প্রথম পাতা চার জেলায় প্রায় ৭০ হাজার: মে. টন লক্ষ্যমাত্রার স্থলে: গত একমাসে মাত্র ২৭২৪: মে. টন বোরো ধান ক্রয়

সিলেটে সরকারি গুদামে বোরো ধান বিক্রয়ে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক!

ছাদেক আহমদ আজাদ প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০৬-২০২০ ইং ১৩:৫১:৩১ | সংবাদটি ৮৫ বার পঠিত
Image

সিলেট অঞ্চলে কৃষকের কাছ থেকে বোরো ধান ক্রয় কার্যক্রমে অনেকটা ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। স্থানীয় আড়তের চেয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতি মণে প্রায় শ’ টাকা বেশি হলেও সরকারি গুদামে কৃষকরা ধান বিক্রি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এর নেপথ্য কারণ হিসেবে কৃষকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের মন জয় করতে না পারলে চিটা, আর্দ্রতাসহ নানা অজুহাতে তাদের ধান ক্রয় করা হয়না। বাড়িতে ফিরিয়ে নিলে ব্যয় বাড়বে; এজন্য তারা উৎকোচ শর্ত পূরণ করতে বাধ্য হন। যদিও এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আমজাদ হোসেন।
সূত্রমতে, সিলেট অঞ্চলে এবার প্রায় ২৮ লক্ষ ২৪ হাজার মে. টন বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে বিভাগের চার জেলার এক লক্ষ ৮৫ হাজার ২৬৫ জন কৃষকের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ৬৯ হাজার ৮৮৬ মে. টন ধান সংগ্রহ করবে সরকার। এ লক্ষ্যে সিলেটের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত মাসের প্রথম দিকে প্রতি উপজেলায় লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়। প্রতি কৃষকের ১০৪০ টাকা মণ দরে এক মে. টন ধান বিক্রির সুযোগ রয়েছে। অথচ আড়তদারের কাছে তারা বিক্রি করেন প্রতি মণ ধান ৯শ’ থেকে সাড়ে ৯শ টাকা। সরকারি হিসেব মতে, আগামী আগস্টে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান সম্পন্ন হবে।
সিলেট অঞ্চলে গতকাল বুধবার পর্যন্ত এক মাসে ২৭২৪ মে. টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। যা অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে কম বলেও জানা গেছে। একাধিক উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানান, সরকারি শর্তানুযায়ী কৃষকরা অনেক ক্ষেত্রে ধান শুকাতে চায় না। আবার খাদ্যগুদামে ধান নিয়ে যাওয়া অনেকেই বাড়তি ঝামেলা মনে করে। এসব কারণে বাড়িতে বসেই তারা আড়তদারদের কাছে সহজেই ধান বিক্রি করে নেয়। ধান ক্রয়ে কৃষকের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি তারা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গৌরাপদ দে এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানান, বোরো ধান কর্তন শেষ হলেও বৃষ্টির কারণে কৃষকরা ধান শুকাতে পারছেন না। আবার ধানের ১৪% ময়েশ্চারাইজার বা আর্দ্রতা না হলে ধান ক্রয়ে সরকারি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মূলতঃ এ দু’টো কারণে ধান সংগ্রহে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। তবে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বোরো ধান ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
জানা যায়, এবার সিলেট জেলায় ১৯ হাজার ২৩৭ জন কৃষকের কাছ থেকে ৭ হাজার ৩২৯ মে. টন ধান সংগ্রহ করবে সরকার। এর মধ্যে গতকাল বুধবার পর্যন্ত মাত্র ৬৮ মে. টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সময়ে অন্যান্য উপজেলায় ধান ক্রয়ের হিসেব মোটামুটি সন্তোষজনক হলেও জকিগঞ্জ উপজেলা এখনো শূন্যের কোটায় রয়েছে। কমের মধ্যে কানাইঘাটে মাত্র এক মে. টন ও বিয়ানীবাজারে ২ মে. টন ধান ক্রয় করা হয়েছে।
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় ৯২৪ জন কৃষকের কাছ থেকে এবার ৫৮১ মে. টন বোরো ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ২ মে. টন ধান। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানান, এখনো আমন ধান এর বস্তায় গোডাউন ভর্তি রয়েছে। এ সপ্তাহে পুরনো ধান বের হলেই বোরো ধান ক্রয় পুরোদমে শুরু হবে। তিনি বলেন, বৃষ্টি উঠলেই এক মাসে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব।
একইভাবে, মৌলভীবাজার জেলায় ৮ হাজার ৮২৫ মে. টন বোরো ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যপূরণে লটারির মাধ্যমে জেলার ১২ হাজার ৬৫৫ জন কৃষক নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত ৩৫৭ মে. টন বোরো ধান ক্রয় করা সম্ভব হয়েছে। ক্রয় তালিকায় কমলগঞ্জ উপজেলায় মাত্র ২ মে. টন নিয়ে সর্বনি¤œ পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে, হবিগঞ্জ জেলায় ৫৯ হাজার ৪৯৪ জন কৃষকের কাছ থেকে ২১ হাজার ৬৮ মে. টন ধান সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ৭৮৫ মে. টন বোরো ধান ক্রয় করা হয়েছে।
অপরদিকে, বিভাগের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা থেকে সবচেয়ে বেশি বোরো ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। জেলার ৯৩ হাজার ৮৭৯ কৃষকের কাছ থেকে ৩২ হাজার ৬৬৪ মে. টন ধান ক্রয় করা হবে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে ১৫১৪ মে. টন বোরো ধান।
সার্বিক বিষয়ে সিলেটের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আমজাদ হোসেন সিলেটের ডাক’কে জানান, এবার বোরো ধানের উৎপাদন ভালো হয়েছে। এজন্য আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে কোন অসুবিধা হবে না। তিনি আরো জানান, বৃষ্টির কারণে কৃষক ধান শুকাতে না পারায় ক্রয় কার্যক্রমে কিছুটা স্লথগতি দেখা দিয়েছে। তবে, উৎকোচ দিয়ে কৃষকের ধান বিক্রি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একথা মোটেও সঠিক নয়। আমার কাছে এ পর্যন্ত কোন অভিযোগ আসেনি। আগামীতে যদি কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাই, তাহলে সাথে সাথেই শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • আজ বিশ্বব্যাপী করোনা আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড
  • কিট নিয়ে ঔষধ প্রশাসন পজিটিভ : গণস্বাস্থ্য
  • ফের হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার না করার পরামর্শ ডব্লিউএইচওর
  • দেশে করোনায় মৃত্যু ২ হাজার ছাড়াল, নতুন শনাক্ত ২৭৩৮
  • সিকৃবিতে ৪র্থ সিলেট চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা উঠছে আজ
  • মধুশহীদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত অনুষ্ঠিত
  • আবারো করোনা ‘পজিটিভ’ মাশরাফি
  • করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফি তুলে দেওয়ার দাবি বিএনপির
  • সারাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধের হুমকি
  • দেড় কোটির বেশি পরিবারকে সরকারি ত্রাণ সহায়তা প্রদান
  • রাজধানীর ওয়ারী’তে ২১ দিনের লকডাউন শুরু
  • বাড়িওয়ালাদের সদয় হতে ওবায়দুল কাদেরের আহ্বান
  • সিলেট বিভাগে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা
  • ভারত-চীন উত্তেজনার মধ্যেই লাদাখ সফরে মোদি
  • যুক্তরাজ্যের বর্ষসেরা চিকিৎসক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারজানা বিলবোর্ডে ছবি টানিয়ে সম্মানীত
  • দ্রুতই বিশ্ব পেতে পারে করোনার কার্যকরী ঔষধ : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
  • ছয় দফার পক্ষে দলিল প্রস্তুতিতে অবদান ছিল ড. ওয়াহিদুল হকের : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • বিএনপি নেতা এনামুলকে ঢাকায় প্রেরণ
  • সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুর ও কাগজপুর সেতু বন্ধ, বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের অনুরোধ
  • দোয়ারাবাজারে দুর্ভোগে বানভাসি মানুষ
  • Image

    Developed by:Sparkle IT