংরেজীতে ফলাফল ভাল হওয়ায় পাশের সূচকে এগিয়েছে সিলেট বোর্ড। তিনি জানান, গত বছর ইংরেজীতে পাশের হার ছিল ৯০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এবার ইংরেজীতে পাশ করেছে ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ। গণিতে গত বছর ৭৫ দশমিক ২৮ শতাংশ পাশ করলেও এবার ৮৫ শতাংশ পাশ করেছে বলে জানান তিনি। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার গুণগত মান বেড়েছে দাবি করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের বিগত কয়েক বছরের এসএসসি’র ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তৃতীয় বারের মতো সারা দেশে পিছিয়ে রয়েছে সিলেট বোর্ড। ২০১৮ সালে পাশের হারছিল ৭০ দশমিক ৪২ শতাংশ। এছাড়া, ২০১৭ সালে ৮০ দশমিক ২৬ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৮১ দশমিক ৮২ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৮৯ দশমিক ২৩ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৮৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ২০১২ সালে ৯১ দশমিক ৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল।
বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মাঝে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৪ হাজার ২৬৩ জনের মধ্যে ছেলে সংখ্যা ২ হাজার ৮১ জন এবং মেয়ের সংখ্যা ২ হাজার ১৮২ জন।
এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাশ করেছে ১৯ হাজার ৫৪২ জন। এর মধ্যে ছেলে সংখ্যা ৯ হাজার ৪৯০ এবং মেয়ে সংখ্যা ১০ হাজার ৫২ জন। শতকরা হিসেবে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৯০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৩২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছেলে ১ হাজার ৯৭৪ এবং মেয়ে ১ হাজার ৯৫৮ জন।
মানবিক বিভাগ থেকে পাস করেছে ৬৩ হাজার ১৮ জন ছাত্র-ছাত্রী। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ২৫ হাজার ২০৫ এবং ছাত্রী সংখ্যা ৩৭ হাজার ৮১৩ জন। শতকরা হিসেবে মানবিক বিভাগ থেকে পাশের হার ৭৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে ১৭০ জন জিপিএ-৫ অর্জনকারীর মধ্যে ছাত্র ৪২ এবং ছাত্রী ১২৮ জন।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পাস করেছে ৮ হাজার ৯২০ জন ছাত্র-ছাত্রী। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৪ হাজার ৮০৯ এবং ছাত্রী সংখ্যা ৪ হাজার ১১১ জন। শতকরা হিসেবে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে ১৬১ জন জিপিএ-৫ লাভকারীর মধ্যে ছাত্র ৬৫ এবং ছাত্রী ৯৬ জন। এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৯১৫টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে শতভাগ সাফল্য অর্জন করে ৪৩টি প্রতিষ্ঠান।
জেলাওয়ারী পাসের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিলেট জেলা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৪৩ হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী। পাস করে ৩৫ হাজার ৩০৭ জন। এর মধ্যে ১৫ হাজার ৩৫২ জন ছেলে এবং ১৯ হাজার ৯৫৫ জন মেয়ে। সিলেট জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ১৮০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৫৩ ও ছাত্রী ১ হাজার ১২৭ জন। সিলেটে গড় পাশের হার ৮০ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
হবিগঞ্জ জেলা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২৩ হাজার ১৬৬ জন। এ জেলায় কৃতকার্যদের মধ্যে ১৬ হাজার ৮৪৮ জন। এর মধ্যে ছেলে ৭ হাজার ২৬৩ জন এবং মেয়ে ৯ হাজার ৫৮৫ হাজার জন। এ জেলায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬০৫ জনের মধ্যে ছেলে ২৯০ এবং মেয়ে ৩১৫ জন। এ জেলায় গড় পাশের হার ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
মৌলভীবাজার জেলা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২৪ হাজার ৩৯৫ জন। যার মধ্যে পাস করে ১৯ হাজার ৭৩১ জন। কৃতকার্যদের মধ্যে ছেলে ৮ হাজার ১৮৫ এবং মেয়ে ১১ হাজার ৫৪৬ জন। এ জেলায় ১ হাজার ৬৫টি জিপিএ-৫ এর মধ্যে ছেলে ৫২৭ এবং মেয়েরা পেয়েছে ৫৩৮টি। মৌলভীবাজার জেলায় গড় পাশের হার ৮০ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
অপরদিকে, এবার সুনামগঞ্জ জেলা থেকে এসএসসিতে ২৪ হাজার ৯৩০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করে ১৯ হাজার ৫৯৪ জন। এর মধ্যে ছেলে ৮ হাজার ৭০৪ এবং মেয়ে ১০ হাজার ৮৯০ জন। এ জেলায় ৪১৩ জন জিপিএ-৫ অর্জনকারীর মধ্যে ছেলে ২১১ ও মেয়ে ২০২ জন রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলার পাসের হার ৭৮ দশমিক ৬০ শতাংশ।
এবার এ গ্রেডে পাস করেছে ১৮ হাজার ৮০২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ৮৫৪ জন এবং ছাত্রী ১০ হাজার ৯৪৮ জন। এ মাইনাস পেয়েছে ২০ হাজার ৯২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৮ হাজার ৪৫ এবং ছাত্রী ১২ হাজার ৪৭ জন। বি গ্রেড পেয়েছে ২৫ হাজার ৩৭৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১০ হাজার ৩৬৪ জন এবং ছাত্রী ১৫ হাজার ১০ জন। সি গ্রেড পেয়েছে ২২ হাজার ৪০৭ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১০ হাজার ৮১২ জন এবং ছাত্রী ১১ হাজার ৫৯৫ জন। ডি গ্রেড পেয়েছে ৫৪২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৩৪৮ এবং ছাত্রী ১৯৪ জন।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • জাফলংয়ে নিখোঁজ এক বালু শ্রমিকের লাশ উদ্ধার
  • বিদেশ যেতে লাগবে ‘করোনাভাইরাসমুক্ত’ সনদ
  • ডা. সাবরিনা সাময়িক বরখাস্ত, স্বাস্থ্যের ডিজিকে শোকজ
  • আলিয়া মাদরাসা মাঠে কোরবানির পশুর হাট না বসাতে লিগ্যাল নোটিশ
  • ঢাকায় নতুন ভারতীয় হাই কমিশনার হচ্ছেন বিক্রম দোরাইস্বামী
  • সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ এগারোটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে
  • সারাদেশে অধস্তন আদালতে ভার্চুয়ালী ৫৪৬৭৭ জন আসামির জামিন
  • সাহেদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হতে হবে : এসএমপি কমিশনার
  • রিজেন্টের সাহেদের সিলেট কানেকশন !
  • ঈদুল আজহার জামাতও মসজিদে
  • কোভিড-১৯ মৃত্যু ও সুস্থতা :দেশের তুলনায় সিলেট জেলায় মৃত্যুর হার দ্বিগুণ ॥ সুস্থতা অর্ধেকের কম
  • ১৫ বছর ধরে বন্ধ টেংরাটিলায় উৎপাদনে যেতে চায় এসজিএফএল
  • সিলেট-সুনামগঞ্জে পানিতে ভাসছে গ্রাম-জনপদ
  • করোনায় ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত ২৬৬৬, মৃত্যু ৪৭
  • চীনে করোনার উৎপত্তির বিষয়ে ডব্লিউএইচও’র তদন্তের সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাগত
  • করোনার মধ্যে উপ-নির্বাচনের সিদ্ধান্ত : সিইসি
  • সিঙ্গাপুরের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের জয়
  • ছাতকে করোনায় আক্রান্ত আ’লীগ নেতার মৃত্যু
  • পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কার্যক্রমে মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হ্রাস পেয়েছে
  • Image

    Developed by:Sparkle IT