সম্পাদকীয় আল্লাহ যে ব্যক্তিকে বিশেষ কল্যাণ দান করতে চান তাকে তিনি দীনের সঠিক জ্ঞান দান করেন। -বুখারী মুসলিম

জরুরী ব্যক্তিগত সুরক্ষা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০৬-২০২০ ইং ২৩:০১:০১ | সংবাদটি ৯৯ বার পঠিত
Image

চিরচেনা চেহারায় ফিরেছে নগরী। ব্যস্ত হয়ে ওঠেছে মানুষ। অফিস আদালত, মার্কেট-বিপণী ভবনে শুরু হয়েছে কর্মচাঞ্চল্য। দু’মাসের বেশি সময় ধরে সবকিছু ছিলো স্থবির। আজ কেটেছে সেই বন্ধ্যাত্ব। ছোট বড় রাস্তা অলিগলিতে শুরু হয়েছে পথচারী আর যানবাহনের আনাগোনা। সৃষ্টি হচ্ছে ট্রাফিক জ্যাম। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল রোববার থেকে সাধারণ ছুটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। চলতি মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকবে না। পরবর্তীতে হয়তো নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে এর মধ্যে পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে যাবে সেটা বলা যাচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতি অব্যাহত অবনতি ঘটতে থাকলেও সাধারণ ছুটি তুলে নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার আশা করছে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী ‘সীমিত পরিসরে’ গণপরিবহন চলাচল করবে, রেল চলবে, সরকারি দপ্তরগুলোতেও কাজ চলবে। তবে দশটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস আদালতে কাজ করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে ব্যবসা বাণিজ্যও। এটা অবশ্য সরকারের ঘোষণা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ সরকারি ঘোষণার খুব একটা তোয়াক্কা করে না। যেমন- করোনার আক্রমণ হওয়ার পর থেকে সরকারের অনেক নির্দেশনাই যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে না। মানে সাধারণ মানুষ সরকারের সকল পরামর্শই শতভাগ মেনে চলছে, এটা বলা যায় না। দেখা গেছে, গত ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে কীভাবে সরকার নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধিকে লংঘন করা হয়েছে। জমজমাট ঈদের বাজারে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে চরম উদাসীনতা লক্ষ করা যায়। তাছাড়া কাঁচা বাজারতো সর্বক্ষণই খোলা ছিলো এবং সেখানে স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর নেই বললেই চলে। আর এখন যেখানে ঘোষণা দিয়েই সবকিছু উন্মুক্ত করে দেয়া হলো, সেখানে তো কোন কথাই নেই; মানুষ অবাধে চলাচল করবে, ব্যবসা বাণিজ্য করবে, গণপরিবহনে ভ্রমণ করবে। যদিও বলা হয়েছে গণপরিবহণে নির্ধারিত আসনের চেয়ে কম যাত্রী তুলতে, কিন্তু বাস্তবে সেটা হবে না। আর পরিবহন মালিকেরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কম যাত্রী পরিবহন করতে হলে যাত্রী ভাড়া আশি ভাগ বাড়ানোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তাছাড়া, এই শর্ত মেনে যাত্রীরা ভাড়া পরিশোধ করলেও যে, যানবাহনগুলো কম যাত্রী অর্থাৎ নির্ধারিত আসনের পঞ্চাশ ভাগ যাত্রী নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে সেই নিশ্চয়তা নেই।

সবকিছু পরে যেটা বলতেই হয়, জীবন থেমে থাকে না। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবনের স্বাভাবিক গতি সচল রাখার উপায় বের করতে হয়। এটাই জগতের নিয়ম। বিশ্বব্যাপী করোনার তাণ্ডবের মধ্যেও বেঁচে থাকতে হবে, বেঁচে থাকতে হয়। সেই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী লকডাউন স্থায়ী কোন সমাধান নয়, এক পর্যায়ে করোনাকে জীবনচলার পথের একটা অনুষঙ্গ হিসেবে মেনে নিতেই হবে। আবার আরেকটি মহল বলছে, করোনার ক্রমবর্ধমান আক্রমণের এই সময়ে লকডাউন প্রত্যাহার করে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়া মানে জেনেশুনে আগুনে ঝাপ দেয়া। তবে এতোসব বিতর্কের মধ্যে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, সর্বাত্মক সচেতনতা গড়ে তোলা। প্রতিটি মানুষকেই নিজের সুরক্ষা নিজেকেই করতে হবে। সরকার কী নির্দেশনা দিলো, কে তা মানলো আর কে মানলো না সেদিকে না চেয়ে প্রত্যেককে নিজের বিবেক বুদ্ধিতেই যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT