সম্পাদকীয় ধর্ম নিয়ে যারা কোন্দল করে ধর্মের মর্ম তারা জানে না। -ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ

আতংক শুধু ‘করোনা’ নয় আছে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া

প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৬-২০২০ ইং ১১:৩৭:২৮ | সংবাদটি ১৫৩ বার পঠিত
Image

করোনাভাইরাসের তা-ব চলছে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশেও এর ভয়াবহতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সবাই ব্যস্ত এখন করোনা নিয়ে। কিন্তু তার সঙ্গে আরও একটি আতংক ছড়িয়ে পড়ছে বলা যায় নীরবে-নিভৃতে। সেটা হলো ডেঙ্গু। আর বর্ষা মওসুমেই এর প্রবণতা বেড়ে যায়। মূলত মশাবাহিত রোগ এটি। আর বিশেষত এডিস মশাই এই রোগের বিস্তার ঘটায়। শুধু ডেঙ্গু নয়, চিকুনগুনিয়া রোগও ছড়ায় এডিস মশা। সুতরাং করোনা মোকাবেলার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া রোগের ব্যাপারেও সতর্কতা অবলম্বন এই মুহূর্তে খুবই জরুরী। পরিচ্ছন্নতাই হচ্ছে করোনা থেকে বাঁচার প্রধান পদক্ষেপ; তেমনি ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া থেকে বাঁচাতে পারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। অর্থাৎ পরিবেশকে সার্বিক পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশক নিধনের প্রতি সর্বাত্মক জোর দিতে হবে।
অতীতে মশার আক্রমণ বেশী ছিলো কেবল গ্রীষ্ম বা বর্ষা মওসুমে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মশার উপদ্রব রয়েছে সারা বছরই। তবে বর্ষায় মশার যন্ত্রণা চরম আকারে পৌঁছে। শীতের বিদায় নেওয়ার সাথে সাথেই ঝাকে ঝাকে মশা জেঁকে বসে ঘরে ঘরে, শহর নগর গ্রাম জনপদে। অনেক প্রজাতির মশার উপদ্রব রয়েছে আমাদের দেশে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে একশ’ ২৩ প্রজাতির মশা রয়েছে। প্রায় সব প্রজাতির মশাই জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এনোফিলিস জাতীয় মশা ম্যালেরিয়া রোগ ছড়ায়। অতীতে এই রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে আমাদের দেশে। কিউলেক্স জাতীয় মশা ছড়ায় ফাইলেরিয়া রোগ। ম্যালেরিয়া বা ফাইলেরিয়া রোগ যে বর্তমানে নির্মূল হয়ে গেছে, তেমনটি বলা যায় না; তবে এর প্রকোপ কমেছে। বর্তমানে বেড়ে গেছে এডিস মশার মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়া ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ। বিগত বছর কয়েক ধরে বেড়ে গেছে এই রোগের প্রবণতা। গত বছর ডেঙ্গুর কারণে প্রাণহানি হয় একশ’ ৭৯ জনের। আর আক্রান্ত হন এক লাখ এক হাজার তিনশ’ ৫৪ জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত বেশ কিছু মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন ডেঙ্গু জ্বরে। এডিস মশা খালি চোখে চেনা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। তারা বলেন, এই মশার দেহে সাদাকালো ডোরা কাটা দাগ থাকে। এই জাতীয় মশা মাঝারি আকারের হয়ে থাকে। আর সাধারণত দিনের বেলায়ই এই মশা কামড়ায়। তবে সূর্যোদয়ের পর তিন চার ঘন্টা এবং সূর্যাস্তের আগের তিন চার ঘন্টা সময়ই এডিস মশা বেশী কামড়ায়।
এডিস মশা তাড়াতে তথা ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া রোগ তাড়াতে দরকার ব্যাপকভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান। বিশেষ করে মশক নিধনে সর্বাত্মক অভিযান চালাতে হবে। ব্যক্তি উদ্যোগে নিজ নিজ বাড়ির আশপাশ এলাকা পরিচ্ছন্ন করে মশার উৎপতিস্থল ধ্বংস করতে হবে। সেই সঙ্গে রাস্তাঘাট, ড্রেন, ডোবা, নালা, খাল ইত্যাদি পরিষ্কার করতে হবে। এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন শহরে প্রায় সময়ই ‘লোক দেখানো’ মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে কাজের কাজ কিছুই হয় না। মূলত মশক ধ্বংসকারী ওষুধ শহর নগরের প্রতিটি এলাকায় স্প্রে করার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে কিছু সময় স্প্রে করে সংশ্লিষ্টরা চলে যায়। এমন অভিযোগ শোনা যায় প্রায় সময়ই। এই ধারার অবসান হোক।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT