সম্পাদকীয় তুমি যদি ওপরে উঠতে চাও তবে সর্বনি¤œ স্থান থেকে শুরু করো। -ডেল কার্নেগি

শিশু আগ্রাসন নিরোধ দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০৬-২০২০ ইং ১২:০৬:১৬ | সংবাদটি ১২৩ বার পঠিত
Image

শিশুদের সুরক্ষায় আজ একটি আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হচ্ছে। জাতিসংঘের আহবানে পালিত এই দিবসটির নাম আন্তর্জাতিক শিশু আগ্রাসন নিরোধ দিবস। বিশ্বে সংঘটিত বিভিন্ন ধরণের আগ্রাসন এবং পীড়নের শিকার শিশুদের স্মরণ করতে পালিত হয় এই দিবসটি। এই দিনে বিশেষ করে আগ্রাসনের শিকার নির্দোষ শিশুদের স্মরণ করা হয়। এর সূচনা হয় ১৯৮২ সালে। তখন লিবিয়ায় যুদ্ধে বৈরুতে ইসরায়েলের হানাদার বাহিনীর বিমান আক্রমণে লিবিয়া ও প্যালেস্টাইনের ৬০ জন নির্দোষ নিষ্পাপ শিশু নিহত হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করেই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এই দিনে সারা পৃথিবীতে যতো শিশু-কিশোর যুদ্ধ এবং সন্ত্রাসবাদী আগ্রাসনের শিকার হয়েছে তাদেরকে স্মরণ করা হয়। শুধু তা-ই নয়, ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিন বেসনানে একটি বিদ্যালয়ে সন্ত্রাসবাদীরা আক্রমণ করে হত্যা করে তিন শ’ ৩০ জন। এদের মধ্যে শিক্ষার্থী ছিলো একশ’ ৭২ জন। অর্থাৎ প্রতিনিয়ত শিশুরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে। এই ধরণের সকল শিশুর স্মরণে পালন করা হচ্ছে দিবসটি।

কোমলমতি নিষ্পাপ শিশুরা প্রতিটি দেশের প্রতিটি জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার। তাই যতোই যুদ্ধ বিগ্রহ, সন্ত্রাস হোক না কেন, এসবের হাত থেকে শিশুদের মুক্ত রাখার ক্ষেত্রে প্রতিটি জাতি এবং রাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সর্বোপরি শিশুদেরকে নির্বিঘেœ সুন্দর পরিবেশে বড় হবার সুযোগ করে দেয়া উচিত বলেই মনে করে বিশ্বের প্রতিটি দেশের সরকার। কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ঘটছে এর বিপরীত ঘটনা। এশিয়া এবং আফ্রিকার অনেক দেশেই অসংখ্য শিশুর অপমৃত্যু হচ্ছে নানা কারণে। বিশেষ করে অনাহার, যুদ্ধ ও নানা রোগের শিকার হয়ে মৃত্যু হচ্ছে শিশুদের। আর উন্নত দেশগুলোর তুলনায় কম উন্নত দেশগুলোতে এই ধরণের ঘটনার পরিমাণ দ্বিগুণ। জাতিসংঘের হিসাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার শিশু মারা যাচ্ছে অনাহারে। আর অশিক্ষায়, ভুল চিকিৎসা, অব্যবস্থাপনা, কুসংস্কার শিশু মৃত্যুর হারকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। জানা গেছে, সারা বিশ্বে পাঁচ কোটির বেশী শিশু যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণের শিকার। এদের নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে শরণার্থী হয়ে বসবাস করতে হচ্ছে।

শিশুরা আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে নানা দেশে নানা রূপে। প্রধানত যুদ্ধের কারণেই বেশীর ভাগ শিশু নিপীড়ন ও খুনের শিকার হচ্ছে। সেই সঙ্গে রয়েছে এইডস সহ নানান দূরারোগ্য ব্যাধি। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক চরম মানবিক বিপর্যয় করোনায়ও মারা যাচ্ছে অনেক শিশু। শিশুদেরকে এই আগ্রাসনের কবল থেকে রক্ষা করতে হবে। এ জন্য সকল দেশকেই সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সর্বাগ্রে এগিয়ে আসতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT